Al-Hussaini Imam Bargah

Al-Hussaini Imam Bargah

Share

ALHUSSAINE IMAM BARGAH,Tarpi Shaheb Bari,Prethimpassa,Bangladesh. We are the soldiers of IMAM-E-ZAMANA(a.s). LABBAIK YA HUSSAIN(a.s) Come towards the best act.

keeping the love for martyrdom in our hearts,
Raising the flag of MOLA GHAZI (a.s) with our hands,
spreading the message of Karbala,giving our life in the name of IMAM HUSSAIN (a.s.),only one chant all the time,Let the procession move forward
live long Hussaini.

31/07/2023

স্মরণীয় ইতিহাসঃ

হযরত জাইনাব (সা.আ.) ও হযরত ইমাম সাজ্জাদ (আ.)'র অনন্য বীরত্বে ইয়াজিদের আতঙ্ক।
১৩৮৪ বছর আগে অর্থাৎ ৬১ হিজরির ১২ মুহররম ইয়াজিদ সেনারা নবী পরিবার তথা ইমাম পরিবারের এবং ইমাম শিবিরের সকল নারী ও কন্যা শিশুকে বন্দী অবস্থায় কুফায় নিয়ে আসে।
এ সময় ইয়াজিদ সেনারা শহীদদের বিচ্ছিন্ন মাথা বর্শায় বিদ্ধ করে নিয়ে আসে তাদের সঙ্গে।
কারবালার ঘটনার ৩৪ বছর পর ১২ মহররম তারিখেই শাহাদত বরণ করেন ইমাম জাইনুল আবেদীন (আ.)।
কুফায় বন্দীদেরকে ইয়াজিদের গভর্নর ইবনে জিয়াদের দরবারে আনা হলে জিয়াদ তাদেরকে উপহাসের চেষ্টা করে এবং ইমাম জাইনুল আবেদীন (আ.)-কে হত্যা করতে চায়। কিন্তু ইমামের বোন হযরত জাইনাব (সা.)’র সাহসী বক্তব্য ও বিশেষ করে নবী পরিবারের সদস্যদেরকে ত্যাগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ও শাহাদতের মর্যাদা দেয়ার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি তাঁর প্রশংসাসূচক কথাগুলো জিয়াদকে হতভম্ব বা লা-জওয়াব করে দেয়।
কারবালার অসম যুদ্ধে অশেষ বীরত্ব ও বিক্রম দেখিয়ে এবং ইয়াজিদের বহু সেনাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে শহীদ হয়েছিলেন হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)সহ ইসলামের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকা ৭২ জন মহামানব। তাদের কেউ ছিলেন ইমামের যুবক পুত্র, শিশু পুত্র, সৎ ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা, চাচাতো ভাই এবং অন্যরা ছিলেন প্রাণ-উৎসর্গ করতে আসা নিবেদিত-প্রাণ সঙ্গী।
ইমাম হুসাইন (আ.)'র শাহাদতের পর তাঁর বোন হযরত জাইনাব (সা.) ইমামের একমাত্র জীবিত ও অসুস্থ পুত্র হযরত জাইনুল আবেদীনের (আ.) জীবন রক্ষা করেন। অবশ্য এ জন্য তিনি শত্রুদের কাছে দয়া ভিক্ষা করেননি। ভাতিজাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি জল্লাদকে বলেছিলেন, আমার ভাতিজাকে হত্যা করতে হলে আমাকেও হত্যা করতে হবে। এভাবে তিনি একজন নিষ্পাপ ইমামের জীবন রক্ষা করেন নতজানু না হয়েই। দামেস্কেও এই মহান ইমামকে হত্যার চেষ্টা অলৌকিকভাবে ব্যর্থ হয় বলে বর্ণনা রয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনা মতে কারবালায় জাইনুল আবেদীনের শিশু সন্তান ইমাম বাকির (আ.)ও উপস্থিত ছিলেন এবং হত্যাযজ্ঞের পর তিনিও বেঁচে ছিলেন। নবী বংশের কয়েকজন নারী সদস্যও বেঁচে ছিলেন কারবালার হত্যাযজ্ঞের পর।
মহাপাপিষ্ঠ ও নরাধম ইয়াজিদের দরবারে উপনীত হলে তার বেয়াদবিপূর্ণ নানা কথা ও বিদ্রূপের জবাবে হযরত জাইনাব (সা.) এক দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। তেজোদৃপ্ত সেই ভাষণের একাংশে তিনি বলেছিলেন: "আমাদের শাসন-কর্তৃত্ব (তোমার হাতে পড়ায়) তুমি মহিমান্বিত আল্লাহর সেই বাণী ভুলে গিয়েছ: 'কাফেররা যেন মনে না করে যে আমরা তাদের যে অবকাশ দান করি, তা নিজেদের জন্য কল্যাণকর। বরং আমরা তো তাদেরকে এ জন্যই অবকাশ দেই যাতে করে তাদের পাপগুলো বাড়তে থাকে এবং তাদের জন্য অপমানজনক শাস্তি অবধারিত।"
তিনি ইয়াজিদকে 'সে ব্যক্তির পুত্র যাকে বন্দী করার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছিল' বলেও সম্বোধন করেন!(কারণ, আমির মুয়াবিয়া মক্কা বিজয়ের সময় বন্দী হয়েছিল মুসলিম বাহিনীর হাতে, ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়ায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়)
হযরত জাইনাব (সা.) তাঁর ঐতিহাসিক সেই ভাষণে পবিত্র নবী বংশের, বিশেষ করে ইমাম হুসাইন (আ.)'র মর্যাদা তুলে ধরার পাশাপাশি ইয়াজিদ বাহিনীর জুলুম ও নৃশংসতাও তুলে ধরেছিলেন ।
তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)'র সঙ্গে ইয়াজিদের নানা বেয়াদবি এবং নবী বংশের ওপর তার বাহিনীর নৃশংস জুলুম নির্যাতন চালানোসহ হত্যাযজ্ঞের জন্য তাকে খোদায়ী কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে বলে উল্লেখ করেন। হযরত জাইনাব (সা.) এক পর্যায়ে ইয়াজিদের দরবারেই তাকে বলেন, "যদিও ঘটনাচক্রে আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য হয়েছি, কিন্তু আমি তোমাকে খুবই তুচ্ছ ও নীচ মনে করি এবং তোমাকে কঠোরভাবে তিরস্কার করছি ও অনেক বেশি নিন্দা করছি, কিন্তু (আমার ভাইয়ের হত্যার কারণে মুসলমানদের ) দৃষ্টিগুলো অশ্রুসজল আর হৃদয়গুলো কাবাবের মত দগ্ধীভূত।"
বিশ্বনবী (সা.)'র আহলে বাইতের প্রতি উম্মতের ভালবাসা ও তাঁদের স্মরণ যে ইয়াজিদ গোষ্ঠী কখনও বিলুপ্ত করতে পারবে না এবং আহলে বাইতের মর্যাদার ধারে কাছেও যে পৌঁছুতে পারবে না ইয়াজিদ গোষ্ঠী তিনি তাও ভবিষ্যদ্বাণী করেন। জালিমদের ওপর যে আল্লাহর লানত বর্ষিত হবে এবং ইহকালে তাদের পতন ও চরম লাঞ্ছনা এবং পরকালেও আরো কঠোর শাস্তি অপেক্ষা করছে হযরত জাইনাব (সা.) তাও উল্লেখ করেন ওই ভাষণে।
তাঁর সেইসব অবিস্মরণীয় ভাষণ ও বক্তব্যগুলো মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচারিত হয়ে দামেস্ক ও কুফাসহ মুসলিম বিশ্বের জনগণের মধ্যে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে দিয়েছিল। গোটা আরব উপদ্বীপের চার লাখ মানুষ হুসাইন (আ.) হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য অভ্যুত্থান করে। ফলে কুফায় মুখতারের নেতৃত্বে নবী বংশের অবমাননাকারী ও ঘাতকরা লাঞ্ছনাপূর্ণ মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে নির্মূল হয়। আর এ জন্যই নবী(সা.) -নাতনী হযরত জাইনাব (সা.)-কে কারবালা বিপ্লবের অন্যতম সফল সংগঠক ও প্রধান পরিচালক বলা যায়। তাঁর বিপ্লবী তৎপরতা ও উপস্থিতি না থাকলে কারবালাতেই এ বিপ্লবের চির-সমাধি ঘটত এবং বাইরের কেউই এ বিপ্লব ও মহাট্র্যাজেডির খবরও হয়তো জানতো না।
গণ-বিদ্রোহের আশঙ্কায় ইবনে জিয়াদের আতঙ্ক
জিয়াদ নবী (সা.)’র পরিবারের অবমাননার জন্য কুফা শহরের রাস্তায় রাস্তায় বন্দীদেরকে ঘুরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে উদ্যত হলে আবারও স্বমহিমায় আত্মপ্রকাশ করেন নবী-নাতনী। তাঁর বাগ্মীতাপূর্ণ ও বিবেক-জাগানো এবং হৃদয়-বিদারক বক্তব্য শুনে কুফার জনগণ কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। ফলে ইবনে জিয়াদ গণ-বিদ্রোহের আশঙ্কায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সে বন্দীদের কাফেলাকে দ্রুত দামেস্কে পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং এমন সব পথ দিয়ে তাদেরকে নিয়ে যেতে বলে যাতে জনগণ নবী-পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পেরে ইয়াজিদ সরকারের প্রতি গণ-বিদ্রোহ বা গণ-বিক্ষোভ শুরু করার সুযোগ না পায়।
নতুন ইমাম হযরত জাইনুল আবেদীনের বীরত্বপূর্ণ ভাষণ
ইবনে জিয়াদ ও ইয়াজিদের দরবারে তেজোদৃপ্ত বক্তব্য রেখেছিলেন হযরত জাইনাব (সা.)। একই ধরনের বক্তব্য রেখেছিলেন নতুন ইমাম হযরত জাইনুল আবেদীন (আ)। কুফায় ফুফু জাইনাব (সা.) ও বোন ফাতিমার ভাষণ শুনে জনগণ যখন মর্মাহত হয় ও কাঁদতে থাকে তখন তাদের সমাবেশে নতুন এই ইমামও বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: হে মানুষেরা, আমি আলী, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)’র সন্তান। আমি তাঁর সন্তান যার সব কিছু লুট করা হয়েছে, যার পরিবারের সবাইকে বন্দী করে এখানে আনা হয়েছে। আমি তাঁর সন্তান, যে ফোরাতের কিনারায় মর্মান্তিক ও নৃশংসভাবে নিহত হয়েছে। হে লোকেরা! তোমরা কিয়ামতের দিন কিভাবে নবী(সা.)’র সামনে দাঁড়াবে? রাসূল (সা.) যখন তোমাদের বলবেন, “ তোমারা আমার পরিবারবর্গকে এভাবে কতল করেছ আর আমার মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ রাখনি, তাই তোমরা আমার উম্মত নও।”
নতুন ইমামের এ বক্তব্য শুনে কুফাবাসী চিৎকার ধ্বনি দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং একে-অপরকে তিরস্কার করে বলতে থাকে : আমরা এতই দুর্ভাগা যে নিজেরা যে ধ্বংস হয়ে গেছি তাও জানি না।
মৃত্যুর ভয়হীন যুবক ইমাম জাইনুল আবেদীন (আ.)
ইবনে জিয়াদ নতুন ইমামকে হত্যার নির্দেশ দিলে ফুফু জাইনাব বলেন, তাহলে আমাকেও হত্যা কর্ তাঁর সঙ্গে!
নতুন ইমাম বললেন, আপনি ওর সঙ্গে কথা বলবেন না, আমি ওর সঙ্গে কথা বলছি।
তিনি জিয়াদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন: “ ওহে জিয়াদের ছেলে! আমাকে হত্যার ভয় দেখাচ্ছ? তুমি কি জান না শহীদ হওয়া আমাদের প্রথা ও শাহাদত বরণ আমাদের মর্যাদা....।”
ইয়াজিদের দরবারে নতুন ইমামের ভাষণ:
সিরিয়ায় শহরের অলি-গলি দিয়ে ইমাম ও তাঁর পরিবারের কয়েকজনকে একই দড়িতে বেঁধে ইয়াজিদের দরবারে আনা হয়। এ সময় ইমাম জাইনুল আবেদীন (আ.) বীরত্বের সঙ্গে ইয়াজিদের দিকে তাকিয়ে বলেন: হে ইয়াজিদ! আল্লাহর রাসূলের (সা.) ব্যাপারে কি চিন্তা করেছ, যদি তিনি এভাবে আমাদেরকে দড়ি বাঁধা অবস্থায় দেখেন?
ইমামের এ কথা শুনে উপস্থিত সবার মধ্যে কান্নার রোল ওঠে।
সিরিয়ায় ইয়াজিদি প্রচারণায় বিভ্রান্ত এক বয়স্ক ব্যক্তি নবী পরিবারের বন্দীদের কাছে এসে বলল: আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ যে তিনি তোমাদেরকে ধ্বংস করে ফিতনা নিভিয়ে দিয়েছেন। সে আরো কিছু আজে-বাজে কথা বলে। নতুন ইমাম (জাইনুল আবেদীন-আ.) তাকে বলেন:
তুমি কি কুরআন পড়েছ।
সে বলে: পড়েছি।
ইমাম: এ আয়াতটি পড়েছ কি যেখানে এসেছে- বল হে রাসূল, আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না (ইসলাম প্রচারের বিনিময়ে), শুধু এটা চাই যে তোমরা আমার পরিবারকে ভালবাসবে? (সূরা আশুরা-২৩)
হ্যাঁ, পড়েছি।
রাসূলের আহলে বাইত (নবী-পরিবার) যে নিষ্পাপ তার প্রমাণ হিসেবে তিনি সুরা আহজাবের ৩৩ নম্বর আয়াতও তাকে শোনান।
এভাবে তিনি নবী পরিবারের সম্মান ও অধিকারের দলিল হিসেবে নাজেল হওয়া আরো কয়েকটি আয়াতের কথা তুলে ধরলে ওই বয়স্ক লোকটি আকাশের দিকে হাত উঁচু করে তিনবার বলেন: হে আল্লাহ, আমি তওবা করেছি। আর তাঁদের হত্যা করাতে আমি অসন্তুষ্ট। আমি এর আগেও কুরআন পড়েছিলাম, কিন্তু এইসব সত্য জানতাম না।
সিরিয়ার জামে মসজিদে নতুন ইমামের ভাষণ:
সিরিয়ার মসজিদে নবী-বংশকে ও হযরত আলী (আ.)-কে গালি-গালাজ করা হত মুয়াবিয়ার আমল থেকেই। কারবালার ঘটনার পর একদিন এই মসজিদে হযরত আলী (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)-কে উদ্দেশ করে অপমানজনক কথা বলে বেতনভোগী খতিব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইমাম জাইনুল আবেদীন (আ.)। তিনি খতিবকে বললেন: খতিব তুমি ইয়াজিদকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে দোযখে স্থান তৈরি করেছ নিজের জন্য। তিনি ইয়াজিদের দিকে ফিরে বললেন, আমাকেও মিম্বরে যেতে দাও, কিছু কথা বলব যাতে আল্লাহ খুশি হবেন ও উপস্থিত লোকদের সওয়াব হবে। উপস্থিত লোকদের চাপের মুখে ইয়াজিদ অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজি হয়। (ইয়াজিদ লোকদের প্রতি বলেছিল ইনি এমন এক বংশের লোক যারা ছোটবেলায় মায়ের দুধ পানের সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞানও অর্জন করতে থাকে)
নতুন ইমাম মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসাসূচক কিছু বাক্য বলার পর বলেছিলেন: হে জনতা! আল্লাহ আমাদের ছয়টি গুণ ও সাতটি মর্যাদা দিয়েছেন। জ্ঞান, সহনশীলতা, উদারতা, বাগ্মিতা, সাহস ও বিশ্বাসীদের অন্তরে আমাদের প্রতি ভালবাসা। আমাদের মর্যাদাগুলো হল রাসূল (সা.), আল্লাহর সিংহ ও সত্যবাদী আমিরুল মু’মিনিন আলী (আ.), বেহেশতে দুই পাখার অধিকারী হযরত জাফর আততাইয়ার (রা.), শহীদদের সর্দার হামজা (রা.), রাসূল (সা.)’র দুই নাতী হযরত হাসান ও হুসাইন (আ.) আমাদের থেকেই, আর আমরাও তাঁদের থেকেই। যারা আমাকে জানে তারা তো জানেই, যারা জানে না তাদেরকে জানাচ্ছি আমার বংশ-পরিচয়: হে জনতা! আমি মক্কা ও মিনার সন্তান, আমি যমযম ও সাফা’র সন্তান। আমি তাঁর সন্তান যিনি হজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) তুলেছিলেন তাঁর কম্বলের প্রান্ত ধরে, আমি ওই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সন্তান যিনি কাবা তাওয়াফ করেছেন ও সাই করেছেন (সাফা ও মারওয়ায়) তথা হজ করেছেন। আমি এমন এক ব্যক্তির সন্তান যাকে একরাতেই মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল (রাসূলের মেরাজের ইঙ্গিত)।... আমি হুসাইনের সন্তান যাকে কারবালায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি আলীর সন্তান যিনি মুর্তাজা (অনুমোদনপ্রাপ্ত), আমি মুহাম্মদের সন্তান যিনি বাছাইকৃত, আমি ফাতিমাতুজ জাহরার সন্তান, আমি সিদরাতুল মুনতাহার সন্তান, আমি শাজারাতুল মুবারাকাহ বা বরকতময় গাছের সন্তান, হযরত খাদিজা (সা.)’র সন্তান আমি, আমি এমন একজনের সন্তান যিনি তার নিজের রক্তে ডুবে গেছেন, আমি এমন একজনের সন্তান যার শোকে রাতের আধারে জিনেরা বিলাপ করেছিল, আমি এমন একজনের সন্তান যার জন্য শোক প্রকাশ করেছিল পাখিরা।
ইমামের খোতবা এ পর্যন্ত পৌঁছলে উদ্বেলিত জনতা চিৎকার করে কাঁদতে লাগল ও বিলাপ শুরু করল। ফলে ইয়াজিদ আশঙ্কা করল যে গণ-বিদ্রোহ শুরু হতে পারে। সে মুয়াজ্জিনকে আযান দেয়ার নির্দেশ দিল। ইমাম (আ.) আজানের প্রতিটি বাক্যের জবাবে আল্লাহর প্রশংসাসূচক বাক্য বলছিলেন। যখন মুয়াজ্জিন বলল, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল- তখন ইমাম (আ.) মাথা থেকে পাগড়ী নামিয়ে মুয়াজ্জিনের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি এই মুহাম্মাদের নামে অনুরোধ করছি, এক মুহূর্ত নীরব থাক। এরপর তিনি ইয়াজিদের দিকে তাকিয়ে বললেন: এই সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ রাসূল কি আমার প্রপিতামহ না তোমার? যদি বল তোমার তাহলে গোটা পৃথিবী জানে তুমি মিথ্যা বলছ, আর যদি বল আমার তাহলে কেন তুমি আমার বাবাকে জুলুমের মাধ্যমে হত্যা করেছ, তাঁর মালপত্র লুট করেছ ও তাঁর নারী-স্বজনদের বন্দী করেছ? একথা বলে ইমাম(আ.) নিজের জামার কলার ছিঁড়ে ফেললেন এবং কাঁদলেন। এরপর বললেন, আল্লাহর কসম এ পৃথিবীতে আমি ছাড়া আর কেউ নেই যার প্রপিতামহ হলেন রাসূলুল্লাহ (সা.), কেন এ লোকগুলো আমার পিতাকে জুলুমের মাধ্যমে হত্যা করেছে এবং আমাদেরকে রোমানদের মত বন্দী করেছে?...অভিশাপ তোমার ওপর যেদিন আমার প্রপিতামহ ও পিতা তোমার ওপর ক্রুদ্ধ হবেন।
গণ-বিদ্রোহের আশঙ্কায় দিশাহারা ও আতঙ্কিত ইয়াজিদ
অবস্থা বেগতিক দেখে ইয়াজিদ নামাজ শুরু করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ জনতার অনেকেই মসজিদ থেকে বেরিয়ে যান। পরিস্থিতির চাপে পড়ে ইয়াজিদ নিজেও ভোল পাল্টে ফেলে ইমাম হুসাইন (আ.) ও নবী পরিবারের সদস্যদের হত্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং এর দায় জিয়াদের ওপর চাপিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।
ইয়াজিদকে হত্যার পরিকল্পনা
ইয়াজিদ ইমাম হুসাইন (আ.)’র বোন হযরত জাইনাব (সা.)’র অনুরোধে কারবালার শহীদদের জন্য শোক অনুষ্ঠান পালনের অনুমতি দেয়। সাত দিন ধরে শোক সমাবেশ হয়। বিপুল সংখ্যক সিরিয় নারী শোক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। সিরিয় পুরুষদের অনেকেই সিদ্ধান্ত নেন যে তারা ঝড়ের গতিতে ইয়াজিদের প্রাসাদে ঢুকে তাকে হত্যা করবে। ইয়াজিদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মারওয়ান এ পরিকল্পনার কথা জেনে ফেলে। সে ইয়াজিদকে পরামর্শ দেয় হুসাইনের পরিবারকে সিরিয়ায় বেশি দিন রাখা ঠিক হবে না। তাঁদেরকে মদীনায় ফেরত পাঠানো জরুরি। ইয়াজিদ নবী-পরিবারকে সফরের রসদপত্র দিয়ে তাঁদেরকে মদীনায় পাঠিয়ে দেয়।
আসলে কারবালা বিপ্লবের ব্যাপারে ইমাম হুসাইন (আ.)’র বোন হযরত জাইনাব (সালামুল্লাহি আলাইহা) ও অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ইমামের পুত্র ইমাম জাইনুল আবেদীনের (আ.) বলিষ্ঠ ভাষণ ও সত্য ঘটনা প্রচারের ফলেই জনগণ আসল ঘটনা বুঝতে পারে। ফলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই উমাইয়াদের বিরুদ্ধে ইরাকে ও হিজাজে (বর্তমান যুগের সৌদি আরব অঞ্চল) বিদ্রোহ দেখা দেয়। কুফায় মুখতারের নেতৃত্বে বিপ্লবী সরকার গঠিত হয় এবং এই সরকার ইমাম হুসাইন (আ.) হত্যাকারী ওমর সাদ ও শিমারসহ ইয়াজিদ বাহিনীর প্রায় সব ঘাতককে হত্যা করে। অনেক ঘাতক অলৌকিকভাবে কঠোর শাস্তি পেয়েছিল।
৩৪ বছর পর ১২ মহররম তারিখে নতুন ইমামের শাহাদত
উল্লেখ্য, কারবালার মহাট্র্যাজেডির ৩৪ বছর পর ৯৫ হিজরির ১২ মুহররম ৫৭ বছর বয়সে শাহাদত বরণ করেছিলেন হযরত ইমাম জাইনুল আবেদীন। ষষ্ঠ উমাইয়া শাসক ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিক বিষ প্রয়োগ করে এই মহান ইমামকে শহীদ করে। ৩৮ হিজরিতে মদীনায় তাঁর জন্ম হয়েছিল। তাঁর মা ছিলেন শেষ ইরানি রাজার কন্যা শাহরবানু।
কারবালার ঘটনার পর তিনি যখনই পানি দেখতেন বাবাসহ কারবালার শহীদদের চরম পিপাসার কথা ভেবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন। কোনো ভেড়া বা দুম্বা জবাই করার দৃশ্য দেখলেও কেঁদে আকুল হতেন। তিনি প্রশ্ন করতেন এই পশুকে জবাইর আগে পানি পান করানো হয়েছে কিনা। পানি দেয়া হয়েছে একথা শোনার পর তিনি বলতেন, কিন্তু আমার (তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত) বাবাকে পানি না দিয়েই জবাই করেছিল ইয়াজিদ-সেনারা। তিনি সব সময় রোজা রাখতেন। ইফতারির সময় তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলতেন: রাসূল (সা.)’র সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থায়।
ইমাম জাইনুল আবেদীন তাঁর বাবার জন্য ৩৪ বছর ধরে কেঁদেছিলেন।
তিনি সব সময় দিনে রোজা রাখতেন ও পুরো রাত জেগে ইবাদত করতেন। রোজা ভাঙ্গার সময় তিনি বাবার ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করে এত বেশি কাঁদতেন যে অশ্রুতে খাবার ভিজে যেত এবং খাবার পানিতেও অশ্রু মিশে যেত। জীবনের শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা ছিল তাঁর।
একদিন তাঁর খাদেম ইমামের কান্নারত অবস্থায় তাঁকে বলেন: আপনার দুঃখ ও আহাজারি শেষ হয়নি?
উত্তরে তিনি বলেন: তোমার জন্য আক্ষেপ! ইয়াকুব (আ.) আল্লাহর একজন নবী ছিলেন। তাঁর ১২ জন সন্তান ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাঁর এক পুত্র ইউসুফকে চোখের আড়ালে রাখায় শোকে, দুঃখে ও অতিরিক্ত কান্নায় তিনি প্রায় অন্ধ হয়ে পড়েন, চুল পেকে যায় ও পিঠ বাঁকা হয়ে যায়। সন্তান জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁর এ অবস্থা হয়েছিল। আর আমি আমার পিতা, ভাই এবং পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে মাটিতে পড়ে যেতে ও শহীদ হতে দেখেছি; তাই কিভাবে আমার দুঃখ ও অশ্রু থামতে পারে?
গভীর ধার্মিকতা ও আল্লাহর প্রেমে সিজদা-প্রবণ ছিলেন বলে ইমাম জাইনুল আবেদীন (আ.)-কে বলা হত 'সাজ্জাদ'।
ইমাম জাইনুল আবেদীন(আ.) সফরে বের হলে অপরিচিত ব্যক্তির কাছে কখনও রাসূলের বংশধর বলে পরিচয় দিতেন না যাতে লোকজন তাঁকে বিশেষ চোখে না দেখে। সত্য প্রচারে তাঁর সাহসিকতার প্রমাণ কুফা ও দামেস্কের দরবারেই সীমিত ছিল না। একবার খলিফা আবদুল মালিক ইমাম সাজ্জাদের (আ.) কাছে কিছু উপদেশ প্রার্থনা করলে তিনি বললেন, পবিত্র কুরআনের উপদেশের চেয়ে বড় উপদেশ কি হতে পারে? পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে-যারা ওজনে কম দেয় তাদের জন্যে আক্ষেপ! যখন ? কম ওজনদাতার ব্যাপারে আল্লাহ এতো কঠোর কথা বলেছেন তখন তার অবস্থা কেমন হতে পারে যে জনগণের সমস্ত সম্পদ লুট করে) সহিফায়ে সাজ্জাদিয়া ইমাম জাইনুল আবেদীনের (আ.) এক অনন্য সৃষ্টি। ইমাম সাজ্জাদের বেশিরভাগ বিখ্যাত দোয়া স্থান পেয়েছে এ সংকলনে। মত প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি তাঁর বিভিন্ন প্রাণস্পর্শী দোয়া, আকুতি, মোনাজাত ও বাণীর মাধ্যমে মানুষকে বিভিন্ন দিকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। এসব দোয়ায় আত্মিক পরিশুদ্ধির জ্ঞান ছাড়াও রয়েছে খোদা পরিচিতি, বিশ্বদৃষ্টি, মানুষের পরিচিতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা।
এছাড়াও রিসালাতুল হুকুক নামে ইমামের একটি পুস্তিকা রয়েছে। এতে মানুষের ওপর মহান আল্লাহর অধিকারসহ নানা ধরনের অধিকারের বর্ণনা রয়েছে। ইমাম সাজ্জাদ (আ.)’র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তৎপরতা যখন সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে তখন তা উমাইয়া শাসকদের জন্যে অসহনীয় হয়ে ওঠে। তাই তৎকালীন উমাইয়া শাসক ওলীদ বিন আবদুল মালিক ইমামকে বিষ প্রয়োগে শহীদ করে। কিন্তু ইমাম সাজ্জাদের পথ নির্দেশনা তাঁর সন্তান ও অনুসারীদের মাধ্যমে অমর হয়ে আজো আলো বিকিরণ করে চলেছে।
ইমাম বলেছেন, - আমি তাদের ব্যাপারে বিস্মিত যারা ক্ষতির কারণে বিভিন্ন ধরনের খাবার বর্জন করে অথচ তারা কদর্যতার কারণে পাপ বর্জন করে না।
- তোমরা বেহেশতে সর্বোচ্চ স্থান লাভের চেষ্টা করবে। তোমরা মনে রেখো যারা অপর ভাইয়ের প্রয়োজন মেটায় এবং দীন-দুঃখীদের সাহায্য করে কেবল তাদেরকেই বেহেশতে সর্বোচ্চ স্থান দেয়া হয়ে থাকে।
পার্সটুডে/এমএএইচ/১

Photos from Al-Hussaini Imam Bargah's post 03/08/2022
Photos from Al-Hussaini Imam Bargah's post 03/08/2022

5th Muharram Majlish
Speech: Hujjattul Islam Majidul Islam Majid
Al-Hussaini Imam Bargah
Al-Mehdi Org.

03/12/2021
03/12/2021

*তিনটি মর্যাদাসম্পন্ন দরুদঃ👇*

➊ *সকল গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার দরুদঃ*📣
🌻হযরত ইমাম জাফার আস সাদিক্ব(আ:):
*"আল্লাহ কসম! (নিচের) এই দরুদের মাধ্যমে একজন মানুষ সদ্য ভুমিষ্ট শিশুর ন্যায় গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায়।"*

*〖 صَلَواتُ اللهِ وَ صَلَواتُ مَلائِکَتِهِ وَ أنْبِیائِهِ وَ رُسُلِهِ وَ جَمیعِ خَلْقِهِ عَلی مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ السَّلامُ عَلَیْهِ وَ رَحَمهُ اللهِ وَ بَرَکاتُهُ〗*

*উচ্চারণঃ*👇
〖সালাওয়াতুল্ল-হি ওয়া সালাওয়াতু মালাইকাতিহি ওয়া আম্বয়াইহি ওয়া রুসূলিহি ওয়া জামিয়ি' খালক্বিহি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলে মুহাম্মাদ। ওয়াস্ সালামু আলাইহি ওয়া রাহমাতুল্ল-হি ওয়া বরাকাতুহুহ্ 〗
📚মাআনিল আখবার, খণ্ড ২, পৃঃ নং ৩৬২।

➋ *যে দরুদ পাঠ করলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত একজন মানুষ নিরাপদে থাকেঃ*👇

🌻হযরত ইমাম জাফার আস সাদিক্ব(আ:):
*"যে ব্যক্তি শুক্রবারের দিন জুম্মা (অথবা যোহর) নামাজ বাদ তিন বার (নিচের দরুদটি) পড়বে,*

*〖 اَللهمَّ اجْعَلْ صَلَواتَ وَ صَلَواتَ مَلائِکَتِکَ وَ رُسُلِکَ عَلیَ مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ〗*
〖আল্ল-হুম্মাজ্আল সালাওয়াতা ওয়া সালাওয়াতা মালাইকাতিকা ওয়া রুসূলিকা আ'লা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলে মুহাম্মাদ 〗
*সে পরের শুক্রবার পর্যন্ত নিরাপদে থাকবে।"*
📚বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৯০, পৃঃ নং ৫৬।

➌ *যে দরুদ পাঠ করলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত ফেরেস্তারা আপনার জন্যে দরুদ পাঠ করতে থাকেঃ*👇

🌻হযরত ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল বাক্বির(আ:) ও হযরত ইমাম জাফার আস সাদিক্ব(আ:):
*"যে ব্যক্তি শুক্রবারের দিন আসর নামাজ বাদ দশ বার (নিচের দরুদটি) পড়বে,*

*〖 اَللهمَّ صَلِّ عَلی مُحَمَّدٍ الْأوْصِیاءِ الْمَرْضییّنَ بِأَفْضَلِ صَلَواتِکَ وَ بارِکْ عَلَیْهِمْ بِأَفْضَلِ بَرَکاتِکَ وَ عَلَیْهِ وَ عَلَیْهِمُ السَّلامُ وَ عَلی اَرْواحِهِمْ وَ أَجْسادِهِمْ وَ رَحْمَهُ الله وَ بَرَکاتُهُ〗*
〖আল্ল-হুম্মা সাল্লি আ'লা মুহাম্মাদিনিল আওসিয়াইল মারদ্বি-ই-না বিআফদ্বালি সালাওয়াতিকা ওয়া বারিক আলাইহিম। বিআফদ্বালি বারাকাতিকা ওয়া আলাইহি ওয়া আলাইহিমুস্ সালাম। ওয়া আ'লা আরওয়াহ্বিহিম ওয়া আজসাদিহিম ওয়া রাহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকাতুহুহ্〗
*ফেরেস্তারা ঐ ব্যক্তির জন্যে এই শুক্রবার থেকে পরের শুক্রবারের এই সময় পর্যন্ত দরুদ পড়তে থাকে।"*
📚 জামালুল উসবুহ কিতাব দ্রঃ, সাওয়াবুল আ'মাল ওয়া ইক্বাবুল আ'মাল, হাদিস নং ৫৯৮।

06/11/2021

বিশ্ব নবীর চাচা হযরত আবু তালিব আঃ কি মুসলমান ছিলেন? পর্বঃ-১
ইনশাআল্লাহ ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত মিথ্যা দূর হবে।
আবু তালিবের জন্মঃ
রাসুল (সাঃ) এর আগমনের ৩৫ বছর পূর্বে আব্দুল মোত্তালেবের ঘরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতার নাম ছিল ফাতেমা।
আবু তালিবের নামঃ
যিনি আবু তালিব নামে সর্বাধিক পরিচিত। এই আবু তালিবেরই প্রকৃত নাম হচ্ছে “ইমরান”। সেই যুগে আরবদের নিয়ম ছিল ছেলে হলে তার নামের পূর্বে আবু এবং মেয়ে হলে তার নামের পূর্বে উম শব্দটি যোগ করা হতো। ওনার জৈষ্ঠ পুত্রের নাম হচ্ছে তালিব । আরবের রীতি অনুযায়ী ওনাকে ডাকা হত আবু তালিব বলে। প্রচলিত নাম হচ্ছে আবু তালিব বা তালিবের পিতা।একমাত্র তিনি ব্যতীত আর কোন উল্লেখযোগ্য “ইমরান” অদ্যবধি ইসলামের ইতিহাসে খুজে পাওয়া যায় নি। অনেকের মতে তার নাম ছিল আব্দে মানাফ যার অর্থ হচ্ছে অতি সম্মানিত বান্দা।
আবু তালিবের উৎসর্গতাঃ
রাসুল (সাঃ) এর জন্মের সাথে সাথে তাঁর বাবা মারা যান। তখন তাঁর দেখাশুনার দ্বায়িত্ব তার দাদা আব্দুল মোত্তালিবের কাছে আসে যখন তিনিও রাসুলের (সাঃ) ৭ বছর বয়স হতে না হতে দুনিয়ার বুক থেকে বিদায় নেন অতপর তাঁর দেখশুনার দ্বায়িত্ব আবু তালিবের কাছ আসে। আবু তালিব তাকে নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি ভালবাসতেন এবং রাতের বেলায় তাকে নিজের কাছে নিয়ে ঘুমাতেন এমনকি যখন তিনি সফরে যেতেন তখনও তাকে সাথে করে নিয়ে যেতেন। তিনি রাসুল (সাঃ) ভাল খাদ্য খাওয়াতেন।সূত্রঃ-তাবাকাতে কুবরা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১০১।
ইবনে আব্বাসস বলেন আবু তালিব রাসুল (সাঃ) কে নিজের সন্তানদের চেয়ে বেশী ভালবাসতেন কখনও তাকে দূরে ঘুম পাড়াতেন না এবং তিনি যেখানে যেতেন রাসুল (সাঃ) কে সাথে করে নিয়ে যেতেন। সূত্রঃ-আল গ্বাদীর, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৭৬।
আল্লামা মাজলিসী বলেনঃ রাসুল (সাঃ) ঘুমিয়ে পড়লে আবু তালিব আলীকে রাসুলের (সাঃ) বিছানায় ঘুম পাড়াতেন এবং তার ভাইদেরকে দ্বার রক্ষার জন্য নির্দেশ দিতেন। সূত্রঃ-বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৩৫, পৃষ্ঠা ৯৩
ইয়াকুবি লিখেছেন যে, ফাতেমা বিনতে আসাদ মারা গেলে রাসুল (সাঃ) বলেন তিনি ছিলেন একজন মুসলমান নারী। তিনি আরো বলতেন ( الیوم ماتت امی) আজ আমার মা মারা গেছে। রাসুলকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে কেন আপনি ফাতেমা বিনতে আসাদের জন্য এত দুঃখ প্রকাশ করছেন তিনি তার উত্তরে বলেন কেননা তিনি আমার মায়ের মতো ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নিজের সন্তানদের ক্ষুধার্ত রাখতেন এবং আমাকে খাদ্য দান করতেন, তার সন্তানদের শরীরে ধুলা ময়লা লেগে থাকতো কিন্তু তিনি আমাকে পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতেন। সূত্রঃ-তারিখে ইয়াকুবী, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৬৮।
ইবনে আবিল হাদীদ লিখেছেন যে, আবু তালিব ছিলেন সেই ব্যাক্তি যিনি রাসুল (সাঃ) কে ছোট বেলায় নিজের দ্বায়িত্বে নেন, যুবক বয়সে তাকে সাহায্যে করেন এবং কুরাইশদের ষড়যন্ত্রের মুকাবিলা করতেন এবং এই পথে তিনি যথেষ্ট কষ্ট সহ্য করেছেন এবং বহুবার নিজের জীবনের ঝুকি নিয়েছেন। তার মৃত্যুর সময় হযরত জিব্রাইল (আঃ) নাযিল হন এবং রাসুল (সাঃ) কে বলেন যে, আপনি মক্কা থেকে বাহির হয়ে যান কেননা আপনার সাহায্যেকারী আজ আর দুনিয়ার বুকে নেই। সূত্রঃ-ইবনে আবিল হাদীদ, শারহে নাহজুল বালাগা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯, খন্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৭০।
আবু তালিব ও হযরত খাদিজার মৃত্যু রাসুল (সাঃ) কে এতই মর্মাহত করে যে তিনি সেই বছরকে আমুল হুযন বলে আখ্যায়িত করেন। সূত্রঃ-আল গ্বাদীর, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৭৩- ৩৭৬, তারিখে কামেল ইবনে আসীর, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৯১।
আবু তালিবের ঈমান সম্পর্কিত বিশ্লেষণাত্মক আলোচনাঃ
অনেকেই আলী (আঃ) এর প্রতি শত্রুতা থাকার কারণে আবু তালিবকে কাফের বলে প্রমাণিত করার চেষ্টা করে। আবার অনেকে রাসুলের বাবা মা কেও কাফের বলে প্রমাণিত করার চেষ্ট করে। কিন্তু হযরত আলী (আঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেনঃ শপথ খোদার না আমার বাবা এবং আমার পূর্ব পুরুষেরা (আব্দুল মোত্তালেব, হাশেম এবং আব্দে মানাফ) কখনই মূর্তি পুজা করেননি। তারা কাবার দিকে ফিরে নামাজ পড়তেন এবং তারা দ্বীনে ইব্রাহিমের উপরে ঈমান রাখতেন। সূত্রঃ-বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৩৫, পৃষ্ঠা ৮১।
আবু তালিবের ঈমান সম্পর্কে বড় বড় আলেমেরা তাদের পুস্তকে লিখেছেন এছাড়া অসংখ্য হাদীস আমরা এ সম্পর্কে দেখতে পাইি এবং ইসলামী ইতিহাসে তা প্রমাণিত হয়েছে। আল্লামা মাজলিসী ১১৫ পৃষ্ঠায় ৮৫ টি হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে আহলে সুন্নাতের বড় বড় আলেমদের কথাও সেখানে বর্ণিত হয়েছে। আল গাদ্বীর নামক গ্রন্থের ৭ম এবং ৮ম খন্ডে তিনি আহলে সুন্নাতের বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে সহস্রাধিক হাদীস তিনি বর্ণনা করেছেন। সূত্রঃ-আল গ্বাদীর, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৩১- ৪১৩।
আহলে সুন্নাতের বহু আলেম এবং গবেষকগণ তাদের লিখাগুলোতে কম বেশী আবু তালিবের ঈমান সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন এবং তার সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত প্রকাশ করেছেন। এই ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যে, ইবনে আবিল হাদীদ উক্ত বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং একাধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন যা সত্যান্বেষীদের জন্য খুবই উপকারী।
অনেকেই আবু তালিবকে কাফের বলে থাকেন। কিন্তু তারা একবারও আবু তালিবের জিবনীর অধ্যায়ন করে না। যদি তারা জানতো যে আবু তালিব ছিলেন এমন ব্যাক্তিত্ব যিনি রাসুল (সাঃ) কে নিজের ছত্রছায়ায় লালন পালন করেন, তিনি রাসুল (সাঃ) কে তার রেসালাতের তাবলিগকালীন সময়ে অর্থিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে সাহায্যে সহযোগিতা করেন। আবু তালিব মক্কায় এবং তার সন্তান মদীনায় রাসুলের (সাঃ) জীবন রক্ষার কাজে নিজেদেরকে নিযোজিত রাখেন। সূত্রঃ-শারহে নাহজুল বালাগা, খন্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৮৪।
আবু তালিব রাসুল (সাঃ) এর জীবন রক্ষার জন্য রাজনৈতীক পদ মর্যাদা, সম্মানের থেকে তিন বছর পাহাড়, গুহা, ছন্নছাড়া জীবনকে বেশী প্রাধান্য দান করেন। তিনি রাসুল (সাঃ) কে বাচানোর জন্য নিজের সমস্ত সন্তানকে খোদার পথে উৎসর্গ করতে কুন্ঠা বোধ করেননি। মৃত্যুর সময় তিনি তাঁর সন্তানদের বলেন আমি তোমাদেরকে মুহাম্মাদ সম্পর্কে বলতে চাই যে, সে হচ্ছে কুরাইশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সত্যবাদী এবং অন্যান্য গুনাবলিও তাঁর মধ্যে রয়েছে। তোমরা তার অনুসরণ করো।
১- ইবনে আবিল হাদীদ মোতাযেলী তিনি আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব, আবু বকর বিন আবু কুহাফা থেকে বণনা করেছেন যে আবু তালিব (لااله الا الله، محمد (صلی‏الله‏علیه‏وآله) رسول الله) পাঠ করার পূর্বে মৃত্যু বরণ করেনি। সূত্রঃ-সীরাহে সহীহ পায়াম্বারে ইসলাম, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২২১।
২- হজরত আলী (আঃ) বলেন যখন আমি রাসুল (সাঃ) কে আমার বাবা আবু তালিবের মৃত্যুর খবর জানাই তখন তিনি খুব ক্রন্দন করেন এবং বলেন যে, যাও তাকে গোসল ও কাফন পরাও কেননা আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন এবং তার প্রতি নিজের রহমত নাযিল করবেন। সূত্রঃ-শারহে নাহজুল বালাগা, খন্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৭৬।
অতপর রাসুল (সাঃ) তার লাশের পাশে আসেন এবং বলেন হে আমার চাচা আপনি আমাকে শৈশবে আমার দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন, আমার পিতৃহারা অবস্থায় আমাকে আশ্রয় দান করেন এবং যৌবনে আমাকে সার্বিক সাহায্যে করেন। আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে আপনার উক্ত কষ্টের উপযুক্ত প্রাপ্য দান করবেন। সূত্রঃ-বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৩৫, পৃষ্ঠা ৬৮, হাদীস নং ১।
৩- ইবনে আবিল হাদীদ মোতাযেলী তিনি বলেছেন রাসুল (সাঃ) বলেছেন হে আমার চাচা আমি আপনার জন্য খোদার কাছে মাগফেরাত চাইব যে, জ্বিন ও মানুষ তা দেখে আশ্চর্যিত হবে। সূত্রঃ-শারহে নাহজুল বালাগা, খন্ড ১৬, পৃষ্ঠা ৭৬।
৪- ইমাম জাফর সাদিক্ব (আঃ) থেকে বর্ণিত যে: যখন আমীরুল মুমিনিন আলী (আঃ) এর মা যখন রাসুল (সাঃ) এর জন্মের সুসংবাদ আবু তালিবকে দান করেন। তিনিও তার জবাবে বলেন যে: আমিও তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছি যে, তুমিও এমন এক সন্তান এই দুনিয়ার বুকে জন্মদান করবে যে হবে তার ওয়াসী ও ওয়াযির। সূত্রঃ-উসুলে কাফী, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫২, হাদীস নং ১ ও ৩।
৫- ইমাম হুসাইন (আঃ) থেকে বর্ণিত হযেছে যে, আমার বাবা হজরত আলী বলেছেন একদা তিনি ঘরে কিছু লোকের সাথে বসে ছিলেন হঠাৎ একজন প্রশ্ন করে যে, হে আমীরুল মুমিনিন আপনি এমন এক পদমর্যাদার অধিকারী অথচ আপনার বাবা হচ্ছে জাহান্নামী। তিনি তার উত্তরে বলেন চুপ কর খোদা তোমার মুখ কালো করুক এইটা কেমন কথা, কসম হচ্ছে সেই সত্তার যিনি রাসুল (সাঃ) কে নবুওয়াত দান করেছেন আমার বাবা যদি কোন গুনাহগারের জন্যও দোয়া করে তাহলে আল্লাহ তা কবুল করে নিবেন। কি তার বাবা জাহান্নামে থাকবে যাকে আল্লাহ সমস্ত মানুষের বেহেস্ত ও জাহান্নামের বন্টনের দ্বায়িত্ব দান করেছেন। সূত্রঃ-বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৩৫, পৃষ্ঠা ১১০, হাদীস নং ৩৯।
আবু তালিবের ঈমানের প্রমাণাদিঃ
১. স্বয়ং রাসুল (সাঃ) এবং আহলে বাইত (আঃ) থেকে বর্ণিত কথা সমূহই হচ্ছে আবু তালিবের ঈমানের জন্য বড় একটি দলিল।
২. সংকটপূর্ণ মূহুর্তেও রাসুল (সাঃ) কে সাহায্যে হচ্ছে ঈমানের আরেকটি দলিল।
৩.আবু তালিবের কবিতা সমূহ যেখানে তিনি রাসুল এবং স্বয়ং খোদা সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন।
৪. রাসুলের (সাঃ) এর পিছনে নামাজ পড়ার জন্য তার স্ত্রী, সন্তানাদি এবং তার ভাই হযরত হামযাকে নামাজ পড়ার নির্দেশ দেন।
৫. রাসুল (সাঃ) হযরত আবু তালিব ও হযরত খাদিজার মৃত্যুর কারণ সেই বছরকে আমুল হুযন বলে উল্লেখ করেন।
৬.হযরত আবু বকর এবং হযরত আব্বাস সাক্ষি দেন যে আবু তালিব মৃত্যুর পূর্বে কলেমা শাহাদাতাইন পাঠ করেন।
৭. হযরত আবু তালিবের জন্য রাসুল (সাঃ) দোয়া করেন এবং তার কাফন দানের জন্য নির্দেশ দান করেন। তিনি তার জানাযার নামাজ পড়ান।
৮. হযরত আলী (আঃ) মুয়াবিয়ার কাছে প্রেরিত চিঠিতে লিখেন যে, আমার বাবা আবু তালিব এবং তোমার বাবা আবু সুফিয়ানের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।
৯.রাসুল (সাঃ) বলেছেন যে, আমি কেয়ামতের দিন আমার বাবা মা এবং আমার চাচার জন্য শেফায়াত করব।
১০.হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ বলেছেন যে, আমি তোমার বাবা মা এবং তোমার চাচা আবু তালিবের উপরে জাহান্নামের আগুনকে হারাম করেছি।
১১. ফাতেমা বিনতে আসাদ যিনি মুহাজির ছিলেন। যদি আবু তালিব মুসলমান না হতেন তাহলে কখন তিনি তার স্ত্রীকে রাসুলের সাথে হিজরত করার অনুমতি দিতেন না।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে আবু তালিবের ঈমানের বহিপ্রকাশ না করার বিষয়টি হচ্ছে সম্পূর্ন একটি রাজনৈতীক বিষয় কেননা আবু তালিবের ঈমানের ক্ষেত্রে একাধিক দলিল রয়েছে যে তিনি ইসলামের প্রতি ঈমান নিয়ে এসেছিলেন। যার সম্পর্কে শিয়া সুন্নী উভয়েই তার ঈমান সম্পর্কে নিজেদের অভিমত ব্যাক্ত করেছেন এবং সত্যায়িত করেছেন যে সে ছিল একজন মুমিন ব্যাক্তি।কিন্তু তারপরেও কিছু বিদ্বেষী ভাবাপন্ন লোকেরা তাকে কাফির বলে প্রমাণিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের শত্রুতা হচ্ছে হজরত আলীর (আঃ) সাথে কেননা যদি তারা আবু তালিবকে কাফির বলে প্রমানিত করতে পারে তাহলে তারা হজরত আলী (আঃ) এর মনক্ষুন্নতার ক্ষেত্রে সাফল্যতা লাভ করতে পাবে।
রাসুল (সাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, হে আলী তোমাকে তারাই ভালবাসবে যারা হবে মুমিন আর তারাই শত্রুতা পোষণ করবে যারা হবে মুনাফিক। আর তাই আমাদের উচিত হবে যে কাউকে অযথা কাফের না বলে প্রকৃত সত্যকে জানার চেষ্টা করা। তাহলেই আমাদের বিচার বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে।

29/10/2021

আল্লাহর পথে শহীদ হতে হলে কী করতে হবে জানালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
অক্টোবর ২৮, ২০২১
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, শহীদেরা আল্লাহর মনোনীত। তারা সঠিক পথ নির্বাচন করেছেন এবং আল্লাহও তাদেরকে এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য মনোনীত করেছেন। আমাদের বৈষয়িক হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে শহীদদের মূল্য নির্ধারণ সম্ভব নয়।

তিনি ইরানের 'যানজান' প্রদেশের শহীদদের স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেছেন। কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে দেওয়া সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্য আজ তাঁর দপ্তর থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন- শহীদেরা পৃথিবীর সর্বোত্তম বাণিজ্যে বিজয় লাভ করেছে: হে ঈমানদারগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে রক্ষা করবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে? তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর ঈমান আনবে এবং তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা জানতে! (সূরা আস-সফ, আয়াত ১১ ও ১২)

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, শাহাদাত হলো চূড়া, তবে ঢাল ছাড়া চূড়া অর্থহীন। আমরা অনেকেই চূড়ায় পৌঁছাতে চাই। এ জন্য আমাদেরকে ঢাল পার হয়ে উপরে উঠতে হবে, সেখানে চূড়ায় ওঠার পথ খুঁজে বের করতে হবে। ঢাল অতিক্রম না করে চূড়ায় পৌঁছানো সম্ভব নয়। এই ঢাল এবং এই পথ কী? এগুলো হলো আন্তরিকতা, আত্মত্যাগ, সত্যবাদিতা, আধ্যাত্মিকতা, সংগ্রাম, ক্ষমা, আল্লাহর প্রতি গভীর মনোযোগ, মানবসেবা, ন্যায়ের পথে সংগ্রাম এবং ধর্মের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা-প্রচেষ্টা। আপনি যদি এই পথে চলেন তাহলে আপনার কাঙ্ক্ষিত চূড়ায় পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, শহীদদের স্মরণ ও তাদের সম্মান জানানো সাধারণ কোনো কাজ নয়। এটি সত্যিই বড় সওয়াবের কাজ। এটা এমন এক দায়িত্ব যা এখনো শেষ হয়নি বরং কেবল শুরু হয়েছে। এটা অব্যাহত থাকবে। এটা অবশ্যই অব্যাহত থাকা উচিত। শহীদদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অনেক ভালো কাজ হয়েছে, তবে আরও কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। শক্তিশালী উপাদান হিসেবে ধর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে শহীদদের স্মৃতিকথার সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, সন্তান হয়তো আর ফিরে আসবে না তা জেনেও অনেক মা-বাবা তাদের তরুণ সন্তানদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠান। অনেকেই তাদের স্বামীকে হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেন। এর উৎস কি ধর্মীয় ও ঐশী দৃষ্টিভঙ্গি ব্যতীত অন্য কিছু হতে পারে? এই শক্তিশালী উপাদানের বিশ্লেষণ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ ক্ষেত্রের পেছনে অবস্থান নিয়ে নারীরা যেসব কাজ করেছেন, পদক্ষেপ নিয়েছেন সেগুলো বিস্ময়কর। তারা খাবার, মোরব্বা এবং রুটি তৈরি করেছেন। যোদ্ধাদের রক্তাক্ত কাপড় এবং হাসপাতালের রক্তাক্ত চাদর ধুয়ে দিয়েছেন। নারীরা যে সেবা দিয়েছেন তা অতুলনীয়

Want your school to be the top-listed School/college in Kulaura?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Kulaura