13/12/2025
বাংলাদেশের প্রত্যেকটা বাসায় এই দৃশ্যটা খুব কমন। বাসায় মেহমান আসলো, বাচ্চার হাতে একটা চিপসের প্যাকেট বা চকলেট ধরিয়ে দিলো। অথবা আমরাই বাইরে গেলে বাচ্চার কান্নাকাটি থামাতে একটা কেক বা জুস কিনে দিলাম। আমরা ভাবি, "আহা, বাচ্চা মানুষ, একটুআধটু তো খাবেই!" কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, এই "একটুআধটু" জিনিসগুলোই আমাদের কলিজার টুকরাটার হার্টের যে কী পরিমাণ ক্ষতি করছে, তা আমরা টেরও পাচ্ছি না!
আগে আমিও এসব নিয়ে এত মাথা ঘামাতাম না। কিন্তু রুশদানের খাবার নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে আমার তো চোখ কপালে! বিশেষ করে এই ৪টা জিনিস, যা আমরা আদর করে বাচ্চার হাতে রোজ তুলে দিচ্ছি:
১. দোকানের চকলেট:
ওই যে চকচকে প্যাকেটের চকলেট, যার বেশিরভাগটাই হলো চিনি আর পাম তেলের মিশ্রণ। এই বাজে ফ্যাটটাই সোজা বাচ্চার রক্তের নালিতে গিয়ে জমে, আর ছোট্ট হার্টটার উপর চাপ বাড়াতে থাকে।
২. প্যাকেট বিস্কুট:
আমরা ভাবি, বিস্কুট তো ভালোই! কিন্তু, প্যাকেটের বেশিরভাগ বিস্কুটই হলো ময়দা, চিনি আর ডালডার একটা মিশ্রণ। এটা সরাসরি বাচ্চার রক্তে খারাপ চর্বি (কোলেস্টেরল) বাড়িয়ে দেয়।
৩. রঙচঙে ক্রিম কেক:
দেখতে যা সুন্দর, খেতেও মজা। কিন্তু এই কেকের ক্রিমে যে কী পরিমাণ বনস্পতি বা বাটার অয়েল (মানে ট্রান্স-ফ্যাট) থাকে, তা জানলে আপনি আর কিনে খাওয়াবেন না। এটা হার্টের জন্য খুবই খারাপ।
৪. চিপস: এক কথায় বলতে গেলে, এগুলো হলো লবণের খনি! এই অতিরিক্ত লবণ বাচ্চার শরীরে পানি জমিয়ে ফেলে আর ব্লাড প্রেশার বাড়িয়ে দেয়। চিন্তা করেন, এই ছোট্ট বয়সেই যদি প্রেশার নিয়ে ভাবতে হয়, তাহলে কেমন লাগে!
এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে কি বাচ্চাকে কিছুই খাওয়াবো না? অবশ্যই খাওয়াবো! কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটিয়ে। ওদের বায়না মেটাতে দোকান থেকে না কিনে, ঘরেই বানিয়ে দিন না স্বাস্থ্যকর কিছু।
কেকের বদলে বানান সুজির নরম কেক বা প্যানকেক।
বিস্কুটের বদলে দিন আটা দিয়ে বানানো নিমকি বা বিস্কুট।
চিপসের বদলে আলু কেটে সামান্য লবণ দিয়ে এয়ার ফ্রাই বা হালকা তেলে ভেজে দিন।
চকলেটের বদলে দিন খেজুর বা অন্য কোনো মিষ্টি ফল।
আমি জানি, দোকান থেকে কিনে আনা অনেক সহজ। কিন্তু একটু কষ্ট করে ঘরে বানালে বাচ্চার স্বাস্থ্যটাও ভালো থাকলো, আর আপনার মনের মধ্যেও একটা শান্তি কাজ করবে। আমাদের আদর যেন ওদের জন্য বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়।