13/03/2026
““দেয়াল থামাতে পারেনি, কারণ জীবন আল্লাহর ইচ্ছায় বাঁচে””
জানালার উত্তর পাশে, ছোট্ট একটি পুরোনো পুকুরের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা দেয়াল। সময়ের ছাপ লেগে আছে তার গায়ে—খসে পড়া প্লাস্টার, মলিন ইট, আর নীরবতার এক দীর্ঘ ইতিহাস। কিন্তু সেই নীরব দেয়ালেই যেন জীবনের এক বিস্ময়কর গল্প লেখা আছে।
দেয়ালের বুক চিরে তিনটি বটগাছ তাদের শিকড় ছড়িয়ে দিয়েছে চারদিকে। শিকড়গুলো এমনভাবে দেয়াল আঁকড়ে ধরেছে যেন শিল্পীর তুলি দিয়ে আঁকা কোনো জীবন্ত চিত্র। কোথাও তারা জড়িয়ে গেছে, কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে, আবার কোথাও মাটির খোঁজে নেমে গেছে নিচের পানির দিকে। মনে হয় যেন তারা বলছে—“বাঁচতে হবে, যেভাবেই হোক বাঁচতে হবে।”
প্রকৃতি আমাদের এক অদ্ভুত শিক্ষা দেয়। যেখানে মানুষের চোখে বাঁচা অসম্ভব মনে হয়, সেখানেও জীবন নিজের পথ খুঁজে নেয়। এই বটগাছগুলো তো মাটির গভীরে জন্মায়নি, তবু তারা হাল ছাড়েনি। দেয়ালের ফাঁক, বাতাসের আর্দ্রতা, আর অল্প একটু আশ্রয়—এসব নিয়েই তারা গড়ে তুলেছে নিজেদের অস্তিত্ব।
এই দৃশ্যটি শুধু প্রকৃতির শক্তির গল্প নয়, এটি মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতার নিদর্শন। তিনি রহমান—অপরিসীম দয়ালু। তিনি এমনভাবে তাঁর সৃষ্টিকে রিজিক দেন, এমনভাবে বাঁচিয়ে রাখেন, যা মানুষের কল্পনারও বাইরে। যেখানে আমরা সীমা দেখি, সেখানে আল্লাহ সম্ভাবনা সৃষ্টি করেন। যেখানে আমরা শেষ দেখি, সেখানে তিনি নতুন শুরু লিখে দেন।
এই বটগাছগুলোর শিকড় যেন নীরবে আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবন কখনো থেমে থাকে না, যদি আল্লাহ চান। দেয়াল যত কঠিন হোক, পথ ঠিকই তৈরি হয়।
তাই জীবনের কোনো কঠিন দেয়াল সামনে এলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। মনে রাখতে হবে, আমরা এক মহান রবের বান্দা। তিনি যদি চান, বন্ধ দরজাও খুলে যায়, শুকনো জমিতেও সবুজ জন্মায়, আর দেয়ালের বুকেও বটগাছ বেঁচে থাকে।
এই ছবির দিকে তাকালে মনে হয়—
বেঁচে থাকার শক্তি আমাদের ভেতরেই আছে, আর সেই শক্তির উৎস মহান আল্লাহ। তিনিই রহমান, তিনিই সর্বেসর্বা। তাঁর ইচ্ছা হলেই অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।
বিঃদ্রঃ শীতের শেষের দিকে প্রকৃতির নিয়মে গাছগুলোর পাতা ঝরে পড়েছে।
01/03/2026