21/01/2023
সফল হতে চান তো?
সফলতার গুপ্ত রহস্যঃ
সফলতার পথের প্রথম কাঁটাটাই ফ্যামিলি।
জিরাফ একটি সচেতন প্রাণী। তবে বাচ্চা প্রসবের সাথে সাথেই তাকে অদ্ভুত আচরণ করতে দেখা যায়। অনেকে তো তার আচরণ দেখে জিরাফকে একটি নির্দয়, পাষান, মমতাহীন প্রাণী বলে বিবেচনা করে থাকেন। কারণ,
জিরাফের বাচ্চা প্রসবের সময় খুবই নাদুসনুদুস থাকে। শরীরটা অত্যন্ত নরম থাকে। এমনকি বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় চলে গেলেও বাচ্চাটি নিজে থেকে দাঁড়াতে পারে না। তা সত্ত্বেও জিরাফটি তার বাচ্চাকে নির্মমভাবে পেছন দিকে সজোরে লাথি মারতে থাকে। ততক্ষণ লাথি মারতে থাকে যতক্ষণ না বাচ্চাটি নিজে থেকে দাঁড়াতে পারে এবং দৌড়াতে পারে। বাচ্চাটি মনে মনে ভেবে নেয় শালা অদ্ভুত এক দুনিয়ায় আমাকে কেন পাঠানো হলো যে জন্ম হতে না হতেই মায়ের থেকেই অর্থাৎ পৃথিবীর সবচেয়ে আপনজনের কাছ থেকেই আঘাত আসতে থাকে। আমি এখানে জিরাফের পক্ষপাতিত্ব করবো। কেননা, আমার দৃষ্টিতে জিরাফ মা হিসেবে সঠিক কাজটাই করেছে। জিরাফ যদি বাচ্চাকে আঘাত না করে, আর বাচ্চাটি যদি তার নাদুসনুদুস দেহ নিয়ে মাটিতে পড়ে থাকে তাহলে মুহূর্তেই হায়েনা, নেকড়ে, বাঘ, সিংহের মতো হিংস্র প্রাণী গুলো বাচ্চাটিকে পৃথিবী থেকেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে বিন্দুমাত্রও দ্বিধা বোধ করবে না। কারন নরম মাংসল দেহ সকল হিংস্র প্রাণীরই প্রিয় খাবার।
সৃষ্টিকর্তাও জিরাফের মধ্যে সেই সচেতনতাবোধটুকু প্রাকৃতিক নিয়মেই দিয়ে রেখেছেন। জিরাফের চিন্তাধারাটা হলো এ রকমঃ আমার ইচ্ছাকৃত দেওয়া সাময়িক কষ্টতে বাচ্চা তো আর মারা যাবে না। কিন্তু সেই কষ্ট যদি বাচ্চাটি সহ্য করে উঠে দাঁড়ায় তবে হয়তো বাঁচার জন্য হলেও দৌড়াতে পারবে। আর যদি বৈরী পরিবেশের সাথে খাপখাওয়ানো শিখেই যায় তাহলে সেই বাচ্চাটিই বাঁচার মতো বাঁচতে পারবে।
আপসোস!!!
আমাদের সমাজ ব্যবস্থাটাই আমাদেরকে দমিয়ে রেখে দিয়েছে। নয়তো প্রতিটা মানুষ তাদের সফলতার উপন্যাসটি লিখতে পারতো। আজকে যদি আমরা অন্তর দৃষ্টিতে তাকাই, দেখবো বিশ্বের যত সফল ব্যক্তিই আছেন, সবাই বাল্যকাল থেকেই সফলতার জন্য নিজেকে তৈরী করতে শুরু করেছিলেন। আপনাদের কি মনে হয় যে মেসি, নেইমার, পেলে, মেরাডোনা, সাকিব আল হাসান, সচীন টেন্ডুলকা এই রকম হাজারো সফল ব্যক্তি তারা গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে মাঠে খেলতে গিয়েছিলো? নাকি বাল্যকাল থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছিলেন?
আমাদের সমাজের মধ্যে একটা প্রবণতা লক্ষ্য করছি যে, প্রায় প্রতিটা ফ্যামিলিই বলে আমার ছেলে/মেয়ের এখন অল্প বয়স, ওদের কাজ করার কি আর বয়স হইছে?
আমি বলবো তাদের কাজের বয়স হয়নি কিন্তু ছুটিয়ে প্রেম করার বয়স হইছে কেবল, তাদের বয়স এখন পাবজি, ফ্রি ফায়ার ইত্যাদি নেশা জাতীয় খেলায় আসক্ত হওয়ার সময় হইছে কেবল। অহেতুক মোবাইল নিয়ে ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি অনলাইন মাধ্যমে সময় অপচয় করার বয়স হইছে কেবল। টিকটকের আসক্তির কথা কি আর বলবো টয়লেট করতে গিয়েও টিকটক রিলস দিয়ে বসে। সময় অপচয় করা শিখাটা ফ্যামিলির জন্য এখন জরুরী। কিন্তু মেধা বিকাশের জন্য পর্যন্ত টিউশন করতে দেয় না আমাদের সচেতন ফ্যামিলিরা। তাদের নাকি টাকার অভাব নাই তাই কয়েক টাকা রোজগারের জন্য টিউশন করতেও দিচ্ছেন না। কিন্তু সফলতা পাওয়ার ইচ্ছা ঠিকই মনের মধ্যে লালন করছেন।
আমি নিন্দা জানাই সেইসব ফ্যামিলিকে যারা তার সন্তানদেরকে জিরাফের নাদুসনুদুস দেহটাকে নাড়াচাড়া করতে সাহায্য করে না। বরং ২১ শতাব্দীর যুগে বাস করেও সন্তানদেরকে যুগের সাথে তাল মিলাতে সাহায্য করছেন না। কি এমন ক্ষতি হয় যদি সন্তানরা তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম বা অপচয় হয়ে যাওয়া সময়টাকে কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে চাইলে?
ফ্যামিলির সেই পুরনো ডায়লগঃ "লেখাপড়া শেষ করুক তারপর চাকরি-বাকরি করবে। চাকরি করতে করতেই দক্ষতা বাড়বে।"
কিন্তু দেখা যায়, চাকরীর আবেদন করতে গেলেই প্রথমেই যে বাঁধাটা সবারই ফেস করতে হয় সেটা হচ্ছে এক্সপেরিয়েন্স অর্থাৎ অভিজ্ঞতা। যখন বাঁধার সম্মুখীন হই, তখন দোষ দিতে থাকি পরিবারকে, সমাজ ব্যবস্থাকে, দোষ দেই সরকারকে। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে যদি প্রত্যেকটা ফ্যামিলি তার সন্তানকে বিভিন্ন বৈরী পরিবেশের সাথে খাপখাওয়ানো শেখাতো, হোঁচট খাওয়ার পর কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় সেখাতো, দুঃখের পরই সুখ, লাথি ওষ্টা না খেলে সফল হওয়া যায় না সেখাতো তাহলে আমরা সবাই সফলতার দিকে সহজেই ধাবিত হতে পারতাম। দেশটাও আরও সমৃদ্ধ হতো।
27/07/2021