12/09/2026
🔰সন্তান আপনার মতো না হলেই আপনি ব্যর্থ নন!
কারও সন্তান বাবা-মায়ের মতো হয়নি দেখেই তাকে দোষ দেবেন না।
বলবেন না—“আপনি সন্তানকে ঠিকমতো মানুষ করতে পারেননি!”
কারণ সন্তানকে ভালোবাসা, শিক্ষা ও সঠিক তরবিয়াত দেওয়া বাবা-মায়ের দায়িত্ব; কিন্তু হেদায়াত দেওয়া আল্লাহর হাতে।
আদম (আ.)-এর সন্তানদের একজন অন্যজনকে হত্যা করেছিল।
«فَطَوَّعَتْ لَهُ نَفْسُهُ قَتْلَ أَخِيهِ فَقَتَلَهُ فَأَصْبَحَ مِنَ الْخَاسِرِينَ»
“অতঃপর তার নফস তাকে তার ভাইকে হত্যা করতে প্ররোচিত করল। ফলে সে তাকে হত্যা করল এবং সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হলো।”— সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:৩০
নূহ (আ.)—আল্লাহর একজন মহান নবী। তিনি নিজের সন্তানকে ঈমানের পথে আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু সেই সন্তান পিতার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিল।
«يَا بُنَيَّ ارْكَبْ مَعَنَا وَلَا تَكُن مَّعَ الْكَافِرِينَ»
“হে আমার প্রিয় সন্তান! আমাদের সঙ্গে আরোহণ করো এবং কাফিরদের সঙ্গে থেকো না।”— সূরা হূদ, ১১:৪২
তবুও সে ঈমান আনেনি।
ইয়াকুব (আ.)-এর সন্তানরাও ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে তাদের ভাই ইউসুফ (আ.)-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল।
তাহলে কি আদম, নূহ ও ইয়াকুব সন্তান প্রতিপালনে ব্যর্থ ছিলেন?
না।
তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু সন্তানের অন্তরকে তারা নিজেদের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করতে পারেননি।
কারণ—
«إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ»
“নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না; বরং আল্লাহ যাকে চান হেদায়াত দান করেন।”
— সূরা আল-কাসাস, ২৮:৫৬
তাই আপনার সন্তান যদি নেককার হয়—আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন।
অন্য বাবা-মাকে ছোট করে বলবেন না,
“আমি ভালোভাবে তরবিয়াত দিয়েছি বলেই আমার সন্তান এমন হয়েছে।”
হয়তো আপনি চেষ্টা করেছেন—কিন্তু তাওফীক দিয়েছেন আল্লাহ।
আর আপনার সন্তান যদি আপনার প্রত্যাশামতো না হয়, তাহলেও নিজেকে ব্যর্থ বাবা-মা ভাববেন না।
আপনি তার জন্য কেঁদেছেন, বুঝিয়েছেন, শাসন করেছেন, ভালোবেসেছেন, নিজের সময় ও সামর্থ্য ব্যয় করেছেন—কিন্তু এখনো সে বদলায়নি?
হাল ছেড়ে দেবেন না।
হয়তো আপনার চোখে পরিবর্তন আসেনি, কিন্তু আপনার কোনো একটি কথা তার অন্তরে থেকে গেছে।
হয়তো আজ সে শুনছে না—
কিন্তু কোনো একদিন সেই কথাই তাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেবে।
আপনার কাজ হেদায়াত দেওয়া নয়।
আপনার কাজ হলো হেদায়াতের পথ দেখিয়ে যাওয়া।
দোয়া করতে থাকুন।
ভালোবাসতে থাকুন।
সংশোধনের চেষ্টা করতে থাকুন।
আর আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ»
“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
— সহিহ বুখারি, ৮৯৩; সহিহ মুসলিম, ১৮২৯
তাই সন্তানের হেদায়াত না আসা পর্যন্ত নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করে ভেঙে পড়বেন না।
বরং রাতের নীরবতায় হাত তুলে বলুন—
«رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا»
“হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা বানিয়ে দিন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ করুন।”— সূরা আল-ফুরকান, ২৫:৭৪
হে বাবা-মা, সন্তানকে গড়ে তোলার চেষ্টা করুন—কিন্তু তার হেদায়াতের জন্য আল্লাহর দরজায় কড়া নাড়তে ভুলবেন না।
কারণ কখন কোন সন্তানের হৃদয়ে হেদায়াতের আলো জ্বলে উঠবে—
তা আপনি জানেন না, কিন্তু আল্লাহ জানেন।
🔷পোস্টটি ভালো লাগলে অন্যদের উপকারের জন্য ও সওয়াবের আশায় প্রিয়জনদের মাঝে শেয়ার করুন। 🤍