08/05/2026
সমকালীন প্রেক্ষাপট
---
আযীযাম মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে তার দ্বিতীয় বিবাহের জন্য মোবারবাদ জানাচ্ছি। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি উসূলি কথা বলে দেওয়া মুনাসিব মনে করছি-
এক.
শরীয়াহ আইনে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার কোন বিধান নেই। এক্ষেত্রে স্বামী সম্পূর্ণ স্বাধীন। যেকোন স্ত্রী বা শ্বশুরবাড়ি পক্ষ স্বামীকে একাধিক বা পরবর্তী বিবাহ না করার শর্ত যুক্ত করলে বা এ ব্যাপারে প্রেশার ক্রিয়েট করতে চাইলে তাদের ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে এবং আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধারন থেকে তওবা করে ঈমান নবায়ন করতে হবে। তবে উপমহাদেশীয় পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রথম স্ত্রীকে অবগত ও সম্মত করে নেওয়াটা হিকমাহ এর তাকাযা। প্রথম স্ত্রীর জন্যও উচিত হলো, স্বেচ্ছায় ও সানন্দে এই 'ঈমান রক্ষা বরং ঈমান বৃদ্ধির এই আন্দোলনে' নিজেকে যুক্ত করার সুযোগ হাত ছাড়া না করা।
দুই.
চরিত্র রক্ষায় বিবাহের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তিন.
হযরতুল উসতায মুফতী সাঈদ আহমাদ পালনপুরী রহ. বলেন-
تعدد ازدواج مردوں کى واقعي ضرورت ہے
চার.
আমাদের মাঝে প্রচলিত কথা হচ্ছে,প্রয়োজনে একাধিক বিবাহ করার সুযোগ আছে। একথাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং প্রথম বিবাহের ক্ষেত্রে যে কথা প্রযোজ্য, দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। অর্থাৎ হালতে এ'তেদালে' সুন্নত এবং 'তাওয়াকানের হালতে' ওয়াজিব। মোট সকল বিবাহের ক্ষেত্রেই বিধান হচ্ছে, স্বাভাবিক অবস্থায় সুন্নত এবং জৈবিক অস্থিরতার কারনে ওয়াজিব। চাই প্রথম বিবাহ হোক বা পরবর্তী বিবাহ।
পাঁচ.
প্রয়োজনের কথা মেনে নিলেও এখানে বোঝার বিষয় হলো,এক বিবাহ করার পরে আরো বিবাহ করার চাহিদা অনুভব করাও একটি প্রয়োজন, বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। আর এই 'প্রয়োজন' পুরুষ স্বভাবের মাঝে প্রোথিত করেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআ'লা। এটাকে কটাক্ষ করলে আল্লাহর নেযামের উপর কটাক্ষ করা লাযেম আসবে।
ছয়.
একাধিক বিবাহ করার পরে তাদের মাঝে ইনসাফ করা জরুরি,কেবল মাত্র 'মাবীত' ছাড়া আর কোন বিষয়ে সমতা বিধান করা জরুরি নয়। এমনকি 'ফিজিক্যাল রিলেশন' বা 'ম্যারিটাল ইন্টিমেসি'র ক্ষেত্রেও সমতা বিধান জরুরি নয় এবং সম্ভবও বয়। বরং ক্ষেত্র বিশেষ সমতা বিধান করাটা কারো কারো জন্য কষ্টের কারন হওয়াটা অনিবার্য। কারণ, অল্পবয়সী নারী আর বয়স্কা নারীদের চাহিদা,প্রয়োজন, চাওয়া-পাওয়া কোন অবস্থাতেই এক হবে না,হওয়া সম্ভব নয়। কোনো বিষয় কারো কাছে সখের উপকরণ হলেও সেই বিষয়টাই আরেকজনের জন্য স্বাস্থ্য হানিকর হওয়া একেবারেই বৈচিত্র্য নয়। তাই ইসলাম 'শববাশী'র ক্ষেত্রে কেবল সমতা বিধান করে বাকি সকল ক্ষেত্রে ইনসাফের কথা বলেছে।
সাত.
একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মাঝে যেমন ইনসাফ করাটা জরুরি, তেমনি একজন স্ত্রী থাকলেও তার জন্য ইসলামী শরীয়াহ আইনে ইনসাফ অপরিহার্য। ইনসাফের ভয়ে কি কেউ প্রথম বিবাহ থেকে নিভৃত থেকেছে? অথবা বিবাহের সময় কেউ স্ত্রীর 'হক তলফী'র আশংকা প্রকাশ করলে লোকজন তাকে কী বলে-
আরে ভয়ের কারণ নেই, ইনশাআল্লাহ সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে...।
সেম একথাটাই পরবর্তী বিবাহের ক্ষেত্রেও প্রজোয্য। হ্যাঁ,শারিরীকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম হলে তার কথা ভিন্ন। তার জন্যও তো প্রথম বিবাহ করারই অনুমতি নেই।
আট.
পৃথিবীতে কতো জন আছে,যারা তাদের স্ত্রীদের ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দাবি করতে পারবে? স্ত্রীদের জিজ্ঞেস করলে তো কেন স্বামীই ইনসাফের মানদন্ডে উত্তীর্ণ হতে পারবে না। তাহলে কি পৃথিবীতে প্রথম বিবাহ থেমে আছে? না,থেমে নেই। অবিবাহিত নারীরা পূর্বে বিবাহিতা নারীদের পক্ষ থেকে তাদের স্বামীর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ শোনা সত্বেও কেন বিবাহের পিড়িতে বসছে প্রতিনিয়ত? পুরুষরাই বা নিজের রাগ গোস্বা বদ মেজাজি জানা সত্বেও কেনো বিবাহ করছে? ইনসাফের ভয়ে প্রথম বিবাহ থেকেই কেনো সরে যাচ্ছে না?
কারন,নারীদেরও আশা : সে একটি স্বপ্নিল সংসার পাবে। ঠিক তেমনি দুনিয়ার সকল পুরুষদেরও দৃঢ় ইচ্ছা থাকে যে, সে তার অধীনস্থদের উপর ইনসাফ কায়েম করবে। স্ত্রী এবং পরিবার পরিজনকে ভালো রাখতে সচেষ্ট থাকবে এবং আদর্শ দাম্পত্য জীবন যাপন করবে। ইনসাফের এই ইচ্ছা পোষণ করাটাই যেমন প্রথম বিবাহের অনুমোদন দেয়,ঠিক তদ্রূপ ইনসাফের দৃঢ় ইচ্ছা থাকাটাই পরবর্তী একাধিক বিবাহের বৈধতার জন্য যথেষ্ট। ইনসাফের বাস্তবায়নের জন্য প্রথম বিবাহের ক্ষেত্রে যেমন সচেষ্ট থাকতে হবে,আল্লাহর কাছে তাওফীক চাইতে হবে। ঠিক পরবর্তী বিবাহের ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআ'লার কাছেই তাওফীক চেয়ে ঈজাব কবুল করতে হবে।
নয়.
অনেক বর্ণচোরা নারীদেরকে বলতে শোনা যায়,আমার অধিকার পুরোপুরি দিয়ে তারপর দ্বিতীয় করেন। তাদের আসলে জানাই নাই,শরীয়ত তাদেরকে স্বামীর পক্ষ থেকে অধিকার দিয়েছে-
ক) স্বামীর সাধ্য মোতাবেক আই রিপিড স্বামীর সাধ্য মোতাবেক,আবারও বলছি স্বামীর সাধ্য মোতাবেক স্ত্রীর জন্য থাকার ব্যবস্থা করবে।
খ)বছরে সাধ্য অনুযায়ী ৪সেট কাপড় দিবে,শীতে ব্যবহারের জন্য ২সেট,গরমে ব্যবহারের জন্য ২সেট।
গ) আর তিন বেলা খানা জারি করে দিবে। এটাকে শরীয়াহ আইনে 'নফকাহ-সুকনা' বলে।
ব্যাস,এতুটুকুই একজন স্ত্রীর বৈধ অধিকার। এরচেয়ে বেশি কিছু পেলে সেটা স্বামীর বদান্যতা এবং উদারতা।
প্রিয় পাঠক! এতটুকুন অধিকার নিশ্চিত করে আমাদের সমাজের কয়জন পুরুষ আছে যারা একাধিক স্ত্রীর 'সখ' পুরন করতে বা একাধিক স্ত্রীর 'দায়িত্ব' নিয়ে এই 'মানবিক মহান কাজ' করতে ব্যর্থ হবে? নারীবাদীদের তথাকথিত প্রোপাগাণ্ডায় ইসলামের সুমহান এই বিধানের সৌন্দর্য এখন হুমকির সম্মুখীন- الاماں والحفيظ
দশ.
একাধিক বিবাহ বিধানের ব্যাপকতা সমাজের অশ্লীলতা ও অনৈতিকতা রোধে বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারবে।
একাদশ.
বিবাহ বা একাধিক করার বৈধতার ভিত্তি কেবল গোনাহ থেকে বাঁচা নয়,বরং গোনাহ থেকে বাঁচাটা বিবাহ বা একাধিক বিবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ 'সামারাহ' বা ফল। কারণ, নবী-রাসূলরা একাধিক বিবাহ করেছেন। তাঁরাতো মাসুম এবং নিষ্পাপ। তাদের কোন গোনাহ নেই, গোনাহ হবার সুযোগ নেই। সুতরাং তাদের ক্ষেত্রে কি একথা বলার সুযোগ আছে যে, তাঁরা বিবাহ বা একাধিক বিবাহ না করলে গোনাহে লিপ্ত হবার আশংকা ছিলো,তাই তাঁরা বিবাহ বা একাধিক বিবাহ করেছেন? না,সুযোগ নেই। এটা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের আকিদা পরিপন্থী চিন্তা।
বরং বিবাহ এবং একাধিক বিবাহের বিভিন্ন ভিত্তি আছে।
দ্বাদশ.
বিবাহ বৈধতার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হচ্ছে, বিবাহের ইচ্ছা ও আগ্রহ। এটা প্রথম বিবাহের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, পরবর্তী বিবাহের ক্ষেত্রে একই ভিত্তি প্রযোজ্য। আল্লাহ তাআ'লা বলেন
فانكحوا ما طاب لكم من النساءمثنى وثلاث ورباع
ইচ্ছার কারন যেকোন টাই হতে পারে। বর্তমান স্ত্রীর তুলনায় শারীরিকভাবে আরো সক্ষম,আরো সুন্দরী, আরো কম বয়সী,আরো বংশীয়,আরো বেশি বয়সী,আরো শিক্ষিত,আরো কেয়ারি,বাবা-মার ব্যাপারে আরো দায়িত্বশীল,আরো সংসারী নারী বিবাহ করার ইচ্ছাও বিবাহের বৈধতার ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। গোনাহ বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে বিবাহ করাটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এছাড়া কোন অসহায়, বিধবা,ডিভোর্সি,আত্মীয়-অনাত্মীয় নারীর দায়িত্ব গ্রহণ তো বিবাহ বৈধতা বিরাট ও মহান ভিত্তি,বরং নবীজির মহান সুন্নাহ।
ত্রয়োদশ.
যেকেউ একাধিক বিবাহকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করলে তার ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। কারন,এটি আল্লাহর শাশ্বত আইন। কটাক্ষকারী যেই হোকনা কেনো এবং যত কৌশলেই কটাক্ষ করুকনা কেনো।
চতুর্দশ.
দিনশেষে একাধিক বিবাহের অধিকাংশ স্বার্থ নারীদেরই কল্যানই নিশ্চিত করবে। সমাজে অবিবাহিত নারীদের পরিসংখ্যান কমে আসবে। ডিভোর্সি এবং বিধবা নারীদের বিবাহ স্বাভাবিক হয়ে বহু ঘরহীন নারী তাদের ঠিকানা ও পরিচয় পাবে।
পঞ্চদশ.
শরীয়াতের মনগড়া ব্যাখ্যার কারনে আল্লাহর এই বিধান ও তাঁর এই মহান নেয়ামত ভীষনভাবে উপেক্ষিত ও অবমূল্যায়িত।
هذا ما عندي والعلم عند الله عليه توكلت واليه انيب
24/04/2026
24/03/2026
20/03/2026
19/03/2026
17/03/2026
14/03/2026
11/03/2026
09/03/2026
04/03/2026
04/03/2026