খুলনা জেলার ইতিহাস
খুলনা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। এ জেলার ইতিহাস অনেক পুরনো এবং বৈচিত্র্যময়।
প্রাচীন ও মধ্যযুগ: খুলনা অঞ্চলের ইতিহাস পলাশী যুদ্ধের (১৭৫৭) আগের সময় থেকে পাওয়া যায়। এটি বিভিন্ন রাজবংশের শাসনাধীন ছিল, যার মধ্যে সেন, পাল ও মুসলিম শাসকরা উল্লেখযোগ্য।
ব্রিটিশ আমল: ব্রিটিশ শাসনকালে খুলনা গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৮৮২ সালে খুলনা মহকুমা এবং পরে ১৮৮৫ সালে জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
স্বাধীনতা সংগ্রাম: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় খুলনা ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র। পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচণ্ড প্রতিরোধ হয়। খুলনা শিল্প এলাকা হওয়ায় এখানে অনেক বড় বড় সংঘর্ষ হয়েছিল।
খুলনার দর্শনীয় স্থান
১. সুন্দরবন: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য বিখ্যাত। এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত।
২. রূপসা ব্রিজ: খুলনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যা রূপসা নদীর ওপর নির্মিত।
3. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিখ্যাত এই প্রতিষ্ঠান আধুনিক স্থাপত্যের দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন।
৪. শিববাড়ি মন্দির: খুলনার অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় স্থান।
৫. খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর: খুলনার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
৬. পাইকগাছা কপোতাক্ষ নদ: কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থান পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
৭. ডুমুরিয়া শিববাড়ি: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান।
৮.জোড়া শিব মন্দির – ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন।
৯.নলিয়ান কুঠিবাড়ি – ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক নীলকুঠি।
১০.দাকোপের কয়রার প্রকৃতি – উপকূলীয় সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত।
১১.তেরোখাদা খালেক শেখের বাড়ি – ঐতিহাসিক স্থাপনা ও পর্যটন আকর্ষণ।খু
১২.খুলনা ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক – বিভিন্ন রাইড ও বিনোদন সুবিধাযুক্ত পার্ক।
১৩.নিউ খলিশপুর পার্ক – প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খোলামেলা পরিবেশের জন্য জনপ্রিয়।
১৪.জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পার্ক – সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে অবস্থিত পার্ক, যেখানে পরিবারসহ ঘোরার সুযোগ রয়েছে।
১৫.সুন্দরবন রিসোর্ট (মংলা) – সুন্দরবনের নিকট অবস্থিত, নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মাঝে থাকার সুযোগ।
১৬.নভো রিসোর্ট – আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন রিসোর্ট, পরিবার ও দম্পতিদের জন্য আদর্শ।
১৭.রূপসা রিভার ভিউ রিসোর্ট – নদীর পাড়ে অবস্থিত একটি দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট।
১৮.গ্রিন ভ্যালি রিসোর্ট – খুলনার বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের জন্য সুন্দর পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন।
১৯.কয়রা ইকো রিসোর্ট – উপকূলীয় এলাকার অনন্য পরিবেশে অবস্থিত একটি ইকো-ফ্রেন্ডলি রিসোর্ট।
এইসব দর্শনীয় স্থান খুলনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে।
Know More Today
I will try to Share knowledge about our Environment and Economic Conditions and Religion aspect.
04/02/2025
*খুলনা বিভাগ*
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো বর্তমানে আটটি বিভাগ নিয়ে নিয়ে গঠিত। বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট।
ব্রিটিশ রাজে খুলনা বিভাগ প্রেসিডেন্সি বিভাগের একটি অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালের আগে প্রেসিডেন্সি বিভাগের ছয়টি প্রধান জেলা ছিল, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, চব্বিশ পরগণা, খুলনা, অবিভক্ত যশোর এবং অবিভক্ত নদীয়া।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি এই বিভাগটিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে।পূর্ববঙ্গ সরকার যশোর, খুলনা ও কুষ্টিয়া জেলাকে রাজশাহী বিভাগে যুক্ত করে। ১৯৬০ সালের পর পূর্ব পাকিস্তান সরকার, রাজশাহী বিভাগের এই তিনটি জেলা এবং ঢাকা বিভাগ থেকে একটি জেলা খুলনার নতুন বিভাগ তৈরি করে। ১৯৯৩ সালে খুলনা বিভাগ থেকে বরিশাল বিভাগ গঠিত হয় ।
প্রশাসনিক খুলনা বিভাগ গঠিত হয় ১৯৬০ সালে। খুলনা পৌরসভা ঘোষণা করা হয় ১২ ডিসেম্বর ১৮৮৪ সালে এবং এবং মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয় ১২ ডিসেম্বর ১৯৮৪ সালে। ৬ আগস্ট ১৯৯০ সালে খুলনাকে সিটি কর্পোরেশন হিসেবে ঘোষনা করা হয়।
খুলনা রেঞ্জ ১০টি জেলা নিয়ে গঠিত। জেলার নাম হলো খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর।
খুলনা বিভাগের আয়তন: ২২২৮৪.২২ বর্গ কিমি।
সীমানা: উত্তরে রাজশাহী বিভাগ, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগ, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার দক্ষিণাংশ জুড়ে সুন্দরবন বিস্তৃত।
নদ নদী: খুলনা বিভাগ যে সব নদ নদী বিস্তৃত - গঙ্গা, গড়াই,মধুমতি, ইছামতি, কপোতাক্ষ, শিবসা, কুমার, রূপসা,পসুর, ভৈরব, চিত্রা, পশুর, রায়মঙ্গল, মাথাভাঙ্গা।
বাংলাদেশের আটটি বিভাগের মধ্যে খুলনা বিভাগ একটি এবং এটি দেশের দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থিত। এবং চট্টগ্রামের পরে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। খুলনা বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে রূপসা নদী এবং ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত। বাংলাদেশের প্রাচীনতম নদী বন্দরগুলোর মধ্যে খুলনা অন্যতম। খুলনা বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় খুলনা শহরকে শিল্প নগরী হিসেবে ডাকা হয়। খুলনা শহর থেকে ৪৮ কি.মি. দূরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। পৃথিবী বিখ্যাত উপকূলীয় বন সুন্দরবন খুলনা বিভাগের দক্ষিণাংশে অবস্থিত। খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় সুন্দরবনের বিস্তৃতি ঘটেছে। খুলনাকে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার বলা হয়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Khulna