11/09/2026
💥 ডেঙ্গু এখন উপসর্গের ধরন বদলাচ্ছে:-
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। তাই ডেঙ্গুকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আগে অনেকেই ভাবতেন, ডেঙ্গু মানেই প্রচণ্ড জ্বর, শরীর ভেঙে যাওয়া ও গায়ে র্যাশ। কিন্তু বর্তমানে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ ভিন্নভাবে দেখা দিচ্ছে।
যেমন:
১/ হঠাৎ জ্বর আসা, আবার জ্বর না থাকা
২/ কাশি, দুর্বলতা
৩/ শরীর ব্যথা
৪/ বমি বা বমি বমি ভাব
৫/ অসহ্য পেট ব্যথা
৬/ চোখের পেছনে ব্যথা
৭/রক্তচাপ কমে যাওয়া
৮/ প্রস্রাব কমে যাওয়া
৯/হাত-পা ফুলে যাওয়া
১০/ শরীরে পানি জমা
১১/ পাতলা পায়খানা
১২/ প্লাটিলেট কমে যাওয়া
১৩/ গুরুতর অবস্থায় মস্তিষ্কে প্রদাহ
অনেক সময় জ্বর কম থাকায় বা শরীর ব্যথা কম অনুভূত হওয়ায় রোগীরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু ডেঙ্গুর ভয়ংকর দিক হলো, কিছু রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম বা রক্তক্ষরণজনিত জটিলতায় চলে যেতে পারে।
ডেঙ্গু হলে কী করবেন?
১/পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
২/ বারবার পানি, স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপসহ তরল খাবার গ্রহণ করুন (যদি চিকিৎসক কোনো নিষেধ না দেন)।
৩/ জ্বর ও শরীর ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করুন।
৪/ Aspirin, Ibuprofen, Diclofenac জাতীয় ব্যথার ওষুধ নিজে থেকে খাবেন না, এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৫/ নিয়মিত প্রস্রাবের পরিমাণ খেয়াল করুন। প্রস্রাব কমে গেলে সতর্ক হতে হবে।
৬/ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী CBC, Platelet ও HCT/PCV পরীক্ষা করুন।
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন:
১/তীব্র পেট ব্যথা
২/বারবার বমি
৩/ অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অস্থিরতা
৪/ মাথা ঘোরা বা রক্তচাপ কমে যাওয়া
৫/ নাক, মাড়ি বা অন্য কোথাও রক্তপাত
৬/ শ্বাসকষ্ট
৭/ হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
৮/ প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
এডিস মশা শুধু সকাল বা বিকেলেই কামড়ায় না। দিনের বিভিন্ন সময় কামড়াতে পারে, এমনকি আলোযুক্ত পরিবেশে রাতেও কামড়ানোর সম্ভাবনা থাকে।
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার পরও CBC করে Platelet ও HCT/PCV দেখা গুরুত্বপূর্ণ। HCT বেড়ে গেলে শরীর থেকে plasma leakage হওয়ার ঝুঁকি বোঝাতে পারে, যা রক্তচাপ কমিয়ে Dengue shock তৈরি করতে পারে।
ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো সময়মতো সতর্ক হওয়া।
নিজে সচেতন থাকুন, আশেপাশের মানুষকেও সচেতন করুন। একটি সতর্কতা একটি জীবন বাঁচাতে পারে।
লিখেছেন- Dr. Abdur Rahman।