26/07/2025
Brainware University তে পড়ার সুযোগ পেয়েছে দাকোপের মেধাবী সন্তান অন্তরা বাছাড় অন্তু
দাকোপ উপজেলার চালনা বাজারের গর্বিত পিতা নিতাই বাছাড় ও গর্বিত মাতা তনু বালা মন্ডলের (তার মা একজন স্কুল শিক্ষিকা বর্তমানে শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কর্মরত) মেধাবী সন্তান অন্তরা বাছাড় অন্তু BrainWare University, Kolkata অনার্সে ফার্মেসীতে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।
দাকোপ খুলনা শিক্ষা পরিবারের (ডিকেএসপি) পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে অন্তরা বলেন, "আমি ব্যাচেলর অফ ফার্মেসিতে BrainWare University, Kolkata তে ভর্তি হয়েছি। বর্তমানে কলিকাতাতে আছি। এখান থেকে গ্রাডুয়েশন শেষ করে আমি স্বপ্ন পূরনের জন্য উচ্চ শিক্ষার জন্য পি.এইচ.ডি করার লক্ষ্যে ইউরোপের দেশে যেতে চাই।আমার স্বপ্ন ঔষধের উপর গবেষণা করে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চাই।আমার ছোট এই জীবনে যা কিছু অর্জন তা আমার মা বাবার জন্যই।আমার স্কুলে ভর্তির আগে থেকেই নাচ,গান,আর্ট সব কিছুতে ভর্তি করিয়েছে আমার মা বাবা।তাদের একটা কথা ছিল বড় হলে তুমি যেটা Prefer করো সেটাই করবে।প্লে থেকে নার্চারী পর্যন্ত-চালনা বাজার চিল্ড্রেন পার্ক স্কুলে ছিলাম প্রতি পদে পদে বাঁধা পেরুতে পেরুতে শেষমেষ সিদ্ধান্ত নিলাম বাহিরে যাব।আমি সকল স্টুডেন্টের বলব যদি কাহারো স্বপ্নপূরনের ইচ্ছা থাকে তাহলে কেউ তাকে দমিয়ে রাখতে পারে না।সে আগুনের ফুলকির মত বেরিয়ে আসবে। আমার এডমিশন যাত্রাটা আজকে শুরু হয়নি।বরাবরই ইচ্ছা ছিল মেডিকেল নিয়ে পড়ার।কিন্তু হয়তো সৃষ্টিকর্তা চাননি তাই হয়নি।আমার ভাগ্য কি চমৎকার, ভাবা যায়?অনেক মানুষ আমাকে গায়ে পড়ে এসে অনেক কথা শুনিয়ে গিয়েছে।কি অকথ্য ভাষা!আমার জীবন মনে হয় এখানেই শেষ। আমি চুপ ছিলাম,একটু উত্তরও দেয়নি।দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে পড়েছিলাম।
আমার পাশে ছিল আমার পরিবারটাই।তারাই আমাকে টেনে তুলেছে।প্রতি পদে পদে বাঁধা পেরুতে পেরুতে শেষমেষ সিদ্ধান্ত নিলাম বাইরে যাবো। কত্ত চোখের জল, কতবার ভেঙে গিয়ে উঠে দাঁড়ানোর কথা-শুধু আমি আর ভগবান জানে।যাই হোক। প্রিপারেশন নিলাম।IELTS exam দিলাম, আশানুরূপ result আসলো।কিন্তু ভগবানের পরিকল্পনা হয়তো অন্য কিছু। আমি ভেঙে পড়িনি,আমি থেমে থাকিনি।যাই হয়ে যাক দেশে থাকবো না। যেই ভার্সিটি choice করলাম (Brainware University,Kolkata)।শুনলাম Admission exam নাকি ২ দিন পর।আগে যা পড়া ছিল প্রিপারেশন নিয়ে দিলাম exam, Online exam হয়েছিল, চাইলে আপনারা যাচাই করে দেখতে পারেন..।যাই হোক যা প্রিপারেশন ছিল confident ছিলাম আসবে।চান্স হলো।সাবজেক্টও এসেছে ভালো(Pharmacy.) এই পথটাও খুব একটা সহজ ছিল না। বাবা মা ও আমি একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।তবুও আমি আমার স্বপ্ন থেকে সরে আসিনি। বরং দুইধাপ এগিয়েছি।আমি এটাই বিশ্বাস করি ভগবান যা চায় তার কিঞ্চিৎ পরিমান এপাশ ওপাশ হয়না"।
অন্তরা ছোটবেলা থেকে মেধাবী ও সাংস্কৃতিকমনা। নাচে, গানে ও অংকনে রয়েছে তার সাফাল্যের চাবিকাঠি। ঘরে তুলেছেন জাতীয় প্রাপ্তিও।
ডিকেএসপির সাথে আলাপচারিতায় অন্তরা সেই বিষযে খোলামেলা কথা বলেন, অন্তরা ডিকেএসপিকে তুলে ধরেন সেই গল্প, "ছোট থেকে রবীন্দ্র সংগীতের প্রতি আমার অদ্ভুত একটা টান।আমি এখানেই যেন আমার শান্তি খুজে পাই।আমার গুরুজী স্যার সাধন রঞ্জন ঘোষ(বিটিবি নিয়মিত রবীন্দ্রসঙৃগীত শিল্পী)। কি যে শান্তি ওনার সান্নিধ্যে থাকলে' এই সবকষ্ট সফল হয়ে ছিল সে দিন ; যে দিন আমি জাতীয় পর্যায়ে রবীন্দ্রসংগীতে অংশগ্রহণ করতে ২০১৯ সালে ঢাকা গিয়েছিলাম। ২০১২ সালে চিত্রাংকনে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ান। ২০১৪ সালে চিত্রাংকনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রানারআপ।(ইং-২০১৬,২০১৭,ও২০১৮) উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হই।এবং ইং-২০২২ সালে কলেজ পর্যায়ে খুলনা জেলায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষাথী নির্বাচিত হই।এছাড়া নজরুল,উচাঙ্গ সংগীত নৃত্য এবং সুন্দর হাতের লেখায় জেলা পর্যায়ে কয়েকবার চ্যাম্পিয়ান হই। আজকে আমি এখানে এবং নিজেকে নিয়ে গর্বিত।মা বাবার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ।নিজেকে আমি যেভাবে দেখিনি তারা আমার মাঝে তাই দেখেছে।মা সব সময় ধৈর্য্য ধরতে বলতেন। সব শেষে আমার স্কুল এবং কলেজের সন্মানিত শিক্ষকবৃন্দ পিতৃ-মাতৃ তুল্য গুরুজনদের আর্শিবাদে এবং সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় আজ এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি।সকলকে আমার স্বশ্রদ্ধেয় প্রনাম।সকলেই আমার জন্য আশির্বাদ করবেন।
উল্লেখ্য, অন্তরা বাছাড় অন্তু পড়ালেখা করেছে
চালনা বাজার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, চালনা বাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি এমএম সিটি কলেজ খুলনা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন। মেধাবী অন্তরার পড়ালেখায় রয়েছে দারুন সাফাল্য। সে PSC(২০১৫),JSC(২০১৮),SSC(২০২১)& HSC (২০২৩)তে দারুন ফলাফল করেছে।
দাকোপ খুলনা শিক্ষা পরিবার ডিকেএসপির পক্ষ থেকে অন্তরা বাছাড় অন্তুর এই সফলতার জন্য আন্তরিক অভিবাদন ও শুভকামনা রইল।