Ashraful Islam Bin Rejaul Haque

Ashraful Islam Bin Rejaul Haque

Share

Ashraful Islam Bin Rejaul Haque

09/05/2026

মাসআলা : বাণিজ্যিক বীমা কোম্পানিগুলো (যেমন লাইফ ইনশুরেন্স, প্রপার্টি ইনশুরেন্স ইত্যাদি)।

এই ধরনের বীমা কোম্পানিগুলো ইসলামের ইতিহাসে প্রথমে ইসলামের শত্রুদের (যেমন ইউরোপীয় খ্রিস্টান দেশগুলোর) দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছে, বিশেষ করে উপনিবেশকালে। পরবর্তীকালে এটি মুসলিম সমাজে ঢুকে পড়েছে শুধুমাত্র ইসলামের শত্রুদের অন্ধ অনুকরণের ফলে। লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ, এতে কোনো শরিয়তভিত্তিক ভিত্তি নেই।

এই কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থার বিস্তারিত চিত্র: এরা বণিক, ব্যবসায়ী এবং রাজধানির মালিকদের (যেমন জাহাজ মালিক, কারখানা মালিক) সাথে চুক্তি করে তাদের ধন-সম্পদ (মালপত্র, জাহাজ, গাড়ি) এবং জীবনকে স্থায়ী জায়গায় বসবাসকালে এবং ভ্রমণকালে (সমুদ্রপথে, সড়কপথে) নিরাপদ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। তারা বণিকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম (অর্থাৎ নিয়মিত অর্থ) নেয়, হয় মাসিক, ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক হিসাবে।
যদি কোনো ক্ষতি ঘটে (যেমন জাহাজ ডুবে যাওয়া, গাড়ির দুর্ঘটনা, যুদ্ধ বা বিপর্যয়ে মৃত্যু), তাহলে কোম্পানি সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়—যত অর্থই হোক না কেন।

কিন্তু যদি কোনো ঘটনাই না ঘটে (যা সাধারণত ঘটে, কারণ ঝুঁকি কম), তাহলে কোম্পানি সেইসব প্রিমিয়াম অর্থ নিজেদের লাভ করে, যা প্রচুর পরিমাণে হয় এবং তাদের বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা চালায়।
এদের খাঁটি বাণিজ্যিক প্রকৃতির প্রমাণ: এরা যখন মহাযুদ্ধ (যেমন বিশ্বযুদ্ধ) বা বড় দুর্যোগ (যেমন বন্যা, ভূমিকম্প) ঘটে, তখন যাদের সাথে চুক্তি আছে তাদের থেকে সম্পূর্ণ হাত তুলে নেয়, কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় না। কারণ তাতে তাদের দেউলিয়াত্ব হতে পারে এবং মালিকদের জেল-কারাগারে যেতে হতে পারে। এতে স্পষ্ট যে, এরা কোনো নিরাপত্তা প্রদান করে না, শুধু লাভের ব্যবসা করে।

আমাদের যুগের অধিকাংশ আলেমের ফতোয়া: ইমাম আব্দুল আজিজ ইবন বাজ (রাহ.) [ফতাওয়া ইবন বাজ ১৩/৫১-৫২], ইমাম মুহাম্মদ ইবন সালিহ উসাইমিন (রাহ.) [শারহু মুমতি' ১৬/২১৩-২২১], ইমাম মুহাম্মদ আমিন আল-ওয়াদিঈ (রাহ.) [রাওযুল জানাতিন ৪/২৬৩] এবং হায়াতে কারওয়ান (সৌদি আরবের স্থায়ী কমিটি) [ফতোয়া নং ৬১৫৯] সহ অধিকাংশ আলেম এই বীমা কোম্পানি এবং তাদের সাথে লেনদেনকে হারাম ঘোষণা করেছেন নিম্নলিখিত কারণসমূহে:

১) অত্যধিক ঘরর (অজানা ঝুঁকি): এটি ঘররের ফাহিশ (চরম) সম্বলিত চুক্তি। মুবীম (বীমা নেয়া ব্যক্তি) জানে না কত ক্ষতি হবে বা কখন হবে, কোম্পানিও জানে না কত লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাসূল (সা.) বলেছেন: "নিষিদ্ধ হলো ঘররের বিক্রয়" [বুখারী ২১৪৭; মুসলিম ১৫১৩]।

২) জুয়া ও ময়সীর প্রকার: এতে আর্থিক লেনদেনে ঝুঁকি নেওয়া হয়—ঘরম বিলা জিনায়াত (অন্যায়ভাবে ক্ষতি সহ্য), গনম বিলা মুকাবালাত (বিনা প্রতিদানে লাভ) বা অসমান প্রতিদান। যদি জাহালাত (অজ্ঞতা) প্রবল হয়, তা খাঁটি জুয়া। আল্লাহ বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمَيْسِرُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ} [সূরা মায়িদা: ৯০]।

৩) রিবা (সুদ): রিবা ফদ্বল (অতিরিক্ত দেয়া) ও রিবা নাসিয়া (বিলম্বে দেয়া)। কোম্পানি যদি প্রিমিয়ামের চেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ দেয়, তা ফজলের রিবা; মেয়াদ কেটে দেয়া হয় তাই নাসিয়া। সমান দিলেও নাসিয়া। নিষেধ: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا} [সূরা বাকারা: ২৭৫]; হাদিস: "সকল সুদ হারাম" [মুসলিম ১৫৯৮]।

৪) নিষিদ্ধ রেহান (দাবি বা প্যারি):
বীমায় দুজনেই দাবি রাখে:
মুবীম (যে বীমা নেয়) তার প্রিমিয়াম অর্থ রাখে। কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তুতি রাখে।
যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, মুবীম জিতে কোম্পানির দাবি (প্রস্তুত অর্থ) নেয়।
যদি কিছু না ঘটে, কোম্পানি জিতে—মুবীমের দাবি (প্রিমিয়াম) নেয়।
এটি জুয়ার মতো। শরিয়তে দাবি জায়েয শুধু তিন জিনিসে: খুফ (তীর), নসল (তলোয়ার) বা হাফির (ঘোড়ার খুর)—কারণ এগুলো যুদ্ধের জন্য।
হাদিস: "তিন দাবি জুয়া নয়: খুফের দাবি, তলোয়ারের দাবি ও খুরের দাবি।" [বুখারী ২৮৮৮; মুসলিম ১৭২৮]।
উদাহরণ: দুই বন্ধু বলে, "যদি বৃষ্টি হয় তুই আমাকে ১০০ টাকা দিবি, না হলে আমি তোকে দিব।" এটি হারাম দাবি, বীমা ঠিক তেমনই।

৫) বাতিলভাবে অর্থ খাওয়া: প্রিমিয়াম বিনা প্রতিদানে লাভ। {وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ} [সূরা বাকারা: ১৮৮]। এছাড়া, ইলজাম বিলা ইলজাম, শরিয়তে বাধ্যতামূলক নয় যা বাধ্য করে।

📚ফাতহুল আল্লাম ৫/৫৫১
অনুবাদ ও সংযোজন
আআশরাফুল ইসলাম বিন রেজাউলহক

17/04/2026

১. মাসালিহুল মুরসালাহ-র সংজ্ঞা
এটি এমন জনকল্যাণকে বোঝায় যার পক্ষে বা বিপক্ষে শরীয়তের নির্দিষ্ট কোনো দলিল (নস) নেই। ইমাম আশ-শাতিবি (রহ.)-এর মতে, এটি এমন বিষয় যা শরীয়তের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট নস দ্বারা সরাসরি সমর্থিত বা প্রত্যাখ্যাত নয়।
📚 আল-ইতিসাম, ইমাম আশ-শাতিবি (২/৬০৭-৬১১); ইসলামকিউএ (ফতোয়া নং ১২৭৬২)।

২. সালাফী আলেমদের দৃষ্টিতে এর গ্রহণযোগ্যতা
সালাফী আলেমগণ মাসালিহুল মুরসালাহ-কে একটি সহায়ক উৎস হিসেবে গ্রহণ করেন, যতক্ষণ তা শরীয়তের কোনো অকাট্য বিধানের সাথে সংঘর্ষ না করে। শেখ বিন বায (রহ.) এবং শেখ আল-উসাইমিন (রহ.) এটি প্রশাসনিক ও সামাজিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য বলে মত দিয়েছেন।
📚 মাজমু ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত, শেখ বিন বায (১/৩৩৬); আশ-শারহুল মুমতি, ইবনে উসাইমিন (৩/৪৪৩)।

৩. গ্রহণযোগ্যতার প্রধান ৩টি শর্ত
সালাফী মানহাজে মাসালিহুল মুরসালাহ প্রয়োগের জন্য নির্দিষ্ট শর্তাবলী রয়েছে:
⭕ শরীয়তের বিরোধী না হওয়া: এটি কোনো কুরআন বা সুন্নাহর নস বা ইজমার পরিপন্থী হতে পারবে না।
⭕ মাকাসিদুশ শরীয়াহর অনুকূলে থাকা:এটি শরীয়তের ৫টি প্রধান লক্ষ্য (ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, বংশ ও সম্পদ) রক্ষার সাথে সম্পর্কিত হতে হবে।
⭕ সাধারণ উপকার (জনস্বার্থ):এটি ব্যক্তিগত স্বার্থ নয় বরং বৃহত্তর মুসলিম সমাজের উপকারের জন্য হতে হবে।
📚 আল-ওয়াজিয ফি উসুলিল ফিকহ, ড. আব্দুল কারিম যায়দান (পৃষ্ঠা: ২৩৮); ইসলামওয়েব (ফতোয়া নং ১৫৪৭৪)।

৪. ইবাদতের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা (গুরুত্বপূর্ণ)
সালাফী উসুল অনুযায়ী, ইবাদতের ক্ষেত্রে 'মাসলাহাত' বা কল্যাণের দোহাই দিয়ে কোনো পরিবর্তন আনা বৈধ নয়। কারণ ইবাদতের ভিত্তি হলো 'তাওকিফিয়া' (কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা নির্দেশের ওপর নির্ভরশীল)। এর বাইরে কিছু করা 'বিদআত' হিসেবে গণ্য হয়।
📚 কাওয়ায়েদুল ফিকহিয়্যাহ, ইমাম আস-সা'দী; ফতোয়া লাজনা দায়েমা, সৌদি আরব (ফতোয়া নং ১৯৩৭৫)।

৫. প্রামাণ্য উদাহরণ
কুরআন সংকলন: সাহাবীগণ কুরআন একত্রিত করেছিলেন কারণ এটি দ্বীন রক্ষার জন্য জরুরি ছিল, যদিও রাসূল (সা.) সরাসরি এর নির্দেশ দিয়ে যাননি।
⭕ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা: ট্রাফিক আইন, লাইসেন্স সিস্টেম বা পাসপোর্ট ব্যবস্থাপনা। এগুলো আধুনিক সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য অপরিহার্য, যা সরাসরি কুরআন-হাদিসে নেই কিন্তু শরীয়তের চেতনার পরিপন্থী নয়।
📚 আল-মাজমু, ইমাম নববী; উসুলুল ফিকহ, শেখ মুহাম্মাদ ইবনে সালেহ আল-উসাইমিন।

সার কথা হলো: যেখানে প্রকৃত জনকল্যাণ রয়েছে এবং যা শরীয়ত বিরোধী নয়, সেখানেই আল্লাহর বিধান বা সন্তুষ্টি রয়েছে।"
(ইবনুল কাইয়্যিম-এর আল-তুরুকুল হুকমিয়া-র মূলনীতি অনুযায়ী)।

সংকলন ও অনুবাদ
আশরাফুল ইসলাম বিন রেজাউলহক

15/04/2026

অথচ আমাদের বাচ্চারা.........

12/04/2026

গুরুত্বপূর্ণ হাদীস ও মাসআলা
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلاَحُهَا نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُبْتَاعَ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রা) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে নিষেধ করেছেন।
(সহীহুল বুখারী ২১৯৪, সহীহ মুসলিম ১৫৩৪)

প্রশ্ন: ফল গাছে আসার পর কিন্তু পাকার (খাওয়ার উপযোগী হওয়ার) আগে তা বিক্রি করা যাবে?
এই মাসআলাটি তিনটি অবস্থায় বিভক্ত:

১. ফল গাছেই রেখে দেওয়ার শর্তে বিক্রি করা (ইবকা):
অধিকাংশ আলিম বা জমহুর ফক্বীহ এটি নিষেধ করেছেন। এক্ষেত্রে প্রধান ভিত্তি হলো এই অধ্যায়ের হাদীছসমূহ। ইমাম নববী (রহ.) তাঁর ‘শারহে মুসলিম’ (১১/৪১৮) এবং ইবনে কুদামাহ (রহ.) তাঁর ‘আল-মুগনী’ (৪/১৫৪) গ্রন্থে এ ব্যাপারে ‘ইজমা’ বা ঐক্যমত বর্ণনা করেছেন। যদিও হাফেয ইবনে হাজার (রহ.) তাঁর ‘ফাতহুল বারী’ (৪/৩৯৭) গ্রন্থে ইয়াজিদ বিন আবু হাবীবের সূত্রে এর বৈধতার একটি বর্ণনা উল্লেখ করে বলেছেন যে, এখানে ইজমা দাবি করা সঠিক নয়। তবে জমহুর ওলামাদের মতেই এমন কেনাবেচা বাতিল এবং এটিই অধিক বিশুদ্ধ মত।

২. সাথে সাথে গাছ থেকে কেটে নেওয়ার শর্তে বিক্রি করা (ক্বাত’):
জমহুর আলেমদের মতে এটি জায়েয। কারণ এখানে নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ (ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি) বিদ্যমান নেই। সহীহ বুখারী (হাদীছ নং ২১৯০) ও সহীহ মুসলিম (হাদীছ নং ১৫৫৫)-এ বর্ণিত আনাস (রা.)-এর হাদীছ-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন “বলো তো, যদি আল্লাহ তাআলা ফসল নষ্ট করে দেন, তবে তোমরা কোন অধিকারে তোমাদের ভাইয়ের সম্পদ গ্রহণ করবে?”।

যেহেতু ফল সাথে সাথে কেটে ফেলা হচ্ছে, তাই এখানে ফসল নষ্ট হওয়ার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের ভয় নেই এবং ক্রেতা তাৎক্ষণিক উপকৃত হতে পারছে। যদিও ইবনে আবী লায়লা (রহ.) ও ইমাম ছাওরী (রহ.) এটি নিষেধ করেছেন, তবে জমহুর ওলামাদের মতই সঠিক যা ইমাম শাওকানী (রহ.) তাঁর ‘নাইলুল আওতার’ (৫/১৬৪) গ্রন্থে এবং ইমাম সন্‌আনী (রহ.) ও ইবনে উছাইমীন (রহ.) সমর্থন করেছেন।

৩. কোনো শর্ত ছাড়া ঢালাওভাবে বিক্রি করা (মুতলাক্ব):
ইবনে কুদামাহ (রহ.) তাঁর ‘আল-মুগনী’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী এই কেনাবেচা বাতিল। ইমাম মালিক (রহ.) ও ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-ও একই মত পোষণ করেছেন। তবে ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এটি বৈধ বলেছেন এই যুক্তিতে যে, চুক্তির সাধারণ নিয়মই হলো পণ্য দ্রুত হস্তগত করা বা কেটে নেওয়া। এর জবাবে জমহুর ওলামাগণ বলেন, হাদীছ-এর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা এই দাবিকে নাকচ করে দেয়। কারণ হাদীছ-এর বাহ্যিক শব্দ থেকে ফল গাছে রেখে দেওয়ার বিষয়টিই ফুটে ওঠে, যা উপরের ওই প্রশ্নে (যদি আল্লাহ ফল নষ্ট করে দেন...) স্পষ্ট। সুতরাং জমহুর ওলামাদের মতই এখানে অধিক শক্তিশালী।

ব্যাখ্যামূলক টিকা
১. ‘বদু সালাহ’ (بدو صلاحها) বা পাকার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া:
ফলের প্রকারভেদে এর পাকার লক্ষণ ভিন্ন হয়। যেমন খেজুর লাল বা হলুদ হওয়া, আঙুর মিষ্টি হওয়া বা অন্যান্য ফল খাওয়ার উপযোগী হওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পর্যায় আসার আগে কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন।

২. কেন এটি নিষিদ্ধ?
আনাস (রা.) বর্ণিত হাদীছ-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চমৎকার একটি যুক্তি দিয়েছেন:

"বলো তো, যদি আল্লাহ তাআলা ফসল নষ্ট করে দেন (যেমন শিলাবৃষ্টি বা পোকার আক্রমণ), তবে তোমরা কোন অধিকারে তোমাদের ভাইয়ের সম্পদ (টাকা) গ্রহণ করবে?" (সহীহ বুখারী)।
অর্থাৎ ফল পাকার আগে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই অগ্রিম টাকা নেওয়া অনেকটা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করার মতো।

৩. ব্যতিক্রম ও সমাধান:
যদি ফল কাঁচা অবস্থায় কোনো কাজে লাগে (যেমন কচি ডাব বা কাঁচা ফল যা দিয়ে আচার তৈরি হয়) এবং সাথে সাথে কেটে নেওয়ার শর্ত থাকে, তবে তা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।

অনুবাদ
আশরাফুল ইসলাম বিন রেজাউল হক
সহযোগী গবেষক
মাকতবাতুস সুন্নাহ রাজশাহী

11/04/2026

প্রশ্ন: (কোনো গাছের) ফল সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই তা বিক্রি করা।❓

উত্তর: এরূপ কেনাবেচা না-জায়েয হওয়ার ওপর ‘ইজমা’ (সকল ফক্বীহ ও আলিমের ঐক্যমত) বর্ণিত হয়েছে। আর এটি জাবির (রা.) কর্তৃক বর্ণিত ‘সহীহ মুসলিম’-এর সেই হাদীছ-এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘মুআওয়ামাহ’ (المعاومة) করতে নিষেধ করেছেন। ‘মুআওয়ামাহ’ শব্দটি ‘আম’ (العام - বছর) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো: এই বছরের ফল, অথবা দুই বছর বা তিন বছরের ফল (যা এখনও সৃষ্টি হয়নি তা অগ্রিম) বিক্রি করা।

📚ফাতহুল আল্লাম ৬/১৩৫
অনুবাদ
আশরাফুল ইসলাম বিন রেজাউল হক
সহযোগী গবেষক
মাকতাবাতুস সু্ন্নাহ রাজশাহী

09/04/2026

গাড়ির ধাক্কায় ভাইকে হত্যা করলো সৌদি নাগরিক
পুলিশ আসামীকে গ্রেফতার করে, মামলাটি আদালতে যায়, এবং সে দোষী সাব্যস্ত হয়। পরে, শারিয়া কেসাস করা হয় এবং প্রতিশোধের মাধ্যমে তার ঘাড় ধ্বংস করা হয়। আল্লাহু আকবার

বাংলাদেশে এই আইন থাকলে মানুষ দুইদিনে সোজা হয়ে যেতো এতো আনন্দোলন রাস্তা অবরোধ কিছুর প্রয়োজন হতো না।

বিসমিল্লহ পরম করুণাময় রাহিম
ِকিন্তু কাহিনীতে তোমার জন্য জীবন আছে, হে দরজার রব, যেন তুমি ভয় করতে পারَ
"আর হে জ্ঞানী, প্রতিশদানে জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা পরহেযগার হতে পার। " 📖🕋

08/04/2026

এই ব্যক্তি একজন সৌদি নাগরিকের বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঢুকে পড়ে। এরপর সে বাড়ির মালিক এবং তার মাকে হত্যা করে।
তাই তার শাস্তি নির্ধারণ করা হয় তাকে হত্যা করা এবং তারপর তার লাশকে শূলবিদ্ধ (ক্রুশবিদ্ধের মতো ঝুলিয়ে রাখা) করা, যাকে “হাদ্দুল গীলা” বলা হয়।
অপরাধের ভয়াবহতার কারণে তাকে অন্যদের জন্য শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে রাখা হয়েছে।

সূত্র আরবী পেজ...

06/04/2026

হাদীছটির সনদ হাসান,,,,,,,,,,,,,,,,,,

05/04/2026

হে মানুষ....... শোনো
এই দুনিয়ার জীবন তোমাকে ধোঁকা দিচ্ছে।

তুমি ভাবছ, সব ঠিক আছে।
যা ইচ্ছা করছ, কেউ থামাচ্ছে না
তাই মনে হচ্ছে, কোনো হিসাবও নেই।

এটাই সবচেয়ে বড় ভুল।

একটা দিন আসছে
যেদিন তুমি পালাতে পারবে না।
লুকাতে পারবে না।
অস্বীকারও করতে পারবে না।

সেদিন তোমাকে দাঁড়াতে হবে, তোমার প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা, এমনকি লুকানো নিয়ত নিয়েও।

আজ যারা অন্যায় করে হাসছে, যারা সত্যকে চাপা দিয়ে সম্মান কুড়িয়ে নিচ্ছে,
সেদিন তাদের হাসি থেমে যাবে।

কারণ সেদিন..................
কোনো ক্ষমতা থাকবে না,
কোনো সুপারিশ থাকবে না,
কোনো ধোঁকা কাজ করবে না।

শুধু এক বাস্তবতা থাকবে, আর তা হলো.....
আল্লাহর সামনে তোমার হিসাব।

তাই এখনো সময় আছে, নিজেকে বদলাও।

কারণ যখন সেই দিন শুরু হবে,
তখন আর কোনো “সুযোগ” থাকবে না, শুধু “ফলাফল” থাকবে।

তুমি মনে রেখো মৃত্যুর দিন থেকেই তোমার সেই দিন শুরু...
সূর্য উদয় হয়েছে মানে রাত অতি সন্নিকটে........

তোমার ভাই
আশরাফুল ইসলাম বিন রেজাউলহক

08/03/2026

🖋️আজ আবু হাজম ও তার অনুসরণকারীদের একটি ইন্টারেস্টিং মূলনীতি সম্পর্কে কিছু কথা বলবো -

আমি মূলত সে অপেক্ষার প্রহর গুনছি, কখন এই আবু হাজম ও তার অনুসারীরা —

সম্মানিত শাইখ প্রফেসর ডক্টর আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া হাফিজাহুল্লাহকে ‘ইখুয়ানি-সুরুরি’ বলে পোস্ট দিবে?

কিন্তু, আমার মনে হয় তারা সে ভুল কাজটি মোটেও করবে না। কারণ তারা খুব ভালো করেই জানে — এই একটি কাজ, একটি পোস্টই হয়তো এই আবু হাজম ও তার অনুসারীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে!

তাদের সম্পূর্ণ প্রভাব, দাম্ভিকতার বিলুপ্তি ঘটবে যেকোনো ভাবে।

আবু হাজমদের চিন্তা-চেতনা ও দৃষ্টিকোণের প্রতি যদি আমি সমর্থন করি - তাহলে ‘শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া’ তিনিও আর সালাফি নন। মোটেও সালাফি নন।

বরং, তীব্র ইখুয়ানি-সুরুরীদের প্রমোট কারী লোক তিনি! (নাউজুবিল্লাহ)

কারণ?

কারণ হচ্ছে, আবু হাজমেরা - শাইখ ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ / শাইখ ড. মানযুরে ইলাহী / শাইখ আব্দুল হামীদ ফাইযী / শাইখ ড. আব্দুল্লাহ ফারুক সালাফী / শাইখ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ / শাইখ মুসলেহ উদ্দীন /শাইখ ড. আসাদুল্লাহ আল গালীব এর মতোন বাংলাদশের বয়োজ্যেষ্ঠ প্রসিদ্ধ সালাফি আলেমগণকে সালাফি বলে মোটেও মনে করে না।

বরং তারা আবু হাজমেরা উপর্যুক্ত শাইখগণকে ‘ইখুয়ানি-সুরুরী’ বলেই মনে করে থাকে!

এখানেই মূলত আবু হাজমদের দ্বি-মুখী লোভী নেতৃত্বের চরিত্র ফুঁটে উঠবে.....

আচ্ছা, শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া তো কখনোই এই উপর্যুক্ত ব্যক্তিদের থেকে ইলম নিতে নিষেধ করেননি। বরং, সময়ে অসময়ে এখনোও তাদের প্রমোট করে গেছেন।

তাহলে, শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া তো আবু হাজম ও তার অনুসারীদের দৃষ্টিতে ‘ইখুয়ানি-সুরুরীদের’ প্রমোট করে যাচ্ছেন সর্বদা!

কাজেই, তিনিও তাহলে সালাফি নন। কারণ সর্বদা বিদআতিকে সাহায্যকারী লোক তো নিজেও বিদআতি।

তাহলে, তিনি শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া নিজেও মূলত ‘ইখুয়ানি-সুরুরী’ তাই না?

তবে আপনি এটাই লক্ষ্য করবেন —

আবু হাজম ও তার আপাদমস্তক অনুসারীরা কখনোই শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়াকে “সালাফিয়্যাত” থেকে খারিজ করবে না।

যদিও, আবু হাজমদের দৃষ্টিতে তিনি শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া উপর্যুক্ত উল্লেখিত আলেমদের নিয়মিতই প্রমোট করে যাচ্ছেন, এক সাথে দাওয়াতে উপস্থিত হচ্ছেন, সভা-সেমিনার করছেন, তাদের থেকে ইলম নিতে মোটেও নিষেধ করছেন না!

তাহলে, আবু হাজমদের মূলনীতিতে তো শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়াও সালাফি নন। বরং, তিনিও তো বড় ইখুয়ানী, সুরুরী টাইপের মানুষ! (নাউজুবিল্লাহ)

অথচ, তাহলে কোন কারণে আবু হাজম ও তার অনুসারীরা প্রকাশ্যে শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া হাফিজাহুল্লাহকে “সালাফিয়্যাত” থেকে বের করে দিচ্ছেনা।

যেভাবে তার ঐসকল উপর্যুক্ত প্রসিদ্ধ আলেমদেরকে বের করে দিচ্ছে?

মূলত,
এটাই আবু হাজমদের আসল চরিত্র!

সুতরাং, তারা ভালো করেই জানে -

যেদিন তারা শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া হাফিজাহুল্লাহর প্রকাশ্য বিরোধীতা করে তাকে “সালাফিয়্যাত” থেকে খারিজ করে দিবে.....

ঐদিনের পর থেকে আবু হাজম ও তার অনুসারীদের অস্তিত্বও সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে জ্ঞান অন্বেষণকারীদের নিকট হতে। অবশ্য মূর্খ আলেম-বিমুখীরা তো জ্ঞান অর্জন করবেই আবু হাজম ফিতনা থেকে।

তবে যাইহোক, আমি যখন শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া হাফিজাহুল্লাহকে WhatsApp এ প্রশ্ন করেছিলাম, তখন তিনি আবু হাজমদের অনুসারীদের ফেতনাবাজ বলে সম্বোধন করেছিলেন। পোস্ট করেছিলাম, দেখে নিতে পারেন।

মহান আল্লাহ যেনো, শাইখ ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ হাফিজাহুল্লাহকে দুনিয়া - আখিরাতে সার্বিক কল্যাণ, নিরাপত্তা, সম্মান ও সুস্থতা দান করেন ; অনুরূপ উপর্যুক্ত সালাফি আলেমগণকেও। আর যেনো তিনি আল্লাহ, লাঞ্চিত করেন তাদেরকে, যারা বয়োজ্যেষ্ঠ সালাফি আলেমগণের গোশত খাওয়ার জন্য তাঁড়া করছে, আমিন।

তবে, মূল প্রসঙ্গ আবু হাজম কবে শাইখ ড. আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া হাফিজাহুল্লাহকে নিয়ে একটি পোস্ট লিখছে?

যেখানে, লেখা থাকবে শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া সালাফি নন। বরং ‘ইখুয়ানি-সুরুরী’ আলেমদের পূর্ণ সমর্থন কারী লোক তিনি।

অপেক্ষায় রইলাম......

—সাইফুর রহমান চৌধুরী।

Want your school to be the top-listed School/college in Khulna?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Meherpur
Khulna