Shopno Puron Academy

Shopno Puron Academy

Share

আসসালামু আলাইকুম,
স্বপ্ন পূরণ একাডেম?

31/07/2024

আমার ছাত্র-ছত্রীরা বার বার আমকে বলেছে ,স্যার আপনার প্রফাইল পিক পরিবর্তন করেন।
৭ বছর পর আজ পরিবর্তন করলাম।

10/06/2024

দেশ জিতলে ও আমার, হারলেও আমার দেশ। বাংলাদেশ।

Photos from Shopno Puron Academy's post 16/05/2024

আমার ক্লাস ৮ম শ্রেণির বাচ্ছারা......।
গণিতের ফলাফল ............।

06/04/2024

আমার
স্বপ্ন পূরণ একাডেমী

24/06/2023

মিসরীয় সভ্যতার ইতিহাস ।

28/04/2023

আম আঁটির ভেঁপু
গল্পের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১। দুর্গার বয়স কত?
উত্তর : দুর্গার বয়স দশ-এগারো বছর ।
প্রশ্ন ২। অপুর দিদির নাম কী?
উত্তর : অপুর দিদির নাম দুর্গা।
প্রশ্ন ৩। ‘আম-আঁটির ভেঁপু’ শীর্ষক গল্পটির রচয়িতা কে?
উত্তর : আম-আঁটির ভেঁপু’ শীর্ষক গল্পটির রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রশ্ন ৪| আজকাল লক্ষ্মী কোথায় বাঁধা পড়েছে?
উত্তর : আজকাল চাষাদের ঘরে লক্ষ্মী বাঁধা পড়েছে।
প্রশ্ন ৫| হরিহর কাজ সেরে কখন বাড়ি ফিরল?
উত্তর :হরিহর কাজ সেরে দুপুরের কিছু পর বাড়ি ফিরল।
প্রশ্ন ৬। অপুর কাছে কত টাকা দামের পিস্তল ছিল?
উত্তর : অপুর কাছে দুই পয়সা দামের পিস্তল ছিল।
প্রশ্ন ৭। অপুর খেলনা পিস্তলের দাম কত ছিল?
উত্তর : অপুর খেলনা পিস্তলের দাম ছিল দু’পয়সা।
প্রশ্ন ৮। অপুর পিঠে কে কিল দিল?
উত্তর : অপুর পিঠে দুর্গা কিল দিল।
প্রশ্ন ৯। “আম-আঁটির ভেঁপু” গল্পটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
উত্তর : “আম-আঁটির ভেঁপু’ গল্পটি পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের অন্তর্গত।
প্রশ্ন ১০। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে বরণ করেন?
উত্তর : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৫০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রশ্ন ১১। নাটাফল কী?
উত্তর : নাটাফল হচ্ছে করঞ্জা ফল।
প্রশ্ন ১২। ‘জারান’ বা ‘জারা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : ‘জারান’ বা ‘জারা’ শব্দের অর্থ হলো জীর্ণ করা, কুচি কুচি করা।
প্রশ্ন ১৩। হরিহরের পুত্রের নাম কী?
উত্তর : হরিহরের পুত্রের নাম অপু।
প্রশ্ন ১৪। খাপরা দিয়ে কী খেলা হয়?
উত্তর : খাপরা দিয়ে গঙ্গা-যমুনা খেলা হয়।
প্রশ্ন ১৫। হরিহরের স্ত্রীর নাম কী?
উত্তর : হরিহরের স্ত্রীর নাম সর্বজয়া।
প্রশ্ন ১৬। অপুর চোখগুলো কেমন?
উত্তর : অপুর চোখগুলো বেশ ডাগর ডাগর ।
প্রশ্ন ১৭। দুর্গার হাতের নারিকেল মালায় কী ছিল?
উত্তর : দুর্গার হাতের নারিকেল মালায় কচি আম কাটা ছিল।
প্রশ্ন ১৮। কাদের বাড়ির চারদিকে জল?
উত্তর : দুর্গাদের বাড়ির চারদিকে জঞ্জাল।
প্রশ্ন ১৯। রান্নাঘরের দাওয়ায় সর্বজয়া কী কাটতে বসল?
উত্তর : রান্নাঘরের দাওয়ায় সর্বজয়া শসা কাটতে বসল।
প্রশ্ন ২০। কী খেয়ে দাত টক হয়ে গেছে?
উত্তর : আম খেয়ে দাত টক হয়ে গেছে।
প্রশ্ন ২১। কে গাই দুইতে এলো?
উত্তর : স্বর্ণ গোয়ালিনী গাই দুইতে এলো।
প্রশ্ন ২২। কাকুড়তলির আমগাছ কাদের?
উত্তর : কঁকুড়তলির আমগাছ পটলিদের।
প্রশ্ন ২৩। হরিহর কত মাস অন্তর বেতন পায়?
উত্তর : হরিহর দু-তিন মাস অন্তর বেতন পায়।

অনুধাবন মূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ১। দশঘরার লোকটির অনুরোধে হরিহর তৎক্ষনাৎ সেখানে যেতে রাজি হলো না কেন?
উত্তর : আত্মমর্যাদাবোধের কারণে হরিহর দশঘরার লোকটির অনুরোধে তৎক্ষণাৎ রাজি হলো না। দশঘরা গ্রামে কোনো ব্রাহ্মণ নেই। তাই সেই গ্রামের মানুষের খুব ইচ্ছে যে, গ্রামে তারা একঘর ব্রাহ্মণ বাস করাবে এবং এ প্রস্তাব সেই গ্রামের মাতবর গোছের লোকটি হরিহরকে দিল। কিন্তু হরিহর সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হলো না। কারণ সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলে তারা হরিহরকে হা-ভাতে ভাববে। এ কারণে হরিহর লোকটির কাছ থেকে দু-একদিন সময় চেয়ে নিয়েছে।
প্রশ্ন ২। আজকাল চাষাদের ঘরে লক্ষ্মী বাধা’- কথাটি কে এবং কেন বলেছেন?
উত্তর : “আজকাল চাষাদের ঘরে লক্ষ্মী বাধা”- কারণ চাষারা নিয়মিত জমিতে ফসল ফলায়, ফলে তাদের অন্নাভাব হয় না।
চাষা মানেই চাষ করার সঙ্গে যার নিবিড় সম্পর্ক। আর চাষ করা মানেই ফসলের উৎপাদন। যারা ফসল উৎপাদন করে, তাদের থাকে গোলাভর্তি ধান, সে ধান তারা সারাবছর খায়। তাদের ঘরে খাবারের বিশেষ অভাব হয় না। অন্নের দেবী হিসেবে লক্ষন্ত্রীকে গণ্য করা হয়। প্রগোক্ত লাইনে চাষাদের ঘরে লক্ষ্মী বাধা বলতে খাবারের মজুদকেই বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন ৩। হরিহরের ঘরের অবস্থা কেমন?
উত্তর : হরিহরের ঘরের অবস্থা জীর্ণশীর্ণ প্রতিনিয় হরিহর গরিব মানুষ। সে একই গ্রামের অন্নদা রায়ের বাড়িতে গোমস্তার কাজ করে। মাসিক বেতন মাত্র আট টাকা, তাও অনিয়মিত। ফলে হরিহরের বাড়িটা অনেকদিন মেরামত করা হয়নি। সামনের দিকের বোয়াক ভাঙা, ফাটলে আগাছা জন্মেছে, ঘরের দরজা-জানালার কপাট- সবকিছুই ভাঙা, নারিকেলের দড়ি দিয়ে সেসব কোনো রকমে গরাদের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন ৪। “আমার এমন হয়েছে যে ইচ্ছে করে একদিকে বেরিয়ে যাই”- কেন এমন হয়েছে?
উত্তর : নিজ সংসারের দারিদ্র্যের কারণে সর্বজয়া প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
হরিহর-সর্বজয়ার সংসারে দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী। হরিহর অন্নদা রায়ের বাড়িতে গোমস্তার কাজ করে মাসে আট টাকা পায়। তাতে সংসার ঠিকমতো চলে না। ফলে অনেক ধার-দেনা হয়েছে। পাওনাদাররা প্রতিনিয়ত তাকে তাগাদা দেয়। ছেলের কাপড় নেই- যেটা আছে কাজ সেটারও দু-তিন জায়গায় সেলাই করা। দারিদ্র্য জর্জরিত সংসারে সর্বজয়া বাড়িটা যেন হাঁপিয়ে উঠেছে। তাই সে রাগে-দুঃখে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
প্রশ্ন ৫। মায়ের ডাকে দুর্গার উত্তর না দিতে পারার কারণ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর : মায়ের ডাকে দুর্গার উত্তর না দিতে পারার কারণ তার মুখভর্তি জারানো আমের চাকলা ছিল।
দুর্গা পটলিদের বাগান থেকে আম কুড়িয়ে এনে তার ছোট ভাই অপুকে নিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে খাচ্ছিল। কারণ তাদের মা সর্বজয়া যদি এটা দেখে ফেলে, তবে রাগ করবে। খাওয়া শেষ না হতেই হঠাৎ মায়ের ডাক শুনে দুর্গা বাকি আম তাড়াতাড়ি মুখে পুরল। মা পর পর কয়েকবার ডাকল। কিন্তু মুখভর্তি আম থাকায় দুর্গা ভয়ে উত্তর দিতে পারল না। কারণ উত্তর দিলে আম খাওয়ার ব্যাপারটা মায়ের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে।

28/04/2023

বই পড়া
গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১। প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী?
উত্তর : প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ‘বীরবল’।
প্রশ্ন ২। বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
প্রশ্ন ৩। মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ কোনটি?
উত্তর : মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হচ্ছে বই পড়া।
প্রশ্ন ৪। শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ কী?
উত্তর : শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ হলো সাহিত্যচর্চা।
প্রশ্ন ৫। সুশিক্ষিত লোক মাত্রই কী?
উত্তর : সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত ।
প্রশ্ন ৬। প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী ছিল?
উত্তর : প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল ‘বীরবল’।
প্রশ্ন ৭। সাহিত্যচর্চার জন্য কী প্রয়োজন?
উত্তর : সাহিত্যচর্চার জন্য লাইব্রেরির প্রয়োজন।
প্রশ্ন ৮। দেহের মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয়, কার হয় না?
উত্তর : দেহের মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয়, আত্মার মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয় না।
প্রশ্ন ৯। ‘পদচারণ’ কার লেখা?
উত্তর : ‘পদচারণ’ প্রমথ চৌধুরীর লেখা।
প্রশ্ন ১০। কী ছাড়া সাহিত্যচর্চার উপায়ান্তর নেই?
উত্তর : বই পড়া ছাড়া সাহিত্যচর্চার উপায়ান্তর নেই।
প্রশ্ন ১১। লেখক কোনটিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিয়েছেন?
উত্তর : লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিয়েছেন।
প্রশ্ন ১২। লেখক লাইব্রেরিকে কিসের ওপরে স্থান দিয়েছেন?
উত্তর : লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিয়েছেন।
প্রশ্ন ১৩। শিক্ষা গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দুই-ই দূর করবে বলে কার বিশ্বাস?
উত্তর : শিক্ষার ফল লাভে উদ্বাহু ব্যক্তির।
প্রশ্ন ১৪ কে শিষ্যের আত্মাকে উদ্বোধিত করেন?
উত্তর : যিনি যথার্থ গুরু তিনিই শিষ্যের আত্মাকে উদ্বোধিত করেন।
প্রশ্ন ১৫। কিসের জন্য আমরা সকলে উদ্বাহু?
উত্তর : শিক্ষার ফল লাভের জন্য আমরা সকলে উদ্বাহু।
প্রশ্ন ১৬। কাকে আমরা নিষ্কর্মার দলে ফেলি?
উত্তর : কেউ স্বেচ্ছায় বই পড়লে তাকে আমরা নিষ্কর্মার দলে ফেলি।
প্রশ্ন ১৭। বই পড়ার প্রধান দুটি দিক কী কী?
উত্তর : বই পড়ার প্রধান দুটি দিক হলো যথাক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক উপায় ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উপায়।
প্রশ্ন ১৮। উত্তরসাধক মাত্র কে?
উত্তর : গুরু উত্তরসাধক মাত্র ।
প্রশ্ন ১৯। বিজ্ঞানের চর্চা কোথায়?
উত্তর : বিজ্ঞানের চর্চা জাদুঘরে।
প্রশ্ন ২০। কাব্যামৃতে অরুচি ধরার দোষ কার?
উত্তর : কাব্যামৃতে অরুচি ধরার দোষ প্রচলিত শিক্ষার।
প্রশ্ন ২১। ‘সুসার’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : সুসার শব্দের অর্থ প্রাচুর্য।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না কেন?
উত্তর : শিক্ষার ন্যায় অন্তর্লোকের মনোরাজ্যের অর্জন গ্রহণসাপেক্ষ বিধায় শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না।
সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত। শিক্ষকের সার্থকতা শিক্ষাদান করায় নয়, ছাত্রকে তা অর্জন করতে সক্ষম করায়। যিনি যথার্থ গুরু তিনি শিষ্যের আত্মাকে উদ্বোধিত করেন এবং তার অন্তর্নিহিত সকল প্রচ্ছন্ন শক্তিকে ব্যক্ত করে তোলেন। সেই শক্তির বলে শিষ্য নিজের মন নিজে গড়ে তোলে, নিজের অভিমত বিদ্যা নিজে অর্জন করে। বিদ্যার সাধনা শিষ্যকে নিজে অর্জন করতে হয়। গুরু উত্তরসাধক মাত্র।
প্রশ্ন ২। লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিতে চান কেন?
উত্তর : লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিতে চান, কারণ লাইব্রেরিতে লোকে স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায় ।
আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষাপদ্ধতি উল্টো। সেখানে ছেলেদের বিদ্যে গেলানো হয়। তা তারা হজম করতে পারুক আর নাই, তা কেউ দেখে না। ফলে ছেলেরা শারীরিক ও মানসিকভাবে জীর্ণশীর্ণ হয়ে বেরিয়ে আসে কলেজ থেকে। পক্ষান্তরে লাইব্রেরিতে প্রত্যেকে নিজ নিজ শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে, জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তাই লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিতে চান।
প্রশ্ন ৩। শিক্ষা আমাদের গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দুই-ই দূর করবে। উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : “শিক্ষা আমাদের গায়েল জ্বালা ও চোখের জল, দুই-ই দূর করবে”- উক্তিটির মধ্য দিয়ে শিক্ষা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভুল ধারণা প্রকাশ পেয়েছে।
আমাদের দেশ রোগ-শোক, দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশ। সুন্দর জীবনধারণ করা এখানে কঠিন। তাই শখ করে বই পড়ার প্রস্তাব অনেকের কাছে নিরর্থক ও নির্মম ঠেকবে বলে প্রমথ চৌধুরী মনে করেন। তিনি বলেন, আমরা সকলে শিক্ষার ফললাভের জন্য সব সময় উদ্বাহু। কারণ আমাদের বিশ্বাস শিক্ষা আমাদের গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দুই-ই দূর করবে।
প্রশ্ন ৪। সাহিত্যের রস উপভোগ করতে আমরা প্রস্তুত নই কেন?
উত্তর : সাহিত্যের ফল হাতে হাতে পাওয়া যায় না বলে আমরা সাহিত্যের রস উপভোগ করতে প্রস্তুত নই। সাহিত্য মানুষের সুকুমার বৃত্তিকে জাগিয়ে তোলে। মানুষকে বিকশিত করে তোলে। সাহিত্যের রস মানুষের আত্মাকে সজীব করে তোলে। কিন্তু আমরা যেকোনো পাঠের ফল সরাসরি প্রত্যাশা করি। আর এ কারণেই আমরা সাহিত্যের রস উপভোগ করতে প্রস্তুত নই।
প্রশ্ন ৫। সাহিত্যচর্চার সুফল সম্পর্কে অনেকেই সন্দিহান কেন?
উত্তর : সাহিত্যচর্চার কোনো নগদ বাজার দর নেই বলে এর সুফল সম্পর্কে অনেকেই সন্দিহান। সমাজের অনেকেই সাহিত্যের রস উপভোগ করতে প্রস্তুত না উত্তীর্ণ থাকলেও শিক্ষার ফললাভের জন্য উদ্বাস্তু হয়ে থাকেন। তাদের বিশ্বাস শিক্ষা তাদের গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দুই-ই দূর করবে। সাহিত্যচর্চার সুফল সম্পর্কে লোকে যে সন্দেহ করে, তার কারণ এ শিক্ষার ফল হাতে হাতে পাওয়া যায় না, অর্থাৎ তার কোনো নগদ বাজার দর নেই।
প্রশ্ন ৬। সাহিত্যচর্চাকে লেখক শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ বলেছেন কেন?
উত্তর : সাহিত্যচর্চায় মন ও জ্ঞানের সামগ্রিক রূপ পাওয়া যায় বলে লেখক সাহিত্যচর্চাকে শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ বলেছেন।
লেখকের মতে, যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়। মানুষের মনকে সরল, সচল, সরাগ ও সমৃদ্ধ করার ভার আজকের দিনে সাহিত্যের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। কেননা, মানুষের দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্মনীতি, অনুরাগ-বিরাগ, আশা-নৈরাশ্য, তার অন্তরের সত্য ও স্বপ্ন এসবের সমবায়ে সাহিত্যের জন্ম। এসব কারণেই লেখক সাহিত্যচর্চাকে শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ বলেছেন।
প্রশ্ন ৭। “সাহিত্যচর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি।”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বই পড়া অর্থাৎ সাহিত্যচর্চার জন্য লাইব্রেরি অপরিহার্য।
বাস্তবতার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, বিভিন্ন ধরনের চর্চা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। যেমন- ধর্মের চর্চা মন্দির কিংবা মসজিদে, দর্শনের চর্চা গুহায়, নীতির চর্চা ঘরে এবং নাই বিজ্ঞানের চর্চা জাদুঘরে। ঠিক তেমনি সাহিত্যের চর্চার জন্যও লাইব্রেরির কোনো বিকল্প নেই।
প্রশ্ন ৮। লেখকের কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতে না চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বই পড়া মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হওয়া সত্ত্বেও লেখক ওপরে কাউকেই বই পড়তে পরামর্শ দিতে চাননি।
প্রথম কারণ, লেখকের সেই পরামর্শ কেউ গ্রাহ্য করবেন না এজন্য যে আমরা জাতি হিসেবে শৌখিন নই। আর দ্বিতীয় কারণ হলো রোগ-শোক, দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে যেখানে স্বাভাবিকভাবে দূর জীবনধারণই প্রধান সমস্যা সেখানে শখ করে বই পড়ার প্রস্তাব ভুল পাঠকের কাছে খুব নির্মম ঠেকবে ।
প্রশ্ন ৯। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে শিক্ষা দেওয়া হয় তা অপূর্ণাঙ্গ শিক্ষা। আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ স্কুল-কলেজগুলোতে যে ধরনের শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে তা অনেক ক্ষেত্রেই জ্ঞান বিকাশে সহায়ক নয়। শুধু পরীক্ষায় পাস করার দিকে শিক্ষার্থীদের নজর থাকে। শিক্ষকরাও পাসের লক্ষ্য নিয়েই তাদের শিক্ষা দেন। নোটসর্বস্ব বিদ্যা অর্জন করে উদরপূর্তির ব্যবস্থা হয়তো তাতে হয়, কিন্তু অপূর্ণ শিক্ষার কারণে আত্মবিকাশের সুযোগ হয় না।
প্রশ্ন ১০। “কিন্তু এই গেলা আর ওগলানো দর্শকের কাছে তামাশা হলেও বাজিকরের কাছে তা প্রাণান্তকর ব্যাপার”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : উদ্ধৃত বাক্যটি দ্বারা বাজিকরের প্রাণান্তকর চেষ্টা ও তার সাধনার ফলাফল বোঝানোর মধ্য দিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বাজিকর বিভিন্ন আকার ও আয়তনের বস্তু গিলে আবার দর্শকের সামনে তা উদগিরণ করে। এটা দর্শকের কাছে নিতান্ত তামাশা ও অদ্ভুত কৌশল মনে হলেও মূলত এ কাজটা করতে বাজিকরের বহু শ্রম ব্যয়ের দরকার হয়। তেমনি আমাদের এ সময়ে ছাত্ররা নোটের লেখা তোতাপাখির মতো মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় লিখে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। মানুষ এতে বাহবা দেয়। মূলত এ ছাত্র ঐ বাজিকরের মতোই প্রাণান্তকর চেষ্টার মাধ্যমে পরীক্ষায় নম্বর পেয়েছে।
প্রশ্ন ১১। স্কুল-কলেজের শিক্ষাকে লেখক ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন কেন?
উত্তর : প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী আমাদের দেশে প্রচলিত স্কুল কলেজের শিক্ষাকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন।
লেখকের মতে, শিক্ষা মানুষের আত্মাকে উদ্বোধিত করে, মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করে। কিন্তু বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় সেই সুযোগ নেই। বর্তমানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের দেওয়া নোট মুখস্থ করে এবং পরীক্ষার খাতায় তা ওগরায়। তাই লেখক স্কুল-কলেজের প্রচলিত শিক্ষাকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন।
প্রশ্ন ১২। পুঁজিবাদী সমাজে সাহিত্যপাঠের পরিস্থিতি কেমন তা বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর : সাহিত্যের বই কেনা যেখানে অপচয় ও অনর্থক মনে হয় সেখানে সাহিত্যপাঠের পরিস্থিতি সমাজে যথার্থই নাজুক বলে প্রতীয়মান হয়।
পুঁজিবাদী সমাজের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি হলো- শিক্ষা বা জ্ঞান কেবল অর্থ উপার্জনের জন্যই প্রয়োজনীয়। মননশীলতা আর বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান অর্জনের জন্য কারও তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায় না। ব্যবসায়িক স্বার্থে অর্থ ব্যয় করতে কেউ কার্পণ্য না করলেও সাহিত্য বা কাব্যচর্চার জন্য কানাকড়িও খরচ করতে সবার অনীহা দেখা যায়।

28/04/2023

স্বপ্ন পূরণ একাডেমী
মোঃকরিমুর রহমান (০১৯৮৭-১৮০০৪২)
বাংলা চুড়ান্ত সাজেশন-২০২৪

সুভা
গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১। গোঁসাইদের ছোট ছেলেটির নাম কী?
উত্তর : গোসাইদের ছোট ছেলেটির নাম প্রতাপ !
প্রশ্ন ২। ‘ঝিল্লিরব’ অর্থ কী?
উত্তর : ‘ঝিল্লিরব’ অর্থ ঝিঝি পোকার আওয়াজ বা শব্দে মুখর।
প্রশ্ন ৩। প্রতাপের প্রধান শখ কী ছিল?
উত্তর : প্রতাপের প্রধান শখ ছিল ছিপ ফেলে মাছ ধরা।
প্রশ্ন ৪। সুভা কোথায় বসে থাকত?
উত্তর : সুভা তেঁতুলতলায় বসে থাকত।
প্রশ্ন ৫। সুভার পুরো নাম কী?
উত্তর : সুভার পুরো নাম সুভাষিণী।
প্রশ্ন ৬। ‘সুভা’ কী জাতীয় রচনা?
উত্তর : ‘সুভা’ ছোট গল্প জাতীয় রচনা।
প্রশ্ন ৭। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম বনফুল।
প্রশ্ন ৮। কে সুভার মর্যাদা বুঝত?
উত্তর : প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝত।
প্রশ্ন ৯। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : ২৫ শে বৈশাখ ।
প্রশ্ন ১০। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইংরেজি কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭ই মে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ১১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহের নাম কী?
উত্তর : প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
প্রশ্ন ১২। কোন কাব্যের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
উত্তর : গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
প্রশ্ন ১৩। এশীয়দের মধ্যে প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন কে?
উত্তর : এশীয়দের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
প্রশ্ন ১৪। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় তাঁর কত বছর বয়সে?
উত্তর : ১৫ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন ১৫। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
প্রশ্ন ১৬। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা কত সনে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ১৩৪৮ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রশ্ন ১৭। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইংরেজি কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর : ১৯৪১ সালে।
প্রশ্ন ১৮। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
প্রশ্ন ১৯। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতার নাম কী?
উত্তর : মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
প্রশ্ন ২০। বাণীকণ্ঠের ছোট মেয়ের নাম কী?
উত্তর : সুভাষিণী (সুভা)।
প্রশ্ন ২১। ছোট মেয়েটার নাম সুভাষিণী রাখা হয়েছিল কেন?
উত্তর : বড় দুই বোনের নামের সাথে মিলের অনুরোধে ছোট মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখা হয়েছিল।
প্রশ্ন ২২। সুভাষিণীকে সবাই সংক্ষেপে কী নামে ডাকত?
উত্তর : সুভাষিণীকে সবাই সংক্ষেপে ‘সুভা’ নামে ডাকত।
প্রশ্ন ২৩। বাণীকন্ঠের বড় মেয়ে দুটির বিয়ে কীভাবে হয়েছে?
উত্তর : দস্তুরমতো অনুসন্ধান ও অর্থব্যয়ে বাণীকন্ঠের বড় মেয়ে দুটির বিয়ে হয়েছে।
প্রশ্ন ২৪। ছোট মেয়েটি পিতা-মাতার কোন অনুভূতির মতো বিরাজ করছিল?
উত্তর : ছোট মেয়েটি পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করছিল।
প্রশ্ন ২৫। সুভা কথা না বলতে পারলেও কী করতে পারত?
উত্তর : সুভা কথা না বলতে পারলেও অনুভব করতে পারত।
প্রশ্ন ২৬। সুভা সবসময় কোন চেষ্টা করত?
উত্তর : সুভা সবসময় নিজেকে সবার কাছ থেকে গোপন করার চেষ্টা করত।
প্রশ্ন ২৭। সুভা কী মনে করত?
উত্তর : সুভা মনে করত তাকে সবাই ভুলে গেলে সে বাঁচে।
প্রশ্ন ২৮। সুভার মা সুভাকে কীভাবে দেখতেন?
উত্তর : সুভার মা সুভাকে তার নিজের ত্রুটিম্বরূপ দেখতেন।
প্রশ্ন ২৯। মায়েরা মেয়েকে কিসের অংশরূপে দেখেন?
উত্তর : মায়েরা মেয়েকে নিজের অংশরূপে দেখেন।
প্রশ্ন ৩০। মেয়ের কোনো ত্রুটি থাকলে মায়েরা তা কীভাবে দেখেন?
উত্তর : মেয়ের কোনো ত্রুটি থাকলে মায়েরা নিজের জুটি হিসেবে দেখেন।
প্রশ্ন ৩১। বাণীকণ্ঠ তিন মেয়ের মধ্যে কাকে বেশি ভালোবাসতেন?
উত্তর : বাণীকণ্ঠ তিন মেয়ের মধ্যে সুভাকে বেশি ভালোবাসতেন।
প্রশ্ন ৩২। সুভার মা কী জ্ঞান করে সুভার ওপর বিরক্ত ছিলেন?
উত্তর : সুভার মা নিজের গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করে সুভার ওপর বিরক্ত ছিলেন।
প্রশ্ন ৩৩। সুভার কথা না থাকলেও কী ছিল?
উত্তর : সুভার কথা না থাকলেও সুদীর্ঘপল্লববিশিষ্ট বড় বড় দুটি কালো চোখ ছিল।
প্রশ্ন ৩৪। সুভার ওষ্ঠাধর কিসের মতো কেঁপে উঠত?
উত্তর : সুভার ওষ্ঠাধর কচি কিশলয়ের মতো কেঁপে উঠত।
প্রশ্ন ৩৫। সুভা কখনো কখনো কিসের মতো চেয়ে থাকত?
উত্তর : সুভা কখনো কখনো অস্তমান চন্দ্রের মতো অনিমেষভাবে চেয়ে থাকত।
প্রশ্ন ৩৬। সুভা অবসর পেলেই কোথায় গিয়ে বসে থাকে?
উত্তর : সুভা অবসর পেলেই নদীতীরে গিয়ে বসে থাকে।
প্রশ্ন ৩৭। গোয়ালের গাভী দুটি সুভার কে?
উত্তর : গোয়ালের গাভী দুটি সুভার অন্তরঙ্গ বন্ধু।
প্রশ্ন ৩৮। সুভা নিয়মিত কয়বার গোয়ালে যেত?
উত্তর : সুভা নিয়মিত তিনবার গোয়ালে যেত।
প্রশ্ন ৩৯। ‘সুভা’ গল্পে কোন তিথির কথা উল্লেখ আছে?
উত্তর : শুক্লা দ্বাদশী।
প্রশ্ন ৪০। সুভার ভাষাবিশিষ্ট জীব সঙ্গী কে?
উত্তর : সুভার ভাষাবিশিষ্ট জীব সঙ্গী প্রতাপ।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত প্রতাপের কাছে নিজের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর জন্য।
প্রতাপ যখন ছিপ ফেলে জলের দিকে চেয়ে থাকত তখন সুভা তার কাজে সাহায্য করতে চাইত। সে কাজের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে চাইত যে এই পৃথিবীতে সেও একজন প্রয়োজনীয় লোক। অথচ সে কিছুই করতে পারত না। আর এ কারণেই সে বিধাতার কাছে প্রার্থনা করত- যাতে অলৌকিক ক্ষমতাবলে কোনো একটি কাজ করে সে প্রতাপের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
প্রশ্ন ২। প্রতাপের প্রতি তার বাবা-মায়ের নিরাশ হওয়ার কারণ কী?
উত্তর : প্রতাপের প্রতি তার বাবা-মায়ের নিরাশ হওয়ার কারণ হলো- প্রতাপ সংসারের কাজের প্রতি যত্নবান বা মনোযোগী নয়, বরং সে বড় বেশি উদাসীন।
প্রতাপকে তার বাবা-মা সংসারের দায়িত্ব বারবার দিয়ে দেখে যে, সে কোনো কাজ করতে চায় না, কাজের প্রতি তার কোনো আগ্রহই নেই। নিতান্ত অকর্মণ্য হয়ে ঘুরে বেড়ানোতেই প্রতাপের বেশি আনন্দ। সে সারাদিন এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়। আর বিকেলে নদীর পাড়ে ছিপ ফেলে মাছ ধরে সময় ব্যয় করে। নিজের কাজের প্রতি তার উৎসাহ নেই। তবে অন্যের কাজের প্রতি তার উৎসাহ ছিল। মূলত প্রতাপের বাবা-মা অনেক চেষ্টা করেও প্রতাপকে ঘর-সংসারের কাজে মনোযোগী করতে পারেননি বলেই তার প্রতি তারা নিরাশ হয়েছেন।
প্রশ্ন ৩। সুভার কালো চোখকে তর্জমা করতে হয় না কেন?
উত্তর : সুভার মনের ভাব তার চোখে ফুটে ওঠে, তাই তার কালো চোখকে তর্জমা করতে হয় না।
আমরা কথার মধ্য দিয়ে যে ভাষা প্রকাশ করি তা আমাদের নিজের চেষ্টায় গড়ে নিতে হয়। ঠিক কোনোকিছু তর্জমা করার মতো, যা সবসময় ঠিক হয় না। সুভার বড় বড় কালো চোখের যে ভাষা, যে উজ্জ্বলতা তাতে অবর্ণনীয় ভাবের প্রকাশ রয়েছে। যার দিকে তাকালে আর কোনো তর্জমা করার দরকার হয় না। তার চোখ দুটোই কথা বলে। সুভার মনের ভাব তার চোখের উপরে কখনো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে উঠত, আবার কখনো স্নানভাবে নিভে আসত। কখনো চল বিদ্যুতের মতো, আবার কখনো ডুবে যাওয়া চাঁদের মতো হয়ে তার মনের ভাব প্রকাশ করত। সুভার মুখের ভাষা না থাকলেও দৃষ্টির গভীরতা স্পর্শ করা যায়। তাই সুভার কালো চোখকে তর্জমা করতে হয় না।
প্রশ্ন ৪। সুভা মনে মনে কী কল্পনা করত?
উত্তর : সুভা মনে মনে জলকুমারী হওয়ার কথা কল্পনা করত।
সুভা কল্পনা করত সে যদি জলপরী হতো, তাহলে জল থেকে উঠে সাপের একটা মণি ঘাটে রেখে আসত প্রতাপ তার তুচ্ছ মাছ ধরা ছেড়ে সাপের মাথার সেই মণি নিয়ে জলে ডুব দিত। তারপর পাতালে গিয়ে দেখত রুপার অট্টালিকার সোনার পালঙ্কে সুভা বসে আছে। সে পাতালপুরীর একমাত্র রাজকন্যা। সে পাতালপুরীর রাজকন্যা না হয়ে ভুল করে বাণীকষ্ঠের পরিবারে জন্ম নিয়েছে। সে মনে মনে এসব বিষয় কল্পনা করত।
প্রশ্ন ৫। “তখন কে জানিত সে বোবা হইবে”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : সুভার বোবা হওয়া সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে।
‘সুভা’ গল্পের সুভা একটি বোৰা মেয়ে। তিন বোনের মধ্যে সে ছোট। তার বড় দুই বোন সুকেশিনী ও সুহাসিনী কথা বলতে পারে। তাই দুই বোনের নামের সাথে মিল রেখে তার নাম রাখা হয় সুভাষিণী। সুভাষিণী অর্থ যার কথা সুন্দর। সুভাষিণীর যখন জন্ম হয় তখন কেউ জানত না যে সে কথা বলতে পারবে না। আর যে কথা বলতে পারে না, তার নাম সুভাষিণী এই বিষয়টি অনেকটা দুঃখজনক। তাই এখানে লেখক মেয়েটির শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সাথে তার নামের যে বৈপরীত্য তা প্রকাশ করতে এমন কথা বলেছেন।
প্রশ্ন ৬। সুভা কেন বাবা-মায়ের হৃদয়ভারের কারণ হয়েছিল?
উত্তর : সুভা বোবা হওয়ার কারণে বাবা-মায়ের হৃদয়ভারের কারণ হয়েছিল।
সুভার বড় দুই বোন সুস্থ ও স্বাভাবিক। তাই তাদেরকে বিয়ে দিতে তার বাবা-মাকে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। অনেক টাকাপয়সা খরচ করে এবং ধুমধাম করে তিনি তাদের বিয়ে দেন। আর সুভা বোবা হওয়ার কারণে তার বাবা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কারণ বোবা মেয়েকে বিয়ে দেওয়াটা অন্য দুই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার মতো সহজ কাজ নয়। তাই সুভার বাবা-মা প্রতিনিয়ত এই বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন এবং সুভার অস্তিত্ব যেন তাদের নীরব হৃদয়ভারের মতো হয়ে অবস্থান করে।
প্রশ্ন ৭। সুভা শিশুকাল থেকেই কী বুঝে নিয়েছিল?
উত্তর : সুভা যে বিধাতার অভিশাপম্বরূপ পিতার ঘরে জন্ম নিয়েছে সে তা শিশুকাল থেকেই বুঝে নিয়েছিল। সুভা জন্ম থেকেই বোবা। মুখে কথা বলতে না পারলেও তার মাঝে অনুভূতি ছিল। সে তার চারপাশের সবকিছুই অনুভব করত এবং বুঝতে পারত। ছোটবেলা থেকেই তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যেসব কথাবার্তা হতো সেগুলো থেকেই সে বুঝে নিয়েছিল যে, সে বিধাতার কাছ থেকে আশীর্বাদ নিয়ে জন্মায়নি। পরিবারের লোকজনের আলোচনার মধ্য থেকেই বুঝে নিয়েছিল যে, সে তার বাবার ঘরে বিধাতার অভিশাপস্বরূপ জন্ম নিয়েছে।
প্রশ্ন ৮। সুভার প্রতি তার মায়ের আচরণ কেমন ছিল?
উত্তর : সুভার প্রতি তার মায়ের আচরণ ছিল বিরক্তিপূর্ণ।
মায়েরা কন্যা-সন্তানকে নিজেদের অংশ মনে করে। মেয়েদের কোনো অঙ্গ যদি ত্রুটিপূর্ণ থাকে তাহলে মায়েরা তা নিজেদের ত্রুটি হিসেবে ধরে নেয়। সুভা’ গল্পে সুভা জন্ম থেকে বাবা ছিল। তাই মা সুভার প্রতি বিরক্ত ছিলেন। এই জুটিকে সুভার মা নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন। সুভাকে দেখলে সুভার মা নিজের ত্রুটির কথা স্মরণ করতেন বলে তিনি সুভার ওপরে বিরক্ত ছিলেন।
প্রশ্ন ৯। প্রকৃতি কীভাবে সুভার ভাষার অভাব পূরণ করেছিল?
উত্তর : প্রকৃতির বিভিন্ন শব্দ ও কোলাহল দিয়ে প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করেছিল।
নদীর কলধ্বনি, পাখির ডাক, মাঝির গান, লোকের কোলাহল ইত্যাদি দিয়ে প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। সে সময় পেলেই নদীর পাড়ে এসে বসত। তখন প্রকৃতির নানান উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা নিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সুভার হৃদয়ে আছড়ে পড়ত। এই ভাষার বিস্তার যেন বিশ্বব্যাপী। এভাবেই প্রকৃতি বিভিন্ন শব্দের মধ্য দিয়ে সুভার ভাষার অভাব পূরণ করেছিল।
প্রশ্ন ১০। সুভার সাথে গাভী দুটির সম্পর্ক কেমন ছিল?
উত্তর : সুভার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিল গাভী দুটি।
সুভার অন্তরঙ্গ বন্ধু গাভী দুটি হলো সর্বশী ও পাঙ্গুলি। এদের সাথে ‘সুভার’ অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক ছিল। সুভা কখন এদের আদর করত এবং কখন ভৎসনা করত– এরা সব বুঝত। সুভা নিয়মিত তিনবার গোয়ালঘরে নিয়ে এদের খোঁজ নিত। এমনকি সুভার মনের ভাষা, মর্মবেদনা এরা বুঝতে পারত। সুভার বাহুতে শিং ঘষে সুভাকে এরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করত। সুভার কথাহীন করুণ সুর এরা ভালো করে চিনত। সুভাকে এরা বন্ধুই মনে করত।
প্রশ্ন ১১। বিড়ালটি সুভার কাছে গিয়ে কী করত?
উত্তর : বিড়ালটি সুভার কাছে গিয়ে আদর নিত। সুভার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে অন্যতম একটি প্রাণী বিড়াল। সুভা বসে থাকলে বিড়ালটি যখন তখন নিঃসংকোচে এসে তার গরম কোলে বসে সুখনিদ্রার আয়োজন করত। সুভা গলায় ও পিঠে হাত বুলিয়ে দিলে বিড়ালটির ঘুমিয়ে পড়ত।
প্রশ্ন ১২। প্রতাপ কেমন ছিল?
উত্তর : প্রতাপ নিতান্ত অকর্মণ্য ছিল।
গোঁসাইদের ছোট ছেলে প্রতাপ অকর্মণ্য বলে বাবা-মা তার ওপর থেকে সব রকম আশা ত্যাগ করেছিল। সে তার সংসারের কোনো কাজে না লাগলেও অন্য সবার সব কাজে লাগত। সে ছিপ ফেলে মাছ ধরতে পছন্দ করত। গ্রামে দু-চারটে অকর্মণ্য লোক থাকেই যারা সব সময় অন্যের উপকারে লাগে, প্রতাপ ছিল তেমনি একজন পরোপকারী ব্যক্তি।
প্রশ্ন ১৩। সুভা ও প্রতাপের সম্পর্ক কেমন ছিল?
উত্তর : সুভা ছিল প্রতাপের মাছ ধরার সঙ্গী। তাদের সম্পর্ক ভালো ছিল।
প্রতাপ ছিপ ফেলে মাছ ধরতে খুব পছন্দ করত। তেঁতুলতলায় সুভা বসে থাকত এবং প্রতাপ কিছু দূরে ছিপ ফেলে পানির দিকে তাকিয়ে থাকত। প্রতাপের জন্য সুভা একটি করে পান বানিয়ে নিয়ে যেত। সুভা খুব চেষ্টা করত প্রতাপকে কোনো একটা কাজে সাহায্য করার জন্য, যেন সে বুঝতে পারে যে সুভাও কারও কাজে লাগতে পারে। প্রতাপ মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকলে সুভা মনে মনে অলৌকিক কোনো ক্ষমতা আশা করত, যেন সে তা দেখে অবাক হয়। সুভার সাথে প্রতাপের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।
প্রশ্ন ১৪। পূর্ণিমার রাতে সুভা কী করেছিল?
উত্তর : পূর্ণিমার রাতে সুভা নিজেকে চেনার চেষ্টা করেছিল।
পূর্ণিমার রাতে একবার সুভা দরজা খুলে ভয়ে ভয়ে মুখ বের করে দিয়ে পূর্ণিমা দেখছিল। তার কাছে মনে হয়েছিল এই পূর্ণিমা রাতও যেন তার মতো একা এবং নির্বাক। সে নিজের অস্তিত্ব এবং নিজের বেড়ে ওঠা সম্পর্কে অনুভূতি লাভ করে। অনেক কিছু বুঝতে চায়, কথা বলতে চায়, পারে না। চারদিকের সমস্ত নির্জনতা যেন তাকে ছাপিয়ে ওঠে। আর এই নিস্তব্ধ প্রকৃতির মধ্যে একটি মেয়ে একা দাঁড়িয়ে থাকে, সুভা সেই বিষয়টিও অনুভব করে।
প্রশ্ন ১৫। প্রতাপের দিকে সুভা কেন মর্মবিদ্ধ হরিণীর মতো তাকিয়ে ছিল?
উত্তর : সুভার বর পাওয়া গেছে, সে বিয়ে করে চলে যাবে, বিয়ের পর যেন সুভা তাকে না ভোলে প্রতাপের মুখে এমন কথা শুনে সুভা তার দিকে মর্মবিদ্ধ হরিণীর মতো তাকিয়ে ছিল।
প্রতাপ মাছ ধরার সময় সুভা একদিন তার কাছে গেলে প্রতাপ তাকে বলে যে, তার বর খুঁজে পাওয়া গেছে। তার বিয়ে হবে। বিয়ের পর সে যেন সবাইকে ভুলে না যায়। এ কথা শুনে সুভা প্রতাপের দিকে এমনভাবে তাকায়, যেন মর্মবিদ্ধ হরিণী শিকারির দিকে তাকিয়ে থাকে। কারণ সুভা বিয়ের জন্য রাজি ছিল না। প্রতাপের কাছ থেকে কথাটি শুনে তার মোটেই ভালো লাগেনি। অত্যন্ত কষ্ট পায় বলে সুভা এভাবে তার দিকে তাকিয়ে ছিল।

Want your school to be the top-listed School/college in Khulna?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Narail
Khulna
7500