07/02/2026
HSC ICT Chapter-2:
অধ্যায়ঃডেটা কমিউনিকেশন ও নেটওয়াক
বিষয়ঃ কমিউনিকেশন সিস্টেম
ক্লাস নং-১
কমিউনিকেশন সিস্টেম এবং ডেটা কমিউনিকেশন স্টাডি গাইড
এই স্টাডি গাইডটি কমিউনিকেশন সিস্টেম এবং ডেটা কমিউনিকেশনের মৌলিক ধারণা, এর বিবর্তন এবং তথ্য আদান-প্রদানের উপাদানসমূহ পর্যালোচনার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গভীর জ্ঞান অর্জনে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে।
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (কুইজ)
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর ২-৩টি বাক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন।
১. কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ বলতে কী বোঝায়?
২. আদিম যুগে মানুষ কোন পদ্ধতিতে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করত?
৩. আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কেবল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই কেন?
৪. ডেটা কমিউনিকেশন কাকে বলে?
৫. ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেমে 'উৎস' (Source) এর ভূমিকা কী?
৬. ট্রান্সমিটার বা প্রেরক যন্ত্রের কয়েকটি উদাহরণ দাও।
৭. ডেটা কমিউনিকেশনে মিডিয়াম বা মাধ্যম হিসেবে কী কী ব্যবহৃত হতে পারে?
৮. ইনপুট এবং আউটপুট ট্রান্সডিউসারের কাজ কী?
৯. ডেটা কমিউনিকেশনে 'নয়েজ' (Noise) বলতে কী বোঝায়?
১০. গন্তব্য বা ডেস্টিনেশন হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন দুটি যন্ত্রের নাম লেখো।
উত্তরপত্র (Answer Key)
১. উত্তর: কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ হলো একটি সহজাত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে এক পক্ষ অন্য পক্ষের কাছে তথ্য বা সংকেত বিনিময় করে। এটি শব্দ, প্রতীক, অঙ্গভঙ্গি বা বার্তার আদান-প্রদান হতে পারে যা উভয় পক্ষের কাছে বোধগম্য।
২. উত্তর: আদিম যুগে মানুষ আকার-ইঙ্গিত, বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি এবং পরবর্তীকালে নিজেদের উদ্ভাবিত সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগ করত। এছাড়াও দূরবর্তী স্থানে তথ্য পাঠাতে ঢোল বাজানো, ধোঁয়ার সংকেত বা দূত ব্যবহারের প্রচলন ছিল।
৩. উত্তর: বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এখন যোগাযোগ কেবল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং মানুষ যন্ত্রের সাথে এবং যন্ত্র যন্ত্রের সাথেও যোগাযোগ করতে পারছে। ইন্টারনেট এবং উন্নত সিস্টেমের মাধ্যমে এখন এই প্রক্রিয়া অনেক বেশি ব্যাপক এবং সহজসাধ্য হয়ে উঠেছে।
৪. উত্তর: কোনো তথ্য বা উপাত্তকে (Data) এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কিংবা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে নির্দিষ্ট মাধ্যমের সাহায্যে নির্ভরযোগ্যভাবে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াকে ডেটা কমিউনিকেশন বলে। এটি মূলত ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ডেটা আদান-প্রদানের একটি সুরক্ষিত ব্যবস্থা।
৫. উত্তর: উৎস বা সোর্স হলো সেই উপাদান যেখানে তথ্য বা ডেটা উৎপন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, মাইক্রোফোন বা কিবোর্ড কোনো সিস্টেমের উৎস হিসেবে কাজ করে যা তথ্যকে প্রক্রিয়াকরণের জন্য ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে।
৬. উত্তর: ট্রান্সমিটার বা প্রেরক যন্ত্রের উদাহরণ হলো রেডিও স্টেশন, টেলিভিশন কেন্দ্র, মোবাইল ফোন, মডেম এবং রাউটার। এই যন্ত্রগুলো তথ্যকে নির্দিষ্ট মাধ্যমে পাঠানোর উপযোগী সংকেতে রূপান্তর করে।
৭. উত্তর: ডেটা কমিউনিকেশনে মাধ্যম হিসেবে তারযুক্ত সংযোগ (যেমন: টেলিফোন লাইন বা ফাইবার অপটিক ক্যাবল) অথবা তারবিহীন সংযোগ (যেমন: রেডিও বা মাইক্রোওয়েভ) ব্যবহৃত হতে পারে। এটি প্রেরক এবং গ্রাহক যন্ত্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
৮. উত্তর: ইনপুট ট্রান্সডিউসার তথ্যকে ইলেকট্রিক সংকেতে রূপান্তর করে মাধ্যমে পাঠায়। অন্যদিকে, আউটপুট ট্রান্সডিউসার মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত ইলেকট্রিক সংকেতকে পুনরায় মূল তথ্যে রূপান্তর করে ব্যবহারকারীর উপযোগী করে তোলে।
৯. উত্তর: ডেটা যখন উৎস থেকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে মিডিয়ামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু অপ্রত্যাশিত ইলেকট্রিক সংকেত যুক্ত হতে পারে, একেই নয়েজ বলে। আধুনিক সিস্টেমে এই নয়েজ সংশোধনের ব্যবস্থা থাকে।
১০. উত্তর: গন্তব্য বা ডেস্টিনেশন হিসেবে লাউড স্পিকার এবং কম্পিউটার ব্যবহৃত হতে পারে। এখানে ট্রান্সমিশন শেষে তথ্যটি তার চূড়ান্ত রূপে পৌঁছায় এবং ব্যবহারকারী তা গ্রহণ করতে পারে।
রচনামূলক প্রশ্ন (Essay Format Questions)
নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলো বিস্তারিত আলোচনার জন্য প্রস্তাব করা হলো:
১. মানব সভ্যতার ইতিহাসে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিবর্তন এবং প্রযুক্তির ভূমিকা আলোচনা করো।
২. একটি কার্যকর ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেমের প্রধান উপাদানগুলোর কার্যাবলি চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
৩. ডেটা কমিউনিকেশনে ট্রান্সডিউসারের প্রয়োজনীয়তা এবং এর কার্যপ্রণালী বর্ণনা করো।
৪. তথ্য আদান-প্রদানে মিডিয়াম বা মাধ্যমের প্রকারভেদ এবং এদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
৫. ডেটা কমিউনিকেশনে নয়েজ বা প্রতিবন্ধকতাগুলো কী কী এবং কীভাবে এগুলো নিরসন করা সম্ভব?
শব্দকোষ (Glossary)
• কমিউনিকেশন (Communication): তথ্য বা বার্তার আদান-প্রদান প্রক্রিয়া।
• ডেটা কমিউনিকেশন (Data Communication): ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উপাত্তের বিনিময়।
• উৎস (Source): যেখান থেকে তথ্য উৎপন্ন হয় (যেমন: মাইক্রোফোন, ক্যামেরা)।
• ট্রান্সডিউসার (Transducer): এমন একটি যন্ত্র যা এক ধরনের শক্তি বা সংকেতকে অন্য ধরনের সংকেতে (সাধারণত ইলেকট্রিক) রূপান্তর করে।
ট্রান্সমিটার (Transmitter): তথ্যকে নির্দিষ্ট মাধ্যমে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতকারী যন্ত্র (যেমন: মডেম, রাউটার)।
• মিডিয়াম (Medium): তথ্য চলাচলের পথ বা মাধ্যম (যেমন: ফাইবার অপটিক ক্যাবল, রেডিও তরঙ্গ)।
• রিসিভার (Receiver): মাধ্যম থেকে তথ্য বা সংকেত গ্রহণকারী যন্ত্র (যেমন: টেলিফোন এক্সচেঞ্জ)।
• গন্তব্য (Destination): যেখানে তথ্য চূড়ান্তভাবে পৌঁছায় (যেমন: কম্পিউটার, স্পিকার)।
• নয়েজ (Noise): ডেটা প্রবাহের সময় মিডিয়ামে যুক্ত হওয়া অবাঞ্ছিত ইলেকট্রিক সংকেত।
infography মাধ্যমে দেখানো হলো :