15/07/2026
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, একবার আমার ওপর এমন কঠিন সময় এলো যে, টানা তিন দিন আমি একটি দানাও মুখে তুলতে পারিনি।
ক্ষুধার তীব্র যন্ত্রণায় আমি যখন মদিনার আসহাবে সুফফা (মসজিদে নববীর বিশেষ আঙিনা)-র দিকে যাচ্ছিলাম, তখন ক্ষুধার চোট ও দুর্বলতায় আমি বারবার রাস্তায় আছড়ে পড়ে যাচ্ছিলাম।
আমার এই অবস্থা দেখে মদিনার ছোট ছোট বাচ্চারা হাসাহাসি করছিল আর বলছিল, "আবু হুরায়রা পাগল হয়ে গেছে!"
আমি ব্যথিত হয়ে তাদের ডেকে বলতাম, "আমি পাগল হইনি, বরং ক্ষুধার যন্ত্রণায় তোমরা আমাকে পাগল ভাবছ!"
কোনো রকমে আমি আসহাবে সুফফার স্থানে গিয়ে পৌঁছালাম। ঠিক সেই মুহূর্তে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর দরবারে গণিমত হিসেবে দুটি ছরিদের (গোশত ও রুটির ঝোলানো ঝোল) বড় পাত্র আনা হলো।
নবীজী (সা.) আসহাবে সুফফার সব দরিদ্র সাহাবীদের ডাকলেন এবং তাঁরা সবাই মিলে তৃপ্তি সহকারে খাওয়া শুরু করলেন।
আমি এক কোণে বসে নিজেকে একটু উঁচু করে বারবার রাসূলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছিলাম, যেন নবীজী ﷺ আমাকেও ডাকেন।
কিন্তু সাহাবীদের ভিড়ে নবীজী হয়তো আমাকে খেয়াল করেননি। একে একে সব সাহাবী খেয়ে উঠে গেলেন। পাত্র দুটির ভেতরে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না, শুধু পাত্রের কোণে সামান্য কিছু ঝোল লেগে ছিল।
রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন পাত্রের চারপাশ থেকে সেই অবশিষ্ট অংশটুকু আঙুল দিয়ে টেনে একত্র করলেন। সবটুকু মিলে মাত্র "এক লোকমা" খাবার তৈরি হলো।
নবীজী (সা.) সেই এক লোকমা খাবার নিজের পবিত্র আঙুলের ওপর রাখলেন এবং আমাকে ডেকে বললেন—
"আবু হুরায়রা! এদিকে এসো, আল্লাহর নাম নিয়ে (বিসমিল্লাহ বলে) এটা খেয়ে নাও।"
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন—
"সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! রাসূলের পবিত্র আঙুল থেকে আমি সেই এক লোকমা খাবার খাওয়া শুরু করলাম।
আল্লাহর কী কুদরত! আমি খাচ্ছিলাম আর পাত্রের কোণ থেকে যেন খাবার শেষই হচ্ছিল না! আমি ততক্ষণ পর্যন্ত খেলাম, যতক্ষণ না আমার তিন দিনের ক্ষুধার্ত পেট পুরোপুরি ভরে তৃপ্ত হলো!"
সুবহানাল্লাহ!
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ❤️
**সূত্র:** সহিহ ইবনে হিব্বান