07/05/2026
হজ্জ যাত্রার অনুভূতি
হজ্জের যাত্রা কোনো সাধারণ সফর নয়—এটি একজন বান্দার আত্মার দীর্ঘ অপেক্ষার পরে আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া। এক গভীর আধ্যাত্মিক সফর। প্রতিটি ধাপ যেন একেকটি হৃদয়-পরীক্ষা, একেকটি আত্মশুদ্ধির দরজা।
বাড়ি থেকে বের হওয়া-
যাত্রা শুরু হয় নিজের ঘর থেকে। পরিবার, প্রতিবেশী—সবকিছুর মাঝে এক অদ্ভুত নীরবতা, আত্মীয় স্বজনদের আবেগের কান্না, মনে হচ্ছে শেষ বিদায়ের করুন সুর। আবেগে নিজের চোখেও অশ্রু, মুখে নেই ভাষা, মনে ভয়-আশা মিশ্রিত এক অনুভূতি—
“আমরা কি আর ফিরে আসব?”
সবার থেকে ক্ষমা চেয়ে বাসা থেকে যাত্রা শুরু। এই সময়ের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয়।
মাগরিবের পরপর স্টার লাইনে ফেনী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা। ঘরের দরজা ধীরে ধীরে খুলছে। ভেতর থেকে বের হচ্ছি আমরা—চোখে অশ্রু, হৃদয়ে অজানা এক ভার, আর ঠোঁটে কাঁপা কাঁপা দোয়া।
জানি না, আর এই দরজা দিয়ে ফিরবো, নাকি এই বিদায়ই চূড়ান্ত প্রস্তুতি, আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।
এরপর বিমানবন্দরে- সমবেত হাজারো মানুষ—সব দেশের, সব ভাষার, সব বর্ণের। যেন মানুষ নয়—সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে থাকা আত্মা। কেউ কান্না করছে, কেউ চুপচাপ তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে, কেউ আবার বারবার ব্যাগ চেক করছে—কিন্তু সবার বুকের ভেতর একই ধুকপুকানি।
সবার গায়ে একই সাদা ইহরাম, সবার কণ্ঠে একই দোয়া। এখানে ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা সব ভেদ মুছে যায়। মনে হয়—কিয়ামতের এক ছোট্ট মহড়া চলছে।
মোয়াল্লেমের মুখে হজ্জের নিয়ম, সতর্কতা, সময়সূচির ব্রিফিং চলছে…
শব্দগুলো কানে ঢোকে ঠিকই,
তবে হৃদয়ে ঢোকে অন্য এক ডাক—
“তুমি কি প্রস্তুত?”
নিয়ম, সময়সূচি, সতর্কতা—সবই চলছে বাইরে…
আর ভেতরে চলছে আত্মার হিসাব-নিকাশ।
এরপর বিমান যখন আকাশে উঠে যায়, নিচের পৃথিবী ছোট হয়ে আসে।
শহর, রাস্তা, ব্যস্ত জীবন—সবকিছু যেন দূরে সরে যায়।
এই মুহূর্তে মনে হয়, বান্দা যেন দুনিয়ার মাটি থেকে একটু একটু করে আল্লাহর দিকে উঠছে।
এরপর সৌদি এয়ারলাইনসের বিমানে দীর্ঘ যাত্রা।
এই সময়টা শুধু ভ্রমণ নয়—যেন এক চিন্তার সফর।
কেউ কুরআন পড়ে, কেউ তাসবিহ জপে, কেউ নীরবে কাঁদে। এই নীরব আকাশযাত্রায় অনেকেই নিজের জীবনের হিসাব নিতে শুরু করে—
“আমি কতটা প্রস্তুত আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে?”
মুখ থেকে উচ্চারিত হচ্ছে -
“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক"