29/04/2018
" #শিক্ষার্থীর_দুক্ষু"
"ভার্সিটি
ভার্সিটিতে ঘুইরা
মরি,রে ভাই
কোথাও জোটে না
চান্স,
এত সেন্স থাকতেও
আজ
বলে সব নন্স্যান্স। "
শুনিতে পাই কয়েক
বছর আগেও বাংলাদেশ
শিক্ষাদিক্ষায়
পিছিয়ে ছিল - এই
কয়েক বছর পর
থেকেই আমরা ক্রমশই
বিজ্ঞ থেকে অজ্ঞ
হইতেছি।শিক্ষায়,
প্রযুক্তিতে আমরা
পৃথীবির অন্যান্য
দেশে ও জাতির
সমকক্ষ হইতে
চলিয়াছি।এখন
আমাদের জ্ঞান ও
টেকনোলজি রাখিবার
স্থান নাই। সত্যই তো,
এই যে হাজার হাজার
স্কুল, বড় বড়
ভার্সিটি, ইংলিশ
মিডিয়াম
স্কুল,অপরাজিতা
সিম, দোয়েল ল্যাপটপ,
ঘরে ঘরে
ইন্টারনেট,ফরমাল
িন -কারবাইড,
বাজারের নকল
ডিম,কোচিং এর
ছড়াছড়ি, বেকারের
হুড়োহুড়ি- এসব কি
উন্নতির নিদর্শন
নহে?
নিশ্চয়! যে বলে, 'নহে '
সে ডাহা নিমকহারাম।
কিন্তু ইহার অপর
পৃষ্ঠাও আছে-কেবল
এসবই আমাদের
সর্বস্ব নহে।অদ্য
আমাদের আলোচ্য
বিষয়,শিক্ষা
ব্যবস্থা।দুর্নীতি
মুক্ত সুশিক্ষা
পদ্ধতিই জাতির
মেরুদন্ড। তবে আমার
চাল ঝাড়িতে মরা
কীর্তন কেন? ইহার
অবশ্যই কারণ আছে।
আমি যদি প্রথমেই
শিক্ষাব্যবস্থা আর
প্রযুক্তি
অপব্যবহারের দুর্দশা
বর্ণনা করিয়া ন্যাকা
কান্না কাঁদিতে
বসিতাম তবে কেহ চট
করিয়া আমার চক্ষে
সুচ ঠেলিয়া দেখাইতেন
যে,আমাদের বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানে সিসি
টিভি ক্যাম আছে,
বিভিন্ন ভার্সিটি
আছে ইত্যাদি।ভালোর
ভাগ রাখিয়া কেবল
মন্দের দিকটা দেখা
কেন? সেইজন্য ভালো
দিকটা
দেখাইলাম,এবার
মন্দের দিকটা দেখা
যাউক।
ঐ যে নামকরা
ভার্সিটি, যাহারা
চান্স পায় তাহাদের কে
একেবারে নবাব
সিরাজউদ্দৌলা,
বিজ্ঞানী এরিস্টটল
রুপে মনে করা হয়।
কিন্তু বাকি যাহারা
চেষ্টা করিয়াও কিছু
উল্লেখযোগ্য কারণ
বশত চান্স পায়
না,তাদেরকে আমড়া
কাঠের ঢেকি
অপেক্ষাও অবমূল্যায়ন
করা হয়। ইহা কি আদৌ
সমীচীন? আল্লাহ
তা'লা এ অবিচার
কীরুপে সহ্য
করিতেছেন?
সমগ্র ভার্সিটি
ছাড়িয়া এবার শুধু
ঢাকা ভার্সিটির
আলোচনা করিলেই
যথেষ্ট হইবে। ঢাবির
জয়গানের শেষ নাই,-
তবু তাহার বিরুদ্ধে
কথা উঠে কেন? ইহার
উত্তর কিউত বাচ্চা
মানে আমি দিয়েছি,
"ভার্সিটি
তার,ডিভাইস আছে
যার।" তাইতো, অভাগা
ডিভাইসহীন
পরীক্ষার্থী কারা? সে
কেবল বাপ মায়ের টাকা
খরচ করিয়া
"ভার্সিটি ভার্সিটি
তে ঘুরিয়া
বেড়াইবে,বাঁশ খাবে
আর চান্স না পাইয়া
মাইনষের কথা হজম
করিবে। তাহা হইলে
দুর্নীতি মুক্ত, একদম
সাচ্চা ভাবে পরীক্ষা
হয়,কড়া ভাবে
নিয়ন্ত্রিত হয়,
"তীক্ষ্ণ প্রশাসন,
মেধাবীর দর্শন।"
এটার অর্থ কি? ইহা
কি শুধুই
পরীক্ষার্থীর
কল্পনা? না, কল্পনা
নহে,সত্য কথা। ওসব
পুর্বে ছিল,এখন নাই।
আরে! এখন যে আমরা
প্রযুক্তির ছোঁয়া
পাইয়াছি! শিক্ষা কি
করিবে, প্রযুক্তিই
শুধু দুর্নীতির উৎস
হিসাবে ব্যবহৃত
হইয়াছে,তা প্রশ্নের
কি দোষ?
আমি উপর্যুক্ত
উত্তরে সন্তুষ্ট
হইতে পারিনা,কারণ -
ডিভাইস ব্যবহারের
ঘটনা কেবল একটি
ঘটনা, শুধু কি এটাই
ঘটিয়াছিল??
আরেকটা জিনিস
দেখাইতেছি, ঢাবির ডি
ইউনিট প্রশ্ন
কেলেংকারীর কথা
সর্বজনবিদিত। আরো
আছে-
রাজশাহী
ইউনিভার্সিটি তে
একজন ধরা পড়িয়াছে
ভাইভার সময় সন্দেহ
জনক ভাবে।আরো
অহরহ তো অগোচরেই
রহিয়াছে।তাহা হইলে
ইহা অভাগা
পরীক্ষার্থীরা কীরুপে
মানিয়া লইবে??
"সেদিন BSMRSTU তে
১৩ জন আটক হইল।
আগে সবাই নিজ
যোগ্যতায় পরীক্ষা
দিত, আর এখন
প্রশ্ন,ডিভাইস,মামা-
চাচার কেরামতিতে।হা
অদৃষ্ট! যখন ১৩ জন
কে ধরা গিয়াছে, তাহা
হইলে আরো কয়েক
জন এভাবেই উত্তীর্ণ
হইয়া গিয়াছে।এমন
একটা সময় ছিল
প্রকৃত ভালো স্টুডেন্ট
ব্যতীত অন্য কোন
স্টুডেন্ট ই ভর্তি
যোগ্যতা অর্জন
করিতে পারিত না।
তাহারা
যোগ্যতা,সম্মানের
সহিত চান্স পাইত।
ইহাদের মধ্যে এমন
আছে যাহারা
যত্রতত্র নতুন বই
থাকতেও পুরাতন ও
ছেঁড়া বই দিয়াই
চালাইয়া দিয়াছে।
দুর্নীতির সংগে সংগে
প্রযুক্তির
অপব্যবহার নামক
আরেকটা ভুত সবার
ঘাড়ে চাপিয়া
বসিয়াছে।কাহারো
নিকট দুইটা টাকা
বেশি হইলেই প্রশ্ন
কিনিয়া থাকে।তখন
সাধারণ শিক্ষার্থী
বাঁশ খায়। এমনি করিয়া
সমস্ত ভার্সিটি তেই
২নাম্বারি হইতেছে।
"টাকা দিয়া প্রশ্ন
কিনিয়া নিলে
পরিবর্তে
অন্যশিক্ষার্থীর
ভাগ্য জলে দিলে।
অতঃপর আমরা
গাধা,গর্দভ,পড়িন
া তাই চান্স হয় না!
তাহারা
মগজধারী,অধ্যাবস
ায়ী, জোস
স্টুডেন্ট,দেশের
সম্পদ।