14/04/2024
রেজাল্ট দেখে নয়, মন বুঝে বন্ধুত্ব কোরো। দিনশেষে, ওসব রেজাল্ট-ফেজাল্ট কিচ্ছু থাকে না, কেবল মনটাই থাকে। আরও সহজ করে বলি। এমন কারও সাথেই বন্ধুত্ব কোরো, যার মনটা তোমাকে সহ্য করতে রাজি। সে ফেইল করুক, পাশ করুক, টপার হোক, গাধা হোক, তাতে তোমার কী এসে যায়? মানুষকে নিজের ব্রেইন ধুয়েই জল খেতে হয়; পরের ব্রেইন ধুয়ে জল খাওয়ার কোনো সুযোগ তো নেই, তাই না? তাহলে সে টপার, না হার্ভার্ডফেরত, ওসব দিয়ে তোমার কী এসে যায়? যার সাথে মেশার সময় আত্মসম্মানবোধ বিকোতে হয় কিংবা লো ফিল হয়, তার সাথে তোমাকে মিশতেই হবে কেন? যোগাযোগ বাড়াবে যত, যন্ত্রণা বাড়বে ততোধিক। মানুষ চাইলে মানুষ ছাড়ো।
একটা ছোট্ট তথ্য দিই। (মনে হয়, অপ্রাসঙ্গিক হবে না।) আমার প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ ভয়াবহ রকমের ইন্ট্রোভার্ট মানুষ ছিলেন। কখনোই তেমন কারও সাথে মিশতেন না। তাঁর উল্লেখযোগ্য কোনো কবিবন্ধু ছিল বলেও আমাদের জানা নেই। কখনও নিজে থেকে কোনো সাহিত্যসভায় যেতেন না। (নেহায়েত বাধ্য হয়ে গেলেও ঠিকভাবে কথা বলতে পারতেন না বা চাইতেন না, নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন।) সব ধরনের সাহিত্যআড্ডা সচেতনভাবেই এড়িয়ে চলতেন। তবুও তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বড়ো হবার রাস্তা একবার চিনে ফেললে সেই রাস্তার পথিকদের সাথে না মিশেও সেই রাস্তার পথিক হওয়া যায়। (ওটাই বরং শ্রেয়, কেননা লোকের সাথে বেশি ওঠাবসা করলে অহেতুকই সময় নষ্ট হয়।)
পার্থিব কোনো হিসেবের ফলে সৃষ্ট বন্ধুত্ব সবসময় কষ্টই বেশি দেয়। যার সামনে ইচ্ছেমতো আনসেন্সরড কথাবার্তা বলা যায় না কিংবা প্রাণ খুলে কাঁদা যায় না, তার সাথে বন্ধুত্ব হয় নাকি?