02/06/2021
প্রাক্তন তুমি মাধ্যমিক
লেখা: পি,এম জাহিদ হাসান
স্কুলের নামঃ এম,পি,বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়
স্থানঃ শ্যামবাজার,মহেশপুর,ঝিনাইদহ।
সবে দুরন্ত শৈশবের প্রাথমিক অঙ্গন ছেড়ে যে শিশুটি হাটি হাটি পা পা করে হাজারো রঙিন স্বপ্ন বুকে নিয়ে মাধ্যমিক অঙ্গনে একবার পদার্পণ করে আর কৈশোরটা কাটিয়ে দেয় সেই স্থলেই। কোনোমতে ৫ টি বছরের সমাধি টেনে যখন সে মেট্রিক পাশ স্টুডেন্ট হয় ঠিক তখন আর যাই হোক তার স্মৃতিপটে এমন কিছু গল্প জমাট বাঁধে যা দিয়ে ছোটখাটো গল্প,কবিতা বা অনুকাব্য লেখা নয় বরং বিশাল একটা মহাকাব্য লেখা যায়।
কিন্তু..............!
কিন্তু সকলে হয়তো তার জংধরা মেমোরি থেকে সেই স্মৃতিগুলো কলমে প্রকাশ করতে পারেনা।হয়তো যৌবনের তাড়নায় বিভোর হয়ে নয়তো জাগতিক ব্যস্ততায়।তবে কখনো যদি আপনার সময় হয় এমন একজন মানুষের মাধ্যমিক শিক্ষা জীবনের গল্প শোনার তবে খুব মনোযোগ দিয়ে তার গল্পটি শুনুন।দেখবেন তার স্মৃতি হতে আপনিই লিখে ফেলেছেন শত শত গল্প, উপন্যাস।
যাইহোক, মাধ্যমিক শিক্ষা নেবার সময়টা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের ফেলে আসা স্বর্ণযুগ।সেই সময়, সেই স্থান,সেই বন্ধুবান্ধব, সেই শিক্ষকদের নিয়ে যদি লিখতে যাই আমি হয়তো এই মেধাশূন্য মগজে শব্দের অভাবে কথাগুলোতে পরিপূর্ণতা দিতে পারবেনা। তবে কয়েকটা রাত পেরিয়ে যাবে, গোছানো খাতার পাতা কিংবা জমানো কলমের কালি ফুরিয়ে যাবে তবু আমার লেখা হয়তো শুরুই উঠবেনা।তাই সেই সময় নিয়ে বিশদ বিবরণ না দিয়ে খুব সংক্ষেপে বলতে চাই ----আমি আজও ওই প্রতিষ্ঠানের মায়ায় এতোটাই জড়িয়ে যে হৃদয় গহীনে সেই অভিব্যক্তি প্রকাশের ভাষা নেই।শুধু অমলিন হয়ে আছে স্মৃতিগুলো।
ওই যে দূরন্ত চোখে দেখতাম ৫ম শ্রেণী পেরিয়ে একদিন হাইস্কুলে যাব তখন আমি অনেক বড় কেউ হব।আবার ২ টা বছর না কাটতেই স্কুলের বড় ভাই হবার একটা সাধ বুকে জমাট বাধতে থাকলো।নানান খুনসুটি, লেখাপড়া, খেলাধুলা নিয়ে সময়টা যখন ঠেলে দিল দশম শ্রেণীর বড় ভাই হবার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেবার, ঠিক তখনি ঘনিয়ে এলো ছেড়ে আসার সময়।
আহ্ মধুময় তিক্ততা......!!!
আজ স্কুলের বড় ভাই,শিক্ষকদের আস্থাভাজন স্নেহের ছাত্র হয়েছি। কিন্তু আমার গন্তব্য এখানেই সীমাবদ্ধ নয়।আমাকে এখনো বহুদূর পথ পারি দিতে হবে।তাই এক নিয়মতান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ছেড়ে আসতে হলো মহাকাব্য লেখার হাতেখড়ি সহ সাহিত্যের কাব্যরস, রুপ,কাব্যের যাবতীয় উপাদান নিয়ে ওই প্রিয় স্কুল প্রাঙ্গণ। তবু বারে বারে মনে হয়েছিল
রিক্তহস্তে যাচ্ছি ফিরে
রথী মহারথীদের ছেড়ে
বুক ফেটে এসেছিল আর্তনাদ
আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছিল বিষাদ।
তবু নিজেকে শক্ত করে গতানুগতিক ধারায় সেদিন বলে আসতে হয়েছিল -
এ বিদায় সে বিদায় নয়..............
আজকের নবীন হয়ে আগামী দিনে জাতির রক্ষণের লক্ষ্যে নিয়ে সেদিন চলে এসেছিলাম।তবে এখনো স্মৃতিপটে সেই তুমি এমনভাবে লেগে আছ যেনো কোনো মায়াবিনীর চোখে কাজল লেগে আছে।আর সেই রুপে মুগ্ধ হয়ে কবি নজরুল বলেছিলেন -নারী কুহেলিকা, নারী নায়িকা...!!
আর কবির সে সুর ধরেই যেনো বলতে ইচ্ছে করে --
তোমারি আঁচলে বাধিয়া দিয়াছিলে যত সুখ
ভুলিনাই একবিন্দু তার ফিরাইনি আজও মুখ
তোমাতেই মোর মগজ হয়েছিল উৎকর্ষ উর্বর
তোমাতেই যত ভালোবাসা ছিল
আছে সাফল্যের ভিত্তি প্রস্তর।
খুব বেশি মিস করি মাধ্যমিক জীবনের সেই স্মৃতগুলো।কিন্তু লিখতে পারিনি সেই স্মৃতি হতে একটি শব্দও।শুধু মনের অভিলাষটা কোনোমতে প্রকাশ করার চেষ্টা করলাম।