16/12/2023
Rashid Al Mamun Babu
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Rashid Al Mamun Babu, Tutor/Teacher, Murtir mor, Chaugachha, Jessore.
16/12/2023
18/06/2023
জিওলগাড়ি, বেলেমাঠ, চৌগাছা
আঙুরের বাগান পরিদর্শন
14/04/2023
টাকা
মোহীত উল আলম
খুকুকে কালকে টেলিফোন করল হারুণ। হারুণ হলো কাজীর দেউড়ির কাঁচা বাজারের একজন মুরগি বিক্রেতা। ওকে আমরা ওর ছোটবেলা থেকে চিনি। ছোটবেলা থেকে খুব কষ্ট করে ওর এই ব্যবসাটা দাঁড় করিয়েছে। ওর থেকেই আমরা মাসিক হিসাবে মুরগি কিনে রাখি। তো খুকু অবাক হয়ে বলল, গত সপ্তাহে না তোমার থেকে মুরগি নিলাম। হারুণ অকপটে বলল, তাতো নিয়েছেন, মামী, ভাবলাম আগামীকাল থেকে রোজা শুরু, মুরগি আরও লাগবে কিনা। খুকু বলল, আমরা মোয়াফ নাকি যে এত মুরগি খাব। মোয়াফ হলো চট্টগ্রামের ভাষায় মুরগি খেকো শিয়াল এবং বনবিড়ালকে বোঝায়।
খুকু আমাকে সংলাপটা রিপোর্ট করার পর আমি বললাম, রোজা ঢুকছেতো তাই মলকন্ডো কালচারটার শুরু হয়েছে। “মলকন্ডো কালচার” বা Mallcondo Culture ফ্রেইজটা আমি নতুন শিখেছি ইংরেজিতে অধ্যাপক জেইমস বি টুইচেলের “Two Cheers for Materialism”-এর ওপর একটি রম্যরচনা পড়তে গিয়ে। আমাদের দেশে আজকে (২৪/৩/২৩) থেকে রোজা শুরু হয়েছে। তার অর্থ ঈদের জন্য কেনাকাটার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত (সাধ্যানুযায়ী), এবং নিম্নবিত্ত (আরও সাধ্যানুযায়ী) কেনাকাটা শুরু করবে, যাবে বড়-মাঝারি-ছোট মলে, ফলে মল-সংস্কৃতি গতি পাবে, আর সাথে লম্বা হবে বাজারের ফর্দ।
১৯৯৯ সালে রচিত এই রচনায় টুইচেল বলছেন যে মানুষ খরচ করতে ভালোবাসে। আমাদের প্রবচনে আছে ঋণ করে ঘি খাওয়া জায়েজ। টুইচেল আমেরিকার একটি হিসাব দিচ্ছেন যে সেখানে সব ধরনের ঋণের কিস্তির পরিশোধের হার ৯৫.৫%, অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৯৫জন তাদের ঋণের টাকা পরিশোধ করে থাকেন। আমাদের দেশের হিসাবটা এই মুহূর্তে আমার জানা নেই, কিন্তু পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে প্রায় জানতে পারি যে ঋণ অনাদায়ে অমুক শিল্প প্রতিষ্ঠান বা অমুক ব্যক্তি দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে হয় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, নচেৎ গারদখানায় আছেন। সম্ভবত ঋণের টাকা পরিশোধের হিসাব আমাদের দেশে খুব সুবিধার নয়। একজন ব্যাংকার বন্ধু আমাকে একবার বলেছিলেন যে অমুক শিল্পপতি আগে আমার ব্যাংকে এসে হত্যা দিয়ে পড়ে থাকত ঋণ অনুমোদনের জন্য, আর এখন উনার বাসায় আমাকে প্রতি সকালে যেতে হয় গৃহীত ঋণের টাকার কিস্তি যাতে ঠিক সময়ে পরিশোধ করেন তার তদ্বির করতে।
টুইচেল সাহেব ব্যঙ্গ করে বলছেন, টাকা সুখ কিনতে পারে না, মানলাম, কিন্তু একটু টাকা বেশি থাকলে একটু সুখ কি বেশি করা যায় না! টুইচেল সাহেবের সঙ্গে আমি একমত। এটা অবশ্য সত্য যে কোন কারণে যদি ব্যক্তিগত জীবনে কেউ প্রেমে বা আকাঙ্খায় বা স্বাস্থ্যে ঠকা খায়, জীবন যখন তার কাছে বিষময় হয়ে ওঠে, মৃত্যুই জীবনের চেয়ে অধিকতর কাম্য মনে হয়, সে লোকের কাছে টাকা অর্থহীন, কিন্তু ব্যক্তি বাদে পারিবারিক এবং সামাজিক অর্থে টাকা অর্থহীন নয়। টাকা উপোযোগ ভোগ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। সে জন্য টাকা আসুক, সেটা সবাই চায়।
এই দৃষ্টিকোণ থেকেই হারুণের খুকুকে ফোন করা। এবং এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমার মধ্যে এই চিন্তা ঢুকল যে হারুণ যখন বলছেই, তাহলে মুরগির বাইরে একটা টার্কি এবং দুটো হাঁসের বায়না দিই না কেন?
তা হলে এবার ড্রামাটা খেয়াল করুন। রোজার মাস হচ্ছে সংযমের মাস। সৃষ্টিকর্তাকে অবিরামভাবে স্মরণ করার মাস, কিন্তু এই রোজার মাসেই হারুণের ভূমিকাকে যদি একটি প্রেক্ষাপটে ফেলি, তাহলে তার ভূমিকা হচ্ছে এ্যাজেন্ট প্রভোকেট্যুর বা উস্কানিদাতা, অর্থাৎ সে তার ব্যবসার আয় বৃদ্ধির জন্য তার মুরগির গ্রাহকদের প্ররোচিত করার চেষ্টা করছে তাদের প্রয়োজন না থাকলেও যেন প্রয়োজনের বাইরে মুরগি সংগ্রহ করে রাখে। অর্থাৎ ধর্মীয় একটি আবহের মধ্যে কেমন করে একটি পার্থিব জগতের বিষয় ঢুকে গেল। আর শেক্সপিয়ারেরি রাজা লিয়ারতো বলেছেনই “প্রয়োজন নিয়ে তর্ক করো না।” আসলেইতো প্রয়োজন একটি আপেক্ষিক ব্যাপার।
হারুণের মতো অসংখ্য হারুণ সমাজের সব জায়গায় আছে। গত শুক্রবারে (১৭/৩/২৩) আমি কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি মসজিদে ঢুকি জুমার জামায়াত আদায় করার জন্য। মসজিদটিতে পর্যটকের কারণে অসম্ভব ভিড়। কিন্তু ঈমাম সাহেব মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার দ্বিতল বা ত্রিতল করার জন্য বারবার মাইকের মধ্যে নামাজ শুরুর আগে প্রচার করতে লাগলেন যে ৩০০ বস্তা সিমেন্ট লাগবে, প্রতি বস্তার দাম ৫৫০০ (সাড়ে পাঁচ হাজার) টাকা, কে দেবেন, কে দেবেন, কারা দেবেন,কারা দেবেন বলে এমন জজবা করতে লাগলেন যে আমার মনে হচ্ছিলো মসজিদে আসিনি, যেন একটি নিলামের ডাকে এসেছি। আবার বললেন, জনৈক ইঞ্জিনিয়ার সাহেব ১০০ বস্তা কমিট করেছেন, এর পরক্ষণেই বললেন, জনৈক ব্যবসায়ী বাকি ২০০ বস্তা কমিট করেছেন। এরপরের ড্রামার জন্য আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। তিনি কাকে যেন জিজ্ঞেস করলেন, যেটা মাইকে শোনা যাচ্ছিলো, হ্যাঁ, আরও ৩০০ বস্তা লাগবে, মোট ৬০০ বস্তা? তা হলে, মুসল্লী ভাইয়েরা আরও ৩০০ বস্তার টাকা তুলতে হবে।
যদিও এটাই বাস্তব, মানুষ চিরদিনই ধর্মীয় অনুভূতিকে কব্জা করেছে বৈষয়িক লাভ সাধনের জন্য, কিন্তু সেদিন নামাজ ও জামাত আদায় করতে সত্যি আমার মন প্রচুর খারাপ হয়ে গেছিল।
তাহলে সে পুরোনো কথাটাই বলি, মানুষ মুখে আদর্শ বা ধর্মের কথা বলে, কিন্তু কাজ করে বৈষয়িক জীবনের আজ্ঞা মেনে।
গত পরশু (২২/৩/২৩) আমাদের কলাভবনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একজন মাঠকর্মী এলেন রোজার প্রাক্কালে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গে শিক্ষকদের মতামত নিতে। আমার একজন মহিলা সহকর্মীকে বলতে শুনলাম ছোলা, ডাল, তেল, মরিচ ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম গত বছরের রোজার প্রাক্কালে যা ছিল তার চেয়ে ৩৮% পারসেন্ট বেড়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হার বুঝতে বাজারের ব্যাগের সাইজই যথেষ্ট। আগে যে টাকা দিয়ে যে পরিমাণ বাজারের থলে বাসায় ঢুকত, এখন সে পরিমাণ টাকা দিয়ে ঢুকছে আরও অনেক কম থলে।
তা হলে দেখা যায় রোজার মাসে ঈদ উপলক্ষে পরিবার পরিবারে একটা অতিরিক্ত অর্থের চাপের সৃষ্টি হয়। সীমিত আয়ের ভোক্তাদের হয় হাঁসফাঁস অবস্থা, আর নিম্নবিত্তদের কথা ভাবতে সত্যি ভয়ই লাগে।
ধনী আর গরিবের মধ্যে বিভাজনটা সবচেয়ে স্পষ্ট হয় এই রোজার মাসেই। একদিকে মলকন্ডো কালচারের স্ফীতি অন্যদিকে ভিক্ষুকের বাড়ানো হাত—অর্থাৎ, সমাজের চিত্রটি সেই দ্বিভাঁজকৃত চিত্র যেখান থেকে পরিত্রাণ পাবার আশু কোন পথ দেখছি না।
টাকা উপার্জন করার পথ যেমন দুটি—হালাল পথে, এবং হারাম পথে, টাকা ব্যয়েরও পথ দুটি—ভালো কাজে এবং খারাপ কাজে। “যাকাত”-এর যে সামাজিক ব্যবহার আছে, এটি হলো ভালো কাজে টাকা ব্যয় করার একটি পন্থা, আর যাকাৎ ছাড়াও রোজার মাসে চাকুরিজীবীরা বোনাস-টোনাস পেয়ে একটু সচ্ছ্বলতার মুখ দেখলে তার থেকে গরিব আত্মীয়-স্বজন, গরিব দু:খি মানুষকে দান করতেই পারে। কী জানি কী রহস্য কাজ করে, কিন্তু দেখা যায় যৌক্তিকতার মধ্যে দান-খয়রাত করলে মানুষ গরিব হয় না।
টাকা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত দর্শন হলো, টাকা উপার্জন কখনো জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না। আমি প্রায় বলি, ডৌন্ট চেইজ মানি, লেট মানি চেইজ ইউ। আসলে মানুষের যেটি সম্বল সেটি হলো তার উদ্যমী ও কল্পনাশক্তি। অবশ্য অবস্থাগত কারণে যথেষ্ট উদ্যম থাকলেও পারিপার্শ্বিক প্রতিকূল অবস্থার কারণে বহু মানুষ তাদের উদ্যমী শক্তি হারিয়ে ফেলে। আবার সকলরকম প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও ব্যক্তিমানুষ তার উদ্যমীশক্তি ও কল্পনাশক্তি দিয়ে সমাজে মানবকল্যাণে অবদান রাখতে পারে তারও নজীর কম নেই, বিদেশেতো বটেই, আমাদের এখানেও। আবার প্রচুর উদ্যমী ও কল্পনাশক্তিসম্পন্ন মানুষের নামে শয়তানও কম সৃষ্টি হয় না। কথাটা হলো, টাকার সঙ্গে যে অর্ন্তগতভাবে নৈতিকতার সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই এটাই তার প্রমাণ যে সমাজে টাকাওয়ালা ভালো মানুষও আছে, আবার টাকাওয়ালা খারাপ মানুষও আছে।
কার্ল মার্কস তাঁর কম্যুনিস্ট ম্যানিফেস্টো-র এক জায়গায় লিখছেন যে সামন্তবাদী অর্থনীতি থেকে পশ্চিমা বিশ্ব যখন পুঁজিবাদী অর্থনীতির দিকে প্রবেশ করল তখন একটি বিরাট ধ্বস নামল মানবিক মূল্যবোধে—সেটি হলো মানুষে মানুষে আগে যে সম্পর্ক ছিল, ওপর থেকে নীচে, ওপরকে মান্য করা আর নীচেকে আশ্রয় দেয়া, অর্থাৎ হৃদয়বৃত্তিক যে সম্পর্ক ছিল সেখানে জায়গা নিল সম্পর্ককে টাকা দিয়ে তুল্যমূল্য করা। ফলে ইংরেজ দার্শনিক টমাস হবসের ধারণানুযায়ী মানুষ মানুষকে সংহারে নামল। মাৎস্যান্যায় তৈরি হলো।
একটি রাজনৈতিক সমাজে কিন্তু টাকার সর্ববিধ ব্যবহার নিশ্চিত হয় রাষ্ট্রীয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত অর্থনৈতিক নীতিগুলো দ্বারা।
বড় বড় অর্থনীতিবিদেরা এই নিশ্চয়তা দিতে চাইছেন যে বাংলাদেশে টাকা সংক্রান্ত বর্তমানে বা নিকট ভবিষ্যতে সংকট দেখা দেবে না। আমরা এটা নিয়ে আশাবাদী থাকতে চাই।
তবে আপাতত মলকন্ডো সংস্কৃতি কী আগ্রাসী রূপ লাভ করে সেটি দেখতে আগ্রহ হচ্ছে।
আর একটা অনুরোধ রইল, আপনারা রোজা এবং ঈদের জন্য মুরগি কাজীর দেউড়ির কাঁচা বাজারের হারুণ থেকে কিনতে পারেন। সুলভ মূল্যে ভালো মুরগি দেয় সে।
=শেষ=
২৪/৩/২৩
I have reached 5.5K followers! Thank you for your continued support. I could not have done it without each of you. 🙏🤗🎉
এমন বাড়িতে কে থাকতে চান?
চীন বাংলাদেশকে ঋন দিচ্ছে ইউয়ানে। বাংলাদেশের রিজার্ভে ইউয়ানের অংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডলারে আস্থা হারানো গ্রিনব্যাক কে বৈশ্বিক শক্তিশালী রিজার্ভ কারেন্সি হিসাবে আরো দুর্বল করবে বলেছিলাম রুশ -ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে। আমেরিকার সবথেকে বড় ভুল যদি কিছু হয়ে থাকে সেটি হল রিজার্ভ কারেন্সি হিসাবে ডলারকে বিতর্কিত করা। নিরপেক্ষ সুইফট নেটিওয়ার্ক কে অবরোধের অস্ত্র হিসাবে ব্যাবহার করা। যেহেতু এখন বৈশ্বিক লেনদেনের অন্যতম বৃহৎ দেশ চীন, স্বাভাবিকভাবেই ডলারের দুর্বলতা চীনের প্রতি ঝুকতে সাহায্য করবে অনেক দেশকে।
বাংলাদেশের রিজার্ভ কারেন্সি হিসাবে ডলার কমছে। বিজনেস স্টান্ডার্ড এর প্রকাশিত সুত্র মতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইউয়ানের পরিমাণ ২০১৭ সালের ১% এর তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৩২%।
মার্কিন ডলারের পরিমাণ ৮১% থেকে কমে ৭৫% এ এসে ঠেকেছে। রিজার্ভে ডলারের অংশ কমেছে একি সাথে বেড়েছে অন্যান্য মুদ্রার পরিমাণ।
ইউরো মুদ্রার মজুদ ২০১৭ সালের ৩.৮৪% থেকে বেড়ে চলতি বছরের আগস্টে ৫% দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ব্রিটিশ পাউন্ডের অংশ ৩.৪৩% থেকে বেড়ে হয়েছে ৪.৪%।
মোটকথা ডলারের অংশ কমেছে এবং প্রায় সব বিকল্প মুদ্রার অংশ বেড়েছে। ইউয়ান রিজার্ভ এখন প্রায় ৫২৮ মিলিয়ন ডলার সমপরিমান। চীনা ঋনের অধিকাংশ এখন ইউয়ানে। ছাড় ও হচ্ছে ইউয়ানে। ছাড়ের পরিমান বেড়েছে ৭ গুন। ভবিষ্যতে চাইনিজ ফান্ডিং এর অধিকাংশ ইউয়ানে হবে। এতে ডলারের প্রভাব কমবে।
যারা চাইনিজ এম্বাসেডর এর বক্তব্য গুলি ফলো করেন তারা সহজেই বুঝবেন চীন বাংলাদেশকে ইউয়ানে ট্রেডে উৎসাহিত করছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রিজার্ভ কারেন্সি হিসাবে বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই ডলারের অংশ কমেছে। আমেরিকার মিত্র ইজরাইল পর্যন্ত ইউয়ানে রিজার্ভ রাখছে।
চীন ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে মূল্য নির্ধারণ এবং লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উভয় দেশের স্থানীয় মুদ্রা, রেনমিনবি এবং টাকা বিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অফ চায়নার মধ্যে উভয় মুদ্রা বিনিময় সংক্রান্ত চুক্তি প্রস্তাব করেছে চীন।মুদ্রা বিনিময়ের এই চুক্তি বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে। সেইসঙ্গে কমাবে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন খরচও।
সারা বিশ্বে রিজার্ভ কারেন্সি হিসাবে ডলারের অংশ ইতোমধ্যে ৬৯% থেকে কমে ৬৩% এ নেমে এসেছে।
এই সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে অনেকেই বলেছিলেন সম্ভব নয়। তর্কে যাইনি। তবে মূল বিষয় হল, ডলার রিজার্ভ কারেন্সি হবার কারন ওই সময় অর্থনীতিতে আমেরিকার সমকক্ষ এবং আমেরিকার শত্রুভাবাপন্ন কোন দেশ ছিলনা। বর্তমান পরিস্থিতি ভীন্ন। ডলারের উপর আস্থা কমলে এখন বিকল্প উৎস আছে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটা দেশের কাচামালের উৎস চীন। অধিকাংশ দেশের বৃহৎ ট্রেড পার্টনার ও চীন। এমনকি আমেরিকাও বিভিন্ন ভাবে চীনের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। এখন চাইলেও ডলারকে ঢাল হিসাবে মাঠে নেমে টিকে থাকা সম্ভব হবে না।
যেহেতু চীনের সাথে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, সেক্ষেত্রে ইউয়ানের উপর নির্ভর করাও কিছুটা ডিপেন্ডেন্সি সৃষ্টি করবে। যদি ইউয়ানে ঋন ছাড় কম হয় সেক্ষেত্রে অন্য মুদ্রায় পরিশোধ করা লাগবে। প্রশ্ন হল, আমাদের এখন স্মার্টভাবে রিজার্ভ কারেন্সি হিসাবে পোর্টফলিওর রেশিও নিয়ন্ত্রন করতে হবে।
ইকোনমিক জোন গুলিতে চাইনিজ বিনিয়োগ আরো আনা গেলে চীনের ব্যাবসা যেভাবে ভিয়েতনামে হচ্ছে সেভাবে বাংলাদেশেও করা সম্ভব। চীন ইতোমধ্যে ৯৯% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এই সুযোগটাই চাইনিজ ব্যাবসায়ীদের এদেশে বিনিয়োগে টানার জন্য উত্তম হাতিয়ার হতে পারে। চীনের উৎপাদন খরচ বেশি হবার কারনে চীন যেসব পণ্য আমদানি করে সেসব পণ্যের উৎপাদন কারখানা এদেশে করা যেতে পারে। এতে ইউয়ানের যোগান বৃদ্ধি পাবে।
এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।
Wasi Mahin Only to let all the write-ups with hash tag survive in turbulent online platform. I have a
ধর্ম নিয়ে স্পর্শকাতর লেখা। কাউকে আঘাত করা উদ্দেশ্য নয়।
জেমস ওয়েবে তোলা প্রথম ছবিটা যখন প্রকাশিত হল তখন বিভিন্ন নিউজ মিডিয়ার কমেন্ট সেকশন চেক করছিলাম। একজনের মন্তব্য ছিল এমন যে, "এই সব নিউজ দেখলে ঈমান দুর্বল হয়ে যায়" কাফের মোশরেকদের ষড়যন্ত্র এসব।
সময়টা খুব সম্ভবত ২০০৫ অথবা ০৬, প্রথম বার ঢাকা এসেছি। ঢাকা বললে ভুল হবে। টঙ্গীর এজতেমায় অংশগ্রহন ছিল উদ্দেশ্য। সেসময় তাবলিক জামাতের সাথে থেকে কোন এক ভাই এর কাছ থেকে খুব সুন্দর একটি উপমা শিখেছিলাম। বিষয়টা ছিল ঈমান আর একিন এর মধ্যে পার্থক্য।
উদাহরন ছিল ঠিক এরকম, ধরুন তালহা (কাল্পনিক) নামের কোন এক ব্যাক্তির ধনুকের নিশানা মার্ক্সম্যান পর্যায়ের। তার লক্ষভেদী ক্ষমতা নিয়ে কারো সন্দেহ নেই। অর্থাৎ সবাই এটা বিশ্বাস করে। কিন্তু যদি বলা হয় আপনার মাথার উপর আপেল নিয়ে ২০ ফিট দূরে দাড়াবেন। তালহা তার ধনুক নিয়ে আপনার আপেল নিশানা করে ধনুক ছুড়বে। যদি নির্দিধায় কেউ মাথায় আপেল রেখে দাড়াতে পারে এটার নাম একিন। সবার বিশ্বাস আছে তালহার হাতের লক্ষভেদী অসাধারন দক্ষতার উপর। কিন্তু সবাই আপেল মাথায় দাড়াতে পারবেনা। অর্থাৎ সবার বিশ্বাস আছে কিন্তু সবার একিন নেই।
বিশ্বাস খুব ধ্বংসাত্মক বস্তু। একিন আরো বেশি ধ্বংসাত্মক। বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে যে কাউকে ঠকানো যায়, প্রতারিত করা যায়। বিশ্বস যদি একিনের পর্যায়ে যায় তবে সেটি আপেলকে আঘাত না করে আপেল মাথায় দাঁড়ানো মানুষের প্রাণনাশ করতে পারে। আর একারনে বিশ্বাস বা একিন ভুল স্থানে করা উচিত নয়। বিষয়টা ব্যাখ্যা করছি নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে।
নবজাতক শিশুর কপালে কালো টিপ দিতে হয়। এতে বদনজর এড়ানো যায়। এটা বিশ্বাস। স্বামীর নাম মুখে নিলে সংসারে অমঙ্গল হয়। এটা বিশ্বাস। সাপে কাটলে বিন ভাজায়ে ওঝা এনে বিষ নামাতে হয়। এটা বিশ্বাস। ফেসবুকে অনেক পোস্ট দেখেছি যেখানে বলা " আপনি মুসলিম হয়ে থাকলে আমিন না লিখে যাবেন না, শুধুমাত্র কাফেররাই এড়িয়ে যাবে" এটা বিশ্বাস। মা মনসার ছবিটা ১০০ জনকে সেন্ড করলে ১৫ দিনের মধ্যে নিশ্চিত সুসংবাদ পাবেন। যদি এড়িয়ে যান তবে ভয়ঙ্কর বিপদ আসবে। অমুক পাড়ায় একজন অবিশ্বাস করেছিল সে পঙ্গু হয়ে গেছে। এটা বিশ্বাস। কাবা শরীফের ইমাম স্বপ্নে দেখেছেন যে ব্যাক্তি এই দুয়া পড়বে এবং ১০০ জনকে সেন্ড করবে সে ১৫ দিনের মধ্যে সুসংবাদ পাবে। অবহেলা করলে ভয়ঙ্কর বিপদে পড়বে। এটা বিশ্বাস। খাজা মইনুদ্দিন চিশতি (র:) এই পাত্রে সমুদ্রের সব পানি ধরে রেখেছিলেন। এটা বিশ্বাস। সুর্যগ্রহনের সময় গর্ভবতী মহিলাদের কোন কিছু কাটাকাটি করলে সন্তানের কান, নাক, ঠোট কাটা হয়। এটা বিশ্বাস। শিশুর দাঁত পড়ে গেলে সেটা ঈদুরের গর্তে রাখতে হয় তাহলে সুন্দর দাত উঠে। এটাও বিশ্বাস। অমুক আওলিয়ার ছবক না নিলে পুলসেরাত পার হওয়া যাবে না। এটাঅ বিশ্বাস। এরকম অজস্র বিশ্বাস আমাদের আছে। এটা দেশ, জাতি, ধর্ম, সংস্কৃতি, ভৌগলিক অবস্থান ভেদে ভীন্ন ভীন্ন বিশ্বাসে রুপ নিয়েছে।
প্রশ্ন হল ইসলামের মূল ভিত্তি হল বিশ্বাস। এর জন্য ছয়টি পিলারে বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে। আল্লাহর এক ও অদ্বিতীয়, ফেরেশতাদের অস্তিত্ব আছে, যুগে যুগে নবী রাসুলদের আল্লাহ সঠিক পথে চলার জন্য মানুষকে দিক নির্দেশনা দিতে পাঠিয়েছেন, মৃত্যুর পর পরকাল আছে, পবিত্র গ্রন্থ, কেয়ামত ও বিচার দিবস। এই যে গুটি কয়েক বিষয়ের উপর যে বিশ্বাস সেই বিশ্বাস আর উপরে বর্ণিত বিশ্বাস গুলি কি এক? অবশ্যই না। মুসলিম হিসাবে আপনাকে উপরে বর্ণিত কোন কিছুতে বিশ্বাস করতে বলা হয়নি। ইসলামের মূল ভিত্তির যে বিশ্বাস এটাকে বলা যায় বিশেষ বিশ্বাস। যেহেতু বিশ্বাস খুব পবিত্র ও এর ভুল প্রয়োগ বড় ধরনের ঝুকি সৃষ্টি করতে পারে এজন্য অপাত্রে বিশ্বাস করার কোন তাড়না আমি অনুভব করিনা। যখন খুব হযবরল অবস্থা হয় তখন নাল এন্ড ভয়েড সুত্র প্রয়োগ করি যার ভিত্তি থাকে বিশেষ বিশ্বাস। সকল কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করি বিশেষ বিশ্বাস।
অভিজ্ঞতার কথা বলা যাক। আমাকে একজন ইনবক্স করেছেন স্বপ্নে নবীজি এসে বলেছে ".........." এই বার্তা ৫০ জনের কাছে না পৌছালে আমার বাবা, মা, ভাই, বোনের যেকারো মৃত্যু ঘটবে ২ মাসের ভেতর। আর যদি মেসেজটি সেন্ড করি তবে ১৫ দিনের মধ্যে সুসংবাদ পাব।
ধর্ম নিয়ে আমি সচেতন। ধর্মের অধার্মিক ব্যাবহারের ক্ষেত্রেও আমি সচেতন থাকি। নিজের আপন জনের প্রতি দুর্বলতা নেই এমন মানুষ খুব কম। স্বাভাবিকভাবে আমি খুব ভড়কে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষন একান্তে ভেবে আমার বিশেষ বিশ্বাস কে দিয়ে কাউন্টার করলাম। আমাকে ফেসবুকে যিনি মেসেজ পাঠিয়েছেন এটার উপর আমার বিশ্বাস কি জরুরি? উত্তর না। জন্ম, মৃত্যুর মালিক কে? কে নির্ধারন করবে? উত্তর: আল্লাহ। আল্লাহ কি এই মেসেজের কথা মত ২ মাসের ভেতর আমাকে বিপদে ফেলবেন? উত্তর: সম্পুর্ন আল্লাহর মর্জি। এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম, যদি আল্লাহ মৃত্যু লিখে রাখেন তাহলে সেটা আটকানোর ক্ষমতা কারো নেই। এটাই আমার বিশেষ বিশ্বাস। যেহেতু আমার একিন দুর্বল এজন্য ২ মাস আমাকে বেশ অসস্থিতে কাটাতে হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ কিছুই হয়নি।
আমাকে যখন কেউ বলেন অমুকের অলৌকিক ক্ষমতা আছে, অমুক স্বপ্নে অমুক দাওয়া পেয়েছে যেটাতে ক্যান্সার ভাল হয়ে যায়। প্রচুর মানুষ সুস্থ হয়েছে। অমুক আওলিয়া পানির উপর হেটেছেন। এগুলার কোনটায় আমি গুরুত্ব দেইনা। একজন কামেল মানুষের বা ভাল মানুষের মূল্যায়ন আমি করি স্বাভাবিক মানবিক কর্মের মাধ্যমে। যেই ক্ষমতা লৌকিক নয় সেটা দিয়ে তিনি ভাল কি খারাপ সেই মূল্যায়ন করা উচিতনা বলে মনে করি। গরম কয়লার উপর হেটে যাওয়া কারো কাছে কারামতি কারো কাছে নিছক ম্যাজিক ট্রিক্স।
৯০ এর দশকের কথা বলি। একবার দেখলাম মসজিদের সামনে সাদা কাগজে ফটোকপি মুসল্লিদের বিলি করা হচ্ছে। আমিও এক কপি নিয়েছিলাম। সেখানে একটা অস্পষ্ট ছবি যেখানে একটি লাশকে পেচিয়ে রেখেছে সাপ। কাবা শরীফের ইমাম নাকি স্বপ্নে দেখেছেন। এটা ২০ কপি করে বিলি করলে সুসংবাদ মিলবে। বিশ্বাস এর সাথে ভয় ও লোভ সম্পর্কিত। হতে পারে সেটা কিছু হারানোর ভয়, সাজার ভয়। আবার কোন কিছু পাওয়ার লোভ ও থাকতে পারে। যেহেতু ইসলামের "বিশেষ বিশ্বাস" আর প্রচলিত বিশ্বাস এর পার্থক্য আমার কাছে স্পষ্ট, তাই বিশ্বাসের মত ভয়ঙ্কর বিষয় যেটুকু ধর্মে বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে এর বাইরে স্থাপন করতে রাজি নই। হতে পারে সেটা আওলিয়ার অসাধারন ক্ষমতার বিশ্বাস, পাড়ার ইমাম সাহেবের কথার উপর বিশ্বাস, ওয়াজ মাহফিলের বক্তার উপর বিশ্বাস। এর মানে এই নয় যে ওলি আওলিয়াদের অসম্মান করছি। বরং তাদের নামে প্রচলিত বিভিন্ন গল্পে বিশ্বাস ধর্ম প্রচারকদের মূল উদ্দেশ্যের উপর অপমান।
ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ি, আহমদ ইবনে হাম্বল প্রত্যেকেই তাদের অবদানের জন্য স্মরণীয়। প্রত্যেকের শ্রদ্ধার। ইমাম, বুখারী, সেলযুগ আমলের ইমাম গাজ্জালী প্রত্যেকেই শ্রদ্ধার। এই শ্রদ্ধার স্থানে বিতর্ক করিনা। কিন্তু অকাট্য বিশ্বাস শুধুমাত্র ইসলামের মূল ভিত্তির উপরেই। এমনকি প্রতিটা বিজ্ঞ আলেম ও ইমামদের বক্তব্য একি। যদি কখনো তাদের কোন কথা বা কাজ আল্লাহ রাসুলের বিরুদ্ধে যায় তবে সেটা ছুড়ে ফেলে দিতে তারা নিজেরাই আহবান করেছেন।
যত ধর্মীয় ব্যখ্যা এর অধিকাংশ সেকেন্ড হ্যান্ড। যখন স্পর্শকাতর ইস্যুতে দ্বন্দের সৃষ্টি হয় তখন নিজেকে এক স্টেপ পিছিয়ে নেই। মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা উচিত বলে মনে করি।
এবার কিছু হট টপিকে আমার ভাবনা গুলা বলি। ইসলাম কে আমার কাছে সহজ ও সরল মনে হয়। মধ্যযুগে পোপ আরবান এর সময় এবং তার আগে পিছের আমলে চার্চ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়। এমনো হয়েছে যে স্বর্গে যাবার সার্টিফিকেট ইস্যু করা হত।
ইসলামে স্পষ্টত একজনকে দৈনিক পাঁচ বার সরাসরি আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে হয়। মিডিয়া ছাড়া। এই বোঝাপড়া অনন্য।
মানুষ ধর্মভীরু। আর এই ভয়কে যখন ভীন্ন স্বার্থে ব্যাবহার করা হয় এর পরিনতি হয় ভয়াবহ। ধর্মভীরুতার সুযোগ নিয়ে প্রচুর ব্যাবসা হয়েছে অতিতে, চলছে এবং চলবে। আর এই ব্যাবসা টিকিয়ে রাখতে শুরুতে যেটা করা হয় সেটা হল প্রশ্ন তোলার পথ বন্ধ করে দেয়া। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখবেন যেকোন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা, জানার চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়।
আপনি দর্শন পড়বেন। শুনতে হবে এগুলা হারাম না হালাল আগে সেটা বুঝে নিবেন। ওজুর দোয়া কি জানেন? আগে সেটা মুখস্ত করেন। যেকোন প্রশ্ন করতে গেলেই দেখবেন একটা শ্রেণী অন্ধের মত হামলে পড়বে।
সালমা রুশদির উপর হামলা হয়েছে স্যাটানিক ভার্সেস লেখার জন্য। হামলাকারী স্বীকার করেছে সে স্যাটানিক ভার্সেস কখনো পড়েন নি। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন তাকে হত্যা করতে হবে। আমার ভাবনা অনেকটা এরকম, প্রশ্ন করার বাধা কখনো থাকা উচিত না। এতে সন্দেহ দূর হয়। আলোর কাঁাকাছি আসা যায়। সালমান রুশদির মৃত্যু আল্লাহ লিখে রাখেন নি। তাকে মারা যায়নি। স্যাটানিক ভার্সেস লেখার জন্য হত্যার যে তিব্র চেষ্টা, এর বিপরীতে আল্লাহ তার বরাদ্ধের শ্বাস বন্ধ করেন নি, খাবার বন্ধ করেন নি। তাকে মাটির নিচে মিশিয়ে দেননি। যেই স্রষ্টা এত উদার এত মহান, আমরা তার মর্যাদা রক্ষায় ফেতনা করে নিজেদের বরং অসম্মান করছি। চার্লি হেবদো কার্টুন একেছে রাসুল (স:)। সারাবিশ্বে শুরু হল হামলা, বয়কয় ফ্রান্স। আসলেই কি কার্টুনটা রাসুল (স:) এর? সিরিয়াসলি? আমাদের রিয়েকশন দেখে মনে হয়েছিল কার্টুনটা রাসুল (স:) এর বলে আমাদের ভেতর বিশ্বাস আছে।
যখন আপনি ভায়োলেন্স দিয়ে সমাধান করবেন তখন আপনি বরং ইসলাম ও রাসুল (স:) এর মর্যাদাকে খাটো করবেন। ফেসবুকেও অনেককে বিভিন্ন কমেন্টে দেখি অন্য ধর্মের অন্য মতের লোককে গালি দিতে। বিপরীতে কি আশা করেন? তারা গালি দিবে না? তারা যখন আপনার আচরন দেখে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ রেখে ইসলাম থেকে দূরে সরে যাবে এবং আপনার স্রষ্টা নিয়ে গালি দিবে তখন তার জন্য কি আপনি একটুও দায়ী নন?
আমি এরকম কিছু জানিনা যে রাসুল স: এর আমলে রাসুল স: কে অন্যরা গালি দিতনা। বা অত্যাচার করত না। রাসুল স: কি তাদেরকে কতল করেছেন? তাহলে বার্তা কিভাবে পৌছেছেন তাদের কাছে? উত্তম চরিত্র ও ব্যবহার দিয়ে। ইসলামের প্রচারের জন্য এমন হয়নি যে " এই তুই ইসলাম গ্রহন কর, নইলে গর্দান নিব" এরকম মেন্টালিটি যারা দেখিয়েছে তারা ইসলামের মাধুর্যের যথেষ্ট ক্ষতিই করেছে।
এইবার আসি বিজ্ঞান নিয়ে। প্রশ্ন করার ভয়ে আমরা সমাধান থেকে দূরে। আইবেরিয়ান পেনিনসুলায় গড়ে উঠা আল আন্দালুসিয়ার ইতিহাস নিয়ে আগের লেখায় যথেষ্ট আলোচনা করেছি। জ্ঞানের কোন পাশ্চাত্য বা প্রাচ্য নেই।
ধর্ম আর বিজ্ঞান আলোচনার দিক থেকে আলাদা বিষয়। ধর্মের আলোচনা আদি "Who" এর ব্যাখা দেয়া। বিজ্ঞানের কাজ "How" এর ব্যাখ্যা করা। মহাবিশ্ব যেভাবে সৃষ্টি হয়েছে এর ব্যখ্যা দেয়া বিজ্ঞান। কে কিভাবে এই বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করেছেন সেটার কাজ ধর্মের। আমি কনফ্লিক্ট দেখিনা। নাস্তিক অনেকেই ধর্মের সমালোচনায় "বিশ্বাস" নিয়ে টিটকারি করেন। কিন্তু ইসলামের বিশ্বাসের যেটাকে বিশেষ বিশ্বাস বলছি সেটাকে আকরে ধরলে মনে হয়না কোন ভ্রান্ত বিশ্বাস, ভয়, লোভ স্পর্শ করতে পারে।
পরমতসহিষ্ণুতা বড় গুন। পূজার সময় মন্দির ভাঙচুর করে আপনি আমি বড় ধর্মের কোন কাজ করছিনা। ছোট ছোট বাচ্চাকে ছোট বয়সেই কাল পিপড়া মুসলমান আর লাল পিপড়া হিন্দু এসব ভন্ডামির শিক্ষা দেয়া বন্ধ করা উচিত। কে মুসলিম, কে কাফের, কে নাস্তিক, কে জাহান্নামে যাবে সেটা নিয়ে চিন্তিত না হয়ে ইয়া নাফসি করাটাই আমার কাছে ধর্ম। আত্ম সমালোচনা, উত্তম চরিত্র, মানুষের সাথে ব্যবহার, জবানের মূল্য দেয়া, অসহায়ের পাশে থাকা মসজিদের আলোচনায় প্রাধান্য পাওয়া উচিত। মনে রাখা উচিত, আল্লাহ শুধু মুসলমান সৃষ্টি করেন নি। মানুষ সৃষ্টি করেছেন। হিন্দুকে রক্ত দেয়া যাবে না, হিন্দুর রক্ত নেয়া যাবেনা এরকম মেন্টালিটি আমার বুঝে আমার ধর্মের শিক্ষা না। মুসলিমের যেমন ক্ষুধা লাগে, অন্য ধর্মের মানুষের ও লাগে। সাহায্যের সময় যদি অন্য ধর্মের বিবেচনায় বাদ দেয়া হয় তবে রাসুল স: এর বার্তা আর অন্য কারো কাছে পৌছাতো না।
মার্ক টোয়েনের দুটি উক্তি আমার ভাল লাগে।
"In religion and politics people’s beliefs and convictions are in almost every case gotten at second-hand, and without examination, from authorities who have not themselves examined the questions at issue but have taken them at second-hand from other non-examiners, whose opinions about them were not worth a brass farthing." -Mark Twain
"I am quite sure now that often, very often, in matters concerning religion and politics a man's reasoning powers are not above the monkey's."
-Mark Twain
আসুন প্রশ্ন করা শিখি। এতে আমার ধর্মকে নিয়ে ব্যাবসার সুযোগ কমবে। মানুষ আলোকিত হবে। ধর্মতো ভয় দেখানোর বিষয় নয়। আলোকিত করার বিষয়। কুসংস্কার দূর করার জন্য যে ধর্মের আগমন সেটাতে যেন কুসংস্কার না ঢুকে।
আমার ধারনা যেটা বোঝাতে এই লেখা সেটা অধিকাংশ হয়ত বুঝবেন না। কাউকে আঘাত করলে নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।
This man is brilliant with his magical hands! 😂👏
Just Amazing
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Culinary Team
Attire
Contact the school
Telephone
Website
Address
Jessore
7410