02/03/2025
নতুন চাঁদের রোশনিতে শুরু হলো ইবাদতের বসন্তকাল। পাপের অন্ধকার মুছে পুণ্যের আলোয় জীবন ভরিয়ে তোলার আরো একটি সুযোগ এলো আমাদের মাঝে। আহলান, সাহলান শাহরু রমাদান।
ইসলামের আলোয় জীবনকে আলোকিত করে "এ গ্রে
02/03/2025
নতুন চাঁদের রোশনিতে শুরু হলো ইবাদতের বসন্তকাল। পাপের অন্ধকার মুছে পুণ্যের আলোয় জীবন ভরিয়ে তোলার আরো একটি সুযোগ এলো আমাদের মাঝে। আহলান, সাহলান শাহরু রমাদান।
20/06/2022
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ।
রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।
আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার উপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।
সূরা বাকারা (২৮৫-২৮৬)
বল, আমি কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কেহকেও আমার অভিভাবক রূপে গ্রহণ করব, যিনি হলেন আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা? তিনি রিযক দান করেন, কিন্তু কারও রিযক গ্রহণ করেননা। তুমি বল, আমাকে এই আদেশই করা হয়েছে যে, আমি সকলের আগেই ইসলাম গ্রহণ করে তাঁর সামনে মাথা নত করে দিব। আর তুমি মুশরিকদের মধ্যে শামিল হয়োনা।
তুমি বল, আমি আমার রবের অবাধ্য হলে, আমি মহাবিচারের দিনের শাস্তির ভয় করছি।
সেদিন যার উপর হতে শাস্তি প্রত্যাহার করা হবে তার প্রতি আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহ করবেন, আর এটাই হচ্ছে প্রকাশ্য মহাসাফল্য।
আল্লাহ যদি কারও ক্ষতি সাধন করেন তাহলে তিনি ছাড়া সেই ক্ষতি দূর করার আর কেহ নেই, আর যদি তিনি কারও কল্যাণ করেন, (তাহলে আল্লাহ সেটাও করতে পারেন, কেননা) তিনি সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
তিনিই তাঁর বান্দাদের উপর একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী, তিনিই মহাজ্ঞানী ও সর্ব বিষয়ে ওয়াকিফহাল।
সূরাঃ আল-আন'আম (১৪-১৮)
বল, যারা বিভ্রান্তিতে আছে, দয়াময় তাদেরকে প্রচুর অবকাশ দিবেন যতক্ষণ না তারা, যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে তা প্রত্যক্ষ করবে, তা শাস্তি হোক অথবা কিয়ামাতই হোক; অতঃপর তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট এবং কে দলবলে দুর্বল।
এবং যারা সৎ পথে চলে আল্লাহ তাদেরকে অধিক হিদায়াত দান করেন এবং স্থায়ী সৎ কাজ তোমার রবের পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসাবেও শ্রেষ্ঠ।
সূরাঃ মারইয়াম (৭৫-৭৬)
মুহাম্মদ ইবনু উবায়দুল্লাহ্ (রহঃ) ... আবূ উমামা ইবনু সাহল ইবনু হুনাইফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম যে, লোকদেরকে আমার সামনে হাযির করা হচ্ছে। আর তাদের পরণে রয়েছে জামা। কারো জামা বুক পর্যন্ত আর কারো জামা এর নীচ পর্যন্ত। আর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে আমার সামনে হাযির করা হল এমন অবস্থায় যে, তিনি তাঁর জামা (এত লম্বা যে) টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এর কী তা’বীর করেছেন? তিনি বললেনঃ (এ জামা মানে) দ্বীন।
তোমরা উভয়ে ফেরআউনের কাছে যাও সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে।
অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বল, হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে।
তারা বললঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আশঙ্কা করি যে, সে আমাদের প্রতি জুলুম করবে কিংবা উত্তেজিত হয়ে উঠবে।
আল্লাহ বললেনঃ তোমরা ভয় করো না, আমি তোমাদের সাথে আছি, আমি শুনি ও দেখি।
অতএব তোমরা তার কাছে যাও এবং বলঃ আমরা উভয়েই তোমার পালনকর্তার প্রেরিত রসূল, অতএব আমাদের সাথে বনী ইসরাঈলকে যেতে দাও এবং তাদেরকে নিপীড়ন করো না। আমরা তোমার পালনকর্তার কাছ থেকে নিদর্শন নিয়ে তোমার কাছে আগমন করেছি। এবং যে সৎপথ অনুসরণ করে, তার প্রতি শান্তি।
আমরা ওহী লাভ করেছি যে, যে ব্যক্তি মিথ্যারোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার উপর আযাব পড়বে।
সুরা ত্বহা (৪৩-৪৮)
কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ আহার করা কালে যদি তার লোকমা পড়ে যায় তবে এতে সন্দেহের কিছু (ধুলো-বালী জাতীয়) দেখলে সে যেন পরিস্কার করে নেয় এবং তারপর তা খেয়ে নেয়। আর শয়তানের জন্য সে যেন তা ছেড়ে না দেয়। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩২৭৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৮০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইসমাঈল (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ তালহা (রাঃ) উম্মে সুলায়মকে বললেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দূর্বল কণ্ঠসুর শুনে বুঝতে পারলাম তিনি ক্ষুধার্ত। তোমার নিকট (খাবার) কিছু আছে কি? তখন উম্মে সুলায়ম কয়েকটি যবের রুটি বের করলেন। তারপর তার ওড়না বের করে এর একাংশ দ্বারা রুটিগুলো পেঁচিয়ে আমার কাপড়ের মধ্যে গুজে দিলেন এবং অন্য অংশ আমার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পাঠালেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমি এগুলো নিয়ে গেলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে পেলাম। তার সঙ্গে অনেক লোক। আমি তাদের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আবূ তালহা তোমাকে পাঠিয়েছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ খাবার জন্য? আমি বললাম হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সঙ্গীদের বললেনঃ ওঠ। তারপর তিনি চললেন। আমিও তাদের আগে আগে চলতে লাগলাম। অবশেষে আবূ তালহার কাছে এসে পৌছলাম।
আবূ তালহা বললেনঃ হে উম্মে সুলায়ম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো অনেক লোক নিয়ে এসেছে অথচ আমাদের কাছে এ পরিমাণ খাবার নাই যা তাদের খাওয়াব। উম্মে সুলায়ম বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ তারপর আবূ তালহা গিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তারপর আবূ তালহা ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলায়মাকে ডেকে বললেনঃ তোমার কাছে যা আছে তা নিয়ে আস। উম্মে সুলায়ম ঐ রুটি নিয়ে আসলেন। তিনি নির্দেশ দিলে তা টুকুরা টুকরা করা হলো।
উম্মে সুলায়ম (ঘি বা মধুর) পাত্র নিংড়িয়ে তাকেই ব্যঞ্জন বানালেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাশাআল্লাহ, এতে যা পড়ার পড়লেন। এরপর বললেনঃ দশজনকে আসতে অনুমতি দাও। তাদের আসতে বলা হলে তারা পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করল এবং তারা বেরিয়ে গেলা আবার বললেনঃ দশজনকে অনুমতি দাও। তাদের অনুমতি দেওয়া হলো। তারা আহার করে পরিতৃপ্ত হল এবং চলে গেল। আবার বললেনঃ দশজনকে অনুমতি দাও। তাদের অনুমতি দেওয়া হল। তারা আহার করে পরিতৃপ্ত হলো এবং চলে গেল। এরপর আরো দশজনকে অনুমতি দেওয়া হল। এভাবে সকলেই আহার করল এবং পরিতৃপ্ত হল। তারা মোট আশি জন লোক ছিল।
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... উমর ইবনু আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ছোট ছেলে হিসাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তত্বাবধানে ছিলাম। খাবার বাসনে আমার হাত ছুটাছুটি করতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে বৎস! বিসমিল্লাহ বলে ডান হাতে আহার কর এবং তোমার কাছে থেকে খাও। এরপর থেকে আমি সব সময় এ পদ্ধতিতেই আহার করতাম। যার যার কাছ থেকে আহার করা। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা বিসমিল্লাহ বলবে এবং প্রত্যেকে তার কাছ থেকে আহার করবে।
মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একবার মদিনাবাসী অনাবৃষ্টির দরুন (দুর্ভিক্ষে) পতিত হল। ঐ সময় কোন এক জুম্মার দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবা দিয়েছিলেন, তখন এক ব্যাক্তি উঠে দাঁড়ালো, এবং বলল ইয়া রাসূলাল্লাহ! (অনাবৃষ্টির কারণে) ঘোড়াগুলো নষ্ট হয়ে গেল, বকরীগুলো ধ্বংস হয়ে গেল। আল্লাহর নিকটে বৃষ্টির জন্য দু’আ করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৎক্ষণাৎ দু’হাত উঠিয়ে দু’আ করলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন আকাশ স্ফটিক সদৃশ্য নির্মল ছিল। হঠাৎ মেঘ সৃষ্টিকারী বাতাস বইতে শুরু করল এবং মেঘ ঘনীভূত হয়ে গেল। তারপর শুরু হল প্রবল বারিপাত যেন আকাশ তার দ্বার উন্মুক্ত করে দিল। আমরা (সালাত (নামায/নামাজ) শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে) পানি ভেঙ্গে বাড়ি পৌঁছলাম।
পরবর্তী শুক্রবার পর্যন্ত অনবরত বৃষ্টিপাত হল। ঐ শুক্রবারে জুম্মার সময় ঐ ব্যাক্তি বা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (অতিবৃষ্টির কারণে) গৃহগুলো বিধ্বস্ত হয়ে গেল। বৃষ্টি বন্ধের জন্য আল্লাহর নিকটে দু’আ করুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর কথা শুনে) মুচকি হাঁসলেন এবং বললেন, (হে আল্লাহ!) আমাদের আশে পাশে বৃষ্টি হউক। আমাদের উপর নয়। [আনাস (রাঃ) বলেন] তখন আমি দেখলাম, মদিনার আকাশ থেকে মেঘমালা চতুর্দিক সরে গেছে আর মদিনা (যেন মেঘমুক্ত হয়ে) মুকুটের ন্যায় শোভা পাচ্ছে।