20/07/2026
স্পেনের উপনিবেশ থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র: আর্জেন্টিনার জন্মের ইতিহাস
১৪৯২ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের সমুদ্রযাত্রা ইউরোপীকে ঘর থেকে বাইরে তাকানোর সুযোগ করে দেয় এবং বদলে দিয়েছিল পুরো বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্র। নতুন বিশ্বের বিশাল ভূখণ্ডের দখল নিয়ে শুরু হয় স্পেন ও পর্তুগালের প্রতিযোগিতা। সেই প্রতিযোগিতারই এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বর্তমান আর্জেন্টিনা—যে দেশটি প্রায় তিন শতাব্দী স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল, পরে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
পোপের এক দাগে ভাগ হয়ে গেল “নতুন পৃথিবী”:
কলম্বাস আমেরিকায় পৌঁছানোর পরপরই স্পেন ও পর্তুগালের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে—নতুন আবিষ্কৃত ভূমিগুলোর মালিক কে হবে?
এই বিরোধ মেটাতে ১৪৯৪ সালে স্বাক্ষরিত হয় বিখ্যাত টর্ডেসিয়াস চুক্তি (Treaty of Tordesillas)। পোপের মধ্যস্থতায় আটলান্টিক মহাসাগরে একটি কাল্পনিক রেখা টেনে পৃথিবীর বাইরের নতুন ভূখণ্ড দুটি দেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
এই বিভাজনের ফলে বর্তমান ব্রাজিলের পূর্বাংশ পর্তুগালের ভাগে পড়লেও দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় পুরো বাকি অংশ, যার মধ্যে বর্তমান আর্জেন্টিনাও ছিল, স্পেনের দাবিকৃত অঞ্চলে পরিণত হয়।
তখন অবশ্য এসব ভূমির ওপর ইউরোপীয়দের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সেখানে হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করছিল। তারা মূলত ইউরোপে বসে নতুন আবিষ্কার করা পৃথিবীকে ভাগ করে নিয়েছিল। তারপর দখল নেবার ইতিহাস মানবতার ইতিহাসে সবচে’ লজ্জাজনক ঘটনাগুলোর জন্ম দিয়েছিল।
ওহ, সেই সময় ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা আর এশিয়া ছাড়া বাকি পৃথিবীই ইউরোপের কাছে ‘নতুন পৃথিবী’!
স্প্যানিশদের আগে:
স্প্যানিশরা আসার আগে বর্তমান আর্জেন্টিনা ছিল অসংখ্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। তারা কোনো একক সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল না; বরং ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা গড়ে তুলেছিল। প্রধান জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ছিল— ডিয়াগিতা, গুয়ারানি, মাপুচে, কুয়েরান্দি, তেহুয়েলচে ইত্যাদি।
স্প্যানিশ উপনিবেশ স্থাপনের পর আদিবাসীদের ভাগ্য ছিল অত্যন্ত করুণ। ইউরোপীয়দের বয়ে আনা গুটি বসন্ত, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগে লাখো আদিবাসী মারা যায়। যুদ্ধ ও দমন-পীড়ন, জোরপূর্বক শ্রম ও গনহত্যার মাধ্যমে তারা বিলুপ্তির দিকে চলে যায়।
আজও আর্জেন্টিনায় মাপুচে, কোল্লা, কোম (টোবা), উইচি, গুয়ারানিসহ বহু আদিবাসী সম্প্রদায়ের উত্তরসূরিরা বা