24/05/2026
আমরা কি তাহলে প্রতিশোধ পরায়ন ? ব্যাচারা ৫ বছর মার্শাল আর্ট শিখেছেন শুধু তার বন্ধুকে শাস্তি দেয়ার জন্য । হায় আল্লাহ এ কেমন প্রতিশোধ সে নিল !
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছি । পাশাপাশি বাংলা ভাষার প্রেমে পড়ে গেছি ।
24/05/2026
আমরা কি তাহলে প্রতিশোধ পরায়ন ? ব্যাচারা ৫ বছর মার্শাল আর্ট শিখেছেন শুধু তার বন্ধুকে শাস্তি দেয়ার জন্য । হায় আল্লাহ এ কেমন প্রতিশোধ সে নিল !
23/05/2026
📺চলুন গান শুনি ও ইংরেজি শিখি । আপনি যদি শেখার ক্ষেত্রে কোন রিদমকে কাজে লাগাতে পারেন তাহলে আপনি দ্রুত শিখতে পারবেন । ছবির তথ্য গুলো নিয়ে একটি করে বাক্য তৈরি করুন । পারলে একটি গল্প লিখে ফেলুন । কমেন্টে একটি করে বাক্য লিখে যাওয়ার অনুরোধ রইল ।
20/05/2026
রস আলোতে ছাপা কার্টুন গুলো এখনো অনেক মিস করি ।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একবার কথা গুলো শুনে দেখুন ।
15/05/2026
পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ । তবে এমন পরিস্থিতির শিকার আমরা কেউ হতে চাই না ।
সংবিধান মনে রাখার শর্টকাট টেকনিক। আজ আপনাদের জন্য থাকছে সংবিধান মনে রাখার শর্টকাট টেকনিক । সংবিধান মনে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধান থেকে সব ধরনের পরীক্ষায় প্রায় সবসময়য়ই প্রশ্ন আসতে দেখা যায়।কিছু শর্টকাট টেকনিক ফলো করলে সহজেই আপনি সংবিধান মনে রাখতে পারবেন।চলুন জেনে নেই সংবিধান মনে রাখার শর্টকাট টেকনিক।
☼ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপনার করনীয়ঃ
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
১। প্রথমেই সংবিধান প্রনয়ন সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য মনে রাখুন যেমন-কবে সংবিধান প্রনয়ন কমিটি গঠন করা হয়, কতজন সদস্য ছিলেন, একমাত্র মহিলা সদস্যের নাম, তখনকার আইনমন্ত্রী এবং সংবিধান প্রনয়ন কমিটির সভাপতি, কতটি মীটিং করেছিলেন তারা, কতদিন লেগেছিল সংবিধান প্রনয়ন করতে, কবে এটি কার্যকর হয়, কে এতে সাক্ষর করেন নি ইত্যাদি। এই তথ্য গুলো আপনি রচনামূলক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ব্যবহার করতে পারবেন।
২। এরপর জেনে নিন সংবিধানের ভাগ গুলো এবং এই ভাগের মধ্যকার অনুচ্ছেদ গুলো। যেমন-
প্রথম ভাগ- প্রজাতন্ত্র (অনুচ্ছেদ- ১ থেকে ৭)
দ্বিতীয় ভাগ- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (অনুচ্ছেদ- ৮ থেকে ২৫)
এইভাবে আপনি ১১টি ভাগের অনুচ্ছেদগুলো মনে রাখুন। এই তথ্য গুলো আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। কোন কারনে যদি ভুলে যান, সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ এ কি আছে তখন কমপক্ষে ধারনা করতে পারবেন কোন ভাগে এটি পড়েছে।
৩। এরপর প্রত্যেক অনুচ্ছেদ এর শিরোনাম গুলো মুখস্ত করুন।
৪। এরপর অনুচ্ছেদ গুলো ভালভাবে পড়ুন। বার বার পড়ুন। কোন বন্ধুর সাথে আলাপ করুন “বলতো আইনের দৃষ্টিতে সমতা এটি কোন অনুচ্ছেদ এ আছে?” প্রথম বার না পারলেও সমস্যা নেই। আস্তে আস্তে দেখবেন আপনি ঠিকই বলতে পারছেন।
৫। নিজে নিজে একাকী মনে করার চেষ্টা করুন কোন অনুচ্ছেদ এ কি আছে। ভুলে গেলে ভাববেন না সব শেষ। বরং চিন্তা করবেন আরো ভালো ভাবে পড়তে হবে!! সব সময় হাতের কাছে পকেট এডিশনের সংবিধান সাথে রাখুন। গল্পের বই (!!!!!!) মনে করে পড়ুন।।
কী পড়তে হবে- এই বিষয়ে অনেক কিছু বললাম। এই বার আসি মূল আলোচনায়।
আমি হুবহু মুখস্ত করার জন্য প্রথমেই বলব প্রস্তাবনাটাকে। কারন এই প্রস্তাবনা অনেক বার সংশোধিত হয়েছে। আবার, সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন আসলে চেষ্টা করবেন ভূমিকা হিসেবে কোটেশন আকারে এটি ব্যবহার করতে। যেহেতু মুখস্ত করেছেন সেহেতু কোটেশন হিসেবে দেয়ার সময় অবশ্যই নীল রঙের কালি ব্যবহার করবেন। পরীক্ষক কে বুঝান যে সংবিধান টা আপনি পড়েছেন বেশ ভালো (!!!) করে।
☼ তো চলুন মুখস্ত করে ফেলি-
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
“আমরা, বাংলাদেশের জনগন, ১৯৭১ খ্রীস্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষনা করিয়া জাতীয় মুক্তির (স্বাধীনতা) জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের (যুদ্ধের) মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি”
[আগ্রহী পাঠকগন হয়ত খেয়াল করবেন আমি বন্ধনীর মধ্যে ২টি শব্দ ব্যবহার করেছি। কারন সংবিধান সংশোধন করে এই শব্দ গুলো একবার যোগ হয়েছে ও একবার প্রতিস্থাপিত হয়েছে]
☼ আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগনকে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের (স্বাধীনতার) জন্য যুদ্ধে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রানোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল সর্বশক্তিমান আল্লাহের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র অর্থাৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচারের সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে। [আমার কাছে এই মুহূর্তে ১৫তম সংশোধনীর পরের সংবিধান টা নাই বলে আগ্রহী পাঠকরা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুসারে এটা ঠিক করে নিবেন। এই রকম হবার কথা- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা-সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে।]
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
সংবিধানের ১১টি ভাগ মনে রাখার উপায়ঃ
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
☼ প্র রা মৌ নি আ বি নি ম বাং জ সং বি
আসুন, মিলিয়ে নেই-
১। প্র- প্রজাতন্ত্র
২। রা-রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
৩। মৌ- মৌলিক অধিকার
৪। নি- নির্বাহী বিভাগ
৫। আ- আইন সভা
৬। বি- বিচার বিভাগ
৭। নি- নির্বাচন
৮। ম- মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
৯। বাং- বাংলাদেশের কর্মবিভাগ
৯ক। জ- জরুরী বিধানাবলী
১০। সং-সংবিধান সংশোধন
১১। বি- বিবিধ
চলুন, এইবার আলাদা ভাবে অনুচ্ছেদ গুলোর দিকে দৃষ্টি দেই।
☼ অনুচ্ছেদ ১-১২
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
অনুচ্ছেদ ১-১২ মোটামুটি এমনি মনে থাকে। এই অনুচ্ছেদ গুলোর মধ্যে গুরুত্তপূর্ন অনুচ্ছেদ গুলো হল-
২- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা
২ক- রাষ্ট্রধর্ম ( মনে রাখবেন কোন সংশোধনীর মাধ্যমে এটি হয়েছে)
৪ক- প্রতিকৃতি (১৫ তম সংশোধনীতে পরিবর্তন হয়েছে এখানে)
৬- নাগরিকত্ব
৭- সংবিধানের প্রাধান্য
৮- মূলনীতিসমূহ ( সংবিধান সংশোধন হয়েছে এইখানে)
৯- স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নয়ন ( সংবিধান সংশোধন হয়েছে এইখানে)
১০- জাতীয় জীবনে মহিলাদের অংশগ্রহন
১১- গনতন্ত্র
১২- ধর্মনিরপেক্ষতা ( সংবিধান সংশোধন হয়েছে এইখানে)
☼ অ
বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে বাঁচানো সেই মেজর অশোক তারার গল্প
09 Apr, 2017
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু তখনও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার ঢাকাতেই পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গৃহবন্দি অবস্থায় ছিল। তাদের উদ্ধারের জন্য যে সেনাদল পাঠানো হয় তার নেতৃত্বে ছিলেন ভারতীয় মেজর অশোক তারা। এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সেনাবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তাকে এবার বিশেষ সম্মাননা দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারত সফররত শেখ হাসিনা সাতজন ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছেন। তাদেরই একজন মেজর অশোক তারা।
ভারতয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মেজর অশোক তারা ছিলেন ঢাকা বিমানবন্দরে। তখন তিনি ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক তরুণ অফিসার। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও ঢাকার অনেক অংশ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ঢাকার ধানমণ্ডির বাড়িতে তখনও কার্যত গৃহবন্দি ছিলো বঙ্গবন্ধুর পরিবার। তাদের পাহারা দিচ্ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর একটি ইউনিট।
অশোক তারার ডাক পড়লো তাদের উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। এ অভিযান চালানোর কিছুদিন আগেই ‘গঙ্গাসাগর’ যুদ্ধে অবদানের জন্য ২৯ বছর বয়সী সেনা কর্মকর্তা ‘বীর চক্র’ সম্মাননা পেয়েছিলেন।
অশোক তারা মাত্র তিনজন সেনা নিয়ে বুদ্ধিমত্তার গুণে কোনও রপক্তপাত ছাড়াই বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে মুক্ত করেছিলেন। সেই ঘটনার ৪৬ বছর পর শনিবার (৮ এপ্রিল) মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাদের অবদানের জন্য আয়োজিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অশোক তারার বীরত্বের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি।
ওই সম্মাননা অনুষ্ঠানের পর অশোক তারা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমাকে ও আমার স্ত্রী আভাকে দেখে খুব খুশী হয়েছেন। কিভাবে আমি একাই তাকে ও তার পরিবারকে কোনও অস্ত্র ছাড়াই উদ্ধার করেছিলাম, তিনি তা নরেন্দ্র মোদিকে বলেছেন।’
সম্মাননা প্রাপ্তদের মধ্যে অশোক তারার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সম্পর্কটা ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ধানমণ্ডির বাসায় যাওয়ার সময় অনেক মানুষের মরদেহ দেখতে পেয়েছেন। ভীতিকর পরিস্থিতিতে তিনি সেখানে পৌঁছালে পাকিস্তানি সেনারা তার দিকে মেশিন গান তাক করে রাখেন। তার অস্ত্রটিও জমা দিতে হয়। তাকে সতর্ক করে বলা হয়, কাছে আসলে গুলি করা হবে। তিনি হিন্দি-পাঞ্জাবি মিশ্রিত ভাষায় পাকিস্তানি সেনাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন।’
অশোক আরও বলেন, ‘ধানমণ্ডিতে অবস্থারত ওই পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীল কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ছিল না। তাই পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের কথাও তারা জানতো না। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি যে, ঢাকার পতন হয়েছে, আর সেই সঙ্গে যুদ্ধও শেষ হয়ে গেছে। তখন কয়েকটি ভারতীয় হেলিকপ্টার আকাশে উড়ছিল। শেষ পর্যন্ত আমি তাদের আশ্বস্ত করতে সক্ষম হই, তারা অক্ষত শরীরে নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবেন। এরপর সমাপ্তি ঘটে ভীতিকর অবস্থার।’
মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনী সরাসরি অংশগ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে। এতে তিন হাজার ৮৪৩ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন।
২০১২ সালে অশোক তারাকে ‘ফ্রেন্ড অব বাংলাদেশ’ পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৯৬৩ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন অশোক তারা। ১৯৯৪ সালে কর্নেল হিসেবে অবসরে যান তিনি।
প্রসঙ্গত, চারদিনের সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতে অবস্থান করছেন। সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনী সদস্য যারা মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রেখেছেন তাদের সম্মান প্রদান করেন। এ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুরে দুই দেশের নেতা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তারা ৩৬ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করেন।
যে স্বপ্নের জন্য তাঁরা শহীদ
হলেন
১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। নতুন করে বলার কিছু নেই যে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি ও আলবদর বাহিনী মিলে হত্যা করেছিল এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের। রাও ফরমান আলীর ডায়েরিতে পাওয়া গিয়েছিল বুদ্ধিজীবীদের নামের তালিকা। ১০ ডিসেম্বর থেকেই কাদামাখানো মাইক্রোবাসে করে বুদ্ধিজীবীদের তুলে নিয়ে যেতে শুরু করে এরা। রাজধানীর রায়েরবাজার ও মিরপুরে তাঁদের হত্যা করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর যখন জাতি বিজয়ের আনন্দে উদ্ভাসিত, তখনই খবর আসতে থাকে, বধ্যভূমিগুলোয় বুদ্ধিজীবীদের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। বিজয়ের আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে। তবে, ২৫ মার্চ থেকেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছিল। অপারেশন সার্চলাইটের বিভীষিকাও কেড়ে নিয়েছিল বুদ্ধিজীবীদের প্রাণ।
কেন এই মানুষদের হত্যা করার জন্য বেছে নিয়েছিল এই পাকিস্তানি বাহিনী ও আলবদররা? একটি সহজ সূত্র অবশ্য আমরা দেখতে পাচ্ছি, এঁরা সবাই ছিলেন মেধাবী। দেশ গড়ার ভাবনা ছিল তাঁদের। বাংলা ও বাঙালির প্রতি ছিল এঁদের বিশ্বাস। শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এঁরা ছিলেন সোচ্চার। তাঁরা স্বপ্ন দেখতেন একটি সুখী-সমৃদ্ধ আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশের। আর এ জন্যই হয়তো শহীদ হতে হলো দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।
অধ্যাপক অানিসুজ্জামান কতৃক লেখা
নিরুদবেগে পথ চলছি—হঠাৎ কানে আসে শহীদ বুদ্ধিজীবীর মৃত্যুকালীন আর্তনাদ।
বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে বসে গল্প করছি—আকস্মিকভাবে চোখের পর্দায় ধরা পড়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীর মুখ। আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। আমার কাজ এলোমেলো হয়ে যায়।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কতজনের সঙ্গেই না ব্যক্তিগত সম্পর্কে বাঁধা পড়েছিলাম। আমার ছেলেবেলায় গৃহশিক্ষক ছিলেন সিরাজুদ্দীন হোসেন। প্রথমে জগন্নাথ কলেজে, পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর কাছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষকদের মধ্যে আরো ছিলেন মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য। গোবিন্দচন্দ্র দেবের কাছে পড়িনি—কিন্তু তিনিও আমার শিক্ষক ছিলেন বইকী, এমনকী সহকর্মী হওয়ার পরেও।
সহকর্মী ছিলেন বাংলা বিভাগে আনোয়ার পাশা, ইংরেজিতে রশীদুল হাসান, ইতিহাসে আবুল খায়ের। গিয়াসউদ্দিন আহমদ শুধু সহকর্মী ছিলেন না, ছিলেন বড়ো বন্ধুও। মোহাম্মদ মোর্তজা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার—সেই হিসেবে তিনিও আমার চিকিৎসক ও সহকর্মী। চিকিৎসক ছিলেন আলীম চৌধুরী—তাঁর পত্রিকায় যেমন লেখা ছেপেছেন আমার, তেমনি দিয়েছেন চশমার ব্যবস্থাপত্র। প্রয়োজনে ফজলে রাব্বি আমার চিকিৎসা করেছেন, অপ্রয়োজনে আমার সংগ্রহ থেকে কবিতার বই নিয়ে গেছেন।
শহীদুল্লা কায়সার আর মামুন মাহমুদ আমার অগ্রজস্থানীয় ছিলেন—তাঁদের দুই ভাই ছিল আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগে মহসীন আলী দেওয়ান আমার বছর দুই ওপরে পড়তেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লুৎফর রহমানকে চিনতাম তাঁর কর্মসূত্রে। সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে চিনতাম রাজনীতিবিদ মশিউর রহমান ও সায়ীদুল হাসানকে। মেহেরুননেসাকে জানতাম বইকী! আলতাফ মাহমুদকে প্রথমে দেখেছি যুবলীগ অফিসে পোস্টার আঁকতে, পরে গণসংগীত গাইতে এবং শেষে অসাধারণ সুরস্রষ্টারূপে। জহির রায়হান ছিল আমার বহুকালের বন্ধু।
আমার এম এ ক্লাসের ছাত্র ছিল আ ন ম গোলাম মোস্তফা ও রফিকুল ইসলাম। অনার্স ক্লাসের ছাত্র ছিল রামকৃষ্ণ অধিকারী। সাবসিডিয়ারি ক্লাসে পড়িয়েছিলাম সৈয়দ নজমুল হককে। এদের মতোই ছাত্র ছিল আরেকজন—চৌধুরী মইনুদ্দীন। আল বদরের সংগঠক হিসেবে সে ধরে নিয়ে যায় তার ও আমার শিক্ষক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীকে—তাঁর লাশটিও আর পাওয়া যায়নি।
আইনজীবী আবদুল আহাদ ছিলেন আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। আত্মীয় তো আসলে সকল শহীদ বুদ্ধিজীবীই।
‘ছুটির দিনে’র এই সংখ্যায় দশজন শহীদ বুদ্ধিজীবীর রচনা সংকলিত হয়েছে। এসব লেখার দেশকালগত পটভূমি ব্যাখ্যা করা এখন বাহুল্য। সবগুলো লেখাকে একসূত্রে বাঁধাও সম্ভবপর হবে না।
আনোয়ার পাশা ও জহির রায়হানের উপন্যাসের অংশ এতে সংকলিত হয়েছে। বাকি লেখার সঙ্গে তা মেলানো মুশকিল। জহিরের উপন্যাস হচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে আর আনোয়ার পাশা একাত্তরের অবরুদ্ধ বাংলাদেশের।
১৯৫২ সালে রচিত ‘প্রাদেশিকতা’ প্রবন্ধে জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা কিঞ্চিৎ কৌতুকের সঙ্গে বলেছেন, প্রদেশ থাকলে প্রাদেশিকতাও থাকবে। সে-প্রাদেশিকতা দূর করার চেষ্টায় উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার এবং আরবি হরফে বাংলা লেখার পরিকল্পনা করা হয়েছে, অথচ কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে রাজস্ববণ্টনে ন্যায়নীতি দেখা যায়নি। ভাবী শাসনতন্ত্রে এ-সমস্যার সমাধান হবে বলে তাঁর আশা, তবু তাঁর মনে হয়েছে গণতান্ত্রিক পাকিস্তানকে বহু ঝঞ্ঝাট পোহাতে হবে। ‘সংস্কৃতির সংকট’ প্রবন্ধে মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী বাঙালি সংস্কৃতিকে পাকিস্তানি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যেভাবে খণ্ডনের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে, তারই তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। প্রবন্ধের শেষে তিনি বলেছেন, ‘একটু খোলা হাওয়ায় নিঃশ্বাস ফেলতে চাই।’ হায়, পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র সে-সুযোগ কাউকে দেয়নি। আবেগ ও কৌতুকের মিশ্রণে অসাধারণ রচনা মুনীর চৌধুরীর ‘মাতৃভাষা’। ‘আমি নিজেও অনেককে জানি, যাঁদের মাতৃভাষা ঘরে আঞ্চলিক বুলি, অফিসে ইংরেজি, প্রণয় নিবেদনে বিশুদ্ধ বাংলা, রোষপ্রকাশে অশ্রদ্ধ উর্দু।’ তারপর তাঁর প্রশ্ন ও উত্তর: ‘আমার মাতৃভাষা কী? বাংলা ভাষা। বিচিত্ররূপিনী বাংলা ভাষা। ...আমার মাতৃভাষার ষোল শত রূপ। তারা সব পদ্মিনীর সহচরী।’ সেই মাতৃভাষার জন্যে এদেশের মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছিল ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারীতে। তার বিশ বছর পূর্তিতে সিরাজুদ্দীন হোসেন লেখেন ‘বায়ান্নর আত্মদান আর একাত্তরের প্রতিশ্রুতি’। তখনো অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়নি। ভবিষ্যৎদ্রষ্টার মতো সিরাজুদ্দীন হোসেন লিখলেন, ‘যেন আর ৬ দফা নয়, এক দফাতেই সবকিছুর নিষ্পত্তি হবে।’
আলীম চৌধুরী লিখেছেন, দেশে চিকিৎসাব্যবস্থার অপ্রতুলতা নিয়ে। দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাইলে তো সবক্ষেত্রেই অগ্রসর হতে হবে। মোহাম্মদ মোর্তজা আস্থাবান ছিলেন শ্রেণিহীন সমাজে—তাই ‘শহীদ আসাদের মন্ত্র জনগণতন্ত্র’ প্রবন্ধে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, তাঁর কাছে কেন গণতন্ত্র যথেষ্ট নয়, কেন তাঁর কাম্য জনগণতন্ত্র। আলতাফ মাহমুদের সুরে রয়েছে শহীদুল্লা কায়সারের লেখা গান। গানটিকে সমকালীন দেশকালের পটভূমিতে দেখা যায়, আবার দেশকালাতীতভাবে আন্তর্জাতিক পটভূমিতেও তা অর্থপূর্ণ হয়। আন্তর্জাতিকতার কথা খুব স্পষ্ট করে বলেছেন গোবিন্দচন্দ্র দেব। দুটো বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা তাঁকে অনুপ্রাণিত করে এক বিশ্বের স্বপ্ন দেখতে, যুদ্ধের বদলে স্থায়ী শান্তির উদেযাগে উৎসাহিত হতে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের এসব লেখা একসঙ্গে তুলে ধরার বা পাঠ করার সময়ে মনে রাখতে হবে, এঁরা সবাই যাঁর যাঁর মতো চিন্তা করতেন। সেই বৈচিত্র্যের মধ্যে একটি ঐক্য ছিল—লোকহিত। এই লক্ষ্য থেকে তাঁরা কখনো বিচ্যুত হননি। তাই চরম মূল্য তাঁদের দিতে হয়েছে।
ইংরেজিতে একটি কথা অাছে, "Charity begins at home." অামি সর্বদা চেষ্টা করি অামার অাশেপাশের মানুষগুলো যেন মাদকাসক্ত না হয় ৷ বিশেষকরে যাদের সাথে অামি চলাফেরা করি তাদেরকে নেশা থেকে দূরে থাকতে বলি ৷ তারপরও যখন এমন কোন খবর পত্রিকায় পাই তখন খুব খারাপ লাগে ৷ এই খবরটি রীতিমত হতাশ করে অামাকে ৷ কারণ বাংলাদেশের বিদ্যাপীঠগুলো যদি মাদকের ছোঁয়ায় কূলষিত হয় তাহলে কষ্টের সীমা থাকে না ৷
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারো ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের সামনে থেকে এক হাজার ২৫০টি ইয়াবা বড়িসহ বহিরাগত সাত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার ভোর চারটার দিকে ওই সাতজনকে আটক করে শাহবাগ থানার পুলিশ। পরে পুলিশের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. কাবুল খান, মো. আকবর, সুব্রত কুমার ভৌমিক, মো. বাচ্চু, কাজী শহিদুল ইসলাম, সঞ্জয় বিশ্বাস ও সুধীর বিশ্বাস। তাঁদের বয়স ২৭-৩৩ বছরের মধ্যে।
শাহবাগ থানার পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ইয়াবার ব্যবসায়ী। তাঁরা হল থেকে ইয়াবা কিনে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন।
শাহবাগ থানায় করা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সিএনজিচালিত দুটি অটোরিকশায় করে কয়েকজন ইয়াবার ব্যবসায়ী মুহসীন হলের দিকে গেছেন বলে রাত দুইটার দিকে গোপন সূত্রে খবর পায় পুলিশ। এরপর মুহসীন হলে যেতে বসুনিয়া গেটে অবস্থান নেয় পুলিশ। হলের দিক থেকে এসে বসুনিয়া গেট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ওই সাতজনকে তল্লাশি করে পুলিশ। তাঁদের কাছে এক হাজার ২৫০টি ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়।
মামলার বাদী শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানার ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তাঁরা ইয়াবা কিনতে মুহসীন হলে এসেছিলেন। এ ঘটনায় তাঁরা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম বলেছেন।
এদের কারণেই দেশের একটি কর্ম শক্তি সম্পন্ন অংশ পরিবার, সমাজ তথা দেশের বোঝায় পরিণত হচ্ছে ৷
পাখিরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি কয়েক দিন অাগেই বুঝতে পারে ৷
টর্নেডোর এক দিন আগেই পাখিরা আভাস পেয়ে যায়। মার্কিন একদল বিজ্ঞানী পাঁচটি সোনালি ডানাওয়ালা গায়ক পাখির (ওয়ার্বলার) ওপর গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছেন। প্রায় নয় গ্রাম ওজনের এই পাখিরা গত এপ্রিলে একটি টর্নেডো হওয়ার আগেই ৭০০ কিলোমিটার উড়ে গিয়ে মেক্সিকো উপসাগরে আশ্রয় নিয়েছিল। পরের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য অংশে টর্নেডো আঘাত হানে। এই গবেষণার ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কারেন্ট বায়োলজি সাময়িকী।