02/06/2026
আমার জীবনের গল্প
==============
আমি মোঃ জাহিদুল ইসলাম। ১৯৮৪ সালে গাজীপুর মহানগরের ২১ নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী জোলারপাড় গ্রামের একটি মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করি। আমার পিতা আব্দুল জলিল (মুন্সি) এবং মাতা ফাতেমা খাতুন। আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক আমার বাবা-মা। তাঁদের কাছ থেকেই সততা, পরিশ্রম, মানবিকতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছি।
আমার শৈশব কেটেছে গ্রামের সাধারণ পরিবেশে। অভাব ছিল, সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু স্বপ্নের কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না। গ্রামের মেঠোপথ, খেলার মাঠ, মসজিদ, বিদ্যালয় আর মানুষের আন্তরিক ভালোবাসার মধ্যেই বেড়ে উঠেছি। ছোটবেলা থেকেই আমি বিশ্বাস করতাম—শিক্ষাই মানুষের জীবন পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
আমার শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় জোলারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ। সেখান থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু। ধীরে ধীরে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাই এবং ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান আমাকে সমাজ, রাষ্ট্র, নেতৃত্ব এবং মানুষের অধিকার সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।
শিক্ষাজীবন শেষে আমি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিই। কারণ আমি বিশ্বাস করি, একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; তিনি একটি প্রজন্ম গড়ে তোলেন। বর্তমানে আমি ভাওয়াল মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ-এ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে যখন শিক্ষার্থীদের চোখে স্বপ্ন দেখি, তখন মনে হয় আমার জীবনের শ্রম সার্থক।
কিন্তু আমার স্বপ্ন শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমি সবসময় চেয়েছি সমাজের জন্য কিছু করতে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে। সেই ভাবনা থেকেই আমি নাগরিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করি। আমার বিশ্বাস, সমাজের বিত্তবান, শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ যদি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হন, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
শিক্ষার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে আমি জোলারপাড় বালিকা দাখিল মাদ্রাসা-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। আমি বিশ্বাস করি, একটি শিক্ষিত মা মানেই একটি শিক্ষিত পরিবার, আর একটি শিক্ষিত পরিবার মানেই একটি উন্নত সমাজ।
সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যাংক এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে জোলারপাড় বাজারে কাজ করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি এলাকার শিক্ষার প্রসারে গাজীপুর কসমিক কলেজ-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলাম।
উদ্যোক্তা হিসেবে জোলারপাড় বাজারে মেসার্স আম্বিয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি রড সিমেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করছি। যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আমার বাবা আব্দুল জলিল।
জীবনের এই দীর্ঘ পথচলায় আমি শিখেছি—মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় সম্পদ আর নেই। পদ-পদবি, অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা—সবকিছু একদিন শেষ হয়ে যায়; কিন্তু মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া যায় সৎ কাজের মাধ্যমে।
আজ আমি যখন আমার এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা এবং সংগ্রামের কথা ভাবি, তখন মনে হয় আমার জীবনের প্রতিটি অর্জন মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত। আমি বিশ্বাস করি, জনসেবা কোনো পেশা নয়; এটি একটি দায়িত্ব, একটি আমানত।
আমার স্বপ্ন এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে পিছিয়ে পড়বে না, কোনো অসহায় মানুষ সাহায্যের অভাবে কষ্ট পাবে না, এবং প্রতিটি নাগরিক মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে।
আমি কোনো বিশেষ পরিবারের সন্তান নই, কোনো প্রভাবশালী বংশের উত্তরাধিকারী নই। আমি এই মাটিরই একজন সাধারণ মানুষ। আপনাদের মতোই স্বপ্ন দেখি, আপনাদের মতোই কষ্ট অনুভব করি, আপনাদের ভালোবাসাকেই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি মনে করি।
আল্লাহ তাআলার কাছে আমার একটাই প্রার্থনা—যতদিন বেঁচে থাকি, যেন মানুষের জন্য কাজ করতে পারি, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করতে পারি।
আমি মোঃ জাহিদুল ইসলাম।
একজন শিক্ষক, একজন সমাজকর্মী, একজন উদ্যোক্তা।
সর্বোপরি, আমি মানুষের একজন মানুষ হতে চাই।
"মানুষের সুখে হাসতে চাই, মানুষের দুঃখে পাশে দাঁড়াতে চাই; এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
#অধ্যাপক_জাহিদুল_ইসলাম
#জোলারপাড়
#২১নংওয়ার্ড
#গাজীপুর_মহানগর