উম্মাতে মুহাম্মাদী সহিহ সুন্নাহর আলো

উম্মাতে মুহাম্মাদী সহিহ সুন্নাহর আলো

Share

উম্মতে মোহাম্মাদী পেজে আপনাকে স্বাগতম। এখানে পবিত্র কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলো ছড়ানো হয়।"

23/05/2026

"তুমি কি তোমার রবকে ভয় পাও না? তবে কেন নামাজ ছেড়ে দাও?
আজ থেকে ১০০ বছর পর না তুমি থাকবে না আমি...
আল্লাহ যতদিন হায়াত দিয়েছেন ততদিন নামাজ পড়ো, ইবাদত পালন করো। মৃত্যুর পর আর সময় পাবে না!
সামান্য জীবনকে গুরুত্ব দিয়ে অনন্ত জীবন হারিও না...

#নামাজ #ইবাদত #ইসলামিক_পোস্ট #পরকাল #ঈমান #ইসলাম #উম্মাতে_মুহাম্মাদী #ইসলামিক_পোস্ট #উম্মাহর_ঐক্য #সুন্নাহর_আলো

20/05/2026

ওরস (Urs) একটি আরবি শব্দ যার শাব্দিক অর্থ ‘বিবাহ’ বা ‘বাসর রাত’ [১.২.২, ১.২.৯]। সুফি পরিভাষায় কোনো পীর বা অলি-আউলিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করাকে ওরস বলা হয়। সুফি দর্শনে মৃত্যুকে আল্লাহর সাথে বান্দার বা প্রেমাস্পদের সাথে প্রেমিকের মিলন (বিসাল) হিসেবে দেখা হয়, তাই এই দিনটিকে শোকের পরিবর্তে আনন্দের দিন বা ‘ওরস’ হিসেবে উদযাপন করা হয় আস্তাগফিরুল্লা। [১.২.১০, ১.৩.১]।
আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়টি ইসলামি শরিয়তের বিশুদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে ওরস
বিশুদ্ধ ইসলামি আকিদা ও জমহুর ওলামায়ে কেরামের মতে, পীর বা বুজুর্গদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঘটা করে ওরস পালন করা, মেলা বসানো বা উৎসব করা বিদআত (দ্বীনের নামে নতুন উদ্ভাবন) এবং পরিত্যাজ্য [১.৩.১]। কুরআন ও সহিহ হাদিসে এর কোনো ভিত্তি নেই।
এই প্রথাকে বাতিল বা বর্জনীয় বলার পেছনে প্রধান দলিল ও যুক্তিগুলো হলো:
১. কবরকে উৎসবের স্থানে পরিণত না করা (সহিহ হাদিস)
রাসূলুল্লাহ (সা.) কবরের পাশে উৎসব বা মেলা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না এবং আমার কবরকে উৎসবের (ঈদ) স্থানে পরিণত করো না। তোমরা আমার ওপর দরূদ পাঠ করো। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছানো হবে।"
— সুনানে আবু দাউদ: ২০৪২, মুসনাদে আহমাদ: ২/৩৬৭ [১.২.১]
যদি নবীর কবরেই উৎসব করা নিষিদ্ধ হয়, তবে সাধারণ পীর বা আউলিয়াদের কবরে বাৎসরিক উৎসব বা ওরস করা নিঃসন্দেহে আপত্তিকর।
২. সাহাবায়ে কেরামের আমল নেই
ইসলামে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর জীবন হলো আমাদের জন্য মাপকাঠি। কোনো সাহাবী কখনোই নবীজি (সা.)-এর মৃত্যুবার্ষিকী বা ওফাত দিবস পালন করেননি। খোলাফায়ে রাশেদীন বা তাবেঈনদের যুগেও কোনো বুজুর্গের কবরে ওরস পালনের প্রমাণ পাওয়া যায় না [১.২.২]। প্রখ্যাত ফিকহবিদ আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌভী (রহ.) বলেন, "ওরসের মতো কোনো অনুষ্ঠানের অস্তিত্ব সালাফে সালেহীনদের (পূর্ববর্তী নেককারদের) যুগে ছিল না" [১.৩.১]।
৩. বিদআত ও কুসংস্কারের মিশ্রণ
বাংলাদেশে ওরসের নামে যা হয়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল ইসলামি শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেছে। অনেক মাজারে ওরস উপলক্ষে গান-বাজনা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, সিজদা করা এবং শিরকপূর্ণ কর্মকাণ্ড দেখা যায়, যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম [১.২.২, ১.৩.৭]। ইসলামে ইবাদত হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং তা হতে হবে রাসূল (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতিতে।
৪. ‘ওরস’ শব্দের অপব্যাখ্যা
যারা ওরসের পক্ষে যুক্তি দেন, তারা মিশকাত শরীফের একটি হাদিস ব্যবহার করেন যেখানে কবরের ফেরেশতারা নেককার বান্দাকে বলেন, "তুমি বাসর রাতের বরের (আরুস) মতো ঘুমাও" [১.২.৩]। ওলামায়ে কেরাম বলেন, এই হাদিসে ‘ঘুমানো’র কথা বলা হয়েছে, বাৎসরিক উৎসব করার কথা নয়। এটিকে দলিল হিসেবে পেশ করা অপব্যাখ্যা মাত্র।
সারসংক্ষেপ
কুরআন বা সহিহ হাদিসে মৃত্যুবার্ষিকী বা ওরস পালনের কোনো নির্দেশ নেই। বরং, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া, ইস্তেগফার বা দান-সদকা করা জায়েজ, যা যেকোনো দিন বা সময়ে করা যায়। নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে উৎসব করা ইসলামি শরিয়ত সমর্থন করে না।

18/05/2026

UmmateMohammadi, #ইসলামিক,

17/05/2026

ইসলামে দল-উপাত্ত তৈরি করা, উম্মাহর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং আল্লাহ প্রদত্ত 'মুসলিম' পরিচয় বাদ দিয়ে নতুন কোনো নাম বা উপদলে (যেমন: শিয়া, সুন্নি, ওহাবি, সালাফি, দেওবন্দী, বেরেলভি ইত্যাদি) বিভক্ত হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা হারাম।
নিচে এই বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসের আরও বিস্তারিত প্রমাণ এবং এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হলো:
📖 পবিত্র কুরআনের আরও কিছু বাণী ও ব্যাখ্যা
কুরআনে বারবার ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং দলবাজি বর্জন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূরা আল-বাকারাহ (আয়াত ২১৩):
"মানুষ ছিল এক উম্মত (একক জাতি)। অতঃপর আল্লাহ নবীগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠালেন এবং মানুষের মধ্যে যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল, তার মীমাংসার জন্য সত্য কিতাব অবতীর্ণ করলেন..."
ব্যাখ্যা: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, মানবজাতির মূল ভিত্তি ছিল ঐক্য। মানুষের তৈরি দলবাজি ও মতভেদ দূর করতেই আল্লাহ কিতাব পাঠিয়েছেন, নতুন দল তৈরি করতে নয়।
সূরা ফুসসিলাত (আয়াত ৩৩):
"তার চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকে, সৎকর্ম করে এবং বলে, 'নিশ্চয়ই আমি একজন মুসলিম'।"
ব্যাখ্যা: আল্লাহ এখানে সর্বোত্তম কথার উপাধি তাকেই দিয়েছেন, যে নিজেকে কোনো দল বা তরিকার নামে না ডেকে সরাসরি 'মুসলিম' হিসেবে পরিচয় দেয়।
সূরা আশ-শূরা (আয়াত ১৩):
"তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধান নির্ধারণ করেছেন, যার নির্দেশ দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি ওহী করেছি আপনার প্রতি... এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করো না।"
ব্যাখ্যা: সব নবীর মূল দাওয়াতই ছিল দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা এবং দল উপদলে বিভক্ত না হওয়া। দল তৈরি করা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামদের সুন্নতের পরিপন্থী।📜 সহিহ হাদিসের আরও কিছু বাণী ও ব্যাখ্যা
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জীবদ্দশায় সাহাবিদের যেকোনো ধরনের গোষ্ঠীগত বা দলীয় গোঁড়ামি থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।
সহিহ বুখারি (হাদিস নং ৩৫০২) ও সহিহ মুসলিম:
একবার এক যুদ্ধে আনসার ও মুহাজিরদের দুই যুবকের মধ্যে ঝগড়া বাঁধল। মুহাজির যুবক ডাক দিল, "হে মুহাজিরগণ (তোমরা আসো)!" আর আনসার যুবক ডাক দিল, "হে আনসারগণ (তোমরা আসো)!" রাসুলুল্লাহ (সা.) এই ডাক শুনে অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন এবং বললেন:
"তোমরা কি জাহেলিয়াত বা মূর্খ যুগের ডাক ডাকছ? অথচ আমি তোমাদের মাঝে উপস্থিত আছি! এগুলো (দলীয় ও আঞ্চলিক অহংকার) বর্জন করো, কারণ এগুলো অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত ও নিকৃষ্ট।"
ব্যাখ্যা: 'মুহাজির' ও 'আনসার' নাম দুটি স্বয়ং আল্লাহ কুরআনে দিয়েছেন এবং এগুলো অত্যন্ত সম্মানিত নাম। কিন্তু যখনই এই নামগুলোকে উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব বা দলবাজির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলো, রাসুল (সা.) তাকে 'জাহেলিয়াতের দুর্গন্ধযুক্ত ডাক' বলে আখ্যা দিলেন। তাহলে বর্তমানের মানুষের তৈরি শিয়া, সুন্নি, ওহাবি, বেরেলভি নামগুলোর অবস্থান কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।
মুসনাদে আহমাদ (হাদিস নং ৪১৮৩ - সহিহ):
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের হাতে মাটিতে একটি সোজা দাগ টানলেন এবং বললেন, "এটি আল্লাহর সরল পথ (সিরাতুল মুস্তাকিম)।" এরপর তিনি তার ডানে ও বামে আরও অনেকগুলো আঁকাবাঁকা দাগ টানলেন এবং বললেন:
"এই আঁকাবাঁকা পথগুলোর প্রতিটির মাথায় একটি করে শয়তান দাঁড়িয়ে আছে, যে মানুষকে সেই পথের দিকে ডাকছে।" এরপর তিনি কুরআনের এই আয়াত পাঠ করলেন, "নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।" (সূরা আল-আনআম: ১৫৩)
জামে আত-তিরমিযী (হাদিস নং ২১৬৫ - সহিহ):
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তোমরা জামাতকে (মুসলিম উম্মাহর মূল ধারা বা ঐক্য) শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্নতা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ শয়তান একাকী থাকা মানুষের সাথে থাকে, আর দুজন থেকে সে দূরে থাকে। যে ব্যক্তি জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদ চায়, সে যেন জামাতকে আঁকড়ে ধরে।"
💡 বিষয়টি সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা যাক
১. দল গঠন কেন হারাম?
ইসলামে মূল উৎস দুটি—পবিত্র কুরআন এবং সহিহ হাদিস। কোনো ব্যক্তি যখন নিজেকে 'মুসলিম' বাদ দিয়ে অন্য কোনো দলের নামে পরিচয় দেয়, তখন সে পরোক্ষভাবে দাবি করে যে আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের সুন্নাহর বাইরেও তার দলের কিছু নিজস্ব মতামত বা মূলনীতি আছে, যা অন্য মুসলিমদের থেকে আলাদা। এটিই উম্মতের মাঝে হিংসা, বিদ্বেষ এবং একে অপরকে কাফের বা গোমরাহ ডাকার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২. তাহলে ৭৩ দলের হাদিসের অর্থ কী?
রাসুল (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, যার মধ্যে কেবল একটি দল সঠিক পথে থাকবে। সেই সঠিক দলটির কোনো 'বিশেষ নাম' রাসুল (সা.) দেননি। তিনি শুধু বলেছেন, "আমি ও আমার সাহাবিরা আজ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।" অর্থাৎ, সাহাবিদের যুগে যেমন কোনো দল বা ফিরকা ছিল না, তারা শুধু 'মুসলিম' ছিলেন, শেষ জমানাতেও যারা কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি না করে সরাসরি কুরআন-সুন্নাহ ও সাহাবিদের পথ মানবে, তারাই মুক্তিপ্রাপ্ত দল।
৩. মতভেদ ও দলভেদের পার্থক্য:
ফেকাহগত বা ইজতিহাদি বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ছোটখাটো মতভেদ (যেমন হাত বাঁধা, আমিন জোরে বা আস্তে বলা) থাকা স্বাভাবিক এবং এটি সাহাবিদের যুগেও ছিল। কিন্তু এই মতভেদের ওপর ভিত্তি করে আলাদা দল তৈরি করা, নিজেদের অন্য নামে ডাকা, মসজিদের দেয়াল তুলে দেওয়া এবং অন্য মুসলিমদের শত্রু মনে করা—এটিই হলো সেই 'তাজাক্কুর' বা দলবাজি, যা ইসলামে কঠোরভাবে হারাম করা হয়েছে।
মূল শিক্ষা
ইসলামে "মুসলিম" এবং "মুমিন" আল্লাহ প্রদত্ত একমাত্র পরিচয়। উম্মতের ঐক্য নষ্ট করে নতুন নতুন নামে (যেমন: শিয়া, সুন্নি, ওহাবি, সালাফি, মওদুদি ইত্যাদি) দল উপদল তৈরি করা এবং নিজেদের অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ দাবি করা কুরআনের বিধানের পরিপন্থী। সত্যের মাপকাঠি কোনো দলের নাম নয়, বরং কুরআন ও সহিহ হাদিসের নিঃশর্ত অনুসরণ।
#ইসলামিক_পোস্ট #আমরামুসলিম #উম্মাতে_মুহাম্মাদী #উম্মাহর_ঐক্য #সুন্নাহর_আলো

15/05/2026

ইসলাম ধর্মে জুমার দিনকে ‘সাপ্তাহিক ঈদ’ এবং সকল দিনের সেরা দিন বা ‘সাইয়্যিদুল আইয়াম’ বলা হয়েছে। কোরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে জুমার দিনের বিশেষ ফজিলত এবং আমলসমূহ নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত
কোরআনের নির্দেশ: মহান আল্লাহ জুমার আযান শোনার পর সমস্ত দুনিয়াবি ব্যস্ততা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দ্রুত মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
গুনাহ মাফ: এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের সমস্ত ছোট গুনাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: এই দিনে আদি পিতা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

জুমার দিনের ১০টি ফজিলতপূর্ণ সহীহ আমল
১. ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা
জুমার দিনের ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা সপ্তাহের সবচেয়ে উত্তম সালাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন ফজরের নামাজে সাধারণত 'সূরা আস-সাজদাহ' ও 'সূরা আল-ইনসান' তিলাওয়াত করতেন।

রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদিস: ৮৯১

২. উত্তমরূপে গোসল করা
জুমার দিন নামাজের উদ্দেশ্যে উত্তমরূপে গোসল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত।

রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদিস: ৮৮৩

৩. মেসওয়াক করা, সুগন্ধি ও পরিষ্কার পোশাক পরা
গোসলের পর দাঁত মেসওয়াক করা, সাধ্যমতো সবচেয়ে উত্তম ও পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি (আতরের) ব্যবহার করা সুন্নাত।

রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদিস: ৮৮৮ এবং সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৯৮

৪. পায়ে হেঁটে আগে আগে মসজিদে যাওয়া
বাহনে চড়ার চেয়ে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া উত্তম। যে ব্যক্তি জুমার দিন দ্রুত ও প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে প্রবেশ করবে, সে একটি উট কুরবানি করার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।

রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদিস: ৮৪১

৫. সূরা আল-কাহাফ তিলাওয়াত করা
জুমার দিন (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত) সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করলে আল্লাহ তাআলা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়কে নূর বা আলো দ্বারা আলোকিত করে দেন।

রেফারেন্স: সুনানে দারেমী, হাদিস: ৩৪০৭ (আলবানী কর্তৃক সহীহ প্রমাণিত) এবং প্রথম আলো ধর্মীয় প্রতিবেদন

৬. নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা
জুমার দিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি উম্মতের দরূদ সরাসরি ফেরেশতাদের মাধ্যমে তাঁর কাছে পেশ করা হয়। তাই এই দিনে "সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" বা দরূদে ইব্রাহীম বেশি বেশি পাঠ করা উচিত।

রেফারেন্স: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭

৭. ইমামের খুতবা মনোযোগ সহকারে শোনা
খুতবা চলাকালীন কোনো কথা বলা বা অন্য কাজে মগ্ন হওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এমনকি কাউকে ‘চুপ করো’ বলাও অনর্থক কথা বলার শামিল। চুপচাপ খুতবা শোনা ওয়াজিব।

রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৭

৮. বিশেষ মূহূর্তে দোয়া করা (দোয়া কবুলের সময়)
জুমার দিনে এমন একটি চমৎকার সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে যা-ই দোয়া করে, আল্লাহ তা কবুল করে নেন। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মতে, এই সময়টি হলো শুক্রবার আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়।

রেফারেন্স: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮

৯. কাউকে কষ্ট না দিয়ে মসজিদে বসা
মসজিদে আগে থেকে বসে থাকা দুই মুসল্লির মাঝে জোর করে ফাঁক তৈরি করে বসা কিংবা মানুষের কাঁধ ডিঙিয়ে সামনে যাওয়া অত্যন্ত অনুচিত। যেখানে জায়গা পাওয়া যাবে সেখানেই শান্তভাবে বসে পড়া উচিত।

রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদিস: ৮৮৩

১০. তাহিয়াতুল মসজিদ (মসজিদে প্রবেশের দুই রাকাত নামাজ)
মসজিদে প্রবেশের পর বসার আগে দুই রাকাত ‘তাহিয়াতুল মসজিদ’ বা দুখুলুল মসজিদ সালাত আদায় করা সুন্নাত।

Hasaner Rafkhata
+1
আল-কুরআনের সরাসরি নির্দেশনা
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-জুমুআহ-এর ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন:
"হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং কেনাবেচা বর্জন করো। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।"
#সুন্নাহর_আলো #ইসলামিক_পোস্ট #উম্মাহর_ঐক্য #উম্মাতে_মুহাম্মাদী #আমরামুসলিম

15/05/2026

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। 🌸
পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। অবশেষে যাত্রা শুরু করলো আমাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজ "উম্মাতে মুহাম্মাদী"।
📌 আমাদের মূল লক্ষ্য:
প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর সঠিক বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মুসলিম উম্মাহর মাঝে পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা। কোনো দলাদলি বা বিভেদ নয়, বরং পবিত্র কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র দ্বীনি প্রয়াস।
"নিশ্চয় যারা নিজেদের দ্বীনকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোনো দায়িত্ব আপনার নয়..." — [সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১৫৯]
দ্বীনের সঠিক জ্ঞানে যুক্ত হতে এবং উম্মাহর ঐক্যের এই পথচলায় শামিল হতে আমাদের পেইজটি ফলো (Follow) করে সাথেই থাকুন। জাজাকুমুল্লাহু খাইরান! 🤝
#উম্মাতে_মুহাম্মাদী #সুন্নাহর_আলো #উম্মাহর_ঐক্য #ইসলামিক_পোস্ট

Want your school to be the top-listed School/college in Hathazari?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address

Aman Bazer
Hathazari