14/02/2025
ভালোবাসা দিবস ইতিহাস ও তাৎপর্য
- ড. নিতাইসেবিনী দেবী দাসী
১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিস। সেদিন মানুষ প্রিয়জনকে ফুল উপহার দিয়ে থাকে। এর একটি ইতিহাস রয়েছে। আমাদের সনাতন সম্প্রদায়ে যেমন পুরোহিত বা পুজারি থাকে, তেমনি খ্রিস্ট সম্প্রদায়েও থাকে এবং তাদের বলা হয় সেন্ট। এই ভ্যালেনটাইন' শব্দটি একজন সেন্ট বা পুজারির নাম থেকে এসেছে। আমাদের সম্প্রদায়ে যেমন "গোস্বামী" উপাদি থাকে। তেমনই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ে "ভ্যালেনটাইন" উপাধি থাকে। তাদের এই ভ্যালেনটাইন নামে ২৫ জন পুজারি আছে। তাদের মধ্যে দু'জন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন রোমে থাকতেন এবং অন্যজন টার্নিতে থাকতেন। টার্নিতে যে দেখা সেন্ট ভ্যালেনটাইন ছিলেন, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ প্রচারক। তৎকালীন খ্রিস্টানদের উপর খুব অত্যাচার করা হতো, এমনকি মেরে ফেলা হতো। তাই তারা লুকিয়ে প্রচার করতো। সেন্ট ভ্যালেনটাইন যিশুকে এতো ভালোবাসতেন যে, মৃত্যুর ভয়কে উপেক্ষা করে তিনি প্রচার করতেন। একদিন কেউ বা কারা তাকে মেরে ফেলেন। সেদিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। যেহেতু তিনি যিশুকে এতো ভালোবাসতেন এবং তাঁর জন জীবন ত্যাগ করলেন, তাই তিনি সকলের কাছে পূজনীয়। অর্থাৎ এক কথায় ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ ''ত্যাগ" । আমরা যদি কাউকে সত্যিই ভালোবাসি, তবে তার জন্য আমরা কিছু ত্যাগ করতে পারি। যেমন, একজন মা। রাতে যদি সন্তান কান্না করে, তবুও মা বিরক্ত হয়ে বলে না, বাচ্চার কান্নার জন্য আমি ঘুমাতে পারছি না। বরং পরম যত্নে তাকে আদর করে। কারণ মা তার সন্ধানকে ভালোবাসেন। ঠিক সেভাবে সেন্ট ভ্যালেনটাইন যীশুকে ভালোবেসে তার কথা প্রচারের জন্য তিনি তার জীবন ত্যাগ করেছিলেন। তাই খ্রিস্টান সম্প্রদায় সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে স্মরণ করে, ১৪ ফেব্রুয়ারি একটা অনুষ্ঠান উদযাপন করে।
অন্য আরেকটি ইতিহাসও শোনা যায় যে, সে সময়ে রোমে যে রাজা ছিলেন, তিনি তার রাজ্যকে আরো বর্ধিত করার জন্য আশে পাশের সব রাজ্যের সাথে যুদ্ধ করতেন। যুদ্ধ করতে করতে তার সেনাবাহিনীর সৈন্য অনেক কমে যায়। তখন রাজার সেনা প্রধান গ্রামে গিয়ে যুবকদের সেনাদলে যোগদান করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু যুবকেরা, স্ত্রী, সন্তান সংসারের অজুহাত দেখিয়ে প্রস্তাবে রাজি হয়নি। সে রাজাকে এ কথা জানালে রাজা তখন ঘোষণা দেন যে, আমার রাজ্যে কোন যুবক আর বিয়ে করতে পারবে না। কিন্তু যুবকেরা লুকিয়ে বিয়ে করতো। আর এ বিয়ের কার্য সম্পাদন করতেন এই সেন্ট ভ্যালেনটাইন (যেমন আমাদের পুরোহিত)। রাজা এটা জানতে পেরে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে কারাগারে বন্দি করেন। সেন্ট ভ্যালেনটাইন যাদের বিয়ে দিয়েছিলেন, তারা তাকে এত ভালোবাসতেন যে, তারা কারাগারের জানালা দিয়ে গোলাপ দিয়ে তাকে ভালোবাসা জানাতো কিছুদিন পর রাজা সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেন। কিন্তু তাকে জিগ্যেস করেন যে, তিনি আর বিয়ের কার্য সম্পাদন করবেন কিনা। তখন সেন্ট ভ্যালেনটাইন সম্মতি জানালে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। সেদিনটিও ১৪ ফেব্রুয়ারি। এই কারণে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সেন্ট ভ্যালেনটাইন ডে বলা হয়। এটা প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়। তারপরে আমেরিকা জাপান, কোরিয়াসহ আরোও বিভিন্ন জায়গায় হয়। বর্তমানে এটা খুবই বড় একটা ইভেন্ট। পূর্বে ভারতবর্ষেও এই অ্যালেনটাইন কেউ জানত না। তবে ১৯৯২ সালে মনমোহन সিং লিবাইজেশন শুরু করেন। তখন থেকেই আছে আছে সব বৈদেশিক সংস্কৃতি ভারতবর্ষে আসতে শুরু করে। বর্তমানে এর প্রসার এ ব্যাপক যে "আমেরিকান ওয়েডিং কার্ড এসোসিয়েশন" এর তে ক্রিসমাস এর পরে এটাই সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান, যেখানে ১ বিলিয়ন কার্ড ডিস্ট্রিবিউশন হয়।
Shuvo's Math & English Care