05/06/2026
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,
সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ, আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনারা সকলে পবিত্র ঈদুল আজহা অত্যন্ত আনন্দ ও নিরাপত্তার সাথে উদযাপন করেছেন।
আপনাদের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, গত ২৫শে মে থেকে শুরু হওয়া পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে আজকে ৫ই জুন (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর থেকে আমাদের মাদ্রাসার ছাত্রাবাস ও শিক্ষা কার্যক্রম যথারীতি চালু হচ্ছে। অতএব, আপনার সন্তানকে আজকে জুমার নামাজের পর দুপুরের মধ্যেই মাদ্রাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হলো।
দীর্ঘ ছুটির কারণে ছাত্রদের পড়ালেখায় যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে এবং মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখতে আপনাদেরকে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখার অনুরোধ করা যাচ্ছে:
অভিভাবকদের জন্য জরুরি দিকনির্দেশনা ও করণীয়:
১. নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি: আজকে জুমার পর থেকে মাগরিবের আগেই সকল ছাত্র ছাত্রীদেরকে মাদ্রাসায় উপস্থিত করতে হবে। মনে রাখবেন, ৫ই জুন থেকেই মাদ্রাসার মূল পড়াশোনা ও ২৪ ঘণ্টার দৈনিক রুটিন কঠোরভাবে চালু হয়ে যাবে।
২. পড়াশোনার মানসিকতা তৈরি: দীর্ঘ ছুটির আমেজ কাটিয়ে সন্তানকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন। বাড়িতে থাকার কারণে তাদের ঘুমের বা অলসতার যে অভ্যাস তৈরি হয়েছে, তা পরিহার করে ভোর ৪টায় ওঠা ও নিয়মিত রুটিন মানার ব্যাপারে মানসিক সাহস দিন।
৩. পোশাক ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: মাদ্রাসায় পাঠানোর পূর্বে আপনার সন্তানের চুল সুন্নতি তরিকায় সুন্দর করে কাটিয়ে দিন। নখ কাটা, দাঁত ব্রাশ করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সুন্নতি পোশাক পরিধান নিশ্চিত করে বাড়ি থেকে বিদায় দিন।
৪. নিষিদ্ধ সামগ্রী বর্জন: সন্তান যেন ভুলে বা লুকিয়ে মোবাইল ফোন, কোনো প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা অনৈসলামিক কোনো জিনিস মাদ্রাসায় নিয়ে না আসে, সেদিকে কঠোর নজর রাখুন।
৫. নিয়মকানুন মেনে চলার অঙ্গীকার: সন্তানকে বোঝান যে মাদ্রাসার নিয়মকানুন মেনে চলা এবং উস্তাদদের অনুগত থাকা হিফজ সম্পন্ন করার মূল চাবিকাঠি। মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো আচরণ বরদাশত করা হবে না।
আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ, কুরআন হিফজের মজবুতি এবং দ্বীনি পরিবেশ বজায় রাখতে আপনাদের পূর্ণ সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের এই প্রতিষ্ঠানকে কবুল করুন এবং ছাত্রদের ইলমে দ্বীনের বরকত দান করুন। আমীন।
বিনীত,
মুহতামিম ও শিক্ষকমণ্ডলী
মারকাজুল উলূম আল ইসলামিয়া। বাটিকামারী, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ।