01/07/2026
শ্রীকৃষ্ণকে পরমেশ্বর ভগবান বলা হয় কারণ বৈদিক শাস্ত্র তাঁকেই সকল অবতারের উৎস, সর্বোচ্চ ঈশ্বর এবং সমস্ত কারণের কারণ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
১. শাস্ত্রের সরাসরি ঘোষণা
Bhagavad Gita ১০.৮
> অহং সর্বস্য প্রভবো মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে।
"আমি সকল কিছুর উৎস; আমার থেকেই সবকিছু প্রকাশিত হয়েছে।"
এখানে শ্রীকৃষ্ণ নিজেই ঘোষণা করছেন যে তিনিই সবকিছুর মূল উৎস।
২. Srimad Bhagavatam-এর ঘোষণা
১.৩.২৮
> এতে চাংশ-কলাঃ পুংসঃ কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম্।
অর্থ: সকল অবতারই ভগবানের অংশ বা অংশের অংশ, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণই স্বয়ং ভগবান।
এটি বৈষ্ণব দর্শনের অন্যতম প্রধান প্রমাণ।
৩. শ্রীকৃষ্ণের ছয়টি ঐশ্বর্য পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান
Parashara Muni-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী যিনি পূর্ণভাবে এই ছয়টি ঐশ্বর্যের অধিকারী, তিনিই ভগবান—
সম্পদ (ঐশ্বর্য)
শক্তি
যশ
সৌন্দর্য
জ্ঞান
বৈরাগ্য
এই ছয়টি গুণ শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে অসীমভাবে বিদ্যমান।
৪. সকল কারণের কারণ
Brahma Samhita ৫.১
> ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।
অনাদিরাদির্ গোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্॥
অর্থ: পরম ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণ, তাঁর দেহ চিরন্তন, জ্ঞানময় ও আনন্দময়। তিনিই সকল কারণের কারণ।
৫. মহান আচার্যদের মত
A. C. Bhaktivedanta Swami Prabhupada, Ramanuja, Madhvacharya, Vishvanath Chakravarti Thakur প্রমুখ বৈষ্ণব আচার্যগণ শাস্ত্রসম্মতভাবে শ্রীকৃষ্ণকে স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
উপসংহার
শ্রীকৃষ্ণকে পরমেশ্বর ভগবান বলা হয় অন্ধবিশ্বাসের কারণে নয়, বরং বৈদিক শাস্ত্রের সুস্পষ্ট ঘোষণা, তাঁর অসীম ঐশ্বর্য, অতুলনীয় লীলা এবং মহান আচার্যদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।
প্রচারে ব্যবহারের জন্য মূল সূত্র:
গীতা ১০.৮ — "আমি সকল কিছুর উৎস।"
ভাগবত ১.৩.২৮ — "কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম্।"
ব্রহ্মসংহিতা ৫.১ — "ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ... সর্বকারণকারণম্।"
হরে কৃষ্ণ।