25/08/2026
আমি একজন শিক্ষক,মা, গৃহিণী। আর আমার আরও একটি পরিচয় আছে, আমি একজন কৃষক। বিদ্যালয়ের ব্যস্ততা আর সংসারের শত কাজের মাঝেও সুযোগ পেলেই আমি মাটির কাছে ফিরে যাই। কখনো বীজ বুনি, কখনো আগাছা পরিষ্কার করি, কখনো নিজের হাতে সবজি তুলি। মাটিতে হাত লাগাতে আমার কোনো লজ্জা নেই; বরং এতে আমি গর্ব অনুভব করি। কারণ কৃষি শুধু একটি কাজ নয়, কৃষিই আমাদের জীবনধারণের অন্যতম ভিত্তি।
আমার এই কাজগুলো দেখে অনেকেই ভালোবাসা দিয়ে বলেন,
“আপনি শিক্ষক হয়েও এত সুন্দরভাবে কৃষিকাজ করেন, সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।” তবে আমার জীবন শুধু স্কুল, সংসার আর কৃষিকাজেই আটকে নেই।
মাঝেমধ্যে ঘুরতে যাই, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করি, পছন্দের গানের সঙ্গে রিলস বানাই, নিজের ভালো লাগার মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করি।
এসব নিয়েও অনেকের প্রশ্ন—
শিক্ষক হয়ে এসব করা যায়?
শিক্ষক মানুষ, আবার গান দিয়ে রিলস কেন?
শিক্ষক হয়ে কৃষিকাজ করেন কেন?
শিক্ষক হলে কি ঘুরতে যাওয়া, আনন্দ করা যাবে না?
আমার কাছে উত্তরটা খুব সহজ—শিক্ষক হওয়া মানে মানুষ হিসেবে নিজের সব অনুভূতি, আনন্দ আর ভালো লাগাকে বিসর্জন দেওয়া নয়।
একজন শিক্ষকও হাসেন, আনন্দ করেন, ঘুরতে যান, গান শোনেন, নিজের পছন্দের পোশাক পরেন, শখ করেন।
কারণ শিক্ষকতার সঙ্গে ব্যক্তিসত্তাকে মুছে ফেলার কোনো সম্পর্ক নেই।
বরং আমি মনে করি, একজন শিক্ষক যদি নিজেই জীবনকে উপভোগ করতে জানেন, তাহলে তিনি তার শিক্ষার্থীদেরও শেখাতে পারেন—
জীবনে দায়িত্ব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আনন্দ, সৃজনশীলতা, পরিশ্রম আর নিজের স্বপ্নেরও মূল্য আছে।
আমার পছন্দের গানের সঙ্গে একটি রিলস বানালেই আমার শিক্ষক পরিচয় ছোট হয়ে যায় না।
মাঝেমধ্যে ঘুরতে গেলেই আমার দায়িত্ববোধ শেষ হয়ে যায় না।
নিজের হাতে শাক-সবজি ফলালেই আমার পেশার মর্যাদা কমে না।
কারণ আমার পেশা একজন শিক্ষক হওয়া, কিন্তু আমার পুরো জীবনটাই শুধু একটি পেশা নয়। আর আমি একজন মানুষ—তাই আমারও কিছু শখ, ভালো লাগা, আনন্দ আর নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার আছে।
যারা আমার এই সব পরিচয়কে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
আর যারা প্রশ্ন তোলেন, তাদের জন্য শুধু এটুকুই বলব—
আমাকে শুধু আমার পেশা দিয়ে বিচার করবেন না।
আমার কাজগুলো দেখুন, আমার দায়িত্বগুলো দেখুন, আমার ভালো লাগাগুলোও বুঝতে চেষ্টা করুন।
কারণ—
আমি শুধু একজন শিক্ষক নই, আমি একজন পূর্ণ মানুষ; আর আমার প্রতিটি পরিচয় নিয়েই আমি গর্বিত।