05/01/2026
জামিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:-
জামিয়া আরাবিয়া নুরিয়া
মোগরখাল বড় মাদরাসা।
সু-শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। মেরুদন্ড বা শিরদাঁড় ব্যতিত যেরূপ কোন প্রাণির বেঁচে থাকা কঠিন, তদ্রূপ শিক্ষা শিক্ষাবিহীন কোন জাতি সত্ত্বা সুরক্ষিত রাখাও দুস্কর। জাতি সত্ত্বার স্থিতি, উন্নতি বিকাশ দানের জন্য ইসলামের ক্ষেত্রে এর আবশ্যকতা আরো সুতীব্র। কারণ ইসলাম শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনকে নিজ সত্ত্বার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে ঘোষণা দিয়েছে, সকলের জন্য অপরিহার্য ও ফরজ রূপে নির্ধারণ করেছে। মুসলিম জগতের বিগত ইতিহাস সাক্ষী, যেই জনপদে বিশুদ্ধ দ্বীনে শিক্ষার আলো যত বেশি ছড়িয়েছিল, সেই জনপদে মুসলিম সমাজ ইসলামী জীবন-যাপনে ততোধিক পরিমাণে লাভ করেছে হিদায়েতের দিশা। পক্ষান্তরে যেখানে এই নূরটুকু ক্ষীণকায় পরিণত হয়েছে সেখানকার লোকজনের সেই পরিমাণে নিপতিত হতে হয়েছে বিভ্রান্তির অন্ধকারে। ইতিহাসের এই মহা সত্য পূর্বকালে যেমন ছিল বর্তমান কালেও এর বাস্তবতা কোন অংশে কম নয়। আজকের সমূহ অস্থিরতা বস্তুত ইসলামী শিক্ষার অভাবের কারণেই, তাতে কোন সন্দেহ নেই। ইসলামী শিক্ষার এহেন প্রয়োজনীয়তা উপলব্দি করতঃ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী লেহাজ উদ্দীন ভূঁইয়া সাহেব দা.বা. এর একান্ত পরিশ্রম ও সাধনায় কতিপয় সমাজ হিতৈষীর সহযোগীতায় ১৪১৪ হিজরী ১৯৯১ ঈসায়ী সনে ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া নূরিয়া মোগরখাল মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরিচিতি: প্রতিষ্ঠানের নাম: জামিয়া আরাবিয়া নূরিয়া মোগরখাল (বড় মাদরাসা)
ঠিকানা: মোগরখাল, ১৭নং ওয়ার্ড গাজীপুর।
প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম: আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী লেহাজ উদ্দীন ভূইয়া দা.বা. জামিয়ার শিক্ষকমন্ডলী ও স্টাফ: ৫৩ জন, ছাত্র সংখা: ৮০০ জন।
জামিয়ার সিলেবাস
১। কুরআন মাজিদ, হাদিসে নববী, তাফসীর, ফিকহ (আইনশাস্ত্র), কালাম (দর্শন শাস্ত্র), আখলাক (চরিত্র দর্শন), সীরাত ও তারীখ, উসূলে তাফসীর, উসূলে ফিকহ ও তাজবীদ ইত্যাদি।
২। বিভিন্ন ধর্মতত্ত্ব ও মতবাদের তুলনামূলক আলোচনা।
৩। বিভিন্ন ধর্মতত্ত্ব ও মতবাদের তুলনামূলক আলোচনা।
৪। প্রয়োজনীয় অংক শাস্ত্র ও ইংরেজী ভাষা শিক্ষাদান।
জামিয়ার বর্তমান বিভাগ সমূহ
১. নূরানী মডেল একাডেমি
এই বিভাগে অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলি দারা ৪ বছর হতে ৬ বছর পর্যন্ত বয়সের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আরবি বাংলা ইংরেজি বিশুদ্ধ আকারে বিশেষত আরবি বাংলা ইংরেজি ভাষার মাখরাজ সহ শিক্ষা প্রদান। প্লে হতে নার্সারিতে ৪০ টি হাদিস শিক্ষা প্রদান। দৈনন্দিন নামাজের সকল ফরজ ওয়াজিব মাসআলা মাসায়েল শিক্ষা প্রদান।
২. মক্তব বিভাগ: এ বিভাগে শিক্ষার্থীদের বিশেষ ট্রেনিং প্রাপ্ত কারী সাহেবদের মাধ্যমে তাজবীদ সহকারে সহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন মাজীদ শিক্ষাদানের সাথে সাথে জীবনের আবশ্যকীয় পরিমাণ মাসআলা-মাসায়েল, আদব-কায়দা, নিয়ম-নীতি ও আমল-আখলাক শিক্ষা দেওয়া হয়। যাতে এ বিভাগ হতে উত্তীর্ণ কোন শিক্ষার্থীর এ শিক্ষা তার ধর্মীয় জীবনের মূল ভিত্তি হয়ে থাকতে পারে।
তিন বছরের পূর্ণ কোর্সের এ বিভাগে প্রাইমারী পর্যায়ে বাংলা, ইংরেজী, অংক ও দ্বীনিয়াত শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
৩. হিফজ বিভাগ: এ বিভাগে দক্ষ হাফেজে কুরআন দ্বারা হিফজ ইচ্ছুক ছাত্রদেরকে নূন্যতম সময়ের মধ্যে কুরআনের হাফেজ বানানো হয় এবং কিরাআতে বিশেষভাবে পারদর্শী করে গড়ে তোলা হয়।
৪. শুনানী বিভাগ: হুফফাজসহ বিশেষ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত একদল দক্ষ ও অভিক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকার
তত্ত্বাবধানে এই বিভাগ পরিচারিত। কোলাহল মুক্ত আনন্দদায়ক সুন্দর, সাবলীল ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে শিক্ষাদান। দৈনিক নফল নামাযে তেলওয়াতের মাধ্যমে ইয়াদের মান বৃষি করনের প্রচেষ্টা। প্রতি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সবিনা এবং মাসে ১ টি করে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন। আন্তরজার্তিক পুরুস্কার প্রাপ্ত হাফেজদের তিলওয়াত অনুকরনের জন্য প্রতিদিন সাউন্ড বক্সে তিলওয়াত শোনানো।
৫. কিতাব বিভাগ: জামিয়ার প্রধান ও বৃহত্তম বিভাগ এটি। এতে বর্তমানে ৬টি স্তর রয়েছে।
(ক) ইবতি ইবতিদায়ী (প্রাইমারী) ২বছর মেয়াদী
(খ) মোতাওয়াসসিতাহ (মাধ্যমিক) ৩বছর মেয়াদী
(গ) সানাবিয়্যাহ উলইয়াহ (উচ্চ মাধ্যমিক) ২বছর মেয়াদী
(ঘ) ফজীলত (স্নাতক) ২বছর মেয়াদী
(ঙ) তাকমীল বা দাওরায়ে হাদীস ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবী (মাস্টার্স) ১বছর মেয়াদী।
৬. মাদানী নেসাব: কওমি শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক আন্দোলন। সময় সংক্ষেপন
ও মানোন্নয়নের সুপরিকল্পিত চিন্তার আলোকে এর অভিযাত্রা। মাত্র সাত বছরে দাওরায়ে হাদীস সমাপন। এক বছরেই দ্রুত নির্ভুল আরবী লেখা ও ইংরেজী পড়ার পাশাপাশি অনর্গল কথোপকথনের যোগ্যতা অর্জন। কুরআন-সুন্নাহর ব্যাপক প্রচার প্রসারের লক্ষ্যে মাতৃভাষায় পারদর্শী করে গড়ে তোলে। সেই সাথে বিশ্বব্যাপী ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ইংরেজী ও উর্দু ভাষা শিক্ষাদান। সর্বোপরি সার্বক্ষনিক আরবী, ইংরেজী ও বিশুদ্ধ বাংলায় কথা বলা এই নেসাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৭. ইফতা বিভাগ (ইসলামী আইন গবেষণা বিভাগ): মানব জীবনের দৈনন্দিন কার্যাবলী সংক্রান্ত যে সকল সমস্যা সৃষ্টি হয়, সে সব সমস্যার কুরআন, হাদিস ও ইসলামী ফিকহের আলোকে বিশুদ্ধ সমাধান প্রদান করা হয়।
এ বিভাগের বৈশিষ্ট্যাবলী: সিলেবাসভুক্ত কিতাবসমূহের মধ্য থেকে নির্বাচিত কিতাবসমূহ যোগ্য আসাতিযায়ে কেরামের মাধ্যমে পাঠদান। বাকী কিতাবগুলো বিজ্ঞ মুফতিয়ে কিরামের সার্বক্ষনিক তত্বাবধানে মুতালাআ দৈনন্দিন মুহাসাবার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
যোগ্যউস্তাদের সার্বক্ষনিক নেগরানী ও মনোরম পরিবেশে মুতালাআর সুব্যবস্থা। ক্লাস ও মুতালাআ সূচিবদ্ধ নিজামুল আওকাত অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
দারুল ইফতার প্রতিটি সদস্যকে যোগ্য মুফতি হিসাবে গড়ে তোলার জন্য বিষয় ভিত্তিক ফতোয়া তামরীন করানো।
ফিকহে হানাফীর ক্ষেত্রে- পূর্ববর্তী মুফতী ও আকাবীরদের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে ফতোয়া প্রদানে
উসুল (নীতিমালা) শিক্ষাদান।
তিন সেমিষ্টার ভিত্তিক তাদরিস-তামরীন ও মুতালাআর সমাপন।
৮। উচ্চতর আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ: যোগ্য উস্তাদগণের মাধ্যমে আরবী সাহিত্যেও বিভিন্ন
কিতাব পড়ানো হয় এবং কথোপকথন শিখানো হয়।
৯। ছাত্র প্রশিক্ষণ বিভাগ: পাঠ্য সূচির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বহুমুখি প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে ছাত্র প্রশিক্ষনের নিমিত্তে নিম্নোক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
(ক) ছাত্র পাঠাগার: পাঠ্য বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি বিস্তারের লক্ষো বিভিন্নমুখী জ্ঞান-বিজ্ঞানের পুস্তক ও পত্র পত্রিকা সমৃদ্ধ পাঠাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষানুরাগী ও ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা লাভে সমর্থ হলে পাঠাগারটি আরো সমৃদ্ধ হবে।
(খ) দেয়ালিকা: বর্তমান লেখনীয় যুগে বলিষ্ঠ লেখনির মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ ও শিক্ষা প্রচারের যোগ্যতা সৃষ্টির জন্য জামিয়ার শিক্ষার্থীদের আয়োজনে বাংলা, আরবী, উর্দু ও ইংরেজী ভাষার ৪টি দেয়ালিকা প্রকাশের ব্যবস্থা।
(গ) বক্তৃতা প্রশিক্ষণ মজলিস: ইলমে দ্বীন হাসিলের পর বিশাল কর্মক্ষেত্রে দ্বীনের দাওয়াত ও তাবলীগের দায়িত্ব পালনের আবশ্যকতাকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের বাকশক্তির স্ফুরণ ঘটানো এবং আকর্ষনীয় ভাবে দাওয়াত পেশের উদ্দেশ্যে উপযুক্ত শিক্ষকের তত্ত্বাবধায়নে সাপ্তাহিক বক্তৃতা প্রশিক্ষণ মজলিসের সুষ্ঠু ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
১০। কুতুবখানা: যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যেই কুতুবখানা বা লাইব্রেরীর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষত: আমাদের এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের পাঠ প্রদানের পূর্বে শিক্ষকগণ সিলেবাসভুক্ত কিতাবাদী, তার ব্যাখ্যা গ্রন্থ ও সহযোগী পুস্তকাদি গভীর মনোনিবেশ সহকারে অধ্যয়ন করে থাকেন। অন্যদিকে ছাত্রদেরকে ও পাঠ্য পুস্তক শিক্ষাবছরের সমাপ্তি পর্যন্ত ধারে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
১১। লিল্লাহ বোর্ডিং: ধনী ও বিত্তবানদের সন্তানদের সাথে সাথে সমাজের ইয়াতিম, মিসকিন-দরিদ্র ছাত্ররাও যেন দ্বীনি শিক্ষা লাভের সুযোগ হতে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য দ্বীনদরদী ভাইবোনদের প্রদত্ত যাকাত, ফিতরা, সাদকা, মান্নত, কুরবানীর চামড়া বা তার মূল্য, এককালিন দান, প্রভৃতির অর্থ দ্বারা লিল্লাহ বোর্ডিং খাত পরিচালিত হয়ে থাকে। অন্যান্য ছাত্রদের জন্য খরিদি খোরাকির ব্যবস্থাও রয়েছে।
১২। আবাসন ব্যবস্থাপনা: লেখাপড়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠনের উদ্দেশ্য বাইরের লাগামহীন ও প্রতিকূল পরিবেশের প্রভাব হতে মুক্ত রেখে আসাতিযায়ে কেরামের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার উপযোগী আবাসিক ছাত্রাবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আমাদের এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের জন্যে এ ব্যবস্থা একটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যও বটে। অবশ্য আর্থিক অসংগতির কারণে ক্লাশ রুমকেই আপাততঃ ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বতন্ত্র ছাত্রাবাসের প্রয়োজন অবশ্য রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: বয়স্ক শিক্ষা কোর্স: যে সমস্ত শিক্ষিত ভাইয়েরা চাকুরি বা বিভিন্ন পেশায় থাকার দরুন প্রচলিত নিয়মানুসারে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে শিক্ষা গ্রহণের সময়-সুযোগ করে উঠতে পারে না। অথচ সরাসরি মূল থেকে ইসলামকে জানার অনুপ্রেরণা রয়েছে। তাদের অবসর মুহূর্তে ইসলামী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত কোর্সের একটি নৈশ ক্লাশ চালু করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্যে প্রয়োজনীয় মাসায়েল সহ অক্ষর জ্ঞান দানের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দাওরায়ে হাদীস উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঐচ্ছিক পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য নিমোক্ত বিষয় সমূহের তাখাসসুস বিভাগ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। (ক) হাদীস (খ) তাফসীর (গ) আদব (আরবী ও বাংলা সাহিত্য) (ঘ) ইসলামী ইতিহাস (ঙ) ইসলামী দর্শন (চ) দাওয়াত ও প্রচার।
রচনা ও গবেষণা বিভাগ: বাংলা ভাষায় ইসলাম সম্পর্কে আলোচনার পরিসর খুব বেশি বিস্তৃত নয়। আরবী ও উর্দু ভাষার তুলনায় বাংলা ভাষায় ইসলামের ব্যাপকভাবে আলোচনার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে এবং বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে জামিয়ার একটি রচনা ও গবেষণা বিভাগ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আকাবিরদের রচিত কিতাবাদীর অনুবাদ, সংকলন ও এতে অন্তর্ভূক্ত থাকবে।
প্রকাশনা বিভাগ: এ পর্যায়ে একটি উচ্চমানের দ্বীনি মাসিক বাংলা ও আরবী পত্রিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
দানের খাত সমূহ: (কা) সাধারণ তহবিল (খ) লিল্লাহ বোর্ডিং (গ) কুতুবখানা (ঘ) নির্মাণ ও মেরামত।