“রক্তে লেখা শপথ”
আকাশ জুড়ে ধোঁয়া, রাস্তায় রক্তের ধারা,
বাংলার বুক ফুঁড়ে উঠে আসে বিদ্রোহের সুর।
এ মাটি কাঁদে, এ মাটি চিৎকার করে,
“আমার সন্তানের রক্ত বৃথা যাবে না আর!”
সেদিন উত্তপ্ত জুলাইয়ের ভোরে,
দাঁড়িয়ে ছিল আবু সাঈদ—
হাত দুটো প্রসারিত, চোখে আগুনের ঝড়,
অস্ত্রহীন, তবু হাজার সেনার সমান সাহসী।
গুলির শব্দ কানে বাজে বজ্রের মতো,
তবু নড়ে না সে, পা থেকে বুক পর্যন্ত অটল,
কারণ সে জানত—
একজনের মৃত্যু মানেই হাজার প্রাণের জাগরণ।
অন্যপাশে মীর মুগ্ধ—
ক্লান্ত নয়, বরং উদ্যমী হাসি নিয়ে
বণ্টন করছে পানি, বিস্কুট, মমতার অন্ন।
কে জানত, মুহূর্তেই তার মাথায় ঝড় নামবে?
গুলির শিসে লুটিয়ে পড়ল স্বপ্নবাজ তরুণ,
কিন্তু তার রক্তের গন্ধে
জেগে উঠল হাজার শহীদ আর মুক্তির শপথ।
আবু সাঈদ আর মুগ্ধ—
দুজন দু’দিক থেকে হলো এক প্রতীক,
একজনের প্রসারিত হাত বলল—
“আমি হার মানব না।”
আরেকজনের রক্তাক্ত হাসি বলল—
“আমার মৃত্যু মানেই আন্দোলনের জয়ধ্বনি।”
ঢাকার রাজপথ, রংপুরের মাঠ,
চট্টগ্রামের গলি থেকে সিলেটের পাহাড়,
সবখানে বাজে একই স্লোগান—
“যুদ্ধ শেষ হয়নি, লড়াই থামেনি,
রক্তের বিনিময়ে জন্ম নেবে নতুন সকাল।”
এ রক্ত শুধু ক্ষয় নয়,
এ রক্ত হলো বীজ,
যেখান থেকে জন্ম নেবে স্বাধীনতার বৃক্ষ।
আবু সাঈদের দৃষ্টি সেই বৃক্ষের শিকড়,
মীর মুগ্ধের হাসি সেই বৃক্ষের ফুল।
তাদের আত্মত্যাগে রচিত হবে এক নতুন ইতিহাস,
যেখানে বীরত্ব মানে বন্দুক নয়,
বরং বুক পেতে দাঁড়ানো তরুণের অদম্য সাহস।
হে প্রজন্ম, মনে রেখো—
যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি,
শাসকের বুলেট থামাতে পারেনি বিদ্রোহ,
কারণ প্রতিটি রক্তবিন্দু
বাংলার মাটিকে করেছে আরও উর্বর, আরও আগুনময়।
আবু সাঈদ আর মীর মুগ্ধ—
তোমাদের নাম ইতিহাসের পাতায় নয়,
বরং প্রতিটি ছাত্রের শিরায়, প্রতিটি মায়ের প্রার্থনায়,
প্রতিটি রক্তাক্ত পতাকার ভাঁজে,
চিরজীবন বাজবে বিদ্রোহের মিছিল হয়ে।
Ridwan Rifat
Sirat ul Haq সত্যের পথ
"পথ দেখায় আলোর, জীবনে সত্যের নথি। ইসলামিক শিক্ষা ও প্রেরণার জন্য।"
আমি অগ্নিস্বর — ওসমান হাদীর গান
Ridwan Hossain Rifat
আমি বিদ্রোহী—আমার কণ্ঠে ঘূর্ণিঝড়ের ঢাক,
আমি অগ্নিস্বর—আমার শিরায় শিরায় জাগে ধাক্কা।
আমি প্রশ্ন—কেন নতজানু আকাশ, কেন চুপ নদী?
আমি নাম—রাজপথের ধ্বনি, আমি ওসমান হাদী।
আমি বজ্র—নীরবতার বুকে ফাটাই ফাটল,
আমি আগুন—অন্যায়ের কপালে আঁকি কালো দাগ।
আমি সেই হাঁটা, যে থামে না কাঁটার পথে,
আমি সেই কথা, যে ভাঙে তালা ভয়ের গেটে।
আমার চোখে ইতিহাস—লাল রক্তে লেখা,
আমার হাতে ভবিষ্যৎ—শপথে আঁটা রেখা।
যে শাসন শোষণে পোষে অন্ধকারের বাসা,
আমি তার নামহীন মুখে ছুঁড়ে দিই আলো-ভাষা।
আমি ঢেউ—আমি জোয়ার—আমি কালের ডাকে সাড়া,
আমি ছাই থেকে ওঠা শিখা, আমি শেকল-ভাঙা নারা।
আমি গান—গুলির শব্দেও থামে না সুর,
আমি প্রাণ—দেয়াল ভেদ করে ওঠা মানুষের হুর।
ওসমান হাদী—এক নাম নয়, এক জ্বালা,
একটি মশাল—হাজার হাতে ঘোরে তার জ্বালা।
তার হাঁটায় ছিল দৃঢ়তা, কথায় ছিল তেজ,
তার নীরবতায়ও গর্জাত প্রতিজ্ঞার দেশ।
আমি শিখেছি তার থেকে—ভয় মানে শত্রু,
আমি শিখেছি—সত্যের পথে একাই হোক শুরু।
আমি শিখেছি—কলমও হতে পারে তরবারি,
আমি শিখেছি—গান দিয়েও ভাঙে কারাগারি।
আমি বলি—হে সময়, আর কত দেরি?
আমি বলি—হে মানুষ, উঠো, দাও জবাবের ঝড়ি।
এই মাটি কাঁদে—শোনো তার দগ্ধ শ্বাস,
এই আকাশ চায়—নতুন দিনের উল্লাস।
আমি বিদ্রোহী—আমি অঙ্গার—আমি দহন,
আমি প্রশ্ন—আমি উত্তর—আমি পুনর্জন্ম।
আমি ভাঙি না মানুষ—আমি ভাঙি শৃঙ্খল,
আমি শত্রু নই জীবনের—আমি অন্যায়ের কঙ্কাল।
রাজপথ আমার পাঠশালা—আমি শিখি দাঁড়িয়ে,
গণমানুষের চোখে চোখ রেখে সত্য বলি হেঁটে।
আমি জানি—রক্ত গরম হলে জন্ম নেয় আলো,
আমি জানি—অন্ধকার ভাঙে আগুনের ভালো।
ওসমান হাদী—তুমি একা নও আজ,
তোমার নামে জাগে হাজার কণ্ঠের বাজ।
তোমার স্বপ্ন হাঁটে আমাদের শিরায়,
তোমার শপথ জ্বলে আমাদের চিরায়।
আমি শেষ বলি—যুদ্ধ শেষ নয়, শেষ হবে না,
যতদিন অন্যায় আছে—বিদ্রোহ থাকবে সোনা।
আমি বিদ্রোহী—আমি অগ্নিস্বর—আমি অনন্ত,
আমি মানুষের পক্ষে—আমি আগুনের শপথ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Gazipur
1712