11/08/2026
----- সকল অভিভাবকদের ও ছাত্র ছাত্রীদের জন্য ------
সম্পূর্ণ পড়ার অনুরোধ রইল
এবছর প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী SSC-তে ফেল করেছে! পাশের হার ৬২ শতাংশ।
এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে আলোচনা হবে, নানা পক্ষকে দায়ী করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষা ব্যবস্থা, এমনকি রাষ্ট্রকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। কিন্তু একটা দায়ভার কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, তা হলো নিজ নিজ মা-বাবার ভূমিকা এবং দায়িত্ব।
প্রতিটি শিক্ষার্থীর ফেলের দায়ভার স্ব-স্ব মা-বাবাকেই বহন করতে হবে।
সন্তান মোবাইল চাইল— কিনে দিন।
বাইক চাইল— কিনে দিন।
দামি ফোন চাইল— কেনার সামর্থ্য থাকুক বা না থাকুক, কিনে দিন।
কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে ঘুরছে, কখন বাড়ি ফিরছে কোনো খবর নাই।
তারপর সন্তান পড়াশোনা না করলে, রেজাল্ট খারাপ করলে বলুন— শিক্ষাব্যবস্থা খারাপ, শিক্ষকরা ভালো পড়ান না, স্কুলের সমস্যা, কারিকুলামে সমস্যা, কোচিংয়ের সমস্যা.......
পড়াশোনার এই ধাপ কিন্তু আমরাও পেরিয়ে এসেছি। আমাদের সময় বাটন মোবাইল ছিল। ইন্টারনেট তখন ছিল অনেকের কাছে অতিরঞ্জিত বিলাসিতা, প্রায় কল্পনাতীত একটি বিষয়। বাটন মোবাইলে একটা সাপ গেম আর দু-একটা পাজল গেম, এর বেশি কিছু ছিল না। মাগরিবের আজানের পর বাড়ির বাইরে থাকার কথা কল্পনাও করতাম না। কোথায় আছি, কখন ফিরব— এসব নিয়ে বাবা-মায়ের সামনে প্রতিনিয়তই জবাবদিহি করতে হতো।
আর বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ছেলে-মেয়ের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে— স্কুলে, কোচিংয়ে, প্রাইভেটে, ক্লাসে, পরীক্ষায়, উঠতে, বসতে, খেতে, ঘুরতে, ঘুমাতে যাওয়ার আগে, ঘুম থেকে ওঠার পর সর্বাবস্থায় মোবাইল চাই! কারও কারও অবস্থা এমন যে, মোবাইল ছাড়া হয়তো ঠিকমতো টয়লেটেও যাওয়া হয় না!
ঘুম থেকে ওঠে সকাল ৯টায়,
রাতে ঘুমাতে যায় ২টায়,
বিকেল-সন্ধ্যা বাইরে ঘোরাঘুরি করে আর রাত ১০টায় পর বাসায় ফিরে।
তারপর পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হলে শুরু হয় দায় চাপানোর প্রতিযোগিতা।
শিক্ষক দায়ী।
স্কুল দায়ী।
কোচিং দায়ী।
শিক্ষাব্যবস্থা দায়ী।
রাষ্ট্র দায়ী।
শুধু পরীক্ষার্থী আর তার অভিভাবকই দায়ী নয়!
প্রযুক্তির ব্যবহার কখনোই অন্যায় নয়। বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে প্রযুক্তি শিক্ষার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু প্রযুক্তির অপব্যবহার অবশ্যই অন্যায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা ধ্বংসের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সন্তানের হাতে প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার আগে তাকে প্রযুক্তি ব্যবহারের শিক্ষা দিতে হবে। সন্তানকে স্বাধীনতা দেওয়ার আগে দায়িত্বশীল হতে শেখাতে হবে।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সন্তান কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, কতক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করছে, কখন ঘুমাচ্ছে এবং পড়াশোনায় কতটা সময় দিচ্ছে—এসবের খোঁজ নেওয়ার দায়িত্ব মা-বাবারই।
সন্তানকে সবকিছু কিনে দিয়ে, তার সব আবদার পূরণ করে, সবধরনের স্বাধীনতা দিয়ে তারপর ফলাফল খারাপ হলে শিক্ষক ও রাষ্ট্রকে দায়ী করলে সমস্যার সমাধান হবে না।
সন্তানের ভবিষ্যৎ শুধু স্কুলের হাতে নয়; তার সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার নিজের পরিবার।
আর সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হলেন মা ও বাবা।
Copy post