19/08/2026
🌙 রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনচরিত
জন্ম থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত — কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
রাসূলুল্লাহ মুহাম্মাদ ﷺ-এর জীবন ছিল মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জন্ম, শৈশব, যৌবন, বিবাহ, নবুওয়াত, দাওয়াত, মক্কার নির্যাতন, হিজরত, মদিনার জীবন, যুদ্ধ, মক্কা বিজয়, বিদায় হজ এবং ইন্তেকাল—প্রতিটি অধ্যায়েই রয়েছে উম্মতের জন্য অসংখ্য শিক্ষা।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
«لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
“নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।”
📖 সূরা আল-আহযাব ৩৩:২১»
---
🕋 ১. রাসূল ﷺ-এর বংশ ও জন্ম
রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন কুরাইশের বনি হাশিম বংশের সন্তান।
তিনি নিজেই বলেছেন:
«“নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে, কুরাইশ থেকে বনি হাশিমকে এবং বনি হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।”»
📚 সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৭৬
তাঁর জন্ম সোমবারে হয়েছিল—এটি রাসূল ﷺ নিজেই জানিয়েছেন।
তিনি সোমবারের রোজা সম্পর্কে বলেছিলেন:
«“এটি সেই দিন যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমার ওপর ওহি নাজিল করা হয়েছে।”»
📚 সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২e
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: রাসূল ﷺ-এর জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ—যেমন ১২ রবিউল আউয়াল—সহিহ হাদিস দ্বারা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। তাই নিশ্চিত দলিল ছাড়া নির্দিষ্ট তারিখকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
---
👶 ২. শৈশব ও এতিম জীবন
রাসূল ﷺ জন্মের আগেই তাঁর পিতা আবদুল্লাহকে হারান। ফলে তিনি জন্মের পর থেকেই পিতৃহীন ছিলেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
«أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآوَىٰ
“তিনি কি তোমাকে এতিম অবস্থায় পাননি? অতঃপর আশ্রয় দিয়েছেন।”»
📖 সূরা আদ-দুহা ৯৩:৬
এরপর আল্লাহ বলেন:
«“তিনি তোমাকে অভাবগ্রস্ত পেয়েছেন, অতঃপর সচ্ছল করেছেন।”»
📖 সূরা আদ-দুহা ৯৩:৮
এখানে আমাদের জন্য শিক্ষা হলো—মানুষের জীবনের শুরু কঠিন হলেও আল্লাহ চাইলে সেই জীবনকে বিশ্বমানবতার জন্য আদর্শে পরিণত করতে পারেন।
---
🌿 ৩. যৌবনে রাসূল ﷺ-এর চরিত্র
নবুওয়াতের আগেই তিনি মানুষের কাছে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর সততা, আমানতদারি ও উত্তম চরিত্র তাঁকে মানুষের কাছে সম্মানিত করে তুলেছিল।
রাসূল ﷺ-এর নবুওয়াত-পূর্ব চরিত্রের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো—নবুওয়াতের প্রথম ওহির পর খাদিজা (রাঃ) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে তাঁর ভালো গুণগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি বলেন:
«“আল্লাহ কখনো আপনাকে অপমান করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, অসহায়দের সাহায্য করেন, দরিদ্রদের উপকার করেন, অতিথির আপ্যায়ন করেন এবং বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করেন।”»
📚 সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৩
---
💍 ৪. খাদিজা (রাঃ)-এর সঙ্গে বিবাহ
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনে খাদিজা (রাঃ) ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ।
নবুওয়াতের পূর্বে তাঁদের বিবাহ হয়। খাদিজা (রাঃ) ছিলেন তাঁর জীবনের প্রথম স্ত্রী এবং তাঁর জীবদ্দশায় রাসূল ﷺ অন্য কোনো নারীকে বিবাহ করেননি।
আয়িশা (রাঃ) বলেন:
«“রাসূলুল্লাহ ﷺ খাদিজা (রাঃ)-এর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর ওপর আর কোনো নারীকে বিবাহ করেননি।”»
📚 সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৩৬
খাদিজা (রাঃ)-এর মর্যাদা সম্পর্কে রাসূল ﷺ বলেছেন:
«“তাঁর যুগের নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন মারইয়াম; আর তাঁর যুগের নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন খাদিজা।”»
📚 সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৩০
📚 সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৩৮১৫
❤️ খাদিজা (রাঃ)-এর সবচেয়ে বড় অবদান
প্রথম ওহির পর রাসূল ﷺ যখন ভীত অবস্থায় ঘরে ফিরে আসেন, খাদিজা (রাঃ) তাঁকে সাহস দেন। তিনি তাঁর চরিত্রের ভালো দিকগুলো স্মরণ করিয়ে বলেন—আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমান করবেন না।
📚 সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৩
এ থেকে শিক্ষা:
একজন ভালো জীবনসঙ্গী শুধু সুখের সময়ের সঙ্গী নন; বিপদের সময়েও তিনি ঈমান, সাহস ও সত্যের পথে সহযোগী হন।
---
🕋 ৫. কাবা পুনর্নির্মাণ ও হাজরে আসওয়াদ
নবুওয়াতের আগে কুরাইশরা কাবা পুনর্নির্মাণ করেছিল। হাজরে আসওয়াদ কে স্থাপন করবে—এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
রাসূল ﷺ তখন এমন একটি সমাধান দেন যাতে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সংঘর্ষ না ঘটে।
এ ঘটনাটি সীরাতের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে এখানে একটি সতর্কতা জরুরি—এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সীরাতের গ্রন্থগুলোতে ব্যাপকভাবে এসেছে, কিন্তু প্রচলিত সব বর্ণনার সনদ সমান শক্তিশালী নয়। তাই বিস্তারিত অংশকে “সহিহ বুখারির হাদিস” বলে প্রচার করা ঠিক নয়।
---
🌙 ৬. হেরা গুহায় নির্জনতা
নবুওয়াতের আগে রাসূল ﷺ হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং ইবাদত করতেন।
আয়িশা (রাঃ) বলেন:
«“প্রথমে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে ওহির সূচনা হয়। এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় করে দেওয়া হয়। তিনি হেরা গুহায় গিয়ে ইবাদত করতেন...”»
📚 সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৩
---
📖 ৭. ৪০ বছর বয়সে প্রথম ওহি
হেরা গুহায় একদিন ফেরেশতা জিবরীল (আঃ) এসে বলেন:
“ইকরা—পড়ুন!”
রাসূল ﷺ বলেন:
“আমি পড়তে জানি না।”
এরপর সূরা আলাকের প্রথম আয়াতগুলো নাজিল হয়:
«اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ
“পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।”»
📖 সূরা আল-আলাক ৯৬:১–৫
প্রথম ওহির ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে এসেছে:
📚 সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৩
---
😢 ৮. খাদিজা (রাঃ)-এর সান্ত্বনা
প্রথম ওহির পর রাসূল ﷺ ভীত অবস্থায় খাদিজা (রাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে বলেছিলেন:
“আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।”
খাদিজা (রাঃ) তাঁকে ঢেকে দেন। এরপর রাসূল ﷺ ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বলেন:
“কখনোই নয়! আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমান করবেন না।”
এরপর তিনি রাসূল ﷺ-এর গুণাবলি উল্লেখ করেন।
📚 সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৩
---
📜 ৯. ওয়ারাকা ইবন নওফলের কাছে যাওয়া
খাদিজা (রাঃ) রাসূল ﷺ-কে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবন নওফলের কাছে নিয়ে যান।
রাসূল ﷺ-এর ঘটনা শুনে ওয়ারাকা বলেন যে এটি সেই ফেরেশতা, যিনি মূসা (আঃ)-এর কাছে এসেছিলেন।
📚 সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৩
---
🤫 ১০. প্রথম দিকে গোপনে দাওয়াত
ওহি নাজিল হওয়ার পর রাসূল ﷺ মানুষকে আল্লাহর একত্ব ও ইসলামের দিকে আহ্বান শুরু করেন।
প্রথমদিকে দাওয়াত সীমিত পরিসরে ছিল। এরপর প্রকাশ্য দাওয়াতের নির্দেশ আসে।
আল্লাহ বলেন:
«وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
“আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।”»
📖 সূরা আশ-শু‘আরা ২৬:২১৪
---
📢 ১১. প্রকাশ্য দাওয়াত
এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর রাসূল ﷺ কুরাইশকে প্রকাশ্যে সতর্ক করেন।
তিনি সাফা পাহাড়ে উঠে কুরাইশকে ডাকেন। মানুষ যখন তাঁর চারপাশে সমবেত হলো, তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন—তিনি যদি বলেন যে পাহাড়ের পেছনে একটি বাহিনী আসছে, তারা কি তাঁকে বিশ্বাস করবে?
তারা বলল—আমরা আপনাকে কখনো মিথ্যা বলতে শুনিনি।
তখন রাসূল ﷺ তাদের আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করেন।
📚 সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৪৯৭১
---
🔥 ১২. আবু লাহাবের বিরোধিতা
রাসূল ﷺ যখন প্রকাশ্যে মানুষকে সতর্ক করলেন, আবু লাহাব তাঁর বিরোধিতা করল।
এরপর নাজিল হয়:
«تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ
“ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক।”»
📖 সূরা আল-মাসাদ ১১১:১
এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বর্ণনা রয়েছে:
📚 সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৪৯৭১
---
🥀 ১৩. মক্কায় নির্যাতন
তাওহীদের দাওয়াত গ্রহণ করার কারণে সাহাবিদের ওপর কঠিন নির্যাতন শুরু হয়।
কিন্তু রাসূল ﷺ দাওয়াত থেকে পিছিয়ে যাননি।
আল্লাহ বলেন:
«فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ
“আপনাকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করুন।”»
📖 সূরা আল-হিজর ১৫:৯৪
রাসূল ﷺ-এর জীবনের মক্কী অধ্যায় আমাদের শেখায়—
সত্যের পথে চললে পরীক্ষা আসতে পারে, কিন্তু পরীক্ষার কারণে সত্যের পথ ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
---
❤️ ১৪. খাদিজা (রাঃ) ও আবু তালিবের ইন্তেকাল
মক্কার দাওয়াতের কঠিন সময়ে রাসূল ﷺ তাঁর প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রাঃ)-কে হারান। তাঁর চাচা আবু তালিবও ইন্তেকাল করেন।
খাদিজা (রাঃ)-এর মৃত্যু রাসূল ﷺ-এর জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টের।
এই সময়ের পর মক্কার বিরোধিতা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
---
🏔️ ১৫. তায়েফের ঘটনা
রাসূল ﷺ তায়েফে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে তাঁকে প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং কষ্ট দেওয়া হয়।
তবুও তিনি তাদের জন্য ধ্বংসের বদলে হিদায়াতের আশা করেছিলেন।
এখান থেকে আমরা শিখি—
দাওয়াতের কাজে প্রত্যাখ্যান এলেও ধৈর্য হারানো যাবে না।
---
🌌 ১৬. ইসরা ও মিরাজ
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা মুহাম্মাদ ﷺ-কে রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যান।
আল্লাহ বলেন:
«سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا
“পবিত্র ও মহিমান্বিত তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন...”»
📖 সূরা আল-ইসরা ১৭:১
মিরাজের ঘটনায় পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ হওয়ার বিষয়টি সহিহ হাদিসে বিস্তারিত এসেছে।
---
🕌 ১৭. মদিনার দিকে হিজরত
মক্কায় দীর্ঘ দাওয়াত ও নির্যাতনের পর আল্লাহ রাসূল ﷺ-কে মদিনায় হিজরতের অনুমতি দেন।
আবু বকর (রাঃ) তাঁর সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি চান এবং রাসূল ﷺ বলেন:
“হ্যাঁ।”
📚 সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৩৯০৫
হিজরত আমাদের শেখায়—
আল্লাহর জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করলে আল্লাহ তার চেয়ে উত্তম কিছু দিতে পারেন।
---
🕌 ১৮. মদিনায় ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা
মদিনায় গিয়ে রাসূল ﷺ শুধু একজন ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে থাকেননি; তিনি একটি ন্যায়ভিত্তিক মুসলিম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি—
• মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন
• মুহাজির-আনসারের ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন
• ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন
• মানুষকে কুরআন শিক্ষা দেন
• ইসলামের বিধান বাস্তবায়ন করেন।
---
⚔️ ১৯. বদর, উহুদ ও খন্দক
মদিনার জীবনে মুসলিমদের বিভিন্ন যুদ্ধের সম্মুখীন হতে হয়।
বদর মুসলিমদের জন্য ঐতিহাসিক বিজয় হয়ে আসে।
উহুদে মুসলিমরা কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়।
খন্দকে সম্মিলিত শত্রুবাহিনী মদিনা আক্রমণ করে।
এসব ঘটনায় রাসূল ﷺ-এর নেতৃত্ব, ধৈর্য, পরামর্শ গ্রহণ এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের অসাধারণ দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।
---
🤝 ২০. হুদায়বিয়ার সন্ধি
হুদায়বিয়ার সন্ধি প্রথম দেখায় অনেক সাহাবির কাছে কঠিন মনে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এটি ইসলামের জন্য বড় বিজয়ের দরজা খুলে দেয়।
আল্লাহ বলেন:
«إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِينًا
“নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।”»
📖 সূরা আল-ফাতহ ৪৮:১
---
🕋 ২১. মক্কা বিজয়
একসময় সেই মক্কাই রাসূল ﷺ-এর সামনে বিজিত হয়ে গেল, যে মক্কা তাঁকে ও তাঁর সাহাবিদের নির্যাতন করেছিল।
ক্ষমতা হাতে আসার পরও তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেননি।
এটি তাঁর ক্ষমাশীলতা ও নেতৃত্বের অন্যতম বড় দৃষ্টান্ত।
---
🌍 ২২. সমগ্র মানবজাতির জন্য রাসূল
আল্লাহ বলেন:
«وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِّلنَّاسِ
“আমি আপনাকে সমগ্র মানুষের জন্যই রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছি।”»
📖 সূরা সাবা ৩৪:২৮
আর আল্লাহ বলেন:
«وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
“আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি।”»
📖 সূরা আল-আম্বিয়া ২১:১০৭
---
🕋 ২৩. বিদায় হজ
জীবনের শেষ দিকে রাসূল ﷺ বিদায় হজ পালন করেন।
তিনি মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন এবং আল্লাহর ভয় ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেন।
তিনি উম্মতকে আল্লাহর বিধান আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেন।
---
🌙 ২৪. জীবনের শেষ দিনগুলো
রাসূল ﷺ শেষ জীবনে অসুস্থ হন। তাঁর শেষ সময়ের ঘটনাগুলো সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বিস্তারিতভাবে এসেছে।
তিনি তাঁর শেষ সময়ে বারবার নামাজের ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন।
এ থেকে বোঝা যায়—
একজন মুসলিমের জীবনে সালাতের গুরুত্ব কত গভীর।
---
🕊️ ২৫. রাসূল ﷺ-এর ইন্তেকাল
রাসূলুল্লাহ ﷺ ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
📚 সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৪৮
আয়িশা (রাঃ) থেকেও ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকালের বর্ণনা এসেছে।
📚 সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৩৫৩৬
তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর ইন্তেকাল ছিল উম্মতের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক মুহূর্ত।
---
📖 ২৬. রাসূল ﷺ-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর (রাঃ)-এর বক্তব্য
রাসূল ﷺ-এর ইন্তেকালের সংবাদে সাহাবিরা শোকাহত হয়ে পড়েন।
আবু বকর (রাঃ) মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেন:
«“যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ ﷺ-এর ইবাদত করত, সে জেনে রাখুক—মুহাম্মাদ ﷺ ইন্তেকাল করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না।”»
এরপর তিনি পাঠ করেন:
«“মুহাম্মাদ তো একজন রাসূল মাত্র; তাঁর পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছেন...”»
📖 সূরা আলে ইমরান ৩:১৪৪
---
🌹 রাসূল ﷺ-এর জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনী শুধু পড়ার জন্য নয়—জীবনে বাস্তবায়নের জন্য।
আমাদের উচিত—
✅ তাওহীদকে আঁকড়ে ধরা
✅ শিরক থেকে বেঁচে থাকা
✅ কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ অনুসরণ করা
✅ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রতিষ্ঠা করা
✅ সত্যবাদী হওয়া
✅ আমানত রক্ষা করা
✅ বাবা-মা ও আত্মীয়ের হক আদায় করা
✅ গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করা
✅ বিপদে ধৈর্য ধারণ করা
✅ মানুষের প্রতি দয়া করা
✅ অন্যায় ক্ষমা করতে শেখা
✅ আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা
✅ রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহকে ভালোবাসা ও অনুসরণ করা।
❤️ রাসূল ﷺ-কে ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ
আল্লাহ বলেন:
«قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ
“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।”»
📖 সূরা আলে ইমরান ৩:৩১
রাসূল ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু মুখের দাবি নয়—তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করাই সেই ভালোবাসার প্রমাণ।
🤲 হে আল্লাহ! আমাদেরকে মুহাম্মাদ ﷺ-এর সত্যিকারের উম্মত হিসেবে কবুল করুন এবং কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দিন। আমীন।
📚 প্রধান সূত্র
সহিহ আল-বুখারি: ৩, ৩৯০৫, ৩৫৩৬, ৩৮১৫, ৪৯৭১
সহিহ মুসলিম: ১১৬২e, ২২৭৬, ২৩৪৮, ২৪৩০, ২৪৩৬
কুরআন: ৩:২১, ৩:৩১, ৯৩:৬–৮, ১৭:১, ২১:১০৭, ২৬:২১৪, ৩৩:২১, ৩৪:২৮, ৪৮:১, ৯৬:১–৫, ১১১:১