16/06/2026
কয়েকদিন আগে একটি পরিচালক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ক্লাস নেওয়ার সময় কয়েকজন পরিচালক একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরেন।
সমস্যাটি হলো, কিছু অভিভাবক প্রায় প্রতি বছরই বিভিন্ন অজুহাতে সন্তানদের এক মাদ্রাসা থেকে অন্য মাদ্রাসায় স্থানান্তর করেন। ভর্তি হওয়ার সময় নানা সমস্যার কথা বলে পরিচালকদের সহানুভূতি আদায় করেন, সামান্য কিছু টাকা জমা দিয়ে ভর্তি করান। এরপর কয়েক মাস বেতন বকেয়া রাখেন। যখন পাওনার বিষয়টি সামনে আসে, তখন হঠাৎ অন্য মাদ্রাসায় সন্তানকে ভর্তি করিয়ে দেন।
পরবর্তীতে পাওনা অর্থের জন্য যোগাযোগ করা হলে কেউ ফোন ধরেন না, কেউ উল্টো তর্ক-বিতর্ক করেন, কেউ আবার মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা হুমকি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন।
এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্যায় নয়, বরং একটি আমানতের খিয়ানত।
একটু চিন্তা করে দেখুন—
আপনার সন্তানকে প্রতিদিন প্রায় আবাসিক মাদ্রাসায়
১০ ঘন্টা কেয়ারিং ও ১৪ ঘণ্টা পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সর্বমোট ২৪ ঘন্টা।
১. ধরুন, সন্তানকে পড়ানোর জন্য সর্বনিম্ন ওস্তাদের পড়ানোর বেতন ১০০০- ২০০০ টাকা
২. গ্যাস,বাবুর্চির রান্না খরচসহ ৩বেলা খাওয়া-দাওয়া, মাসে সর্বনিম্ন ৩০০০-৪০০০ টাকা।
৩. ঘুম, গোসল, নামাজ ও সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানের খরচ কেয়ারটেকিং এর জন্য একজন কর্মচারীর সর্বনিম্ন খরচ আসবে ৫০০০/- টাকা।
৪. আবাসিক থাকার বিল সর্বনিম্ন ৫০০-১০০০/-
৫.বিদ্যুৎ বিল, আইপিএস, জেনারেটর ও অন্যান্য সেবার ব্যয় সর্বনিম্ন ৩০০- ৫০০ টাকা /-
৬.পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধরুন আরো সর্বনিম্ন ৩০০/- টাকা
সব মিলিয়ে একজন ছাত্রের পেছনে মাসিক সর্বনিম্ন কয়েক হাজার টাকা ব্যয় হয়। এই অর্থ তো আকাশ থেকে আসে না। কোনো পরিচালক নিজের সম্পদ বিক্রি করে বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যেতে পারেন না।
অথচ আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুল-কলেজ বা বিভিন্ন আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর জন্য হাজার হাজার, এমনকি লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকি। কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা প্রদানকারী একটি খেদমতী প্রতিষ্ঠানের ন্যায্য পাওনা দিতে গেলে অনেকের আপত্তি দেখা যায়।
মনে রাখা উচিত, মুসলমানের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা হলো কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা। যে প্রতিষ্ঠান আমাদের সন্তানদের দ্বীন, আখলাক ও চরিত্র গঠনের কাজ করছে, তাদের প্রতি সহযোগিতা, সম্মান ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করা আমাদের ঈমানি কর্তব্য।
অভিভাবকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ—যদি কোনো সমস্যা থাকে, তা খোলামেলা আলোচনা করুন। কিন্তু বকেয়া রেখে পালিয়ে যাওয়া, মিথ্যা অভিযোগ করা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার চেষ্টা করা কোনোভাবেই একজন সচেতন মুসলমানের চরিত্র হতে পারে না।
যে সন্তানকে সততা, দায়িত্ববোধ ও আমানতদারির শিক্ষা দিতে চান, প্রথমে অভিভাবক হিসেবে নিজের আচরণে সেই শিক্ষার উদাহরণ স্থাপন করুন।
✍️Najmul Islam Mujahid Naqshabandi