22/09/2026
আইনমন্ত্রীর বেআইনি কথার ব্যাখ্যা কী?
— আল্লামা ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী
আইনমন্ত্রীর একটি বক্তব্যে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। বিভিন্ন মহল থেকে আমাদেরকে নক করা হচ্ছে এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য কী? শুরুতেই বলবো, ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। ইসলামের যেকোনো বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য পরিপূর্ণ ও পর্যাপ্ত জ্ঞানের প্রয়োজন আছে। আইনমন্ত্রী সেরকম জ্ঞান রাখেন কিনা— সেটাই বড় প্রশ্ন। আর যখন তিনি ইন্টারমিডিয়েটে ছিলেন তখন তো তিনি অপরিপক্কই ছিলেন। সে সময় তিনি যে কথাটি বলেছিলেন, তার উত্তরটি ভুল ছিল। আর আইন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই ভুলটি আবার তিনি উচ্চারণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে একরকম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ফেললেন। আমি জানি না —এটা বর্তমান সরকারের জন্য কতটা সুখকর হবে।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, খুন-খারাবি, আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি, মূল্যস্ফিতি—এসব কারণে জনগণের বেঁচে থাকাটাই দুর্বিষহ, বিরোধী দল প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মাঠ গরম করতে ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে আইন মন্ত্রী এরকম বক্তব্য দিলেন কেন— সেটা আমার একটি প্রশ্ন।
ইসলাম হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। আর ইসলামের মূল সনদ হচ্ছে কুরআন এবং সুন্নাহ। পবিত্র কুরআনুল কারীমের আজমতের দিকে লক্ষ্য করে কুরআন কারীমকে সরাসরি সংবিধান বলে আখ্যায়িত করা কুরআন কারীমের সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে যায় না। সেজন্য কুরআন কারীমকে আল্লাহ তায়ালা যেসব বিশেষণে বিশেষিত করেছেন আমরা সেভাবেই বলবো— যেমন: কুরআন মাজীদ, কুরআন হাকিম, تِبْيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ । কিন্তু কুরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না— এটিও একটি চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তি। এর মাধ্যমে আইনের মূল উৎস হবে আল্লাহর কুরআন, সেটাকেই অস্বীকার করা হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা স্পষ্ট করে ঘোষণা দিয়েছেন,
وَمَن لَّمۡ یَحۡكُم بِمَاۤ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُو۟لَـٰۤىِٕكَ هُمُ ٱلۡكَـٰفِرُونَ ٤٤ [المائدة ٤٤]
আল্লাহ কুরআনে যা নাজিল করেছেন, সে অনুযায়ী যারা বিচার কার্য সম্পাদন করবে না, নিঃসন্দেহে তারা কাফের বা অবিশ্বাসী।
অতএব আইন মন্ত্রী যে উক্তি করেছে, তা শুধু ধৃষ্টতাপূর্ণ নয়; বরং এক প্রকার কুফর।
আর "কুরআনের আলোকে সংবিধান করতে পারি কিন্তু কুরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না" এ কথা বলার দ্বারা একমাত্র উৎস হিসেবে কুরআনকে বাদ দেওয়াই উদ্দেশ্য। অর্থাৎ, সেক্ষেত্রে কুরআন সহ আরও অন্যান্য সোর্স থেকে সংবিধান রচিত হবে; যদিও সেটা কুরআনের বিপক্ষে যায়।
—এটাই যদি আইন মন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে এটা তার সুস্পষ্ট কুফর হয়েছে। আমরা তার কাছে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাই। ভবিষ্যতে ইসলাম রিলেটেড যে কোন বিষয়ে বক্তব্য রাখার ব্যাপারে তাকে যথেষ্ট পড়াশোনা করতে হবে এবং ইসলামী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে। আশা করি আইনমন্ত্রী বিষয়টি আমলে নিবেন।
জামা’য়াতের সাবেক নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের বইতে কি আছে, আর মন্ত্রী কি পড়েছেন— তা আমার জানা নেই। ইসলামী গণতন্ত্রের নামে ইসলামী শরীয়াহ রাষ্ট্রের বিরোধিতা, তারপরে ইসলামের মৌলিক বিষয় থেকে সরে আসা, মূলত এই বিভ্রান্তিকর উক্তি জামায়াতের লোকই বলে গিয়েছে। অতএব আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের বক্তব্যের দায়িত্ব জামা’য়াতকেই নিতে হবে।
মন্ত্রীসহ সকলের অবগতির জন্য যে কথাটি বলছি—প্রতিটি মুসলমান ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশ্বাসী এবং খেলাফাহ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা মুসলমানদের উপর ফরজ; যদিও এটা ফরজে কিফায়া। ইসলামী শরীয়াহ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংবিধানের মূল উৎস নিতে হবে কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে, এই কথাতে যদি আইন-মন্ত্রীর কোন দ্বিমত থাকে তাহলে অবশ্যই তাকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তওবা করতে হবে।(এনায়েতউল্লাহ আববাসী কপি পোস্ট)