12/09/2024
ঢাবিতে গণবিবাহের আয়োজন হচ্ছে মাশাল্লাহ!!
এদের মধ্যে যারা পারিবারিকভাবে বিয়ের জন্য প্রস্তাব করেছেন, তাদের জন্য শুভকামনা এবং অফুরন্ত দোয়া....
বাট, যারা পরিবারকে না জানিয়েই বিয়ে করতে চাচ্ছেন- তাদের জন্য কিছু কথা আছে।
একজন বালেগা মেয়ের গার্জিয়ানের অনুমতি ছাড়া আপনি তাকে বিবাহ করতে পারবেন। কিন্তু এর জন্য এলিজেবল হতে হলে ইসলাম আপনাকে অনেকগুলো শর্ত দিয়ে রেখেছে। পাশাপাশি আপনি যদি কুফু না মিলিয়ে বিয়ে করে থাকেন, তাহলে গার্জিয়ান জানার সাথে সাথে সেই বিবাহ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
১| মোহর দিতে সক্ষম হওয়া।
- বিয়ে শুধু আবেগের বিষয় না। আপনার মন চাইলেই আপনি বিয়ে করতে পারেন না। এজন্য আগে মোহরানা দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।
এক টাকা, এক হাজার এক টাকা, একটা বই, একটা কলম, একটা ফুল এসব আউফাউ মোহরনা হয়না। আপনার মিনিমাম ১০ দিরহাম সমপরিমাণ মোহরানা ধার্য করতে হবে। ( বর্তমানে ৪-৫ হাজার টাকার মত হতে পারে)
যদি মোহরানা নির্ধারণ না করেন কিংবা যথেষ্ট পরিমাণ না হয়- তখন আপনার ওপর মোহরে মিসিল ওয়াজিব হয়ে যাবে। আর মেয়ের মোহরে মিসিল যদি ১০-২০ লাখ হয়, তাইলে আপনার আকাশ ভরা তাঁরা.....
আবার একশ্রেণির লোক আছে, যারা ইচ্ছেমত মোহর নির্ধারণ করে পরে বউয়ের কাছ থেকে নির্লজ্জ, বেহায়ার মত মাফ চেয়ে নেয়। এরকম ফাইজলামি কেউ করবেন না। আর আপুরাও এমন ছ্যাঁচড়া কে বিয়ে কইরা নিজের জীবন নষ্ট কইরেন না। যে কিনা মোহরের ওয়াজিবই আদায় করে না, সে পরবর্তী নাফাকার ওয়াজিব কতটুকু আদায় করবে- সেটা মাথায় রাইখেন।
২| নাফাকা দেওয়ার সক্ষমতা থাকা।
- নাফাকা অর্থ হচ্ছে মেয়ের সম্পূর্ণ ভরণপোষণ বহন করা। এটা স্বামীর ওপর ওয়াজিব। ইভেন, আপনার যদি নাফাকা দেওয়ার সক্ষমতা না থাকে, তাহলে আপনার জন্য বিবাহ করা মাকরূহ।
আবেগে বিয়ে করে বসলেন। দুদিন পর মেয়েকে ফেলে রাখলেন, এসব ফাইজলামি চলবে না। আপনি সক্ষমতা অর্জন করেন। অর্থ উপার্জন করেন। তারপর বিয়ের চিন্তা করেন।
মেয়ের নাফাকা হবে তার পিতা তাকে এতদিন যেভাবে ভরণপোষণ দিয়ে এসেছে, তার সমপরিমাণ। কিছুটা ১৯-২০ হতে পারে। কিন্তু মেয়ে এতদিন থেকে এসেছে ৫০ হাজার টাকা খরচে আর আপনি তাকে দিবেন ৫০০ টাকার খরচ- এমন আকাশ পাতাল কখনোই উচিত না। ইসলাম আপনাকে সাজেস্ট করছে আপনার আর্থিক সম লেভেলের কিংবা কিছুটা নিচের মেয়ে বিয়ে করতে, যাতে বৈবাহিক জীবন সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যের হয়।
বিয়ের ক্ষেত্রে সর্বদা কুফু মিলিয়ে বিবাহ করা চাই।
৩| চুক্তিবদ্ধ বিবাহ করা যাবে না।
- অনেকে এই হারাম কাজটা করে।
প্রেম করে, তারপর হারাম সম্পর্ককে হালাল করার জন্য পরিবারকে না জানিয়ে বিবাহ করে এই চুক্তিতে যে, আমরা এখন বিবাহ করবো। গ্রাজুয়েট হওয়া পর্যন্ত দেখবো। যদি ইচ্ছে হয় থাকবো নতুবা আলাদা হয়ে যাব।
সাবধান! এরকম চুক্তিবদ্ধ বিবাহ সম্পূর্ণ হারাম। এটাকে মুতা বিবাহ বলা হয়। জাহেলি যুগে আরবে এমন বিয়ে প্রচলিত ছিল।
এরকম বিয়ের ওপর রাসূল সাঃ এর লা'নত......
———
- বিয়ে অনেক সহজ একটা জিনিস। আবার খুব কঠিনও বটে।
আপনি যদি এলিজেবল হোন, তাহলে আপনার জন্য এটা সুখকর। নতুবা, এটা আপনার জন্যও দুঃখ পরিবারের জন্যও সমস্যা।
আবেগে ভাইসা বিয়ে করার আগে কুফু মিলাইয়া বিয়ে কইরেন। নাইলে পরিবার জানার পর তৎক্ষণাৎ বিয়ে ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা গার্জিয়ানের থাকবে- এটা মাথায় রাইখেন।
আর আপুরাও বুঝে শুনে সামনে আগায়েন। বিয়ে কোন আবেগের জিনিস না শুধু। এটার সাথে আপনার সারাজীবন জড়িত। পুরো লাইফের বিষয় এটা। সুতরাং কাকে কিভাবে কি দেখে বিয়ে করতেছেন- ভালোভাবে বুঝেশুনে কইরেন।
এমন যেন না হয় যে, দু'দিন পর দুইজন দুইদিকে। বিবাহ যেমন আনন্দের, বিবাহ ভেঙে যাওয়া তার চেয়েও বহুগুণ কষ্টের.........