10/09/2026
ঢাকা | ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোর (পে-স্কেল) প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিজি প্রেস থেকে খসড়া রেজল্যুশন অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসার পর তা আইনি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং (Vetting) শাখা থেকে ভেটিং প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে প্রশাসনিক কিছু জটিলতা এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আইবাস++ (iBAS++)-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের কারণে প্রজ্ঞাপন প্রকাশে সামান্য সময় লাগছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নবম জাতীয় পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ হতে পারে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নতুন এই নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকার এই নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নির্ধারণ করেছে।
অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো ও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রধান প্রধান যে তথ্যগুলো পাওয়া গেছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
রেকর্ড পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি
নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ—উভয় স্তরেই উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন **১,৫৬,০০০ টাকা** নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিন ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নতুন মূল বেতন একবারে না দিয়ে ৩টি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীরা পূর্ণাঙ্গ মূল বেতন পাবেন।
ভাতা কার্যকরের সময়সীমা
বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য সংশোধিত ও বর্ধিত ভাতাগুলো
১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর করার কথা রয়েছে।
গেজেট প্রকাশ এখন সময়ের অপেক্ষা
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, গেজেট প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বড় কোনো নীতিগত বাধা নেই। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কিছু জটিলতা এবং আইবাস -এ নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সমন্বয়** সম্পন্ন করতেই অতিরিক্ত সময় লাগছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নবম জাতীয় পে-স্কেলের বহুল প্রতীক্ষিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হতে পারে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ আরও সুগম হবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এখন সবার প্রত্যাশা—১৫ সেপ্টেম্বরই আসুক কাঙ্ক্ষিত সেই প্রজ্ঞাপন।