20/03/2025
সমস্ত প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামীনের জন্য। লাখো কোটি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ সা. এর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ এবং সাহাবীগণের উপর।
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
মুহতারাম,
“মারকাযুল কারীম আল-মাদানী”
ঢাকার সংলগ্ন গাজীপুরের ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা বাদেকলমেশ্বর, কামারজুরী রোড, সাইনবোর্ড, গাছা, গাজীপুরে অবস্থিত কোলাহলমুক্ত নিরিবিলি মনোরম পরিবেশে ব্যতিক্রমধর্মী এই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মাদরাসাটি বিশ^বিখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপিঠ ঐতিহাসিক দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার অনুসরণ ও অনুকরণে কুরআন সুন্নাহভিত্তিক ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার আলোকে আদর্শবান প্রতিশ্রæতিশীল একদল উদ্যমী দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলীর সার্বক্ষণিক নিবিড় তত্ত¡াবধানে দ্বীনি ও আধুনিক
শিক্ষা-কার্যক্রম সুচারুরুপে পরিচালিত হচ্ছে।
দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদেরকে প্রয়োজনীয় স্কিল যেমন: বাংলা, অংক, ইংরেজি,আরবি এবং কম্পিউটার ও যোগাযোগ ইত্যাদি শিক্ষা দেয়া হয়। যাতে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা প্রচলিত জব সেক্টরে নিজেদের কর্মসংস্থান করে নিতে পারে।
মাদরাসার প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন নিষ্ঠাবান, খোদাভীরু আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে; সে লক্ষ্যে আমরা আহলে হক অভিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তত্ত¡াবধানে কাজ করে যাচ্ছি।
#আমাদের বিভাগসমূহ:
নূরানী , নাজেরা, হিফজ ও কিতাব বিভাগ
#আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
১. সর্বজ্ঞানের আধার কুরআন-সুন্নাহকে মূলভিত্তিরুপে গ্রহণ করে বাস্তবসম্মত প্রায়োগিক আধুনিক শিক্ষার মাধ্যমে যুগচাহিদা পূরণের প্রয়াস চালানো।
২. আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভিত্তিমূলে ধর্মবিরোধী ভাবধারার স্থলে ইসলামী ভাব-চেতনা প্রতিষ্ঠা করা
৩. মাদরাসা শিক্ষার পাশাপাশি জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত করে যুগসচেতন একদল খোদাভীরু আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা
৪. সাহিত্য-শিল্পকলা, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানকে কুরআন-সুন্নাহর আদলে পেশ করা
৫. সমাজের প্রত্যেক ঘরে ঘরে পার্থিব শিক্ষার সাথে সাথে দ্বীনের আলো পৌঁছিয়ে দিয়ে কুরআন সুন্নাহর পূর্ণ আবহ তৈরি করা।
৬. সর্বোপরি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও পরকালীন মুক্তিই- শিক্ষার মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা
আলহামদুলিল্লাহ, আমরা প্রচেষ্টার তিনটি বছর শেষ করলাম। চতুর্থ বছরে পদার্পন করতে যাচ্ছি। এই তিন বছরে আমরা অনেক গোছানো ও পরিপাটি একটি শিক্ষা কারিকুলাম গঠন এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা মানসম্মত সিলেবাস, উন্নত কারিকুলাম দক্ষ শিক্ষকমÐলী নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ভালো
শিক্ষার জন্য ভালো পরিবেশ অপরিহার্য; সেই প্রেক্ষিতে আমরা এ বছর বড়সড় ও খোলামেলা একটি নতুন ভবনে উঠেছি। এখানে দুটি ফ্লোর নিয়েছি। একটি বালক শাখার জন্য এবং অপরটি মেয়ে শাখার জন্য। নতুন ভবনে জায়গা বড় হওয়ার কারণে অনেক আসবাবপত্র জরুরি হয়ে পড়েছে। মেয়ে শাখার জন্য নতুন একটি আইপিএস, ৯টি ফ্যান ও উভয় শাখার জন্য ২০ টি বেঞ্চের অতীব প্রয়োজন। অফিসের জন্য একটি প্রিন্টার প্রয়োজন। অল্প একটু কার্পেটের ব্যবস্থা করতে পেরেছি; আরো অনেক কার্পেটের প্রয়োজন। এবার পুরো শীতকালটা হিফজ বিভাগ ও নূরানী বিভাগের ছাত্ররা অনেক কষ্ট করেছে কার্পেট না থাকায়। সবমিলিয়ে প্রায় ১৩শ স্কয়ার ফিট কার্পেট প্রয়োজন।
আমাদের উভয় শাখা মিলে প্রায় ৯৫ প্লাস শিক্ষার্থী ইলমে দ্বীন অর্জন করছে। মোট শিক্ষক-শিক্ষিকা সংখ্যা ০৮ জন। আরো চারজন শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতনবাবদ যে টাকা উঠে তা দিয়ে শিক্ষকবৃন্দের বেতন, ভবন ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা যায় না। ফলে প্রতিমাসে অতিরিক্ত খরচের কারণে ঘাটতি বা ঋণ থেকে যায়। আর মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীই পুরো বেতন ও খানা খরচ পরিশোধ করে। বাকিরা অর্ধেক বা তার কিছু বেশি/কম টাকা দিয়ে থাকে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে এতিম ও অসহায় কিছু শিক্ষার্থী আছে যাদের যাবতীয় খরচসহ ভরণপোষণ মাদরাসা নির্বাহ করে। এতিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ আর অসহায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ জন। প্রতিমাসে এদের পেছনে একটা মোটা অংকের টাকা ব্যয় হয়। নিত্যপণ্যের দাম উর্ধ্বমূখী হওয়াতে সবকিছুর ব্যয় নির্বাহ করা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর আমাদের প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ কালেকশন মুক্ত। আমরা ছাত্র বা শিক্ষক দ্বারা কোনো কালেকশন করি না।
#মাদরাসার আয়ের উৎস
১. ছাত্রদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফি বাবদ প্রাপ্ত অর্থ একজন শিক্ষার্থীর পেছনে থাকা-খাওয়া ও লেখাপড়ার জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, অভিভাবদের
সামার্থ্য অনুযায়ী আমরা তা গ্রহণ করে থাকি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত এ অর্থই মাদরাসার আয়ের মূল উৎস।
২. মুসলিম জনসাধারণের দান-সাদকা
মাদরাসায় শিক্ষারত এতিম, অসহায় ও স্বল্পসামর্থ্যবান শিক্ষার্থীদের পেছনে প্রতিমাসে বাড়তি অনেক টাকা ব্যয় হয়। ফলে মাদরাসাকে প্রতিমাসে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হয়। এই অতিরিক্ত খরচের কারণে মাদরাসার ৭ লক্ষ টাকার উপরে ঋণ হয়েছে (অনাদেয় বেতন, ভবন ভাড়া ও নগদ হাওলাত বাবদ)।
এ ঘাটতি পূরণে ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য মাদরাসা ‘গোরাবা ফাÐে’ অংশগ্রহণ করার ব্যবস্তা করেছে। এই ফাÐে যাকাত, সাদাকা, দান ইত্যাদি শরীয়তসম্মতভাবে গ্রহণ ও পূর্ণ সর্তকতার সাথে সেগুলো শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা, থাকা-খাওয়া, ও উন্নয়নমুলক কাজে ব্যয় করা হয়।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:-
لَیۡسَ عَلَیۡكَ هُدٰىهُمۡ وَ لٰكِنَّ اللّٰهَ یَهۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ وَ مَا تُنۡفِقُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ فَلِاَنۡفُسِكُمۡ وَ مَا تُنۡفِقُوۡنَ اِلَّا ابۡتِغَآءَ وَجۡهِ اللّٰهِ وَ مَا تُنۡفِقُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ یُّوَفَّ اِلَیۡكُمۡ وَ اَنۡتُمۡ لَا تُظۡلَمُوۡنَ
“তাদের হিদায়াত দানের দায়িত্ব আপনার নয়; বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছে হিদায়াত দেন। আর যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় কর তা তোমাদের নিজেদের জন্য আর তোমরা তো শুধু আল্লাহকে চেয়েই (তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই) ব্যয় করে থাক। আর তোমরা উত্তম কোন কিছু ব্যয় করে থাকলে তার পুরস্কার তোমাদেরকে পুরোপুরিভাবেই দেয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।” - আল কুরআন
اَلَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ اَمۡوَالَهُمۡ بِالَّیۡلِ وَ النَّهَارِ سِرًّا وَّ عَلَانِیَۃً فَلَهُمۡ اَجۡرُهُمۡ عِنۡدَ رَبِّهِمۡ وَ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡهِمۡ وَ لَا هُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ
“যারা নিজেদের ধন-সম্পদ রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তাদের প্রতিদান তাদের রব-এর নিকট রয়েছে। আর তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।” - আল কুরআন
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘কিয়ামত দিবসে সাত শ্রেণির মানুষ আরশের নিচে ছায়া লাভ করবে। তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হচ্ছে, ‘এক ব্যক্তি এত গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে বাম হাত জানতেই পারে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)
#মাদরাসার ব্যয়ের খাতসমূহ
১. শিক্ষা
২. আবাসন
৩. খাদ্য
৪. উন্নয়ন
#পুরো রমজান মাসজুড়ে ইফতারের ব্যবস্থা
যাইদ ইবন খালিদ আল-জুহানী রা. হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: ‘কোন রোযা পালনকারীকে যে লোক ইফতার করায় সে লোকের জন্যও রোযা পালনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব রয়েছে। কিন্তু এর ফলে রোযা পালনকারীর সাওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।’
- সহীহ ইবনু মাজাহ
আলহামদুলিল্লাহ, প্রতি রমজান মাসের ন্যায় এবারও পুরো মাসজুড়ে আমরা ‘ইফতারের আয়োজন’ করেছি । রমজান মাসে মাদরাসায় ‘ইফতার আয়োজন’ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। সকল শিক্ষার্থী ও সাধারণ রোজাদার ভাইদের জন্য এ আয়োজন উন্মুক্ত।
আমাদের আয়োজন খুব সাধারণ। শরবত, ছোলা-মুড়ি, বেগুনি-পিঁয়াজু, জিলাপি ও খেজুর। মাঝে মাঝে কলা, তরমুজ ও অন্যান্য ফলমূল সরবরাহ করে থাকি।
এ বছর ১ দিনের আয়োজনে প্রায় ১২০০/= বারোশত টাকা ব্যয় হবে। আপনারা রমজান মাসের এ মহতি আয়োজনে শরিক হতে পারেন। একদিনের আয়োজনের ব্যবস্থা বা টাকা প্রদান করতে পারেন, অথবা আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আরো বেশি বা কম ইফতারির পণ্য/টাকা দান করতে পারেন।
প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা
আমরা আমাদের ছাত্র বা শিক্ষকদের দিয়ে কোনো ধরনের কালেকশন করি না। ফলে আপনাদের দান, সদকা, যাকাত বা যে কোনো ফান্ড থেকে আমাদের পাশে দাঁড়াতে পারেন। মাদরাসার এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের ইলমে দ্বীন অর্জন করতে আপনাদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন।
আল্লাহ আপনাদের দানকে কবুল ও মঞ্জুর করুন। পবিত্র রমজানের উছিলায় আল্লাহ আপনাদের ছাওয়াব সহস্রগুণ বাড়িয়ে দিন। আমিন।
#আমাদের আমাদের একাউন্ট নম্বর ২০৫০৩২৪০২০২৬৭৮৭০৮
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, বোর্ডবাজার শাখা।
বিকাশ; ০১৭১৩৭১৯০৯০
নগদ: ০১৭১৩৭১৯০৯০