19/05/2024
৪০ তম বিবাহ বার্ষিকীতে আমার সকল বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন ,সহকর্মী, শুভাকাংখী,এবং আমার প্রাণ প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জানাই আমার প্রাণঢালা ভালবাসা ও ফুলেল শুভেচ্ছা।
৪০ বৎসর......... পর ...........।
আজ থেকে ৪০ বৎসর আগে এই দিনে ( ১৯ শে মে ১৯৮৪ খ্রীঃ) সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে এক অনারাম্বর পরিবেশে সম্পূর্ণ অ চেনা,অ জানা, এক অ পরিচিত কলেজ পড়ুয়া ষোরষীর সাথে চার চোখের চোখা চোখিতে নিমিষে হারিয়ে যায় সেই দৃশ্যপট। সেই যে মাথা নিচু করেছি কতক্ষন, কতমুহুর্ত্য গত হয়েছে কিছুই মনে নেই। পাশে বসা এক ভদ্র লোকের গলা কাশিতে আমার চমক ফিরে, দেখি ঘর সুদ্ধ সবাই আমার দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে নিবন্ধ যে আমার কাছ থেকে কিছু একটা জানার আগ্রহে। আমার স্যগে যারা ছিল সবাই আমার অনুজ।তবে তার মধ্যে দুজন বয়সে মুরুব্বী হলেও তারা আমার সিদ্ধান্ত ছারা কিছুই বলার সুযোগ রাখে না। তারাও আমার দিকে জিজ্ঞাসুচিত্তে তাকিয়ে ছিল। আমি আবার মাথা নিচু করেছি কোন কিছু বলার সুযোগের অপেক্ষায়। ঘরের সবাই শিক্ষিত ও ভদ্র লোক, তবুও তাদের মধ্য থেকে একজন বিশিষ্ট ভদ্রলোক নম্র ও ভদ্রচিত ভাবে জানতে চাহিলেন, আপনার কিছু বলার থাকেতো আপনি নিঃসংকোচে বলতে পারেন।
উনার কথায় আমার কেন জানি আত্মস্থ বোধ হইল। উত্তরে শুধুই বলেছি যে আপনাদের যা ভাল মনে হয়, আমার বাকি কথা বলার আগে আমার সঙ্গে থাকা মামা উনি কি বুঝলো জানি না,কারোর সঙ্গে কোন পরামর্শ না করেই বলে উঠলেন আলহামদুলিল্লাহ মেয়ে আমার পছন্দ হয়েছে। আপনাদের অনুমতি পেলে আমরা মেয়েকে নীরিক্ষণ ( নিশানা) করতে পারি। পরে জানতে পারি যে, বিশিষ্ট ভদ্র লোক উনি আমার চাচা শ্বশুর, এখানকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উনার আরও একটি পরিচয় আছে, তা হচ্ছে বর্তমানে ফেসবুকে " দিন প্রতিদিন " এর লেখক, কলামিস্ট, কবি এবং ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রী কলেজের লেকচারার ফারহানা রহমান মিস্টির বাবা আব্দুল হক মুকুল। উনি আর এখন বেঁচে নেই। আল্লাহ যেন তাকে শান্তি দান করেন। নীরিক্ষনের অনুমতি আহ্বানে উনারা স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে হ্যাঁ সম্মতিতে মামার সঙ্গে থাকা এক গাছি সোনার চুড়ি তার হাতে পরিয়ে দিয়ে বিদায় দিলেন। এখানে বলা ভাল যে, যাওয়ার প্রাক্কালে আমার ছোট বোনের হাতের চুড়ি গুলি খুশিতে খুলে দিয়ে ছিল যে, যদি কোন কাজে লাগে। আজ আর সেই ছোট বোনটি নেই। গত ১৯৯২ সালে আমার সেই ছোট বোনটি হটাৎ অসুস্থ হয়ে আমাদের সকলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে ওপাড়ে চলে গেলেন। আল্লাহ যেন তাকে সকল দিক দিয়ে শান্তিতে রাখেন।
পরবর্তী রাত্রিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে মাত্র ১৪ হাজার টাকা কাবিনে বিনা রেজিষ্ট্রিতে বিবাহ সু সম্পন্ন হয়।সেই যে পথ চলা শুরু আজও চলেছি। বিবাহ পূর্ব মূহুর্ত্য পর্যন্ত আমি জানি নাই যে,কে আমার শ্বশুর, শ্বাশুরী কি তাদের পরিচয়? শ্বশুর আমার স্থানীয় জুমারবারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং শ্বাশুরী একই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা। আমার শ্বশুর আজ বেঁচে নেই, গত ১৪ ই জানুয়ারী ২০২৩ খ্রীঃ ইন্তেকাল করেছেন। আজ এই মুহুর্তে আমার শ্বশুরের কথা, তার আচার আচরণ, তার ভালবাসা, তার আদরের কথা খুব খুব মনে পরছে। আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন।
আজ বিবাহ বার্ষিকী ৪০ বৎসর পূর্তিতে এই আনন্দ উৎসব মুখর পরিস্থিতিতে আনন্দের পাশা পাশি বেদনা না থাকলে কি হয়,আনন্দ বেদনা, সুখ দুঃখ নিয়ে জীবন, দাম্পত্য জীবন।
দাম্পত্য জীবনে মান অভিমান, ছোট খাটো, টুক টাক কথা কাটাকাটি, ঝগড়া ঝাটি তো থাকবে। তা না হলে জীবনের মজাই থাকে না। তারপর খুনসুটি তো লেগেই থাকত। আমাদের মান অভিমান, ঝগড়া ঝাটির মেয়াদ কযেক মুহুর্তকাল থেকে সর্ব্বোচ্চ তিন দিন পর্যন্ত। পরে সব আগের মতই। তবে একটা খুনসুটির কথা না বললে নয়। এখনও মাঝে মাঝে মনে হয়, মনে হলে আমি নিজে নিজে অনুতপ্ত হই। তা হচ্ছে যে, আমি মক্কায় পবিত্র উমরা শেষে ইতিকাফ অবস্হায় হেরেম শরিফে অবস্হান করতেছিলাম।
সেদিন সকালে তসবিহ তাহলিল পাঠ করতেছি, প্রতিদিন দুই একবার মোবাইলে ফোন আসে সেদিনও বাড়ি থেকে ফোন আসে। প্রথমে কুশল বিনিময় করার পর আমার স্ত্রী ফোনে আমাকে বলে যে আমার জন্য দোয়া করিও। আমার মাথায় একটা দুষ্ট খুনসুটি বুদ্ধি আসে, রসিকতার ছলে বললাম সবাই আমার কাছে দোয়া চায়, আমার জন্য কে দোয়া করবে? এটাই অপরাধ!কেন এ কথা বললাম! যদিও আমার কথাটি বোঝাতে সক্ষম হয়েছি অনেক পরে। তবে তার যুক্তিটা ছিল সঠিক। কেননা বাংলাদেশ থেকে আমাকে পাওয়া খুব কঠিন ছিল, আমার মোবাইলে চার্জ থাকত না। ফোন চার্জে দিয়ে কথা বলা লাগতো। তাই অনেক কষ্ট করে লাইনে পেয়েছে, তার ওপর এরকম দুষ্টুমি করা কি কারো সহ্য হয়!! এখনো কথাটি মনে হলে আমি নিজে নিজে অনুতপ্ত হই। এই ৪০ বছর দাম্পত্য জীবনে তোমার আমার পথ চলার উপর কতইনা না পাওয়া আনন্দ বেদনা, সুখ শান্তি, মান-জশ,খ্যাতি সুনাম সবই আমার প্রাপ্য, আর যত প্রাপ্ত সুখ শান্তি আনন্দ বেদনা, মান যস, খ্যাতি সুনাম সবই তোমার কৃতিত্ব।
আস্তে আস্তে বয়স তো অনেক হলো প্রায় সত্তর এর কোঠায় তারপরেও খুনসুটি সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। একসঙ্গে হই হুল্লোড় করে খাওয়ার জন্য আমি ইচ্ছে করে ১৪ ফুট লম্বা একটি ডাইনিং টেবিল তৈরি করেছি। সবাই একসঙ্গে খেতে বসব, হই হুল্লোড় করে আনন্দ উপভোগ করব।এইতো সেদিন নতুন মেয়ে জামাই ও তার ভাতিজা বসার চেয়ার নিয়ে টানাটানি করেছে। খুনসুটি গুলো খাবার সময়ই প্রায় বেশি দেখা যায়। যেহেতু ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে সবার বোঝার ক্ষমতা হয়েছে, খাবারের স্বাদ গুণ নিয়ে নানা রকম কথা হয়। এক ছেলে কথায় কথায় হাদিসের উপমা টেনে বলে যতই কুরআন-হাদিস জানুক তবুও পুরনো অভ্যাস বাদ দিবে না। আরেক ছেলে বলে আব্বু এটা না করলে কিংবা না বললে হয়না। সঙ্গে সঙ্গে মেয়ে কাউন্টার দিয়ে বলে আম্মু এটা না বললেও তো হয়।এভাবেই চলে আমাদের খুনসুটি। যদিও আমি প্রমিস করেছি পুরনো অভ্যাসগুলো বদলানোর।
আপনারা দোয়া করবেন যেন এভাবেই আনন্দের সহিত হইহুল্লোড় করে কাটাতে পারি বাকী জীবন।