30/08/2025
চিনতে পেরেছেন?
ছেলেটা অজপাড়াগাঁ এর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বৃত্তিসহ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে উঠে আসা এক অদম্য তরুণ।
দ্বিতীয় শ্রেণি থেকেই সে ক্লাসের ফার্স্ট। ৭ম শ্রেণি থেকেই (ইউ পি অফিসে বিকেল থেকে কম্পিউটারে জন্ম নিবন্ধনের কাজ) আয়-রোজকার করা শিখেছেন। কাজ করেছেন রেডিও জকিতেও।
পড়ছেন ঢাবি'র ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে।
অসাধারণ ইংরেজি বলেন। বাংলাটা এক ঘন্টা বললেও বোধহয় মুখস্থই বলেন। কোনোকিছু ভাবতে হয় না। আবার দ্রুততার জন্য ভুলও হয় না খুব একটা। এরমধ্যে শুদ্ধ উচ্চারণ তো আছেই। আপনি প্রথম শুনলে মনে হবে উনি বিতর্ক দলের সদস্য হিসেবে কোথাও বিতর্ক প্রতিযোগিতা করছেন।
"হিজ স্পীচ ইজ টোটালি টপনচ।"
জাতীয় রাজনীতি এবং ছাত্র রাজনীতি নিয়ে তার অত্যন্ত স্বচ্ছ ভাবনা এবং অকপট প্রকাশ আপনাকে তার সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করবে। বাংলাদেশের চিরাচরিত রাজনীতির ধার সে ধারে না। তার না কি কোনো নেতাকর্মীর প্রয়োজন নেই। ভার্সিটির সকল শিক্ষার্থীই না কি তার নেতাকর্মী। কারণ, তিনি না কি তাদের অধিকার আদায়ের জন্যই এগিয়ে এসেছেন। তিনি ডাকসু'র ভিপি নির্বাচিত হলে সরকার এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বর্ম হয়ে দাঁড়াবেন বলে কথা দিয়েছেন। তার ভাষায়, ছাত্রছাত্রীদের কোনো প্যারেন্টস অর্গানাইজেশন থাকবে না। তারা নিজেরাই নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই করবে। তিনি এর নাম দিয়েছেন, 'স্টুডেন্টস অটোনোমি'। তিনি নির্বাচিত হলে এক বছর ফ্রী ইংরেজি পড়াবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তার না কি কোনো সিন্ডিকেট নেই। শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের পাশাপাশি শিক্ষা এবং গবেষণা নিয়েই তিনি থাকতে চান বলে নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশের দলীয় রাজনীতির বাহিরে গিয়ে একা একা এমন চিন্তা করতে পারাও এপ্রিশিয়েট পাওয়ার মতো একটা বিষয়।
ঢাবি'র একজন শিক্ষার্থী হলেও তার অনেক ছাত্র ঢাবি'রই শিক্ষার্থী।
মিছিলে তার অনীহা। জড়তা অনুভব করেন। তাকে সামনে ঠেলে দিয়ে পেছন থেকে কেউ শ্লোগান ধরলে তিনি লজ্জায় হেসে ওঠেন।
অসাধারণ প্রতিভাধর, প্রজ্ঞাময়, স্পষ্টভাষী, পড়ুয়া, দূরদর্শী, অমায়িক, বিনয়ী এবং পান্ডিত্যপূর্ণ এই ছেলেটির জন্য অনেক দোয়া।
ছেলেটি আসলেই স্বতন্ত্র এবং অনন্য।
তার নাম শামিম হোসেন।
©