01/09/2025
🪡জরুরি 📌
১। আপনার কিশোর (টিন এজ ১৩-১৯ বছর) সন্তানের রাত্রের ঘুম নিশ্চিত করুন, না হয় আপনি সহ হাজারো মানুষের ঘুম ও শান্তি ভংগের কারন হবে। মানুষের সম্পদ ও জীবন বিপন্ন হবে।
২। সন্তান কথা না শুনলে, বেপরোয়া হয়ে গেলে- অপরাধ জগতে জড়িয়ে গেলে সোজা পুলিশে দিন। কখনোই আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। কখনোই কোনভাবে নিজেকে ফৌজদারি অপরাধের সাথে জড়াবেন না। কখনোই না।
৩। কিশোরগ্যাং, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ইত্যাদির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলুন। শিক্ষক তার ক্লাস রুমে, ঈমাম মসজিদে, সমাজপতি সমাজে, জনপ্রতিনিধি জনগনের কাছে সাম্য, শান্তি ও ন্যায়ের কন্ঠস্বরকে উচ্চকিত করুন।
৪। আজ আপনি চুপ থাকলে হয়ত মনে করছেন রেহায় পাবেন, না আপনার সন্তানও একদিন আপনার অজান্তে জড়িয়ে পড়বে ভয়ানক অপরাধ জগতে।
৫। সন্তানকে সুশিক্ষিত, সভ্য মানুষ হিসেবে গড়ার প্রানান্তকর চেষ্টা জারি রাখুন। ধৈর্মীয় ও উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে আপনার সন্তানকে সাহায্য করুন।
৬। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস - মৃত্যুর পর আপনার আমলের দরজা বন্ধ হবে, কিন্তু নেক সন্তানের দোয়া আপনার প্রতি সদাকায়ে জারিয়া হিসেবে আপনার রুহের উপর আল্লাহর রহমত হিসেবে বর্ষিত হবে।
৭। মহাসত্য ও হেদায়েতের বানী আল -কুরআনে আল্লাহ এবং তার প্রিয় হাবীবের শেখানো পদ্ধতিতে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন - কিছু দোয়া দিলাম।
সন্তানকে নেক ও সৎ হবার দোয়া
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
উচ্চারণ: রব্বি হাবলী মিনাস-সালিহীন।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করো। (সূরা আস-সাফফাত: 100)
সন্তানকে চোখের শীতলতা করার দোয়া
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া দুররিইয়াতিনা কুররাতা আ’ইউনিঁ ওয়াজআলনা লিলমুত্তাক্বীনা ইমামা।অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের স্ত্রীগণ ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা করো এবং আমাদের মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ বানাও। (সূরা আল-ফুরকান: 74)
সন্তানকে নামাজ কায়েমকারী হবার দোয়া -
হযরত ইবরাহীম (আঃ)-সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া করেছেন তার আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দ হয়েছিল, সেজন্য আল্লাহ সে দোয়াকে কুরআনের অংশ বানিয়ে দিলেন ( সুবহানাল্লাহ) মানবজাতিকে সে দোয়া শিখিয়ে দিলেন ওহীর মাধ্যমে -
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
উচ্চারণ: রব্বিজ্আ’ল্নী মুকীমাস-সালাতি ওয়া মিন যুররিয়্যাতী, রাব্বানা ওয়াতাক্বাব্বাল্ দু’আ’
অর্থ: হে আমার প্রভু! আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানান এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও (তেমনি বানান)। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমার দোয়া কবুল করুন।
(সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৪০)
সন্তানকে শয়তান থেকে রক্ষার দোয়া
وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
উচ্চারণ: ইন্নী উঈযুহা বিকা ওয়াজুররিইয়াতাহা মিনাশ শাইতানির রজীম।
অর্থ: আমি তার (মারইয়াম ও তাঁর সন্তান ঈসা আ.) এবং তাঁর বংশধরদের অভিশপ্ত শয়তান থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (সূরা আলে ইমরান: 36)
নবী করিম ﷺ বলেছেন:
“তোমরা যখন সন্তানকে নামকরণ করো বা কিছু দাও, তখন তার জন্য দোয়া করো।”(তিরমিজি)
اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ بَارًّا تَقِيًّا، وَاجْعَلْهُ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاحِ وَالإِصْلَاحِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজআলহু বাররান তাকিয়্যাঁ, ওয়াজআলহু মিন আহলিস-সালাহি ওয়ালইসলাহ।অর্থ: হে আল্লাহ! তাকে অনুগত, পরহেজগার করো এবং তাকে সৎ ও সংস্কারক বানাও।
পরিশেষে বলি - আপনার সন্তানের পাশাপাশি আপনার ভাই-বন্ধু, আত্নীয় স্বজন প্রতিবেশীর সন্তানের জন্য দোয়া ও কল্যান কামনা করুন, আসমান থেকে সে দোয়া আপনার সন্তানের প্রতি ফিরে আসবে । (সংগৃহীত)