Nipun Mazumder 2022

Nipun Mazumder 2022

Share

Labour Inspector (General),
DIFE, Ministry of Labour and Employment, Bangladesh.

20/04/2023

#ফেবুগেবন
সামাজিক মাধ্যমে (ফেসবুকে) বিষাক্ততার চর্চা থেকে দূরে থাকতে হবে। কী কী হতে পারে সামাজিক মাধ্যমের বিষাক্ত 🤢 আচরণ?

সংজ্ঞা: বিষাক্ততা(Toxicity) হচ্ছে এমন বিষাক্ত আচরণ যার ফলে আপনার নিজের এবং অন্যদের মানসিক ও আত্মিক ক্ষতি হয়, সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি হয়, হতাশা বাড়ে, অশান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

🤢 কী কী হতে পারে বিষাক্ত আচরণ? 🤢
☣️ 🤢 ☠️ 💀 ⚠️ ⚡b🔥

১. বিতর্কিত মন্তব্য করে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করা: অনেক মানুষ আছেন 'কলহপ্রিয়' অর্থাৎ তারা কলহ বা ঝগড়া করতে পছন্দ করেন। আপনার যদি এরকম ঝগড়া করার স্বভাব থাকে তো এখনই বাদ দিয়ে দিন। এতে আপনারও নিজেরও মানসিক শান্তি আসবে এবং অন্যরাও আপনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে।

২. মানুষকে অপমান, অপদস্থ করার চেষ্টা করা: অনেকেই কৌতুকের নামে, ট্রলের নামে, ঠাট্টার নামে মানুষকে অপমান করে, লজ্জা দেয়, ভালো কাজেও নিরুৎসাহিত করে। একজন সভ্য মানুষ হলে অবশ্যই আপনার অনর্থক কাউকে অপমান বা খাটো করার অপচেষ্টা করা উচিত নয়।

৩. মানুষের সাফল্যে হিংসা বা ঈর্ষা করা: ফেসবুকে কেউ তার সাফল্য নিয়ে কিছু লিখেছে, কোথাও বেড়াতে গেছে, ভালো চাকরি পেয়েছে বা ব্যবসায় লাভ করেছে, পারিবারিক সুখের মুহূর্ত শেয়ার করছে এসব দেখে হিংসা বা ঈর্ষা করবেন না, মনে হিংসা বা ঈর্ষা চলে আসলে তাকে কঠোরভাবে দমন করবেন। হিংসা বা ঈর্ষা সৃষ্টি হয় হীনমন্যতা থেকে, এবং এটা এক ধরনের মানসিক দূর্বলতা। কারো সাফল্যে হিংসা বা ঈর্ষা না করে বরং সেটাকে উদযাপন করবেন, পজিটিভলি দেখবেন, একজন সফল হয়েছে মানে চেষ্টা করলেও আমিও পারবো, তাছাড়া কেউ সফল হলে আপনার তো কোন ক্ষতি নেই, বরং সমাজে যত বেশি মানুষ সফল হবে আপনারও তত সফল ও সুখী মানুষ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। হিংসা বা ঈর্ষাকে মনে জায়গা দিয়ে রাখলে মানসিক অশান্তি ছাড়া কিছুই অর্জন করতে পারবেন না।

৪. অহংকার প্রকাশ করা: সামাজিক মাধ্যমে নিজের অহংকারী আচরণ প্রকাশ করা উচিত নয়। অহংকারী মানুষকে কেউ পছন্দ করেনা। অহংকার করলে আপনার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা কমে যাবে, দূরত্ব সৃষ্টি হবে, বিপদে পড়লে দেখবেন আপনাকে সাহায্য করার কেউ নেই।

৫. ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা: একটা সহজ বিষয় আপনাকে বুঝতে হবে এবং মানতে হবে যে প্রাকৃতিকভাবেই সবাই সবকিছুতে আপনার সাথে একমত হবেনা, এটা প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের অংশ। এজন্য ভিন্নমতের প্রতি যথাসম্ভব সহিষ্ণু হতে পারলেই ভালো।

৬. কুরুচিপূর্ণ কন্টেন্ট শেয়ার করা: অনেকেই ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ কন্টেন্ট শেয়ার করেন। এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। ফেসবুকে আপনি কী শেয়ার করছেন সেটা দেখে অন্যরা অবচেতন মনে আপনার রুচি, ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা করে নেয়। তাছাড়া সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু শেয়ার করা উচিত নয় যেটা সমাজের ক্ষতির কারণ হয়, পারলে গঠনমুলক বা শিক্ষামূলক কিছু শেয়ার করবেন।

৭. অসুস্থ প্রতিযোগিতা: সামাজিক মাধ্যমে অন্যের দেখাদেখি কিংবা অন্যকে দেখিয়ে দিতে নিজের সামর্থ্যের বাইরে কোন কিছু করার প্রতিযোগিতায় নামা এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা। যেমন, মনে করুন, একজন ফেসবুকে হেলিকপ্টারে চড়ে কোথাও যাচ্ছে এরকম ছবি দিয়েছে। এটা দেখে আপনি স্থির করলেন আমিও দেখিয়ে দিব, আপনি কী করলে জায়গাজমি বেচে একটা বিমান কিনেছেন আর সেই বিমানে চড়ার ছবি ফেসবুকে ছাড়ার পর শান্তি পেয়েছেন। আপনার এরকম করার দরকার ছিলনা, আপনি একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। আবার মনে করুন, আপনি বিমানে চড়ে ফেসবুকে ছবি দিয়েছেন আর সাথে ক্যাপশন দিয়েছেন "যারা ২০২৩ সালে এসেও নিজের বিমানে বসে সেলফি তুলতে পারেনা তাদের মত চরম অভাগা, পরম গরীব আর কেউ"। আপনার এই দাম্ভিক মন্তব্য অনেক মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে, অনেকে আপনার ক্যাপশনের কথাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পারে, দেখা যাবে তারাও আপনার মত জায়গা জমি বেচে হলেও বিমান কেনার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়তে পারে। অনেকে আবার আপনার কথায় হীনমন্যতায় ভুগে হতাশার খালে ডুবে যেতে পারে, তারা হয়তো ভাববে "কী করলাম জীবনে, যদি একটা পারসোনাল বিমানে বসে একটা সেলফিই তুলতে পারলামনা!"। একটুভাবে ভালোভাবে চিন্তা করুন অসুস্থ প্রতিযোগিতা কীভাবে অনর্থক আমাদের জীবনকে কঠিন, অস্থির, অশান্তিময় করে তুলতে পারে।
৮. (আপনার পয়েন্ট)

07/04/2023

যে খাদ্য নিজে খেতে পারেন না, তা কি সন্তানকে খাওয়ান? অতিথিকে খাওয়ান? কোন প্রিয়জন বা আত্মীয়স্বজনকে খাওয়ান?
#ভেজাল_শ্যাম্পুর_রসায়ন

যে প্রশ্ন দিয়ে শুরু করেছিলাম, যে খাদ্য নিজে খেতে পারেন না সেটা অন্যকে খাওয়ান কিনা বা খাওয়ানো উচিত কিনা? এ প্রশ্নের উত্তর আপনার নীতিবোধ বা ঔচিত্যবোধের উপর নির্ভর করবে। স্বাভাবিক মানবিক বোধ অনুযায়ী এটা উচিত নয়। এই স্বাভাবিক মানবিক বোধ যাদের নেই বা কম তারাই খাদ্যে ভেজাল মেশায়, নকল ওষুধ তৈরি করে, অপদ্রব্য মিশিয়ে ভেজাল পণ্য তৈরি করে। এজন্যই শুধু আইন প্রয়োগ করে বা জরিমানা করে ভেজাল বন্ধ করা কঠিন, কারণ ভেজাল দেয়ার প্রবণতার মূল কারণ তো বোধশক্তির অভাব। এই বোধশক্তির জায়গাটাতেই মানুষের সমাজ এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। আমি নিজে যেটা খেতে পারিনা, আমি নিজের জন্য যেটাকে ক্ষতিকর মনে করি সেটা অন্যকে দিতে পারিনা এই বোধশক্তি থাকলে ভেজাল বা প্রতারণা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে, কোন শাস্তি বা জরিমানাও লাগবেনা।

ভেজাল শ্যাম্পুর রসায়ন নিয়ে বলি। একটা ভিডিও রিপোর্ট দেখলাম কোন এক ভেজাল শ্যাম্পুর (অবৈধ) কারখানায় কয়েকজন শ্রমিক ভেজাল শ্যাম্পু তৈরি করছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হল আপনারা এ শ্যাম্পু ব্যবহার করেন কিনা? তারা বললো "না, করি না"। তার মানে এ শ্যাম্পু মানুষের ব্যবহারপযোগী না। তাহলে যে শ্যাম্পু তারা নিজে ব্যবহার করতে পারেনা তারা কোন নীতিতে সে শ্যাম্পু অন্যের জন্য তৈরি করছে? ভেজাল শ্যাম্পুর শ্রমিকদের চেয়ে এখানে এ শ্যাম্পু কারখানার মালিকের দায়টা বেশি, অবশ্য মালিক নাকি আবার কী কারণে জেলে গেছে। এবার শ্যাম্পুর রসায়নে যাই। শ্যাম্পু মানেই রাসায়নিক বা কেমিক্যাল। তাই শ্যাম্পুর কারখানায় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকবে এটাই স্বাভাবিক। প্রশ্ন হলো, ভেজাল শ্যাম্পু কেন ক্ষতিকর হতে পারে? একদিক থেকে দেখলে পৃথিবীর সবকিছুই কেমিক্যাল বা রাসায়নিক পদার্থ, আপনি আমি সবাই, এমনকি আপনার স্মার্টফোনও এক ধরনের কেমিক্যাল (কেমিক্যাল মানেই সেটা তরল হতে হবে এমন নয়), আপনি যে পানি খান সেটাও কেমিক্যাল, লবণ খান, চিনি খান সবই কেমিক্যাল, শ্যাম্পুও কেমিক্যাল। আমরা স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করতে বাধ্য, আমরা নিজেরাই যেহেতু কেমিক্যাল তাই জগতের অন্যান্য কেমিক্যালের সাথে অবশ্যই আমাদের রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া চলে, এ রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় কোন কেমিক্যাল আমাদের জন্য কতটা ক্ষতিকর হবে এটা অনেকগুলো ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। যেমন, একটা ফ্যাক্টর হল কেমিক্যালের ঘনত্ব। ডায়রিয়ার সময় যদি আপনি ভুল ঘনত্বের স্যালাইন (লবণের দ্রবণ) খান তাহলে সেটা আপনার সাথে বা আপনার শরীরে এমন রাসায়নিক ক্রিয়া/বিক্রিয়া ঘটাতে পারে যেটার কারণে আপনার মৃত্যু হতে পারে। এজন্য সেলাইন বানানোর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি ব্যবহার করতে বলা হয় এবং চামচ দিয়ে ভালো করে স্যালাইনকে গুলতে বলা হয় যেন স্যালাইনের ঘনত্ব ঠিক থাকে। একইভাবে সব ওষুধের ক্ষেত্রেও দেখবেন একটা ডোজের হিসাব থাকে, যেমন ২৫০ মিলিগ্রাম, ৫০০ মিলিগ্রাম। এখন একটা ওষুধ আপনার জন্য কখন ক্ষতিকর হবে? যখন আপনাকে ভুল ওষুধ দেয়া হবে (এর হলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বিক্রিয়া) কিংবা সঠিক ওষুধ হলেও সেটা ভুল মাত্রায় দেয়া হয় (যেমন ২৫০ এর জায়গায় ৫০০ দিলে)। অর্থাৎ একটা রাসায়নিক পদার্থ কিংবা একাধিক রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ যদি সঠিক বা নিরাপদ না হয় তাহলে সেটা আমাদের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটাবে। স্বাভাবিক শ্যাম্পু অবশ্যই মানুষের জন্য নিরাপদ করেই তৈরি করা হয়েছে, শ্যাম্পুতে ব্যবহৃত রাসায়নিকগুলো সঠিক অনুপাত বা মাত্রায় মিশ্রিত করা হয়েছে। এরপরেও কারো কারো জন্য শ্যাম্পু ব্যবহার কিছুটা ক্ষতিকারক হতে পারে। তাহলে ভেজাল শ্যাম্পুর ক্ষেত্রে কী হবে? এটা আপনাদের জন্য এসাইনমেন্ট। এই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে এসাইনমেন্ট জমা দিবেন।

*শ্যাম্পুর বোতল বা প্যাকেটের গায়ে দেখবেন অন্তত ২০ ধরনের কেমিক্যালের নাম লেখা আছে। আমি 'হেড এন্ড শোলজার' এর একটা বোতল দেখেছি।
*ভেজাল শ্যাম্পুর কারখানায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শ্যাম্পুর পরিত্যক্ত বোতলে শ্যাম্পুর মত দেখতে ভেজাল রাসায়নিক ঢোকানো হয় এবং সুন্দর করে প্যাকেট করে বাজারে ছাড়া হয়। ভাগ্যে থাকলে হয়তো এ শ্যাম্পু কোনদিন আপনিও পেতে পারেন।
*সবকিছু যে কেমিক্যাল এটা বোঝার জন্য রসায়ন বা কেমিস্ট্রি নিয়ে পিএইচডি করার দরকার নেই, একটু চিন্তা করলেই বুঝবেন।
*শ্যাম্পুর প্যাকেটে দেখবেন একটা সতর্কবার্তা (যেমন, 'হেড এন্ড শোলজার' এর বোতলে দেখেছি) থাকে এরকম "Avoid contact with eyes. If contact occurs, rinse thoroughly with water. Repeat if desired." অর্থাৎ শ্যাম্পু কোনভাবে চোখে লাগলে সাথে সাথে ভালো করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন। এবং অবশ্যই চেষ্টা করবেন কোন শ্যাম্পু ছাড়াও অন্য কোন কেমিক্যালও যেন চোখে না লাগে।

31/03/2023

শুধু কি 'রুচির দুর্ভিক্ষ'?

না, আরো অনেক ধরনের দুর্ভিক্ষ দেখছি। যেমন,
১. রুটির দুর্ভিক্ষ:
আক্ষরিক অর্থেই যেটা দুর্ভিক্ষ। দুর্ভিক্ষ মানে 'ভিক্ষার অভাব'। ব্যবহারিক অর্থে দুর্ভিক্ষ মানে খাদ্যের চরম অভাব, লৌকিক দৃষ্টিতে রুটি খাদ্যের প্রতিকী অর্থ। তাহলে বলা যায় 'রুটির দুর্ভিক্ষ' মানে 'খাদ্যের চরম অভাব'। অর্থনৈতিক বৈষম্য, সম্পদের বৈষম্য, বিভিন্ন দুর্যোগের কারণে এখনও পৃথিবীতে 'রুটির দুর্ভিক্ষ' আছে। বৈষম্য মানে 'বিষম বা অসম অবস্থা', এটা ইচ্ছাকৃত (মন্দ অর্থে) কিংবা অনিচ্ছাকৃত (নিরপেক্ষ অর্থে) দুই কারণেই হতে পারে, তবে বৈষম্য যে বাস্তবতা এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

২. জ্ঞানের (বা তথ্যের) দুর্ভিক্ষ:
এই দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ। জ্ঞানও এক প্রকার খাদ্য। এ খাদ্যের অভাবে মস্তিষ্ক ভোঁতা হয়ে যায়, চিন্তাশক্তি, যুক্তিবুদ্ধি দূর্বল হয়ে যায়। আবার এ খাদ্য বেশি থাকলেও সমস্যা হতে পারে, যদি এ খাদ্যে ভেজাল থাকে, যেমন গুজব, কুসংস্কার এসব ভেজাল জ্ঞান গ্রহণের ফল। জ্ঞানের দুর্ভিক্ষ বোঝা যায় বাংলা ভাষায় ইন্টারনেটে কোন কিছু সার্চ করতে গেলে, ইংরেজিতে কোন বিষয়ে যে পরিমাণ তথ্য পাওয়া যায় বাংলা ভাষায় সে একই বিষয়ে তুলনামূলক অনেক কম তথ্য পাওয়া যায়। এটাকেও এক ধরনের অভাব বলা যায়, জ্ঞানের(তথ্যের) অভাব।

৩. গবেষণার দুর্ভিক্ষ:
এটা আসলে এক ধরনের জ্ঞানের অভাব, এটাকে আলাদা করে বলার কারণ কিছুটা আলাদা করে গুরুত্ব দেয়া। গবেষণার মাধ্যমে বাস্তবিক অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, কিন্তু বাস্তবে গবেষণা হচ্ছে এরকম খুব কমই হয়। অর্থাৎ দৃশ্যমান গবেষণা খুব একটা হচ্ছেনা। হয়তো অদৃশ্যমান গবেষণা প্রচুর হচ্ছে, তবে আমার ধারণা সেটাও খুব একটা হচ্ছেনা। অর্থাৎ গবেষণার দুর্ভিক্ষ চলছে। অনেকেই হয়তো বলতে পারেন গবেষণা তো কম হচ্ছেনা, প্রচুর রিসার্চ পেপার বা গবেষণাপত্র প্রকাশিত হচ্ছে, বিনয়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলবো গবেষণাপত্রের সংখ্যার সাথে গবেষণার মাত্রা বা মানের সমানুপাতিক সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হচ্ছে মানেই বেশি ভালো গবেষণা হচ্ছে এরকম জোর দাবি করা যায়না। তাছাড়া গবেষণার উদ্দেশ্য জনকল্যাণমূলক না হলে সেটা জনসাধারণের জন্য খুব একটা ভালো কাজে আসেনা।

৪. দক্ষতার দুর্ভিক্ষ:
এটার অন্যতম কারণ জ্ঞানের দুর্ভিক্ষ, গবেষণার দুর্ভিক্ষ। জ্ঞান না থাকলে, গবেষণা না থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি করা দুঃসাধ্য। দক্ষতার জন্য প্রয়োজন সঠিক পদ্ধতিতে অনুশীলন ও ধৈর্য্য।

৫. নীতির দুর্ভিক্ষ:
এটা ব্যাখ্যা করবোনা। আপনাদের কিছু বলার থাকলে বলতে পারেন।

৬. শিক্ষার দুর্ভিক্ষ:
এটার কারণ নীতির দুর্ভিক্ষ। কারণ, শিক্ষা আসলে এক ধরনের নীতি।

13/03/2023

বাদ দেয়ার বিদ্যা। Power of Skipping


ফেসবুকে বিচিত্র ধরনের অদ্ভুত, উদ্ভট লোভনীয় নিউজ দেখা যায়। আগে একসময় কৌতুহলবশত এগুলো দেখতে যেতাম। কিন্তু পরে বুঝলাম এসব দেখতে গিয়ে শুধুই সময়ই নষ্ট হয়, সাময়িক বিনোদন পেলেও এসব কন্টেন্ট থেকে শিক্ষণীয় কিছু পাওয়া যায়না, শিক্ষণীয় কিছু থাকলেও সেটা আমার জন্য প্রযোজ্য নয়। সবকিছু পড়া যাবেনা এ উপলদ্ধি আসার পর থেকে ফেসবুকে কন্টেন্টের ব্যাপারে আমি খুব সিলেক্টিভ হয়ে গেছি। এখন বেছে বেছে শুধু শিক্ষণীয় বা গঠনমুলক কোন কন্টেন্ট থাকলে সেটা দেখার চেষ্টা করি। আমার মতে, বর্তমান যুগের এ তথ্যবৈচিত্র্যের যুগে তথ্য বাছাইয়ে সিলেক্টিভ হওয়া খুব জরুরী, না হয় আগাছার মত আতথ্য মূল দরকারী তথ্যের জন্য ভেজালরুপে কাজ করবে।
পড়ালেখার ক্ষেত্রেও গণহারে সবকিছু পড়া উচিত নয়। মুখস্থ পরীক্ষা পাশের পড়ালেখার কথা বলছিনা, জ্ঞানার্জনের জন্য যে পড়ালেখা তার জন্য বলছি। গণহারে সবকিছু জানতে গেলে জ্ঞানের কোন বিশেষ ক্ষেত্রে সহজে ফোকাস করা যাবেনা। যেমন, আপনি যদি আদার ব্যাপারী হন তাহলে আদা নিয়ে আপনার প্রচুর পড়ালেখা বা গবেষণা করার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু আপনার জাহাজ নিয়ে খুব বেশী কিছু জানার প্রয়োজন হবেনা, জাহাজ নিয়ে গবেষণা করার জন্য জাহাজের অনেক লোক আছে। অর্থাৎ মূল কথা হল সবকিছু নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে কিছু বিষয় বাদ দেয়া শিখতে হবে, সর্ববিদ্যাবিশারদ হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই, তবে সব বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান থাকলে ভালো।

08/03/2023

We can Never blame Facebook, Internet, Youtube, even TikTok for our downfall. These are just media, often we misuse these media and blame them. But Actually if these media can be utilised in appropriate way they are link of vast learning resources. On Facebook, If you are connected with different educative Groups or Pages you can develope your general and professional knowledge. If you do proper use of Internet you have huge scopes of learning and earning. If you want to get clear concept about anything YouTube is an excellent platform for that, If you are wise chooser you can also find many educative contents on TikTok. So, Conclusion is, Lifeless Media cannot be blamed, what can be blamed is our wrong choice or wrong use. Personally I regret and blame myself for my misuse of these media.

26/02/2023

ভাংগা ভাংগা ইংরেজি ও আমাদের ভাষাগত দক্ষতা
#ভাষা
ভাষার মাস প্রায় শেষ হতে চলেছে। এই ভাষার মাসে ভাষাসংশ্লিষ্ট একটা বিশেষ ঘটনা আমাকে কিছুটা বিচলিত করেছে। বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচের আগে বা শেষে বাংলাদেশী একজন ক্রীড়া সাংবাদিক সুনীল নারাইন, মঈন আলী, আন্দ্রে রাসেলকে ভাংগা ভাংগা ইংরেজিতে একটা প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন কিন্তু উনার বাক্যগুলো এতই অসংলগ্ন, সংগতিহীন ছিল যে উনি ঠিক কী বোঝাচ্ছিলেন সেটা স্পষ্ট হচ্ছিলনা এবং বাক্যগুলো হাস্যকর রকমের ভুল হয়েছিল এবং স্বাভাবিকভাবেই এটা নিয়ে প্রচুর ট্রল হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন অনেকটা এভাবে "ফাইনাল ম্যাচ ইউর পারফর্ম হোয়াট হেপেনিং"। এ বাক্য থেকে আসলে প্রশ্নের অর্থ বোঝা দুঃসাধ্য। ব্যাকরণের দিক থেকে এলোমেলো বা দূর্বল বাক্য হলেও আমরা হয়তো প্রসঙ্গের প্রেক্ষিতে ধরে নিতে পেরেছি যে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন "ফাইনাল ম্যাচে আপনার পারফরম্যান্স কেমন হয়েছে/হতে পারে" এধরনের কিছু, কিন্তু বিদেশী কেউ তো এভাবে বুঝবেনা। এখন এ বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে? অনেকেরই দায় আছে। প্রশ্নকর্তা নিজেও অনেকাংশে দায়ী এই কারণে যে তিনি যথেষ্ট দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও বা দক্ষতা থাকলেও যথেষ্ট প্রস্তুতি না নিয়ে ইন্টারভিউ নিতে আসায় হাস্যকর রকমের ভুল করেছেন। প্রশ্নকর্তার চেয়ে আরো বেশী দায় তাদের যারা ইংরেজিতে ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্য এমন একজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন যিনি ঠিকমতো ইংরেজি বলতে জানেন না। এটা অবশ্যই অনেক বড় একটা দায়! বিশেষ করে পেশাদারিত্বের দিক বিবেচনা করলে। যেধরনের পেশায় কথা বলতে হয় (যেমন টকশো, ইন্টারভিউ, ধারাভাষ্য, রিপোর্টিং এর জন্য) সেখানে অবশ্যই এমন কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে যিনি ভালোভাবে কথা বলতে জানেন অর্থাৎ যার ভালো ভাষাগত দক্ষতা আছে তাকে দায়িত্ব দিতে হবে। গণমাধ্যমে কোন কিছু প্রচারিত হলে সেটা অনেক মানুষ দেখবে এ সহজ বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সবসময় মাথায় রাখতে হবে। যেসব পেশায় পাবলিক লেভেলে এক্সপোজার কম অর্থাৎ প্রায় সবকিছু পাবলিকের কাছে প্রকাশিত হয়না সেসব পেশায় কেউ ভাংগা ভাংগা ইংরেজিতে অনেক কিছু বললেও তেমন সমস্যা নেই। অনেকেই হয়তো বলতে পারেন ভাংগা ভাংগা ইংরেজিতে তো অনেক বিদেশীও কথা বলেন (যেমন অনেক জাপানি ভালো ইংরেজি বলতে পারেনা) তাহলে এক্ষেত্রে এত আপত্তি কেন? এক্ষেত্রে কেন এত আপত্তি এটা আসলে একটু আগেই ব্যাখ্যা করেছি। আপত্তির কারণ পেশার ধরন। আপনি জাপানি হলেও আপনি যখন ক্রীড়া সাংবাদিক হবেন আপনার অন্তত বেসিক লেভেলের কমিনিকেটিভ ইংলিশ এর দক্ষতা থাকতে হবে। কারণ সাংবাদিক মানেই আপনাকে কমিনিকেট মানে যোগাযোগ করতে হবে, বলতে হবে, শুনতে হবে, লিখতে হবে, আপনি চাইনিজ, স্প্যানিশ, এরাবিক না জানেন অন্তত ইংরেজি মোটামুটি জানতে হবে।
ভাংগা ভাংগা ইংরেজিতে প্রশ্ন করে যিনি হাসির পাত্র হয়েছেন তার জন্য আমার আসলেই খুব দুঃখ লেগেছে। তিনি অবশ্যই ভালো ইংরেজি শিখতে পারতেন বা বলতে পারতেন যদি তিনি সঠিক প্রশিক্ষণ পেতেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটি তিনি পাননি। উনার ভুল বা ভাংগা ভাংগা ইংরেজি নিয়ে ট্রল বা হাসিঠাট্টা করতে গিয়ে উনার যে অপমান হচ্ছে এটা হয়তো অনেকে বুঝতে পারেননি, নৈতিক দিক থেকে কারো ভুল বা অদক্ষতা নিয়ে হাসাহাসি বা তামাশা করা এক ধরনের অপরাধ। এটা হয়তো সাধারণ, অসাধারণ পাবলিক এবং অনেক মিডিয়ার লোকজনও জানেন না বা জানলেও সচেতন নয়।
আমাদের ভাষাগত দক্ষতা আসলে গড়ে খুব একটা ভালো নয়। এর বড় কারণ মুখস্থবিদ্যা। দুঃখিত, আপনি একমত না হলেও আমার কিছু করার নেই। স্কুলে, কলেজে, ভার্সিটিতে প্রায় সব লেভেলেই সাধারণত আমাদের ভাষার চর্চা সাবলীল বা স্বতঃস্ফূর্ত নয়, আমরা কিছু মুখস্থ নিয়ম বা রুল আত্মস্থ করে ভাষা শিখতে বা শিখাতে চাই। এখানেই সমস্যা। এভাবে ভাষা ভালো করে শিখা যায়না, শিখানোও যায়না। একটা কথা খেয়াল রাখতে হবে "আগে ভাষা, পরে ব্যাকরণ"। ব্যাকরণ দিয়ে ভাষা শেখা কঠিন, ভাষা শিখতে হলে আগে সে ভাষার মধ্যে ডুবে যেতে হবে। ভাষার মধ্যে ডুবে যাওয়া মানে কী?মানে সে ভাষা শুনতে হবে, সে ভাষা দেখতে হবে, সে ভাষা পড়তে হবে, সে ভাষা লিখতে হবে, সে ভাষা বলতে হবে। হ্যাঁ, ভাষার মধ্যে ডুবে যাওয়ার সময় ধীরে ধীরে ব্যাকরণ শিখতে হবে, কারণ ব্যাকরণ না শিখলে চূড়ান্ত পর্যায়ে সঠিকভাবে ভাষা শিখা যাবেনা। ব্যাকরণের কাজই হলো ভাষাকে শাসন করে সঠিক পথে রাখা। সবশেষে বলবো, ভাষাগত দক্ষতার উপর জোর দিন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাষা শিখুন, ব্যাকরণ মুখস্থ করে যন্ত্রের মত ভাষা শিখতে যাবেন না। এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

24/02/2023

'স্মার্ট বাংলাদেশ' কতটুকু সম্ভব?
#আলোচনা

স্মার্ট বাংলাদেশ অনেক বেশী সম্ভব। আসলে পুরোপুরি বা সম্পূর্ণ না হলেও বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে অনেক স্মার্ট হয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। এক সময়ের অনেক সময়সাপেক্ষ কাজ এখন অনলাইনে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে শেষ করা যায়। তবে স্মার্ট বলতে শুধু যে প্রযুক্তিতে স্মার্ট সেটা নয়, কথায়, কাজে স্মার্ট হওয়াটাও জরুরী। সম্পূর্ণ বা হাই লেভেলের স্মার্ট হতে হলে বাংলাদেশকে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। নীতির দিক থেকে স্মার্ট হওয়াটা বাংলাদেশের জন্য এখনও অত্যন্ত কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ। মুখস্থ টাইপের গতানুগতিক পড়ালেখা থেকে বের হয়ে যুগোপযোগী, বাস্তবসম্মত, সৃজনশীল, কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে স্মার্ট হওয়া সম্ভব হবেনা, সুতরাং এটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সব ধরনের সামাজিক বৈষম্য দূর করা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন এটাও স্মাট বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। চ্যালেঞ্জ যতই থাকুক প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের কর্মতৎপরতা মিলে যদি ভালো চেষ্টা থাকে তবে অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে স্মার্ট বাংলাদেশ সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস।

24/02/2023

আপনি আছেন "সংখ্যারেখায় শূন্যস্থানে"।

আপনি হয়তো দেখছেন অনেকেই আপনার তুলনায় অনেক অনেক ভালো আছে, সেটা দেখে আপনি হীনমন্যতায় ভুগছেন। অনেকের দামি বাড়ি, দামি গাড়ি, দামি ঘড়ি অনেক কিছুই আছে কিন্তু আপনার নেই। কিন্তু আবার উল্টো দিকে তাকালে দেখবেন অনেকেই আছে যাদের অবস্থা আপনার চেয়ে অনেক অনেক খারাপ। আপনার তো একটা সস্তা বাড়ি আছে, অনেকের তো বাড়ি বলেই কিছু নেই, দামি গাড়ি তো দূরের কথা অনেকের কাছে সস্তা সাইকেলও নেই। এসব দেখলে আপনার মনে হতে পারে আপনি তাদের চেয়ে অনেক উঁচু অবস্থানে আছেন, আপনি উচ্চমন্যতায় ভুগতে পারেন। কিন্তু দুই দিক মিলিয়ে দেখেন তো আপনি আসলে কোথায় আছেন? আপনি মাঝামাঝি অবস্থানে আছেন, সংখ্যারেখায় শূন্যের অবস্থানের মতো, শুন্য থেকে ডান দিকে অসীম পর্যন্ত সবই শূন্যের চেয়ে বড়, আবার শুন্য থেকে বাম থেকে অসীম পর্যন্ত সবই শূন্যের চেয়ে ছোট। আপনার অবস্থাও অনেকটা এরকম। আপনার ডানদিকে সবাই আপনার চেয়ে বড় বা ভালো অবস্থানে আছে, আপনার বামদিকে সবাই আপনার চেয়ে ছোট বা খারাপ অবস্থানে আছে। আপনার অবস্থান শূন্যে বা কেন্দ্রে। তবে আপনি আপনার অবস্থানের মান বাড়াতে পারেন, এটাই আপনার করা উচিত। আপনি নিজেকে অন্যের অবস্থানে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা না করে নিজের অবস্থানে থেকে নিজের মানোন্নয়ন করতে পারলে সেটাই হবে আপনার সেরা ব্যক্তিগত সাফল্য।

20/02/2023

২১শে ফেব্রুয়ারি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
21st February
'International Mother Language Day'
#ভাষা-দিবসে ভাষা নিয়ে কিছু কথা
১.
আপনি একটা ভাষায় কথা বলতে পারেন, আপনার স্বাভাবিক বাকশক্তি আছে, তাহলে আপনি একজন ভাগ্যবান মানুষ, পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে বাকশক্তিহীন, বোবা।
২.
আপনি কি নিজেকে কম মেধাবী বা মেধাহীন মনে করেন? বা কেউ আপনাকে এমন মনে করে? যদি আপনি এরকম মনে করেন বা অন্য কেউ আপনাকে এরকম মনে করে তাহলে আপনারা উভয়পক্ষই ভুল। আপনার মনে হতে পারে যারা পরীক্ষায় খারাপ করে, ঠিকমতো লিখতে পারেনা তারা কম মেধাবী। ভুল ধারণা। পরীক্ষায় খারাপ করা বা লিখতে না পারার সাথে মেধার কোন সম্পর্ক নেই। আপনি একটা ভাষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলতে পারেন মানেই আপনি যথেষ্ট মেধাবী। আপনার যে মস্তিষ্ক ভাষার মত এত সূক্ষ্ম, ব্যাপক, বিচিত্র বিষয় ধারণ করতে পারে সেটা কখনোই মেধাহীন বা মেধাশূন্য হতে পারে না।
৩.
আপনি কি আঞ্চলিক ভাষাকে অশুদ্ধ ভাষা মনে করেন? যদি করেন, তাহলে আপনি 'শুদ্ধতা'র সংজ্ঞা জানেননা। যেকোন স্বাভাবিক ভাষাই শুদ্ধ ভাষা। তবে ভাষায় কিছু অপশব্দ বা ভ্রান্ত শব্দ থাকতে পারে সেগুলোকে চাইলে অশুদ্ধ ভাষা বলতে পারেন।
৪.
ভালো ভাষা জানলে আপনি ভালো চাকরি পাওয়া বা ভালো ব্যবসা করার ক্ষেত্রে অনেক ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারবেন। যে কোন দেশে গিয়ে সে দেশের ভাষা ভালোভাবে রপ্ত করতে পারলে বেশ সহজেই ভালো চাকরির ব্যবস্থা করতে পারবেন। নতুন ভাষা জানলে আপনার জ্ঞানের পরিধিও বাড়বে।
৫.
বাংলাদেশের বেশীরভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে দূর্বল। আসলে তারা বাংলাতেও দূর্বল। এর কারণ কী? তাদের মেধা কম? না, তাদেরকে ভুল পদ্ধতিতে ভাষা শেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রচলিত তথ্যসর্বস্ব বা মুখস্থমার্কা পড়ালেখা শিক্ষার্থীদের ভাষাগত অদক্ষতার প্রধান কারণ।
৬.
আপনার কি মনমেজাজ খারাপ? কিছুই ভালো লাগেনা! তাহলে একটা নতুন ভাষা শেখার চেষ্টা করুন। মানুষের মস্তিষ্ক নতুন অভিজ্ঞতা ও‌ বৈচিত্র্য পছন্দ করে, একারণে নতুন ভাষা আপনার মস্তিষ্ককে নতুন কিছু জানার উৎসাহে উদ্দীপ্ত রাখবে, আপনার মনও ভালো থাকবে।
৭.
ভাষার ক্ষেত্রে বেশীরভাগ মানুষ ভয়াবহ রকমের পক্ষপাতদুষ্ট। যদি প্রশ্ন করা হয় কোন ভাষা সহজ? বাংলা না ইংরেজি? উত্তর কী হবে? বাঙালী বলবে বাংলা সহজ আর ইংরেজ বলবে ইংরেজি সহজ। আসলে এটা খুবই সাধারণ একটা ফ্যাক্ট, যে যে ভাষায় অভ্যস্ত তার জন্য সে ভাষা সহজ আর যে ভাষায় সে অভ্যস্ত নয় সেটা তার কাছে কঠিন। সুন্দর ভাষা কোন অঞ্চলের? এখানেও একই কাহিনী। যে যে অঞ্চলের ভাষায় অভ্যস্ত তার কাছে সে ভাষাটাই সবচেয়ে সুন্দর।

13/02/2023

অভাব দরজায় আসলে কি ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায়?
#বিশেষ_লেখা #আলোচনা

(লেখকের ব্যক্তিগত মতামত আপনার জ্ঞান, ভাবাবেগ, দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভিন্ন হতে পারে, তাই বিষয়টি সহজভাবে নেয়ার মানসিক প্রস্তুতি কাম্য।)

"অভাব যখন দরজায় এসে দাঁড়ায় ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়" এধরনের একটি কথা আছে যেটা দ্বারা সাধারণ মানুষ সাধারণভাবে বুঝে থাকে যে অভাব দেখা দিলে ভালোবাসা আর থাকতে চায়না বা ভালোবাসা কমে যায়। তবে আমার মনে হয় এ বাক্যের মূল উদ্দেশ্য একটু ভিন্ন কিছু হবে। যাই হোক, অভাব দরজায় চলে আসলে ভালোবাসা আসলেই জানালা দিয়ে পালায় কিনা সেটা নিয়েই এখন আলোচনা করবো। আমার মূল দাবি হলো, ভালোবাসা অভাব আসলেও পালায় না, যেটা পালায় সেটা আসলে ভালোবাসা না, হতে পারে কৃত্রিম বা ছদ্ম ভালোবাসা বা ভালোবাসাজাতীয় কোন আবেগ অনুভূতি। কথা হলো, অভাব আসলেও ভালোবাসা পালাবেনা এ দাবির ভিত্তি কী? এ দাবির একটা শক্ত ভিত্তি আছে। ভিত্তিটা হচ্ছে "ভালোবাসা অভাব দ্বারা প্রভাবিত নয়, অভাবের বিষয় আসে যখন চাহিদা বা প্রত্যাশা থাকে, কিন্তু ভালোবাসা চাহিদা বা প্রত্যাশার বাইরের বিষয়"। একটা উদাহরণ দিই। ধরুন, আপনি চটপটি খেতে ভালোবাসেন। এখন আপনার জীবনে অভাব দেখা দিয়েছে। আপনি কি চটপটি খাদ্যতালিকা থেকে একেবারে বাদ দিয়ে দিবেন? না, আপনি হয়তো অভাবের কারণে চটপটি কম খাবেন কিন্তু চটপটির প্রতি আপনার ভালোবাসা আগের মতোই থাকবে, একদমই কমবেনা। এবার একটা ভালো উদাহরণ দিই। সংসারে অভাব দেখা দিলে কি পিতা-মাতা সন্তানের প্রতি ভালোবাসা কমিয়ে দেয় বা কমিয়ে দিতে পারে? যে দেশপ্রেমিক দেশকে ভালোবাসে দেশ দরিদ্র হয়ে গেলে সে কি দেশদ্রোহী হয়ে উঠে? না, এরকম হয়না। কারণ, ভালোবাসায় কোন অভাব অভিযোগ থাকেনা, ভালোবাসা কোন বিনিময় বা লেনদেনের চুক্তি নয়।
কোন ধরনের ভালোবাসা আসলে দূর্বল প্রকৃতির ভালোবাসা? যে ভালোবাসায় বৈষয়িক চাহিদা, স্বার্থ, প্রত্যাশা বা দাবি থাকে। আপনি নিশ্চয় খেয়াল করে দেখবেন যে পরিবারের সদস্যরা পরিবারে কে কত খরচ করে, কার কত প্রাপ্য, কে বেশী দিয়েছে, কে কম দিয়েছে এসব নিয়ে দরকষাকষি করে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক খুব একটা ভালো হয়না। কারণ, তারা চাহিদা বা স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে, মানুষকে নয়। এখানেই সমস্যা। চাহিদা বা স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে সেখানে অভাব অভিযোগও চলে আসে। কারণ, অভাব হচ্ছে চাহিদা বা প্রত্যাশা পূরণের ঘাটতি বা ব্যর্থতা। যেখানে চাহিদা বা স্বার্থ প্রাধান্য পায়, সেখানে ভালোবাসা থাকেনা, ভালোবাসা আসলে একধরনের 'লস প্রজেক্ট', আধ্যাত্মিক পর্যায়ের বিষয়, লাভক্ষতির হিসাবনিকাশ করলে ভালোবাসা টিকেনা।

এবার আসি বিশেষ ধরনের ভালোবাসা (রোমান্টিক ভালোবাসা বা নারী-পুরুষ এর ভালোবাসা) প্রসঙ্গে। 'ভালোবাসা' বলতে সাধারণত মানুষ এ বিশেষ ভালোবাসাকেই বোঝে। নারী, পুরুষ এর পারস্পরিক ভালোবাসা স্বাভাবিকভাবেই জৈবিক কারণে হরমোন দ্বারা প্রভাবিত। তবে এক্ষেত্রেও ভালোবাসা খাঁটি হলে অভাব তাকে পরাস্ত করতে পারেনা। অভাবের কারণে যদি ভালোবাসা পালিয়ে যেত তাহলে কোন গরীবেরই সংসার টিকতোনা কিংবা হঠাৎ গরীব হওয়ার কারণে সব গরীবের স্বামী/স্ত্রী তাদের ছেড়ে চলে যেত। বাস্তবে দেখা যায়, গরীবের সংসার তুলনামূলক ভালোই টিকে বরং পয়সাওয়ালাদের মধ্যে ইগো প্রবলেম, অহংকার আর টাকার গরমের কারণে সংসার ভাঙ্গার ঘটনা বেশী দেখা যায়।
আপাতত আর কিছু লিখছিনা, আপনারা মতামত জানালে কিছু ফিডব্যাক দিতে পারি।

11/02/2023

কৃত্রিমতা পরিহার করুন, স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করুন, জীবনের জটিলতা কমবে।


আপনার যদি কৃষিকাজ করতে ভালো লাগে তো কৃষিকাজ করুন, লোকে 'ক্ষ্যাত' বলে উপহাস করলে সেটাকে ইগনোর করুন, কৃষিকাজ করলে আনন্দলাভ আর উপার্জন হলে তো আপনারই লাভ, লোকের কথায় কী এসে যায়? আপনার যদি সস্তা পোশাকেই চাহিদা পূর্ণ হয় তাহলে সস্তা পোশাকই পরুন, বড়লোকি ভাব দেখানোর জন্য দামি পোশাক কেনার প্রেসার নিতে যাবেন না। আপনার ঘরে যদি একটা নরমাল চেয়ার থাকলেই চলে, তবে পাড়া প্রতিবেশীর সাথে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে তার পরিবর্তে সিংহাসনের ব্যবস্থা করতে যাবেন না, মৌলিক চাহিদা আর অতিরিক্ত চাহিদার পার্থক্য বুঝলে বাড়তি খরচ অনেক কমে যাবে। আপনার ডালভাত দিয়েই যদি হয়ে যায়, সেটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন, অন্যদের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে বিরানী, বার্গার এসব দামী খাবারের দিকে ঝুঁকার প্রয়োজন নেই। আপনার যদি নোকিয়া ১১০০ দিয়ে কাজ হয় তবে আইফোনের চিন্তায় ঘুম নষ্ট করবেননা, আইফোন আপনার কোন জরুরী চাহিদা নয়। কাউকে বা কোনকিছুকে পছন্দ না করলে জোর করে সেটা পছন্দ করার প্রয়োজন নেই। কাউকে কোন কারণে অপছন্দ করেন কিন্তু বোঝাচ্ছেন তাকে আপনার খুবই পছন্দ, এটা আপনার এবং তার দুজনের জন্যই খারাপ, আপনি তার সাথে প্রতারণা করছেন এবং সে বিভ্রান্ত হচ্ছে। আপনার সমাজ, আপনার পরিবেশ অনেক ধরনের কৃত্রিম চাহিদা, অসুস্থ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে রাখে, আপনাকে এসব কৃত্রিমতা, বাহুল্য, ক্ষতিকর চ্যালেঞ্জ থেকে সতর্ক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

05/02/2023


# কোয়ালিটির সাথে কখনো কম্প্রোমাইজ করা উচিত নয়।
# সস্তায় জনপ্রিয় হওয়ার লোভ, নেগেটিভ মার্কেটিং কোয়ালিটি ডাউন করে।
# কোয়ানটিটির চেয়ে কোয়ালিটি বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

আমি ফেসবুকে অনেক আগে থেকেই একটিভ পারসন, বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করি। ফেসবুকে এভারেজ মানুষ কোন ধরনের কন্টেন্ট পছন্দ করে, কোন ধরনের কন্টেন্ট প্রমোট করে সেটা নিয়ে মোটামুটি বেশ ভালো ধারণা হয়ে গেছে। পাবলিক সাধারণভাবে বিনোদন বা আনন্দ পায় এধরনের কন্টেন্ট বেশী পছন্দ করে, শিক্ষামূলক কন্টেন্ট এড়িয়ে যায়। এটা যদিও স্বাভাবিক কিন্তু আবার এক দিক থেকে ক্ষতিকর চয়েজ। বিনোদনমূলক বেশীরভাগ কন্টেন্টই বাস্তব জীবনের জন্য খুব একটা প্রোডাকটিভ কিছু নয়, বরং সময় নষ্ট করে এবং একজন মানুষকে আত্মউন্নয়নের জায়গা থেকে পিছিয়ে দেয়। মানুষের এই আত্মবিধ্বংসী সাইকোলজিকে (অর্থাৎ শিক্ষার চেয়ে বিনোদনকে প্রাধান্য দেয়া) অসাধু প্রকৃতির মিডিয়া খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। এতে করে দৃশ্যত মিডিয়ার লাভ হচ্ছে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে মিডিয়ার সর্বোচ্চ ক্ষতিটা হয়ে যায়, মিডিয়া কোয়ালিটি হারায়, আর খারাপ কোয়ালিটির মিডিয়া পাবলিককে আরো খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যায়। এই খারাপ পরিণতির মূল কারণ পাবলিক এবং মিডিয়ার 'কোয়ালিটি' নিয়ে সচেতনতার অভাব। পাবলিক একটা নিউজ বেশী আলোচনা করছে বলেই সেটা বেশী কোয়ালিটির নিউজ কন্টেন্ট হয়না। কোয়ালিটি সবসময় বা সবক্ষেত্রে সংখ্যা বা পরিমাণের উপর নির্ভর করেনা। তাই কোয়ালিটি ঠিক রাখতে চাইলে এই বিষয়ে যথেষ্ট সচেতনতা থাকা প্রয়োজন।

Want your school to be the top-listed School/college?