15/09/2026
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী নানুপুর গ্রাম থেকে উঠে এসে ধর্মীয় শিক্ষা, আধ্যাত্মিকতা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করেছেন সালাহ উদ্দিন নানুপুরী। তিনি একজন বাংলাদেশি ইসলামি ধর্মীয় পণ্ডিত, আধ্যাত্মিক ও সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব। কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত।
১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার প্রসিদ্ধ নানুপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সালাহ উদ্দিন নানুপুরী। তাঁর পিতা ছিলেন বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের প্রাক্তন মহাপরিচালক আল্লামা শাহ জমির উদ্দীন নানুপুরী। বাবার আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা এবং পরবর্তী জীবনের পথচলায় সেই পরিবেশের গভীর প্রভাব পড়ে।
তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় নানুপুর ওবায়দিয়া মাদরাসায়। মক্তব বিভাগ থেকে শুরু করে তিনি সেখানেই অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন শাইখুল হাদিস আল্লামা হারুন শাহনগরী, মুফতি সাঈদ আহমদ ফেনি, আল্লামা শেখ আহমদ হাটহাজারী ও শাহ আব্দুল বারী ফতেহপুরী প্রমুখ।
দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পর সালাহ উদ্দিন নানুপুরী কয়েক বছর ব্যবসায়িক কাজে বিদেশে অবস্থান করেন। পরে ২০০৫ সালে দেশে ফিরে তিনি নানুপুর মাদরাসায় যোগ দেন। এরপর ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে তাঁর কর্মজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
২০১১ সালে তৎকালীন মহাপরিচালক শাহ জমির উদ্দীন নানুপুরীর ইন্তেকালের পর সালাহ উদ্দিন নানুপুরী জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নানুপুরের এই ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তাঁর শিক্ষা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হয়েছে।
শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক সাধনাতেও সালাহ উদ্দিন নানুপুরীর ভূমিকা রয়েছে। তাঁর পিতা আল্লামা শাহ জমির উদ্দীন নানুপুরী জীবদ্দশায় তাঁকে আধ্যাত্মিকতার খেলাফত প্রদান করেন। পিতার সিলসিলাতেই তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাংগঠনিক ও জনকল্যাণমূলক কাজেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন এবং ২০২০ সালের হেফাজতে ইসলামের কাউন্সিলে নায়েবে আমির মনোনীত হন। এছাড়া সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার বাংলাদেশ-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। সংগঠনটির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি অবহেলিত এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, নলকূপ ও বাড়িঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সালাহ উদ্দিন নানুপুরী জমিরিয়া তালীম ও তাজকিয়া পরিষদ, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান। ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক এই সংগঠনের অধীনে বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়া, দুবাই, আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান সুবিন্যস্ত সিলেবাসের মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি তিনি বৃহত্তর ফটিকছড়ি ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নানুপুরের একটি ধর্মীয় পরিবার থেকে উঠে আসা সালাহ উদ্দিন নানুপুরীর জীবন তাই শুধু একটি মাদরাসা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধর্মীয় শিক্ষা, আধ্যাত্মিক সাধনা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি নানুপুরকেন্দ্রিক ধর্মীয় পরিমণ্ডলে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর পথচলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানুপুরের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাধারা এবং চট্টগ্রামের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
#চট্টগ্রাম #সালাহউদ্দিননানুপুরী