সফল জীবনের চাবিকাঠি: নবীজি (সা.)-এর ১০টি সময় ব্যবস্থাপনা সূত্র ।
সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি সুশৃঙ্খল অভ্যাসের ধারাবাহিক ফসল। আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সময় ব্যবস্থাপনার যে কালজয়ী আদর্শ রেখে গেছেন, তা আজও আধুনিক বিশ্বের জন্য অনুকরণীয়।
আপনার জীবনকে বদলে দিতে নবীজি (সা.)-এর ১০টি প্রধান সূত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ভোরের বরকত গ্রহণ
সাফল্যের প্রথম শর্ত হলো দিনের শুরুটা সঠিক সময়ে করা। নবীজি (সা.) দিনের প্রথম ভাগে কাজের জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ দোয়া করেছেন।
হাদিস: “হে আল্লাহ, আপনি আমার উম্মতের জন্য ভোরের সময়ে বরকত দান করুন।” (সুনানে তিরমিজি)
২. কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা
বড় কোনো অর্জনের চেয়ে ছোট ছোট ভালো কাজের ধারাবাহিকতা সাফল্যের জন্য বেশি কার্যকর। নবীজি (সা.) অনিয়মিত বড় কাজের চেয়ে নিয়মিত ছোট কাজকে বেশি পছন্দ করতেন।
হাদিস: “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো তা-ই, যা নিয়মিত করা হয়; যদিও তা পরিমাণে অল্প হোক।” (সহিহ বুখারি)
৩. অবসরকে পুঁজি হিসেবে দেখা
অধিকাংশ মানুষ অবসর সময়কে কেবল বিনোদনে অপচয় করে। অথচ এটি জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত ও মূলধন।
হাদিস: “দুটি নেয়ামতের বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ ধোঁকায় পড়ে আছে; তা হলো সুস্থতা ও অবসর।” (সহিহ বুখারি)
৪. অনর্থক কাজ বর্জন
কোনটি জরুরি আর কোনটি বর্জনীয়—এই পার্থক্য বুঝতে পারা সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করা একজন আদর্শ মানুষের অন্যতম গুণ।
হাদিস: “একজন ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো নিরর্থক কাজ বর্জন করা।” (সুনানে তিরমিজি)
৫. পঞ্চ-সুযোগের সদ্ব্যবহার
বিপদ আসার আগেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা দূরদর্শিতার লক্ষণ। সময়ের গুরুত্ব বোঝাতে নবীজি (সা.) একটি কালজয়ী সূত্র দিয়েছেন:
বার্ধক্যের আগে যৌবনকে
অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে
দারিদ্র্যের আগে প্রাচুর্যকে
ব্যস্ততার আগে অবসরকে
মৃত্যুর আগে জীবনকে
৬. সময়নিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা
সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভ হলো পাঞ্চুয়ালিটি। নবীজি (সা.) নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করা এবং ওয়াদা রক্ষার ব্যাপারে ছিলেন আপসহীন।
উদাহরণ: একবার একজনের সাথে সাক্ষাতের কথা ছিল, তিনি আসতে তিন দিন দেরি করলেও নবীজি (সা.) তাঁর জন্য নির্দিষ্ট স্থানে অপেক্ষা করেছিলেন।
৭. পরিমিত বিশ্রাম (কায়লুলা)
একটানা কাজ করলে উৎপাদনশীলতা কমে যায়। শরীর ও মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে নবীজি (সা.) দুপুরে অল্প সময় বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন, যা আধুনিক বিজ্ঞানে 'পাওয়ার ন্যাপ' হিসেবে পরিচিত।
হাদিস: “তোমরা দুপুরে কিছুটা বিশ্রাম (কায়লুলা) নাও।” (তাবারানি)
৮. রাতের শুরুতেই নিদ্রা
রাতের গভীর পর্যন্ত জেগে থাকা পরবর্তী দিনের উদ্যম নষ্ট করে। নবীজি (সা.) এশার নামাজের পর অকারণে আড্ডা দেওয়া পছন্দ করতেন না, যাতে দ্রুত ঘুমিয়ে ভোরে সতেজ মনে দিন শুরু করা যায়।
৯. পরামর্শ বা মাশওয়ারা গ্রহণ
একগুঁয়েমি মানুষের পতনের কারণ। নবীজি (সা.) ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে সঙ্গীদের সাথে পরামর্শ করতেন। এটি ভুল সংশোধনে এবং নতুন আইডিয়া তৈরিতে সাহায্য করে।
১০. কর্মতৎপরতা ও স্বাবলম্বিতা
সাফল্যের শেষ সূত্র হলো অলসতা ত্যাগ করে নিজের চেষ্টায় স্বাবলম্বী হওয়া। তিনি ভিক্ষাবৃত্তির চেয়ে কঠোর পরিশ্রমকে সম্মানের কাজ হিসেবে শিখিয়েছেন।
হাদিস: “নিজ হাতের উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ খাদ্য আর কেউ কখনো খায়নি।” (সহিহ বুখারি)
উপসংহার
নবীজি (সা.)-এর এই ১০টি সূত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাফল্য কেবল ভাগ্যের বিষয় নয়; বরং এটি সময় সচেতনতা, ধারাবাহিকতা এবং কঠোর পরিশ্রমের এক অনন্য সমন্বয়। এই সূত্রগুলো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে চর্চা করলে আমরা কেবল পরকালীন নয়, জাগতিক জীবনেও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম হব।
কুরআন ও হাদিস-এর কথা
Follow The Al Koran and Sunnah in your life
06/02/2026
দরূদ ও সালাম: উপকারিতা ও ফযীলত
হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ তা‘আলার আখেরী রাসূল। তাই তাঁর প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য ছাড়া আল্লাহকে বিশ্বাস ও আল্লাহর আনুগত্যের দাবি অর্থহীন। কুরআন কারীমের বিভিন্ন জায়গায় এ বিষয়টি ঘোষিত হয়েছে।
আল্লাহ তাআলাকে পাওয়ার একমাত্র পথ হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর অনুসরণ। তাই তাঁর জন্য হৃদয়ের গভীরে মহববত ও ভালবাসা পোষণ করা এবং দু‘আ করা প্রত্যেক উম্মতের ঈমানী কর্তব্য।
কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা‘আলা নবী (ﷺ)-এর জন্য দরূদ পাঠের আদেশ করেছেন। এটা একদিকে যেমন আল্লাহর কাছে তাঁর রাসূলের মর্যাদার প্রমাণ অন্যদিকে মুমিন বান্দার রহমত ও বরকত লাভের অন্যতম উপায়।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
۞ اِنَّ اللّٰہَ وَمَلٰٓئِکَتَہٗ یُصَلُّوۡنَ عَلَی النَّبِیِّ ؕ یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا صَلُّوۡا عَلَیۡہِ وَسَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ পাঠান। হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি দরূদ পাঠাও এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও।
সূরা আহযাব, আয়াত নং: ৫৬
১. দরূদ পাঠকারীর রহমত, মাগফিরাত ও দরজা বুলন্দ হয়।
২. দরূদ পাঠকারীর জন্য ফেরেশতারা মাগফিরাতের দু‘আ করেন।
৩. দরূদ পাঠকারীর জন্য শাফাআত অবধারিত হয়।
৪. দরূদ পাঠকারী কিয়ামতের দিন নবীজীর সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে।
৫. দরূদ পাঠকারীর উভয় জগতের সকল আশা পূরণ হয়।
৬. দরূদ পাঠ করার ফলে সদকার সওয়াব অর্জিত হয়।
৭. দরূদ বিহীন দু‘আ আসমান-যমীনের মাঝে ঝুলন্ত থাকে।
৮. উম্মতের সালাম নবীজীর নিকট পৌঁছানো হয়।
- মুসলিম বাংলা থেকে কপি করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ—
“যার আজকের দিন গতকালের চেয়ে উত্তম, সে সফল।
যার আজকের দিন গতকালের মতোই, সে ক্ষতিগ্রস্ত।
আর যার আজকের দিন গতকালের চেয়ে খারাপ, সে ধ্বংসপ্রাপ্ত।"
হাদিস: আল-হাকিম (৪/৩৫৬)
নিয়ত করি, বাকি জীবন আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করবো, ইনশাআল্লাহ।
ইসলামে ‘নফস’ কাকে বলে
ইসলাম মানুষের ভেতরের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক সংগ্রামের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো নফস। কোরআন, হাদিস এবং ইসলামি সাহিত্য নফসকে মানুষের অন্তরের সেই শক্তি বা প্রবৃত্তি হিসেবে বর্ণনা করে, যা একদিকে পাপ ও কামনার দিকে টানে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ করলে তাকওয়া ও ইবাদতের দিকে নিয়ে যায়। তাই ইসলামি জীবনদর্শনে নফস একটি মৌলিক ধারণা।
নফসের ভাষাগত অর্থ
আরবি “নফস” শব্দ এসেছে মূল ধাতু “নাফাসা” থেকে, যার অর্থ—প্রাণ, আত্মা, অন্তর, বা ব্যক্তিসত্তা।
লিসানুল আরব অভিধানে বলা হয়েছে: নফস মানে প্রাণ ও সত্তা। (ইবন মানযুর, লিসানুল আরব, খণ্ড ৯, পৃ. ৫৯৯, দারুস সাদির, বৈরুত, ১৯৯০)
ইসলামি পরিভাষায় নফস বলতে বোঝানো হয় মানুষের অন্তরে গেঁথে থাকা সেই প্রবৃত্তিকে, যা কখনো কল্যাণের দিকে, আবার কখনো অকল্যাণের দিকে প্ররোচিত করে।
কোরআনে নফস
কোরআনে নফসের বিভিন্ন অবস্থা বর্ণিত হয়েছে।
১. নফসে আম্মারা (পাপপ্রবণ নফস):
“নিশ্চয়ই নফস তো মন্দের দিকে প্রবলভাবে প্ররোচিত করে।” (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৫৩)
এটি হলো নফসের সবচেয়ে নিচু স্তর, যেখানে প্রবৃত্তি কেবল গুনাহের দিকে টানে।
২. নফসে লাওয়ামাহ (ধিক্কারদাতা নফস):
“আমি শপথ করি ধিক্কারদাতা নফসের।” (সুরা কিয়ামাহ, আয়াত: ২)
এটি হলো সেই নফস, যা ভুল করলে অনুতপ্ত হয় এবং মানুষকে তওবার দিকে নিয়ে যায়।
৩. নফসে মুতমাইন্নাহ (শান্ত আত্মা):
“হে প্রশান্ত আত্মা, তোমার প্রতিপালকের কাছে ফিরে আসো, তুমি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট, তিনিও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট।” (সুরা ফাজর, আয়াত: ২৭-২৮)
এটি হলো নফসের সর্বোচ্চ স্তর, যেখানে আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত থাকে।
হাদিসে নফস
রাসুল (সা.) বলেছেন: “সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাহিদ সে-ই, যে নিজের নফস ও খেয়ালকে নিয়ন্ত্রণ করে।" (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪২৯৭)
আরেকটি হাদিসে তিনি দোয়া করেছেন: “হে আল্লাহ, আমার নফসকে তাকওয়া দান করো এবং তাকে পবিত্র করো, তুমি সর্বশ্রেষ্ঠ পবিত্রকারী।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭২২)
আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি
ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন: “নফস মূলত একটি নিরপেক্ষ শক্তি। এটিকে যদি মানুষ নিয়ন্ত্রণহীন রেখে দেয়, তবে তা পশুর মতো নিচে নেমে যায়। আর যদি তাকওয়া ও শুদ্ধতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত করে, তবে তা ফেরেশতার মতো উচ্চে ওঠে।” (ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন, খণ্ড ৩, পৃ. ৩, দারুল মাআরিফ, কায়রো, ১৯৩৯)
ইবন কাইয়িম জাওযি (রহ.) বলেন: “নফস মানুষের জন্য পরীক্ষার একটি ক্ষেত্র। নফসকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়, সে-ই মুক্তি পায়।” (মাদারিজুস সালিকীন, খণ্ড ১, পৃ. ৩২৭, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যা, বৈরুত, ১৯৯৬)।
জীবনে নফসের প্রাসঙ্গিকতা
আজকের ভোগবাদী যুগে নফসের প্রলোভন আরও তীব্র। ভোগবিলাস, অর্থ ও খ্যাতি মানুষের নফসকে উসকে দেয়। বিজ্ঞাপন ও সোশ্যাল মিডিয়া নফসকে ক্রমাগত প্রলুব্ধ করে। আত্মসংযম ও তাকওয়া ছাড়া নফসকে বশে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
কোরআনে বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি নফসকে পরিশুদ্ধ করে, সে-ই সফল। আর যে একে কলুষিত করে, সে-ই ধ্বংসপ্রাপ্ত।” (সুরা শামস, আয়াত: ৯-১০)
নফস হলো মানুষের অন্তরে লুকিয়ে থাকা প্রবৃত্তি ও সত্তা, যা মানুষের চরিত্র গঠনের মূল চালিকা শক্তি। এটি কখনো আম্মারা হয়ে গুনাহের দিকে টানে, কখনো লাওয়ামাহ হয়ে অনুতপ্ত করে, আবার কখনো মুতমাইন্নাহ হয়ে শান্তির দিকে নিয়ে যায়। ইসলামের শিক্ষা হলো—প্রকৃত মুজাহিদ সেই, যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাকওয়ার পথে চালিত করে।
(লেখাটি দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা থেকে কপি পেস্ট করা হয়েছে)
হযরত জাবির (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
❝ তোমরা রিযিক সন্ধানের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করো না, পৃথিবীতে কোন বান্দাই তার ভাগ্যে নির্ধারিত সর্বশেষ রিযিক অর্জন না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং রুযী সন্ধানে মধ্যবর্তী পন্থা (সুন্দর ও স্বাভাবিক বৈধ পথ) অবলম্বন করো, হালাল উপায় গ্রহণ করো এবং হারাম উপায় বর্জন করো ❞
📖 [ সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৩৩২; সুনানুল কুবরা, হা/১০৪০৪ ]
ফজরের নামাজ পড়লে ১০ পুরস্কার:
ফেরদৌস ফয়সাল
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৪: ০০
প্রথম আলো
ফজরের নামাজ
ফজরের বিশেষ গুরুত্ব যেমন নামাজের মধ্যে আছে, তেমনি সময়ের মধ্যেও। কোরআনে সুরা ফজরের শুরুতে আল্লাহ তাআলা বলেন, শপথ ফজরের। (সুরা ফজর, আয়াত: ১)
ফজরের নামাজ পড়ার কয়েকটি উপকারের কথা জানা যাক
১. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত নফল নামাজ আদায় করল। আর যে ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল, সে যেন সারা রাত জেগে নামাজ আদায় করল।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৩৭৭)
২. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ফজরের দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া ও তার সবকিছুর চেয়ে উত্তম।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৫৭৩)
৩. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ফজরের নামাজ আদায় করল, সে মহান আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৩৭৯)
৪. রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘সেই মানুষটি জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের আগের এবং সূর্যাস্তের আগের অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামাজ আদায় করে।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৩২২)
৫. রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুনাফিকদের জন্য ফজর ও এশার চেয়ে বেশি ভারী কোনো নামাজ নেই। এ দুই নামাজের ফজিলত যদি তারা জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৫৭)
৬. খলিফা হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর বরাতে একটি হাদিস জানা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নাজদের দিকে এক অভিযানে একটি সেনাদল পাঠান। তারা প্রচুর গণিমতের সম্পদ অর্জন করে তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। তাদের সঙ্গে যায়নি এমন একজন বলেন,‘অল্প সময়ের মধ্যে এত পরিমাণে ভালো গণিমত নিয়ে এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি আর কোনো সেনাদলকে আমরা ফিরে আসতে দেখিনি।’
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি দলের কথা বলব না, যারা এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি উত্তম গণিমত নিয়ে ফিরে আসে? যারা ফজরের নামাজে জামাতে হাজির হয়, (নামাজ শেষে) সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহ তাআলার জিকির করতে থাকে, তারাই অল্প সময়ের মধ্যে উত্তম গণিমতসহ প্রত্যাবর্তনকারী।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৬৪১)
৭. সাহাবি আনাস (রা.) বলেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে মসজিদগুলোয় যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের কিয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ নুরের সুসংবাদ দাও।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৭৮১)
৮. ফজরের সময় ফেরেশতাদের পালাবদল হয়। আর এ সময় বান্দা যা কিছু করে ফেরেশতারা আল্লাহর কাছে তা পেশ করেন। এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বিষয়টি চমৎকারভাবে তুলে ধরে বলেন, ‘ফেরেশতারা পালাবদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। আসর ও ফজরের নামাজে উভয় দল একত্র হয়। তারপর তোমাদের মাঝে রাতযাপনকারী দলটি উঠে যায়। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞাসা করেন, আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এলে? অথচ তিনি তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। জবাবে তাঁরা বলেন, ‘আমরা তাদের নামাজে রেখে এসেছি আর আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনো তারা নামাজরত ছিলেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৫৫)
৯. জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, ‘একবার আমরা নবী করিম (সা.)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি রাতে (পূর্ণিমার) চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলেন, ওই চাঁদকে তোমরা যেমন দেখছ, ঠিক তেমনি অচিরেই তোমাদের প্রতিপালককে তোমরা দেখতে পাবে।’
১০. রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পেছনে তিনটি গিঁট দেয়। প্রতি গিঁটে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব, তুমি শুয়ে থাকো। তারপর সে যদি জেগে আল্লাহকে স্মরণ করে তাহলে একটি গিঁট খুলে যায়, অজু করলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়, তারপর নামাজ পড়লে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় উত্ফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। না হলে সে সকালে ওঠে কলুষ কালিমা ও আলস্য নিয়ে।’ (বুখারি, হাদিস: ১১৪২)
কপি পেস্ট:
মুফতি জাকারিয়া হারুন
সবচেয়ে বেশি সওয়াব লাভ হয় যে ৩ দোয়ায়:
মহান আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হিসেবে। তাদের দিয়েছেন সবচেয়ে সুন্দর অবয়ব। নির্দেশনা দিয়েছেন একমাত্র তার ইবাদতের। আর দোয়াও স্বতন্ত্র ইবাদত। যে আল্লাহর কাছে দোয়া করে না, আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট হন। এর মাধ্যমে সহজেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।
দোয়ার মাধ্যমে সহজেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।
দোয়ার মাধ্যমে সহজেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।
নিচে হাদিসে বর্ণিত যে ৩ দোয়ায় সবচেয়ে বেশি সওয়াব লাভ হয়; তা উল্লেখ করা হলো:
যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ১০০ বার এই দোয়া পড়বে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশি নেকি নিয়ে কেউ আল্লাহর দরবারে হাজির হতে পারবে না। তবে যারা এই দোয়ার আমল করে, তারা ছাড়া। (মুসলিম ২৬৯২)
দোয়াটি হলো--
سبحان الله وبحمده (উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি।)
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তারই। কোনো কোনো আলেম দোয়াটির অর্থ এভাবে বর্ণনা করেছেন, আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
আরেকটি হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে ১০০ বার বলবে ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’ এবং সন্ধ্যায় উপনীত হয়েও অনুরূপ বলবে, সৃষ্টিকুলের কেউ তার সমপরিমাণ মর্যাদা ও সাওয়াব অর্জন করতে পারবে না। (আবু দাউদ ৫০৯১)
দোয়াটি হলো--
سبحان الله العظيم وبحمده (উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি।)
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, মহান-শ্রেষ্ঠতর। সব প্রশংসা তারই।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ পড়া আমার কাছে সেসব বিষয়ের চেয়ে বেশি প্রিয়, যার ওপর সূর্য উদিত হয়েছে (দুনিয়া ও দুনিয়ার সব কিছু থেকে বেশি প্রিয়)। (মুসলিম ৬৭৪০)
দোয়াটি হলো--
سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر (উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।)
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, সব প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আল্লাহ মহান।
:লেখাটি কপি করা হয়েছে
মনের যে ১০ রোগ থেকে মুমিনদের বাঁচতে হয়
-- মাওলানা নোমান বিল্লাহ
আমরা যা করি তা মন দ্বারা পরিচালিত হয়। আল্লাহ তাআলা এই মনকে কোরআনে নফস বলেছেন। মানুষের মন যেমন মানুষ দ্বারা প্রভাবিত হয় তেমনই শয়তান দ্বারাও প্রভাবিত হয়। আবার মানুষের মনে জন্মগত ও বংশগত কারণে কিছু দোষ-গুণ থাকে যা দ্বারা মানুষের কাজ সম্পাদিত হয়।
কিছু মানুষ আছেন যারা ছোটকাল থেকেই বিনয়ী থাকেন। কেউ কেউ আবার অহংকারী থাকেন। এমন হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক হলো এসব দোষ নিজের থেকে দূর না করা। কোরআন ও হাদিসে এমন ১০টি মনের রোগের কথা বলা হয়েছে যা থেকে একজন মুমিনের বেঁচে থাকতে হয়।
এক. লোভ:
লোভ বলা হয় যখন কেউ অন্যায়ভাবে কোনোকিছু অর্জন করতে চায়। অধিক চাওয়া মন্দ কিছু নয় কিন্তু তা হতে হবে নিজের সাধ্যানুযায়ী এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে।
দুই. দীর্ঘ আশা:
আরবিতে বলা হয় আমাল। একটি বাড়ির মালিক হয়েছে, চলবে না, আরেকটি বাড়ির মালিক হতে হবে। এভাবে আশা করা সাধারণভাবে রোগ নয়। তবে কেউ যখন এই আশা পূরণ করতে গিয়ে ইবাদত বন্দেগি ও আত্মীয়স্বজনদের হক নষ্ট করে তাহলে নিঃসন্দেহে তা মনের রোগ।
তিন. রাগ:
যে রাগে সম্পর্ক নষ্ট হয়, অযথা কেউ কষ্ট পায় এবং নিজের মানসিক অবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে সময় ও অর্থ নষ্ট হয় সে রাগ কখনো ভালো নয়। এই রাগ থেকে সর্বদা বেঁচে থাকতে হয়।
এক সাহাবি হজরত রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আল্লাহর রাসুুল, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। রসলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রাগ করবে না। সে আবারও বলল, আল্লাহর রসুল, আমাকে আরেকটি নসিহত করুন। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারও বললেন, রাগ পরিত্যাগ করো। সাহাবি তৃতীয়বার অনুরোধ করার পর রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই জবাব দিলেন। তো যতবারই সাহাবি নসিহতের কথা বলেছেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কথা বলেছেন, রাগ ছাড়, রাগ ছাড়।
চার. মিথ্যা বলা:
মিথ্যা বলা কখনো উচিত নয়। কেননা মিথ্যা জাহান্নামের পথ দেখায় বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাঁচ. গিবত:
এটা তো এখন খুব স্বাভাবিক বিষয়। পবিত্র কোরআনে কারিমে আল্লাহ তাআালা গিবত প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘তোমরা কি মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে?’ গিবত হলো মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো। গিবতকে স্বাভাবিক আলাপচারিতা মনে না করা। কোনো অবস্থাতেই কেউ যেন আমার সামনে গিবত করতে না পারে- প্রত্যেক মুসলমানের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার।
ছয়. কার্পণ্য, কৃপণতা:
হাদিস বলা হয়েছে, কৃপণ জান্নাতে যেতে পারবে না। বড় বড় দানখয়রাত করার দরকার নেই। ছোট ছোট দানখয়রাত করা যেতে পারে। তবে যেন রিয়া (অহংকার) না আসে।
সাত. হিংসা:
হিংসা বলে, কারও মাঝে কোনো গুণ দেখে এ কামনা করা যে, এটা নষ্ট হয়ে যাক। তবে, কারো কোনো গুণ দেখে এমন আশা করা, তার মধ্যে যে গুণ আছে থাকুক, তবে আল্লাহ আমাকেও তা দান করো। এটা হিংসা নয়, এটাকে বলা হয় ঈর্ষা। ঈর্ষা জায়েজ, হিংসা হারাম। হাদিস শরিফে আছে, হিংসুক জান্নাতে যাবে না।
আট. রিয়া:
রিয়া অর্থ লোক দেখানো। মানুষে দেখুক। মানুষের সামনে নামাজ পড়ার সময় যদি নিয়ত করি যে, মানুষে দেখুক তাহলে এটা হবে রিয়া। এর প্রতিকার হলো, যে কাজে রিয়া আসে তা মানুষের সামনে বেশি বেশি করা তাহলে দেখা যাবে, কাজটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। আর অভ্যাস হয়ে গেলে তখন আর রিয়া থাকবে না। কাজটা থাকবে, কিন্তু রিয়া থাকবে না।
নয়. অহংকার:
নিজেকে বড় মনে করা। এর প্রতিকার হলো, নিজেকে সব সময় ছোট মনে করা। অহংকার একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য নির্ধারিত। কোনো বান্দার জন্য এটা শোভন নয়।
দশ. কীনা:
কীনা হিংসার কাছাকাছি একটি বিষয়। কিনা হলো, মনে মনে জ্বলতে থাকা। কারো উন্নতি-সমৃদ্ধি দেখে এমনটা ভাবা যে, এ গুণটা তাকে কেন দেওয়া হলো? সে কেন এ জিনিসের মালিক হলো?
বর্ণিত রোগগুলোকে আলেমরা রুহানি বা আধ্যাত্মিক রোগ বলে অভিহিত করেছেন। আলেমদের অভিমত হলো, এই ১০টা রোগের চিকিৎসা করলে আল্লাহতায়ালা অন্যান্য সব রোগ থেকে মুক্তি দেবেন- ইনশাআল্লাহ।
:লেখাটি কপি করা হয়েছে
চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার শরয়ী হুকুম
-----মুফতী আব্দুল মালেক দা. বা.
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، وسلام على عباده الذين اصطفى، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لاشريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله،
أما بعد:
ইসলামে সবচে বড় ইবাদত এবং ঈমানের পর সবচে বড় ফরয হচ্ছে সালাত।" أَقِيمُوا الصّلَاةَ ও يُقِيمُونَ الصّلَاةَ" এসব বাণীসহ কুরআনে কারীমের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসের মাধ্যমে বারবার সালাত আদায়ের নির্দেশ এসেছে।
আর সালাত কায়েম করার অর্থ হল- সলাতের ফারায়েয ও আরকান, ওয়াজিবাত ও সুনান, আদাব ও মুস্তাহাব্বাত ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান হয়ে নামায আদায় করা।
সালাতের মূল ভিত্তি হলো, তার আরকান ও ওয়াজিবগুলো। এর মাঝে সবচে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কিয়াম, কিরাত, রুকু, সিজদা এবং কা‘দা তথা বৈঠক। আর নামাযের রূহ হলো- আদব ও তাওয়াজু এবং নম্রতা ও বিনয়ের সাথে খুশু-খুযু অবস্থায় আল্লাহ তাআলার সামনে ছোট হয়ে হাজির হওয়া।
এই হাকীকত ও রূহানিয়্যাতের প্রতি খেয়াল করলে চেয়ারে বসে নামায আদায় করার কথা কল্পনাও করা যায় না। কেননা এতে না কিয়ামের ফরয আদায় হয়, না রুকু-সিজদার ফরয, আর না এর মাধ্যমে তাশাহহুদের জন্য যমিনে বসার হুকুম আদায় হয়। আর নামাযের যে রূহ অর্থাৎ সবিনয়ে আল্লাহ তাআলার সামনে হাজির হওয়া তাও এখানে অনুপস্থিত। কারণ চেয়ার সাধারণত আরাম ও মর্যাদার আলামত, তাওয়াজু ও বিনয়ের আলামত নয়।
এজন্য নামায আদায়ের পদ্ধতি হলো, নামাযের সকল আরকান, ওয়াজিবাত, সুনান এবং আদাব ও মুস্তাহাব্বাতের প্রতি যথাযথ খেয়াল রেখে নামায আদায় করা। দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা এবং রুকু-সিজদা যথা নিয়মে আদায় করা।
নামাযে বৈঠকের যে বিধান রয়েছে- তার অর্থই হলো, যমিন বা সমতল জায়গায় বসা। আর সিজদা, যা মূলত নামাযের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুকন। এর হাকীকতই হলো- শরীরের উপরের অংশ নিচু হওয়া আর পেছনের অংশ উঁচু হওয়া। সিজদার পদ্ধতি সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
أُمِرْتُ أَنْ أَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ، عَلَى الجَبْهَةِ وَأَشَارَ بِيَدِهِ عَلَى أَنْفِهِ وَاليَدَيْنِ وَالرّكْبَتَيْنِ، وَأَطْرَافِ القَدَمَيْنِ.
আমাকে সাতটি অঙ্গ দ্বারা সিজদা করতে (আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে) আদেশ করা হয়েছে :
১. কপাল ও নাক।
২, ৩. দুই হাত।
৪, ৫. দুই হাঁটু।
৬, ৭. দুই পায়ের অঙ্গুলিসমূহ।
(সহীহ বুখারী, হাদীস ৮১২)
এ হাদীস থেকে এটি স্পষ্ট যে, এই সাত অঙ্গ ব্যবহার করে সিজদা করলেই তা পরিপূর্ণ সিজদা হবে এবং আল্লাহ তাআলা এভাবেই সিজদা করারই হুকুম প্রদান করেছেন। আর নিচে বসে সমতল জায়গায় সিজদা করার দ্বারাই এ হুকুম আদায় হয়। চেয়ারে বসে এভাবে সিজদা আদায় করা আদৌ সম্ভব নয়।
মোটকথা, কুরআন-সুন্নাহ্য় নামাযের যে পদ্ধতি ফরয করা হয়েছে, চেয়ারে বসে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে সেই ফরয আদায় করা আদৌ সম্ভব নয়।
এখন প্রশ্ন হলো, মাযূর ও অসুস্থ ব্যক্তি কী করবে?
এর উত্তর হলো, মাযূর ও অসুস্থ মুসল্লী তো আজই প্রথম নয়। আগেও তো মাযূর ও অসুস্থ মুসল্লী ছিল। ওযর ও অসুস্থ অবস্থায় কীভাবে নামায আদায় করতে হবে এর তালীমও কুরআন-সুন্নাহ এবং ইসলামী শরীয়তে রয়েছে। প্রয়োজন হলো, ওজরের সময় নামায আদায় করার পদ্ধতি-সংশ্লিষ্ট শরয়ী বিধি-বিধানের ইলম যথাযথ হাছিল করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। সহজতা, আরামপ্রিয়তা এবং নিছক আন্দাজ ও ধারণার ভিত্তিতে এমনি এমনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া যে, "আমার জন্য চেয়ারে বসে নামায পড়া জায়েয আছে" এমনটি করা কখনই উচিত নয়। এতে যেরূপ শরীয়তের ব্যাপারে এক ধরনের বেপরোয়া ভাব প্রকাশ পায়, তদ্রুপ নামাযের মত আযীমুশ শান ইবাদতের ক্ষেত্রে চরম পর্যায়ের উদাসীনতাও প্রকাশ হয়। ওযরের ক্ষেত্রে শরীয়তের উসূল ও মূলনীতি হলো, যে কোনো ওযরের কারণেই কেউ মাযূর সাব্যস্ত হয় না। তাই মামুলী ওযরের কারণে নিজেকে মাযূর মনে করা বৈধ নয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উসূল হলো, যতটুকু ওজর ততটুকু রুখসত বা ছাড়। এমন নয় যে, এক ওজরের কারণে সকল ফরয থেকেই অব্যাহতি। যেমন: নামাযে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই বলে- রুকু-সিজদাও মাফ। রুকু-সিজদার ক্ষমতা না থাকার কারণে কা‘দা (তাশাহহুদের জন্য যমিনে বসা)ও মাফ।
বিষয়টি এমন নয়।
হাদীস শরীফে এসেছে, ইমরান ইবনে হুসাইন রা. বলেন,
كَانَتْ بِي بَوَاسِيرُ، فَسَأَلْتُ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ عَنِ الصّلاَةِ، فَقَالَ: صَلِّ قَائِمًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ.
আমার অর্শরোগ ছিল, তাই আমি কীভাবে নামায পড়ব- এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তুমি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে। দাঁড়িয়ে পড়তে সক্ষম না হলে বসে বসে নামায পড়বে। বসে পড়তেও সক্ষম না হলে কাত হয়ে শুয়ে নামায আদায় করবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১১১৭)
দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মে রুকু-সিজদা করে নামায পড়তে পারেন না এমন ব্যক্তির নামাযের পদ্ধতির ব্যাপারে এ হাদীসে মৌলিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এ হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে আবদুল বার রহ. বলেন,
هَذَا يُبَيِّنُ لَكَ أَنّ الْقِيَامَ لَا يَسْقُطُ فَرْضُهُ إِلّا بِعَدَمِ الِاسْتِطَاعَةِ ثُمّ كَذَلِكَ الْقُعُودُ إِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ ثُمّ كَذَلِكَ شَيْءٌ شَيْءٌ يَسْقُطُ عِنْدَ عَدَمِ الْقُدْرَةِ عَلَيْهِ.
এ হাদীস স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছে যে, কিয়াম করতে অক্ষম হওয়ার আগ পর্যন্ত নামাযে কিয়াম করা ফরয, তা বাদ দেওয়া যাবে না। তেমনি কা‘দা (বৈঠক)। তা আদায়ে অক্ষম হওয়ার আগ পর্যন্ত তা আদায় করার ফরয বিধান বহাল থাকবে। নামাযের অন্যান্য ফরয-ওয়াজিব আমলগুলোও এমনি। যখন যেটি আদায়ে অক্ষম হবে তখন কেবল সেটিই ছাড়া যাবে। (আততামহীদ ১/১৩৫)
উপরোক্ত হাদীস ও শরীয়তের অন্যান্য দলীলের ভিত্তিতে মুজতাহিদ ইমামগণ মাযূর ও অসুস্থ ব্যক্তির নামাযের যেসব বিধি-বিধান উল্লেখ করেছেন তার আলোকে চেয়ারে বসে নামাযের হুকুম সামনে তুলে ধরা হলো।
অসুস্থ হলেই চেয়ারে নামায জায়েয হয়ে যায় না:
এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, বর্তমানে সামান্য অসুস্থতা, সামান্য দুর্বলতা, হালকা ব্যথা-বেদনার অজুহাতে চেয়ারে বসে নামায আদায়ের প্রবণতা অনেকের মধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে। দিন দিন এ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। ফলে মসজিদে মসজিদে চেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ চেয়ারে বসে নামায আদায়কারীদের মধ্যে এমন লোকও থাকেন, যারা হাঁটা-চলা, উঠা-বসা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবেই করে যাচ্ছেন। কিন্তু নামাযের সময় তারা মাযূর হয়ে চেয়ার নিয়ে বসে পড়েন।
ভালোভাবে মনে রাখা দরকার, যে কোনো অসুস্থতার কারণেই চেয়ারে বসে নামায জায়েয হয়ে যায় না। বরং ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীসটিতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে
فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ.
‘দাঁড়িয়ে পড়তে সক্ষম না হলে বসে বসে পড়বে। বসে সক্ষম না হলে কাত হয়ে শুয়ে আদায় করবে।’
এর থেকে স্পষ্ট যে, বসে নামায পড়ার জন্য শর্ত হল দাঁড়ানোর সক্ষমতা না থাকা। তেমনি যমিনে/সমতলে না বসে পড়ার জন্যও শর্ত, যমিনে/সমতলে বসার সক্ষমতা না থাকা।
আর কোন্ প্রকারের অসুস্থতা অক্ষমতা গণ্য হবে কোনটি গণ্য হবে না এবং এর মানদন্ড কী ফকীহগণ তা নির্ণয় করে দিয়ে গেছেন।
মুসান্নাফে আবদুর রায্যাকে বর্ণিত হয়েছে, আমর ইবনে মায়মূন রাহ. বলেন, তার পিতা মায়মূন ইবনে মেহরান রাহ.-কে প্রশ্ন করা হল
مَا عَلَامَةُ مَا يُصَلِّي الْمَرِيضُ قَاعِدًا؟
অসুস্থ ব্যক্তি কখন বসে নামায পড়তে পারবেÑ এর মানদন্ড কী?
উত্তরে তিনি বলেন
إِذَا كَانَ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقُومَ لِدُنْيَاهُ فَلْيُصَلِّ قَاعِدًا.
যখন সে তার দুনিয়াবী কাজের জন্য দাঁড়াতে পারে না এ অবস্থায় পৌঁছলে সে বসে নামায পড়তে পারবে। (মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৪১২৬)
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব আলমুহীতুল বুরহানীতে আছে
وقال عليه السلام لعمران بن حصين رضي الله عنه حين عاده وهو مريض: صل قائماً فإن لم تستطع فقاعداً، فإن لم تستطع فعلى الجنب تومىء إيماءً والمعنى في ذلك أن الطاعة بحسب الطاقة. وقوله: فإن عجز عن القيام وقدر على القعود يصلي المكتوبة قاعداً، لم يرد بهذا العجز العجز أصلاً لا محالة بحيث لا يمكنه القيام بأن يصير مقعداً، بل إذا عجز عنه أصلاً، أو قدر عليه إلا أنه يضعفه ذلك ضعفاً شديداً حتى تزيد علته لذلك، أو يجد وجعاً بذلك، أو يخاف إبطاء البرء، فهذا وما لو عجز عنه أصلاً سواء.
(আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২৬)
অর্থাৎ অক্ষমতার প্রথম অর্থ হল, কাজটির সামর্থ্যই না থাকা। আর যদি সামর্থ্য থাকে, কিন্তু এটি করলে সে বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে বা এর কারণে তার রোগ বেড়ে যায় কিংবা এর কারণে তীব্র ব্যথা অনুভব করে অথবা এমনটি করলে তার রোগ নিরাময় হতে বিলম্ব হবে এ অবস্থাগুলোই কেবল অক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম ইবনুল হুমাম রাহ. বলেন,
(قوله إذا عجز المريض) المراد أعم من العجز الحقيقي حتى لو قدر على القيام، لكن يخاف بسببه إبطاء برء أو كان يجد ألما شديدا إذا قام جاز له تركه، فإن لحقه نوع مشقة لم يجز ترك القيام بسببها.
(ফাতহুল কাদীর ২/৩)
এখানে তিনি আরো স্পষ্টভাবে বলেছেন, দাঁড়ালে অনেক বেশি ব্যথা হলেই কেবল না দাঁড়িয়ে নামায পড়ার সুযোগ আছে। শুধু কিছু ব্যথা বা কষ্ট লাগার কারণেই কিয়ামের ফরয ছেড়ে দেওয়া জায়েয হবে না।
আর রোগ বেড়ে যাওয়া এবং রোগ নিরাময় হতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি কীভাবে ফয়সালা করা হবে এর মূলনীতিও ফকীহগণ নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন। ইমাম ইবনুল হুমাম রাহ. বলেন
وتحقق الحرج منوط بزيادة المرض أو إبطاء البرء أو فساد عضو، ثم معرفة ذلك باجتهاد المريض، والاجتهاد غير مجرد الوهم، بل هو غلبة الظن عن أمارة أو تجربة أو بإخبار طبيب مسلم غير ظاهر الفسق.
(ফাতহুল কাদীর ২/৩৫১)
অর্থাৎ রোগ বেড়ে যাওয়া এবং রোগ নিরাময় হতে বিলম্ব হওয়ার ফয়সালা শুধু ধারণা বা অনুমানের উপর নির্ভর করে করা যাবে না। বরং স্পষ্ট কোনো আলামত বা রোগীর পূর্ব অভিজ্ঞতা কিংবা মুসলিম অভিজ্ঞ ভালো কোনো ডাক্তারের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে তা নির্ণয় করতে হবে।
আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রাহ.-ও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন
(قوله خاف) أي غلب على ظنه بتجربة سابقة أو إخبار طبيب مسلم حاذق.
(রদ্দুল মুহতার ২/৯৬)
এখানে লক্ষণীয় যে, এক্ষেত্রে ডাক্তার মুসলিম হওয়ার শর্ত এজন্য করা হয়েছে যে, ডাক্তার যদি অমুসলিম হয় তাহলে একে তো তার কাছে নামাযের গুরুত্ব থাকবে না। দ্বিতীয়ত নামাযের পদ্ধতি সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা থাকার কথা নয়। সেজন্য নামাযের আরকান যথাযথ আদায় করলে রোগীর শারীরিক ক্ষতি হবে কি না এ সম্পর্কেও তার বাস্তব ধারণা থকবে না। সবচেয়ে বড় কথা হল, দ্বীনী বিষয়ে কোনো অমুসলিমের উপর আস্থা রাখা যায় না। এজন্যই মুসলিম ডাক্তার শর্ত করা হয়েছে। তবে কখনো কখনো মুসলিম ডাক্তারের মাঝেও দ্বীনী বিষয়ে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। তাই চেয়ারে বসে নামায শুরু করার পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শের পাশাপাশি নিজের অবস্থার পুরোপুরি বিবরণ দিয়ে কোনো মুফতী বা ফতোয়া বিভাগ থেকে মাসআলা জেনে নিতে হবে। নতুবা ক্ষেত্রবিশেষে নামায সহীহ নাও হতে পারে।
মোটকথা, অসুস্থ হলেই চেয়ারে বসে নামায জায়েয হয়ে যায় না। বরং অসুস্থতার ধরন হিসেবে এর হুকুমও ভিন্ন হয়ে থাকে। ১. এমন অসুস্থতা, যা সত্তে¡ও চেয়ারে বসে পড়লে নামায শুদ্ধই হবে না। ২. এমন অসুস্থতা, যার কারণে নামাযের আংশিক চেয়ারে বসে আদায় করলে নামায ফাসেদ হবে না। ৩. এমন অসুস্থতা, যার কারণে পুরো নামায চেয়ারে বসে পড়া জায়েয।
যাদের জন্য চেয়ারে বসে নামায পড়া নাজায়েয:
১. যে ব্যক্তি শরীয়তের দৃষ্টিতে মাযূর নয়, অর্থাৎ কিয়াম, রুকু-সিজদা করতে সক্ষম, তার জন্য যমিনে বা চেয়ারে বসে নামায আদায় করাই জায়েয নয়। অথচ কখনো কখনো দেখা যায়, এ ধরনের সুস্থ ব্যক্তিও সামনে চেয়ার পেয়ে চেয়ারে বসে নামায আদায় করে নেয়। ফলে তার নামাযই হয় না।
২. শুধু আরামের জন্য অথবা মামুলি কষ্টের বাহানায় চেয়ারে বসে নামায পড়লে নামায আদায় হবে না। এমনকি যমিনে বসে পড়লেও আদায় হবে না।
৩. যার পায়ে বা কোমরে ব্যথা। দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মে রুকু-সিজদা করে নামায পড়লে শরীরে ব্যথা লাগে। কিন্তু তার ব্যথা এ পরিমাণের নয় যে, তা অনেক বেশি। যা সহ্যের বাইরে; বরং এ ব্যথা নিয়ে সে কিয়াম ও রুকু-সিজদা করে নামায পড়তে পারে তবে তার জন্যও যমিনে বা চেয়ারে বসে নামায পড়ার কোনো সুযোগ নেই। এমন করলে নামায আদায় হবে না।
৪. যে কিছুটা অসুস্থ। কিন্তু তার অসুস্থতা এ পর্যায়ের নয় যে, সে কিয়াম ও রুকু-সিজদা করে নামায পড়তে সক্ষমই নয়, বা এভাবে নামায পড়লে তার রোগ বেড়ে যাবে কিংবা রোগ নিরাময় হতে বিলম্ব হবে এমনও নয়। এমন অল্প অসুস্থতার অজুহাতে যমিনে বা চেয়ারে বসে নামায পড়লে নামায আদায় হবে না।
৫. যে ব্যক্তি নামাযে কিয়াম তথা দাঁড়াতে সক্ষম। যমিনে সিজদাও করতে পারে। কিন্তু পা ভাঁজ করে তাশাহহুদের সুরতে বসতে পারে না। তবে পা ছড়িয়ে বা চারজানু হয়ে বা এক পা বিছিয়ে আরেক পা উঠিয়ে কিংবা এক পায়ের পাতা বিছিয়ে আরেক পা বের করে অথবা উভয় পা বের করে বা অন্য যে কোনো পদ্ধতিতে যমিনে বসতে পারে এবং যমিনে সিজদাও করতে পারে তার জন্যও চেয়ারে বসে নামায পড়া জায়েয নয়। সে যেভাবে সম্ভব বসেই যমিনে সিজদা করে নামায আদায় করবে এবং কিয়াম ও রুকুও যথানিয়মে আদায় করবে। পুরোপুরি সুন্নত তরিকায় তাশাহহুদের সুরতে বসতে না পারার অজুহাতে তার জন্য চেয়ারে বসে নামায পড়ার কোনো সুযোগ নেই। এমন ব্যক্তি যমিনে সিজদা না করে চেয়ারে বসে ইশারায় সিজদা করলে তার নামায সহীহ হবে না।
৬. যে ব্যক্তি নামাযে কিয়াম তথা দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে সক্ষম নয়, কিন্তু যমিনে বা সমতলে কোনো না কোনো পদ্ধতিতে বসতে পারে এবং যমিনে সিজদাও করতে পারে, তবে চেয়ারে বসে নামায শুরু করলে সিজদা ও কা‘দা (বৈঠক)-এর জন্য যমিনে নামতে সক্ষম নয় তার জন্যও চেয়ারে বসে নামায পড়া জায়েয নয়। এমন ব্যক্তি যেহেতু সমতলে বসে সিজদার ফরয আদায় করতে সক্ষম তাই শুরু থেকেই সে যমিনে বা সমতলে বসে যথানিয়মে সিজদা করে নামায আদায় করবে; নতুবা তার নামায আদায় হবে না।
৭. যে ব্যক্তি নামাযে কিয়াম তথা দাঁড়িয়ে নামায পড়তে সক্ষম, আবার যমিনে বা সমতলে বসতেও পারে এবং যমিনে সিজদাও করতে পারে, কিন্তু নামাযে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে বসতে পারে না, তেমনি বসলে আবার দাঁড়াতে পারে না তার জন্যও চেয়ারে বসে পড়া জায়েয নয়। বরং সে পুরো নামায নিচে বসে আদায় করবে, যাতে যথানিয়মে যমিনে সিজদা করতে পারে; নতুবা তার নামায সহীহ হবে না।
নামাযের আংশিক চেয়ারে আদায় করার হুকুম
১. যে ব্যক্তি নামাযে কিয়াম তথা দাঁড়িয়ে নামায পড়তে সক্ষম নয়, কিন্তু যমিনে বা সমতলে কোনো না কোনোভাবে বসতে পারে এবং যমিনে সিজদাও করতে পারে। তার জন্য সিজদা ও কা‘দা (বৈঠক) যমিনে বসে যথানিয়মে আদায় করা জরুরি। এমন ব্যক্তি যদি সিজদার সময় চেয়ারে বসে ইশারায় সিজদা আদায় করে তবে তার নামায সহীহ হবে না; বরং এক্ষেত্রে সে পুরো নামাযই যমিনে বসে আদায় করবে। আর সে যদি এক্ষেত্রে সিজদা ও কা‘দা (বৈঠক) যমিনে বসে যথানিয়মে আদায় করে কিন্তু কিয়াম ও রুকুর সময় চেয়ারে বসে তবে তার নামায ফাসেদ না হলেও যমিনে বসে আদায় করতে সক্ষম হওয়া সত্তে¡ও চেয়ারে বসার কারণে তার নামায মাকরূহ হবে।
আর এমন ব্যক্তি চেয়ারে বসে নামায শুরু করলে সিজদা ও কা‘দা (বৈঠক)-এর জন্য যমিনে নামতে না পারলে তার জন্য কিয়ামের সময় চেয়ারে বসাই নাজায়েয। বরং শুরু থেকেই তার যমিনে বসে নামায পড়া জরুরি; যা একটু আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।
২. যে ব্যক্তি কিয়াম করতে সক্ষম এবং দাঁড়ানো থেকে চেয়ারে বসতেও পারে, কিন্তু যমিনে কোনো পদ্ধতিতেই বসতে পারে না এমন ব্যক্তির জন্য বিধান হল, সে যথা নিয়মে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করবে। এরপর স্বাভাবিকভাবে রুকু করতে পারলে রুকুও করবে। তারপর অবশিষ্ট নামায চেয়ারে বসে পড়বে। কিন্তু এক্ষেত্রে কিয়াম করতে সক্ষম হওয়া সত্বে ও তার জন্য শুরু থেকেই চেয়ারে বসে নামায পড়া সহীহ নয়।
এখানে উল্লেখ্য যে, যে ব্যক্তি যমিনে সিজদা করতে সক্ষম নয় তার ব্যাপারে হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হল, এমন ব্যক্তির উপর দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা জরুরি নয়; বরং সে বসে ইশারায় নামায আদায় করতে পারে।
এ বক্তব্যটি যদিও একেবারে দলীলবিহীন নয়, কিন্তু অনেক মুহাক্কিক ফকীহের দৃষ্টিতে এই মাসআলায় দলীলের বিচারে ফিকহে হানাফীর ঐ বক্তব্য বেশি শক্তিশালী, যা ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর শাগরিদ ইমাম যুফার ইবনে হুযাইল রাহ.-এর মাযহাব। আর এটাই বাকি তিন ইমামের (ইমাম মালেক রাহ., ইমাম শাফেয়ী রাহ. এবং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রাহ.) মাযহাব। আর তা হল, এমন ব্যক্তি (যে ব্যক্তি যমিনের উপর সিজদা করতে অক্ষম) যদি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে সক্ষম হয় তাহলে তাকে দাঁড়িয়েই নামায আদায় করতে হবে। আর যেহেতু সে সিজদা করতে অক্ষম তাই সে ইশারায় সিজদা করবে (যদি রুকু করতেও অক্ষম হয় তাহলে রুকুও ইশারায় আদায় করবে)। যমিনে সিজদা করতে অক্ষম হওয়ার কারণে দাঁড়ানোর ফরয ছাড়া যাবে না।
হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম তাঁর একটি ফতোয়াতে এই মাসআলার উপর বিশদ আলোচনা করেছেন এবং ‘ফাতহুল কাদীর’ খ. ১ পৃ. ৪৬০, ‘আননাহরুল ফায়েক খ. ১ পৃ. ৩৩৭ এবং ‘ইলাউস সুনান খ. ৭ পৃ. ২০৩ ইত্যাদির বরাতে দালায়েলের আলোকে এই ‘কওল’ (বক্তব্য)-কেই শক্তিশালী বলেছেন যে, কিয়ামের ফরয আদায় থেকে শুধু ঐ ব্যক্তি ছাড় পাবে, যে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে অক্ষম। সিজদা করতে অক্ষম হওয়ার কারণে কিয়াম না করার ছাড় পাবে না। তিনি সেখানে বিশদভাবে ঐ কথারও খন্ডন করেছেন যে, ‘শুধু সিজদার জন্য কিয়াম ফরয করা হয়েছে। তাই সিজদা করতে অক্ষম হলেই কিয়াম জরুরি থাকে না।’ তিনি একাধিক দলীল দ্বারা একথা প্রমাণ করেছেন যে, কিয়াম নামাযের একটি স্বতন্ত্র ফরয; তা শুধু সিজদার জন্য নয়।
এমনকি হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম ঐ ফতোয়ায় একথাও লিখেছেন যে, যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামায শুরু করতে পারে, কিন্তু সিজদার জন্য যমিনে বসার পর আবার দাঁড়াতে তার অনেক কষ্ট হয়, এমন ব্যক্তিও কিয়াম (দাঁড়িয়ে নামায পড়া) একেবারে ছাড়বে না। বরং প্রথম রাকাত দাঁড়িয়ে আদায় করবে। এরপর উঠে দাঁড়াতে কষ্ট হওয়ার কারণে বাকি নামায বসে আদায় করবে।
এর সাথে সাথে হযরত দামাত বারাকাতুহুম এ-ও বলেছেন যে, যমিনের উপর সিজদা করতে অক্ষম কোনো মুসল্লী যদি ফিকহে হানাফীর প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী আমল করে এবং পুরা নামায বসে আদায় করে এবং ইশারায় রুকু-সিজদা করে তাহলে তার নামায ফাসেদ হয়েছে বলব না।
(لأن المسألة من الاجتهاديات، و القول المشهور و إن كان مرجوحا من حيث الدليل و لكنه ليس من الزلات المحضة، فله بعض الأدلة أيضا، مذكور في "مختصر اختلاف العلماء" ج ১ ص ৩২৫.)
৩. যে ব্যক্তি কিয়াম ও রুকু করতে সক্ষম এবং সরাসরি যমিনে বা সমতলে কোনো না কোনোভাবে বসতেও পারে, কিন্তু যমিনে সিজদা করতে পারে না, সে তো কিয়াম ও রুকু যথানিয়মেই আদায় করবে। এরপর যমিনে বসে যাবে। ইশারায় সিজদা আদায় করবে এবং তাশাহহুদ যমিনে বসেই আদায় করবে। এমন ব্যক্তি যেহেতু মাটিতে বা সমতলে বসতে পারে তাই তার জন্য যমিনে কা‘দা-এর পরীবর্তে চেয়ারে বসা মাকরূহ তাহরীমী। যা পরিহার করা কর্তব্য।
৪. যে ব্যক্তি নামাযে কিয়াম তথা দাঁড়াতে সক্ষম নয়, কিন্তু যমিনে বা সমতলে কোনো না কোনোভাবে বসতে পারে এবং যমিনে সিজদাও করতে পারে। সে যদি চেয়ারে বসে নামায আদায় করে এবং সিজদার জন্য চেয়ার থেকে নেমে মাটিতে সিজদা আদায় করে তবে এক্ষেত্রে তার সিজদা যথানিয়মে আদায় হলেও কা‘দা অর্থাৎ বৈঠক চেয়ারে আদায় করার কারণে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে; যা পরিহার করা কর্তব্য।
পুরো নামায যার জন্য চেয়ারে বসে পড়া জায়েয
যে ব্যক্তি নামাযের কিয়াম, রুকু-সিজদা ও কা‘দা (তাশাহহুদের জন্য বসা) কোনোটিই স্বাভাবিকভাবে আদায় করতে সক্ষম নয়; বরং শুধু চেয়ারেই বসতে পারে কেবল এমন অসুস্থ ব্যক্তির জন্য পুরো নামায চেয়ারে বসে আদায় করা জায়েয।
কিন্তু এক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, এই ব্যক্তি যে কিয়াম, রুকু-সিজদা ও কা‘দা (বৈঠক) সবগুলোই যথানিয়মে স্বাভাবিকভাবে আদায় করতে সক্ষম নয় তা বাস্তবসম্মত ও সুপ্রমাণিত হতে হবে। এর জন্য ডাক্তারের পরামর্শের পাশাপাশি কোনো মুফতী সাহেবকে নিজের অবস্থা পুরোপুরি জানিয়ে তার থেকে মাসআলা নিয়ে সে অনুযায়ী আমল করবে। নতুবা নিজে নিজে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে কখনো নামায নাও হতে পারে।
মোদ্দাকথা এই যে, যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে অক্ষম তার জন্য বিকল্প পদ্ধতি হল, যমিনে বসে তা আদায় করা। আর যে রুকু-সিজদা করতে অক্ষম তার জন্য বিকল্প পন্থা হল, ইশারায় রুকু-সিজদা আদায় করা। আর যে ব্যক্তি যমিনে বসতে অক্ষম তার জন্য যমিনে বসে কা‘দা আদায়ের বিকল্প হল চেয়ারে বসা। কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় ওযরের কারণে চেয়ারে বসা জায়েয নয়।
চেয়ারে বসে নামাযের ক্ষেত্রে সিজদা আদায়ের পদ্ধতি
যে ব্যক্তি যমিনে সিজদা করতে অক্ষম তার ব্যপারে হুকুম হল, সে ইশারায় সিজদা আদায় করবে। এমন মাযূর ব্যক্তি যদি বাস্তব ওযরেই চেয়ারে বসে নামায আদায় করে তাহলে সেও ইশারায়ই সিজদা করবে। সামনে তখতা বা টেবিল রেখে তাতে সিজদা করবে না। কেননা সিজদার জন্য সামনে টেবিল বা উঁচু বস্তু রাখা এবং তাতে সিজদা করার কোনো বিধান হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। অবশ্য এর দ্বারা যেহেতু ইশারার কাজ হয়ে যায় ফলে নামায আদায় হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, ইশারায় সিজদা আদায় করার নিয়ম হল, রুকুর জন্য মাথা যতটুকু ঝোঁকাবে সিজদার জন্য তার চেয়ে একটু বেশি ঝোঁকানো।
আর সিজদার জন্য ইশারা করার সময় হাত হাঁটুতেই রাখবে। কেউ কেউ তখন যমিনে সিজদা করার মত হাত চেহারা বরাবর রাখে। এটি ভুল নিয়ম।
শেষ কথা
সম্মানিত পাঠক! যদি উল্লিখিত মাসআলাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে আশা করি এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে থাকবে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে চেয়ারে বসে নামায আদায় করা একেবারেই নাজায়েয। এসব ক্ষেত্রে নামাযই শুদ্ধ হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নামাযের আংশিক চেয়ারে বসে আদায় করলে যদিও নামায ফাসেদ হয় না, কিন্তু তা মাকরূহ। কেবল একটি ক্ষেত্র এমন, যেখানে চেয়ারে বসে নামায আদায় করলে নামায আদায়ও হয়ে যায় এবং মাকরূহও হয় না।
এই বাস্তবতাটি যদি আমরা যথাযথ উপলব্ধি করতে পারি তাহলে এ বিষয়টি বুঝতে আমাদের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয় যে, বর্তমানে মসজিদগুলোতে চেয়ারের যে ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে (এবং দিন দিন যা বেড়েই চলেছে) এটা কেবল এজন্যই যে, মাসআলা জানা না থাকার কারণে এমন অনেক মুসল্লীও নামাযে চেয়ার ব্যবহার করে থাকেন, যাদের জন্য নামাযে চেয়ার ব্যবহার জায়েযই নয়। সম্মানিত মুসল্লীবৃন্দ যদি হিম্মত করে শরয়ী ওযর ব্যতীত নামাযে চেয়ার ব্যবহার পরিত্যাগ করেন এবং নামাযে চেয়ার ব্যবহারকে শরয়ী রুখসত (শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত ছাড়) পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখেন তাহলে মসজিদগুলোতে চেয়ারের এই ভিড় হ্রাস পাবে ইনশাআল্লাহ। অধিকাংশ মসজিদে চেয়ারের কোনো প্রয়োজনও পড়বে না। আর এমনটিই হওয়া চাই, কেননা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায়ও চেয়ারের অস্তিত্ব ছিল; বরং এরও বহু পূর্ব থেকে ছিল। আর প্রথম থেকেই মাযূর ও অসুস্থ মুসল্লী ছিলেন। কিন্তু ইতিহাসে এমন কোনো নজির পাওয়া যায় না যে, মসজিদগুলোতে চেয়ার পাতা থাকত। অথবা মাযূর মুসল্লীগণ চেয়ার নিয়ে এসে তাতে নামায আদায় করতেন। মসজিদে চেয়ার পেতে রাখা এবং চেয়ারে নামায আদায় করার যে প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ নতুন রেওয়াজ। এটাকে নিরুৎসাহিত করাই কাম্য। আর অনুসৃত পন্থার প্রতি মনোনিবেশ করার মাঝেই রয়েছে কল্যাণ।
যেই কঠিন প্রয়োজনে নামাযে চেয়ার ব্যবহারের সুযোগ বের হয়ে আসে সেক্ষেত্রে এ বিষয়টির প্রতিও খেয়াল রাখা চাই যে, যদি উঁচু মোড়া, টুল ব্যবহারে কাজ হয়ে যায় তাহলে চেয়ার ব্যবহার করবে না। তেমনিভাবে হাতলবিহীন চেয়ারে যদি কাজ সেরে যায় তাহলে হাতলযুক্ত চেয়ার ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সুস্থ জীবন দান করুন। সর্বক্ষেত্রে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খুলাফায়ে রাশেদীন এবং সাহাবায়ে কেরামের সুন্নত অবলম্বন করার তাওফীক দান করুন। বিদআত থেকে দূরে রাখুন। অন্য ধর্মাবলম্বীদের আচার-সভ্যতা ও রীতি-নীতি থেকে হেফাযত করুন । আমীন ।
(পোস্টটি হুবহু কপিকৃত)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Address
Dhaka
1207