লেখাটা ভয়ঙ্কর সুন্দর!💜
"মৃত্যু ছাড়া মানুষের একান্ত নিজের কিছু নেই,
জীবন অন্যরা ভাগ করে নেয় খুব প্রকাশ্যেই।"
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির একটা ছেলের মারা যাওয়ার খবর দেখে হুট করেই মনে হলো, মৃ*ত্যু ছাড়া আমাদের আসলে নিজের বলতে আছেটা কী?
এই ছেলেটা গ্র্যাজুয়েশন করেছে। বিয়ে করেছে। দুইটা বাচ্চা আছে। বৌ আছে। ৪১ তম বিসিএসে সুপারিশ পেয়েছে। ৪৩ তমর ভাইবাও দিয়ে ফেলেছে।
এই এতো এতো স্ট্রাগল, এতো এতো পরিশ্রম এক মুহূর্তে শূন্য হয়ে গেল, ছেলেটার তাহলে নিজের বলে থাকলো কী?
ভালো ক্যারিয়ার, অসম্ভব পরিশ্রম করে তিলে তিলে গড়ে তোলা ক্যারিয়ার, এই ক্যারিয়ারটাও কি আসলে আমার নিজের? না তো। এই ক্যারিয়ারে মায়ের ভাগ আছে, বাপের ভাগ আছে, ভাইয়ের লেখাপড়া আছে, বোনের বিয়ে আছে, বৌ এর শখ আছে, বাচ্চার দুধ আর খেলনাও আছে।
এবং এই একটা ক্যারিয়ার বানানোর জন্য মানুষরে সবকিছুই ছাড়তে হয়। লিটারালি সবকিছুই। টাকার ব্যাপারটা তো আছেই, সময়ের ব্যাপারটাও খুব ভাইটাল। চাকরির পেছনে ছুটতে ছুটতে বহু ছেলেমেয়ে ট্যুর দেওয়া ছেড়ে দেয়, বই পড়া ছেড়ে দেয়, প্রেম করা ছেড়ে দেয়, রেস্টুরেন্টে খাওয়া ছেড়ে দেয়, এমনকি অনেকে তো ইবাদত পর্যন্ত করতে পারে না।
একবার এক ভাইরে রাতের বেলা অনেক নামাজ পড়ার কারণ জিজ্ঞেস করে জানছিলাম, সারাদিন ল্যাবে কাজের ঠেলায় নামাজটা পর্যন্ত পড়তে পারেন নাই। খাওয়া তো দূরের কথা। মলিন হাসি মুখে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি ধনী হইতে চাই না ভাই, শুধু এতোটুকু অবসর চাই, যতটুকু অবসর পাইলে আমি একটু শান্তিমতো নামাজটা পড়তে পারি।
কেউ সরারাত ফোন নিয়ে রাতে দাঁড়াইয়া থাকে, বাপ অসুস্থ, বাপের কাছে যাইতে পারে না। শুধুমাত্র একটা ক্যারিয়ারের জন্য। একটা ব্রাইট ফিউচারের জন্য।
সমস্যা হলো, ফিউচার প্ল্যানে আমরা সবকিছুই ইনক্লুড করি, শুধু মৃ*ত্যুটা ছাড়া। আমাদের প্ল্যানে পরিবার থাকে, প্রেমিকা থাকে, গাড়ি থাকে, বাড়ি থাকে, বাট মৃ*ত্যুটা থাকে না।
অথচ মৃ*ত্যুটাকে প্ল্যানে রাখতে পারলেই কিন্তু আমার আপনার অনেক প্রায়োরিটি লিস্ট চেঞ্জ হয়ে যাবে। সেন্টমার্টিন ট্যুরটা দিয়ে ফেলা যাবে, ওয়্যার এন্ড পিসটা পড়ে ফেলার সময় হবে, তাহাজ্জুদ পড়ার সময়টাও বের করে ফেলতে পারবেন। কারণ, আপনি জানেন, মৃ*ত্যু ওয়েট করতেসে। আপনার হাতে খুব বেশি সময় নাই।
না, আমি নিজে বোহেমিয়ান টাইপ মানুষ না, আপনাকেও বাউন্ডেলে হতে বলতেসি না।
#সংগৃহীত
Shirazul Islam Tuhin
It's an Educational Page.
29/07/2025
Good morning
08/08/2024
ভর্তির জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরী নোটিশ
আগামীকাল (১৮-০৭-২০২৪) বৃহস্পতিবার কোন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।
১ম পর্বের সকল বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৯-০৭-২০২৪ তারিখ রোজ শুক্রবার সকাল ৯ টা হতে অনুষ্ঠিত হবে।
৩য়, ৫ম, ৭ম পর্বের সকল বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৯-০৭-২০২৪ তারিখ রোজ শুক্রবার সকাল ১১ টা হতে অনুষ্ঠিত হবে।
নির্দেশক্রমে,
অধ্যক্ষ
ফরিদপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, ফরিদপুর
১ম পর্বে ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি
১। এস এস সি এর মূল মার্কশীট
২। প্রশংসাপত্রের মূল কপি/ফটোকপি
৩। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি (NID)/ ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি (ইংরেজী এবং বাংলা উভয়ই)
৪। আবেদন নিশ্চায়নের কপি
৫। বোর্ড নির্ধারিত নির্ভুলভাবে পূরণকৃত ফরম (অনলাইন হতে ডাউনলোডকৃত/ অফিস কর্তৃক সরবরাহকৃত)
৬। অঙ্গিকার নামা (অফিস কর্তৃক সরবরাহকৃত)
৭। পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি (NID)
৮। সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ০৩ (তিন) কপি ছবি।
৯। সিভিল সার্জন কর্তৃক ডোপ টেস্টের মূল কপি।
বি: দ্র: (১). উল্লেখিত সকল কাগজ পত্রাদি আবশ্যক।
(২). এস এস সি এর মূল মার্কশীট ছাড়া ভর্তি অসম্ভব।
হৃদয়ের গভীর থেকে স্যালুট (স্যার) আপনাকে।
এই চরম দুঃসময়ে শিক্ষকদের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য।
মাউশির সাবেক ডিজি, ভিক্টোরিয়া কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ( সাবেক) জনাব গোলাম ফারুক স্যারের লেখা।
====================================
যদি সম্মানটাও যায়, শিক্ষক কি আর শিক্ষক থাকবেন?
১৯৯৪ সাল। আমি মাত্র শিক্ষকতা পেশায় ঢুকেছি। এক সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নিউমার্কেটের ‘ডায়মন্ড’ রেস্তোরাঁয় আমার দুই বন্ধুর আমন্ত্রণে চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য দ্রব্যাদির সদ্ব্যবহার করে তৃপ্ত শরীরে বাইরে এসে অলস পায়ে হাঁটতে হাঁটতে গল্প করছি। আমার দুই বন্ধুই কীর্তিমান। আমার মতো সদ্য চাকরিতে ঢুকেছেন। একজন কর বিভাগে এবং আরেকজন শুল্ক বিভাগে। সদ্য চাকরি পাওয়ায় আমাদের সবার মেজাজই ফুরফুরে। স্বাভাবিকভাবেই কার চাকরি কেমন, তা নিয়ে গল্প উঠল। আমি লক্ষ করলাম, চেষ্টা করেও সেই গল্পে ঢুকে আমি খুব একটা সুবিধা করতে পারছি না। ওরা দুজনই গর্ব, খুশি আর প্রাপ্তিতে উদ্বেলিত। কী করলে কী পাওয়া যায়, কার কত সুযোগ-সুবিধা, কার ক্ষমতার স্বাদ কত মজার—এসব বলতে বলতে ক্রমাগত ওদের কণ্ঠ উচ্চকিত আর বক্ষ বিস্ফারিত হচ্ছে।
এদিকে আমি ওদের কথা শুনছি, ওদের সঙ্গে নিজের তুলনা করছি এবং ক্রমাগত নিশ্চুপ ও সংকুচিত হচ্ছি। এমন সময় কোত্থেকে এক বিশালদেহী তরুণ হুড়মুড় করে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল, একগাদা লোকের সামনে অনেক কষ্টে মাথা নুইয়ে দোয়া পাওয়ার আশায় আমার পা ছুঁয়ে সালামটাও সেরে ফেলল। ওর হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিল, জনাকীর্ণ সেই শপিং মলে আমি ছাড়া কোথাও কেউ নেই। ওর দৃষ্টি, কণ্ঠ আর দেহভঙ্গি যেন অন্য সবকিছুকে মুহূর্তে লুপ্ত করে দিল। দেখলাম সে আমার রাঙামাটি কলেজের ছাত্র। আমার এখনো মাঝেমধ্যে মনে হয়, ওই দিন যদি ওই ছাত্রের হঠাৎ উদয় না হতো, আমি হয়তো আমার বন্ধুদের সাফল্য, আনন্দ ও চমকে চমকিত হয়ে হন্যে হয়ে অন্য চাকরির পেছনে ছুটতাম।
যা–ই হোক, এরপর কী হলো, তা সহজেই অনুমেয়। আমার ওই দুই বন্ধু একটু মিইয়ে গেল। আলাপ আর তেমন জমল না। বাসায় ফেরার সময় খেয়াল করলাম, আমি নিজের অজান্তেই মাথা উঁচু করে হাঁটছি। কারণটা হলো সম্মান। টাকাপয়সা, ক্ষমতা-প্রতিপত্তি, জাঁক-জৌলুশ সবকিছু ছাপিয়ে ওই তরুণের সম্মান প্রদর্শন আমার মাথাকে আকাশছোঁয়া করে দিয়েছিল। আমার সৌভাগ্য, এরপর আমি যত দিন শিক্ষকতা করেছি—দেশে কিংবা বিদেশে—আমাকে কখনো মাথা নিচু করতে হয়নি। মাথা নিচু করতে হলে হয়তো আমি আর শিক্ষকতা করতে পারতাম না বা বাধ্য হয়ে চাকরি করে গেলেও একজন শিক্ষক হয়ে ওঠা হতো না।
শুধু আমি কেন, মাথা নিচু করে কাজ করতে হলে কারও পক্ষেই সত্যিকারের শিক্ষক হয়ে ওঠা সম্ভব নয়। একজন শিক্ষক নিজের জ্ঞান-গরিমা, চলন-বলন, নীতি-নৈতিকতায় শুধু নয়, সমাজের দৃষ্টিতেও যত উঁচুতে উঠবেন, তিনি তত বড় শিক্ষক হবেন। এত দিন সেটাই হয়ে আসছে, ভবিষ্যতেও তা–ই হবে। এটা জানতেন বলেই কবি কাদের নেওয়াজের কবিতায় বাদশাহ আলমগীর ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’-কে এত গুরুত্ব দিয়েছেন। আমি জানি অনেকেই আছেন যাঁরা ভাবছেন, এখনকার আবার শিক্ষক! তঁার না আছে জ্ঞান, না আছে চলন-বলন আর নীতি-নৈতিকতার কথা তো বাদ-ই দিলাম, তাঁকে আবার সম্মান! শুধু ভাবলেও একটা কথা ছিল, অনেককে দেখে মনে হচ্ছে, শিক্ষককে অসম্মান করে বীরত্ব জাহির করার মধ্যেও একটা বাহাদুরি আছে; অসহায় শিক্ষককে বিব্রত, অপমান, ও অপদস্থ করেও উল্লাস করা যায়। সাম্প্রতিক কালে যেসব ঘটনা পত্রপত্রিকায় আসছে—শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করানো, তাঁকে কারও পায়ে হাত দিয়ে মাফ চাইতে বাধ্য করা, জেলে পাঠানো, জুতার মালা গলায় পরিয়ে জনসমক্ষে হাঁটিয়ে নেওয়া, এমনকি পিটিয়ে মেরে ফেলা—সেসব তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু লোকচক্ষুর আড়ালে প্রতিনিয়ত কিছু কিছু ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বা ক্ষমতাবান মানুষের যে দাপট তাঁদের সহ্য করতে হয়, আমাকে অনেক শিক্ষক বলেছেন, তা অসহনীয়।
শিক্ষকদের এভাবে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা চলতে থাকলে কিছুদিন পর দেশে আর শিক্ষক খুঁজে পাওয়া যাবে না। অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই বলে কেবল বেতনভুক কর্মচারী হিসেবে তাঁরা হয়তো ক্লাসরুমে যাওয়া-আসা করবেন, কিন্তু গুণগত শিক্ষা দেওয়ার তাগিদ, শক্তি বা সদিচ্ছার কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে ক্ষতির মাত্রা যে কত বেশি হতে পারে, সেটা আন্দাজ করার জন্য নিচের ছোটগল্পটিই যথেষ্ট।
বহুদিন আগে কোনো এক নিরক্ষর গ্রামে কোথা থেকে এক শিক্ষক এসে বাচ্চাদের পড়ানো শুরু করলেন। একদিন সেই গ্রামের বুদ্ধিমান মাতবর ভাবলেন, ওই ব্যাটা মাস্টার তো অসহায় বলেই এখানে আছে। ওকে এত বেতন দিয়ে কী হবে! বেতন কমিয়ে দিলেন। দেখলেন, কোনো অসুবিধা নেই। ও আছে, পড়াচ্ছে। তাহলে তো আরও কমানো যায়; কমালেন। তা–ও যায় না। এরপর মাতবর ভাবলেন, ওকে আসলে বেতন না দিলেও হবে। চাল, ডাল, লাউ, মুলা দিলেই ওর দিব্যি চলে যাবে। তা–ও চলল কিছুদিন। কিন্তু একদিন হঠাৎ সেই শিক্ষক উধাও। কী আর করা! অন্য এক শিক্ষককে ধরে আনা হলো। তিনি একদিন পড়িয়েই আগের শিক্ষক প্রথম যে বেতন পেতেন, তার তিন গুণ দাবি করে বসলেন। কেন? কারণ, এ গ্রামের শিশুরা সব অক্ষর উল্টো করে লেখে। আগের শিক্ষক এভাবেই নীরবে তাঁর অপমান ও বঞ্চনার প্রতিশোধ নিয়ে গেছেন।
শিক্ষকেরা ফেরেশতা নন। একেবারে শেষ সম্বল না হোক, তাঁদের সবচেয়ে বড় যে সম্বল, সেই সম্মান যদি তাঁদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়, এ ধরনের প্রতিশোধ নেওয়ার অপরাধ তাঁরা করতেই পারেন। তার জন্য তাঁদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। তবে অন্য সব ক্ষেত্রে যেমন নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়াটা অপরাধ, শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও সেটা মানতে হবে। একদিকে তাঁদের ওপর ইচ্ছেমতো যত্রতত্র যেমন তেমন শাস্তি আরোপ করা, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বেতন-ভাতাদিতে পিছিয়ে রাখা আর অন্যদিকে তাঁদের কাছ থেকে গুণগত শিক্ষা দান আশা করা সোনার পাথরবাটির চেয়ে কম হাস্যকর নয়।
● সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক
মাউশি ও নায়েমের সাবেক মহাপরিচালক।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Faridpur
FARIDPUR
Opening Hours
| Monday | 08:30 - 14:30 |
| Tuesday | 08:30 - 14:30 |
| Wednesday | 08:30 - 14:30 |
| Thursday | 08:30 - 14:30 |
| Saturday | 08:30 - 14:30 |
| Sunday | 08:30 - 17:00 |