16/08/2022
♦ হিন্দু ধর্মে বিভেদের ষড়যন্ত্র করছেন কারা? বৈদিকরা না অন্য কেউ: একটি সমীক্ষা ♦
প্রথমেই বলে রাখি, হিন্দু বলে কোনো ধর্ম নেই যেমন আর্য বলে কোনো জাতি নেই।
হিন্দু নাম বিধর্মীদের দেওয়া।
হিন্দু শব্দের অর্থ, ফার্সী অভিধানে লেখা আছে,চোর, ক্রীতদাস ইত্যাদি।
বিশ্বাস না হলে, গুগল সার্চ করে দেখে নেবেন।
সিন্ধু নদের তীরে বসবাস করার জন্য সিন্ধু থেকে হিন্দু হয়েছে এটা নিতান্তই হাস্যকর যুক্তি!
সিন্ধু নদের তীর ছাড়া আমাদের পূর্ব পুরুষ আর্যরা কি অন্য কোত্থাও বসবাস করতেন না?!!
নীচের শ্লোকটি দেখুন:-
আসমুদ্রাত্তু বৈ পূর্বাদাসমুদ্রাচ্চ পশ্চিমাৎ।
তয়োরেবান্তরং গির্যোরার্যাবর্তং বিদুর্বুধাঃ।।
মনু স্মৃতি_2.22
অনুবাদ _ পূর্বে ও পশ্চিমে যথাক্রমে পূর্ব-সমুদ্র ও পশ্চিম-সমুদ্রের দ্বারা এবং উত্তর-দক্ষিণে হিমালয় ও বিন্ধ্যগিরির মধ্যবর্তী ভূখণ্ডকে বিদ্বানগণ্ আর্যাবর্ত নামে অভিহিত করে থাকেন।
এছাড়াও, পতঞ্জলি তাঁর মহাভাষ্যে, (পাণিনি কৃত অষ্টাধ্যায়ী ব্যাকরণের,2.4.10 এর উপর )আর্যাবর্তের সীমা নির্দেশ করছেন এইভাবে:-
আর্যাবাতের পূর্বে প্রয়াগ,
পশ্চিমে আদর্শ (আরাবল্লী) পর্বত, দক্ষিণে বিন্ধ্য পর্বত এবং উত্তরে হিমালয় পর্বত।
আমাদের প্রাচীন বৈদিক গ্ৰন্থগুলোতে আর্য নাম পাওয়া যায়, হিন্দু বলে কোনো শব্দ নেই।
আমাদের দেশের নাম ছিল আর্যাবর্ত।
আর্যাবর্তে বসবাসকারী বিদ্বান ও সভ্য মানুষদের আর্য বলা হত।
সুতরাং, "হিন্দু" শব্দটাই হল অপমানজনক!!
তেমনি, আর্যও কোনো জাতি নয়।
আর্য হল গুণবাচক নাম।
বিদ্বান ও ভদ্র মানুষদের আর্য বলা হয়।
যাইহোক, মূল প্রসঙ্গে আসি।
অনেকেই আজকাল বলছেন,বৈদিকরা হিন্দু ধর্মে বিভাজন সৃষ্টি করছেন!
সত্যিই কি তাই?!!
এর পূর্বে হিন্দুরা বুঝি এক ছিলেন?
হিন্দু সম্প্রদায়ের এক হবার নমুনা দেখুন:----
♦জাতিবাদ_কোনোদিন আপনারা পাত্র পাত্রীর বিজ্ঞাপন খবরের কাগজে দেখবেন!
তাহলে বুঝতে পারবেন, জাতিভেদের তীব্রতা।
হিন্দু সমাজ,ছোট জাত বড় জাত যথা,ব্রাহ্মণ-বৈদ্য-কায়স্থ-মাহিষ্য- নমঃশূদ্র ইত্যাদিতে শতধা বিভক্ত।
নিজেকে বড় জাতি ভেবে ছোট জাতির মানুষদের ঘৃণা করা হিন্দুদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য।
♦গুরু বাদ_ তথাকথিত হিন্দু ধর্মে, গুরু ও অবতারের ছড়াছড়ি।
প্রতিটি গুরুদেব হয় অবতার অথবা স্বয়ং ঈশ্বর।
এক গুরুর শিষ্য অন্য গুরুর শিষ্যদের সহ্য করতে পারেন না।
♦সম্প্রদায়গত বিভাগ_ হিন্দুদের মধ্যে কেউ শৈব,কেউ শাক্ত, কেউ বৈষ্ণব, কেউ তান্ত্রিক, কেউ হাফ-মুসলিম গুরু পরম্পরার অনুসারী (যেমন, অনুকূলচন্দ্র, রামপাল,সত্য সাঁই),
কেউ ফুল মুসলিম কবীর পন্থী বা
শিরডী সাঁই পন্থী,
কেউ মতুয়া কেউ আবার পীর বাবার পুজো করেন,
কেউ আবার বাউল ধারা মেনে চলেন!
প্রধান সম্প্রদায়গুলো আবার অসংখ্য
উপ-সম্প্রদায়ে বিভক্ত।
যেমন, বৈষ্ণবদের অসংখ্য ভাগ আছে।
যথা , রামানুজ,মধ্ব, গৌড়ীয়, ইস্কন-গৌড়ীয়, নিম্বার্ক,
প্রভু জগদ্বন্ধু,নৃত্যগোপাল,
রাম ঠাকুর ইত্যাদি।
এনারা সব সময় পরস্পরের নিন্দা করেন।
এমনকি,এক সম্প্রদায়ের উপদল'গুলোও পরস্পরকে সহ্য করতে পারেন না।।
♦দেবতা বাদ_ দূর্গা,কালি,রাম, হনুমান, শ্রীকৃষ্ণ,রাধা,শনি,শিব, গণেশ
আদি দেবতাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ভক্ত আছেন এবং এদের নামে রচিত পুরাণ'গুলোতে পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষ ছড়ানো হয়েছে।
যেমন,শৈব পুরাণে বৈষ্ণবদের ও বিষ্ণুকে ছোট করে দেখান হয়েছে আবার বৈষ্ণব পুরাণে,শিব ও শৈবদের ছোট করা হয়েছে।
♦ধর্ম গ্ৰন্থ_ আপনার প্রধান ধর্ম গ্ৰন্থ কি জিজ্ঞেসা করলে,কেউ বলেন, রামায়ণ-মহাভারত, কেউ বলেন গীতা, কেউ বেদ বলেন।
বৈষ্ণবরাতো ধর্ম গ্ৰন্থ বলতে বোঝেন, ভাগবত পুরাণ, চৈতন্য চরিতামৃত চৈতন্য ভাগবত।
রামকৃষ্ণ আদি গুরুর শিষ্যরা তাঁদের গুরুর বচন যে বইতে লেখা থাকে সেটাকেই পবিত্র জ্ঞান করেন!
মূর্খ গুরুরা নিজেরাই বেদ জানেন না,শিষ্যদের শেখাবেন কি!
অথচ, কোনো মুসলিম বা খ্রীষ্টান'কে জিজ্ঞাসা করুন তাঁদের ধর্ম গ্ৰন্থ কি এক কথায় উত্তর পেয়ে যাবেন!
♦আশ্চর্যের বিষয় হল এই যে,
মুসলিম ধর্মগুরু হতে হলে, কোরআন শরীফ ও হাদিস জানতেই হয়, খ্রীষ্টান ধর্মগুরুদের বাইবেল জানতেই হয় কিন্তু বেদ না জেনেও ও বেদের নিন্দা করেও হিন্দু ধর্মগুরু হওয়া যায়!
একতার জন্য একটাই ধর্ম গ্ৰন্থ(বেদ) হওয়া
একান্তই প্রয়োজন।
♦রাজনীতি:- রাজনৈতিক নেতারা তাঁদের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের জন্য হিন্দুদেরকে সবসময় বিভাজিত করে রাখেন।
তাছাড়া, হিন্দুরা রাজনীতি নিয়ে পরস্পরের সাথে দাঙ্গা করে মারপিট করেন, ও বিপক্ষ পার্টির হিন্দু লোকজনকে সহ্য করতে পারেন না।
সুতরাং,জাত-পাত, অবতার ও গুরুবাদ,
দেবতাবাদ, রাজনীতি ইত্যাদিতে হিন্দুরা শতধা বিভক্ত।
ধনী হিন্দু গরীব হিন্দুদের ঘৃণা করেন,শহরের হিন্দু গ্ৰামের হিন্দুদের নিয়ে উপহাস করেন, এইগুলো নয় ছেড়েই দিলাম।
সুতরাং,সনাতনী মানুষেরা শতধা বিভক্ত হয়েই আছেন।
আগেও এক ছিলেন না, বর্তমানেও এক নয়।
♦এবার আসি বৈদিকদের প্রসঙ্গে:-
বৈদিকরা এক ঈশ্বরের কথা বলেন।
♦একেশ্বরবাদ কি নব্য কোনো মতবাদ:-
এক নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা উপনিষদেই পাওয়া যায়।
উপনিষদের উপর ভিত্তি করেই রাজা রামমোহন রায় তাঁর ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুকুমার রায় ইত্যাদিরা ব্রাহ্ম ছিলেন।
ঋগ্বেদের এই মন্ত্রটি দেখুন:-
ইন্দ্রং মিত্রং বরুণমগ্নিমাহুরথো দিব্যঃ
স সুপর্ণো গরুত্মান্।
একং সদ্বিপা বহুধা বদন্ত্যগ্নিং যমং
মাতরিশ্বানমাহুঃ।।
ঋগ্বেদ_1.164.46
ইন্দ্র,মিত্র,বরুণ,অগ্নি,যম, সুপর্ণো,গরুড়, মাতরিশ্বা ইত্যাদি নাম হল সেই এক ঈশ্বরেরই নাম।
সুতরাং, একেশ্বরবাদ বেদ দ্বারাই সমর্থিত।
♦বৈদিকদের লক্ষ্য:-
সনাতনী মানুষদের এক করা সম্ভব একমাত্র সঠিক ধর্মীয় আদর্শ দ্বারা।
♦এক ধর্ম গ্ৰন্থ:-বেদ।
♦এক ঈশ্বর:-নিরাকার,ব্যাপক,
যিনি জন্ম গ্ৰহণ বা শরীর ধারণ করেন না। (যজুর্বেদ-40.8)
♦ঈশ্বরের প্রধান নাম:-ওম্।
♦এক মহামন্ত্র:-গায়ত্রী।
♦বৈদিকদের দোষ এটাই যে,তাঁরা বৈষ্ণবদের মত প্রতারণা করে বলতে পারেন না,আজকে শ্রীকৃষ্ণের রাজভোগ হবে,এক হাজার টাকা থেকে দশ হাজার টাকা দিন!!
♦বৈদিকরা এটাও বলতে পারেন না যে, ওম্ বা গায়ত্রী মন্ত্র উচ্চারণ দ্বারা সব পাপ বিনষ্ট হবে!
♦বৈদিকরা আপনাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা আদি কিছুই চান না।
বৈদিকরা চায়,আপনারা সত্যি জানুন এবং এক হয়ে চলুন।
নাহলে, ভবিষ্যতে সনাতন ধর্মের অস্তিত্ব থাকবে শুধুমাত্র ইতিহাসের পাতায়।
বেদের পথে না ফিরলে এক হওয়া সম্ভব নয়।
বেদের পথে না ফিরলে, নতুন নতুন দেবতা জন্ম নেবেন!
নতুন নতুন অবতার আসতেই থাকবেন!!
আশানন্দ বাপু, রামপাল,রাম রহিম,
সদগুরু(যিনি নিজেকে শিবের অংশ বলেন!) আদি গুরুরা আসবেন, আপনাদের প্রতারণা করে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করে চলে যাবেন।
ইস্কনের প্রতিষ্ঠাতা প্রভুপাদও ধীরে ধীরে অবতার হয়ে যাচ্ছেন!!
এত অবতার ও দেবতা অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।
কিন্তু,এত দেবতা ও অবতার থাকা সত্ত্বেও তথাকথিত হিন্দুদের সংখ্যা ক্রমশঃ কমে যাচ্ছে!!
তাই আসুন,বেদের পথে ফিরে,
আমরা সবাই এক হই।