-নরকের অপ্সরী-
তুমি একা, অস্পষ্ট, অর্থহীন, নশ্বর ছায়া!
তোমার প্রাণের শাশ্বত অন্ধ-কার
যেন নির্মম, নিকৃষ্ট মায়া!!
তুমি শহুরে চোরাবালি,
তুমি বেদনার নীল গাড়ি,
তুমি প্রেমহীন করুণ মহামারী!
তুমি আর্তের আহাজারী,
তুমি আবেগের বাড়াবাড়ি,
তুমি নিষ্ঠুর নরকের অপ্সরী
তবু রাস্তার ধারে, নিয়নের ভিড়ে তোমার কায়াহীন ছায়া,
তোমার চোখের রক্তিম অগ্নি-বাণ
তুমি রুষ্ট, বিক্ষুব্ধ মহামায়া!
যদি ফিরে যাও পিছুটানে,
মুক্তির আহ্বানে,
সব সত্যের মিথ্যে অবসানে!
যদি সত্যিই ভালোবাসো,
অনুরাগে কাছে আসো,
ডানাগুলো পুড়ে ফেলো এই আগুনে!
তুমি একা, অস্পষ্ট, অর্থহীন, নশ্বর ছায়া!
তোমার প্রাণের শ্বাশ্বত অন্ধ-কার
যেন আহত, বিক্ষুব্ধ মায়া!!
দ্যা ডায়রি অফ ক্যাপ্টেন পার্সিয়াস
আগামীর পথে আমার পথচলা বাধাহীন, প্রবল, অদম্য!
পরোক্ষ প্রতিশোধ
০১-০৫-২০২১
আমি মরে যাবো
কিন্তু আমার আত্মা ধ্বংসের দামামা বাজাবে
ওই নরপিশাচদের হৃদয়ে।
আমি হারিয়ে যাবো কোনো একদিন
সবকিছু ছেড়ে, চলে যাবো চিরনির্বাসনে।
আপন নামের ওই কীটগুলো পস্তাবে।
নিয়মিত অভিনয়ে ভুলিয়ে রেখে,
কল্পনার নেশার বুদ করে দিয়ে-
ওরা আমাকে মেরেছে।
আমার বাস্তবতাও ওরা শেষ করেছে তিলে তিলে
অস্তিত্বের স্বাদ ভুলে গিয়েছি ওদের জন্য।
সবকিছু সয়ে গেছি মুখে হাসি এঁটে।
কিন্তু আর কত?
ওদের মনে শুধুই স্বার্থপরতা!
আমি কেন স্বার্থপর হতে শিখিনি?
আমি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলাম!
এটাই হয়তো সবচেয়ে বড় ভুল।
ওরা তো জানোয়ার!
শুধু শরীর আছে, হৃদয় নেই।
ওদের নিশ্বাসে শুধুই বিষাক্ত ধোয়া।
ছড়িয়ে দিয়েছিল বাতাসে।
অমাবস্যার রাতকে হার মানিয়ে
ঘন কৃষ্ণতায়-
কলুষিত করেছিল অনুভূতির আকাশ।
শরীরের শেষ বিন্দু রক্ত দিয়ে
ওদের ঘৃনা করতে চাই।
ওরা অনেক সুখ দেখে নিয়েছে।
এবার ওদের আফসোস করবার পালা!
পূর্ণিমার পূর্ণতায় তুমি ভেসে ওঠো আকাশের এক কোণে, সন্তর্পণে।
তুমি আমার বিকেল বেলার খেলার সাথী, তোমার অস্তিত্ব আমার মনে, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়।
তোমার নিশ্বাসে বিশ্বাস বয়ে বেড়াই আমি, বড়াই করে।
তোমার গন্ধ নদীর ওপারের তীরে কাশফুলের সমারোহে পাওয়া যায়।
তুমি যে গানটি গাইতে চেয়েছিলে সেটা রোজ আমাকে শোনায় রাস্তার ধারের অশ্বথ গাছটায় বাসা বাঁধা কোকিল পাখি।
তোমার না বলা কথাগুলো কিভাবে যেনো শুক্রবারের রাত ৮টার রেডিও প্রোগ্রামে চলে আসে,
আমি আমার ভাঙ্গা রেডিওটা নিয়ে বসে থাকি, ওটার ব্যাটারিগুলোও পুরোনো হয়ে গেছে।
মাঝরাতে যখন হুট করে ঘুম চলে আসে তখন আমি তোমাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখি।
কিন্তু খোলা জানালা দিয়ে ঢোকা সকালের মৃদু রোদ যে আমার আজন্ম শত্রু।
স্বপ্নের পরিসমাপ্তি ঘটতে দেয়না একদিনও।
আমি ইচ্ছে করলেই জানালাটা বন্ধ করে দিতে পারতাম- সজোরে!
তবুও আমি দিইনা।
সব স্বপ্নের শেষটা যে সুখের হবে তার কোনো নিশ্চয়তা আছে?
দিনের শেষভাগে যখনই সুযোগ আসে আমি ছুটে যাই চোরাবালির চরে,
গোধূলির পশ্চিম আকাশের অরুণিমার মাঝে তোমায় খুঁজি।
বাড়ি ফেরবার পথে বাঁধ সাঁধে তোমার প্রতি আমার পিছুটান।
আমি আরোও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি,
আমার তখন ইচ্ছে করে বালির সমুদ্রে মাথা এলিয়ে দিই,
তবুও যদি মনে হয় তোমার কোলে মাথা রেখে তারা গুনছি।
রোজ ভোরবেলা পাখির অনিয়মিত কোলাহলে তোমার কন্ঠ ভেসে ওঠে,
আমি খুঁজতে থাকি, খুব মনোযোগ দিয়ে,
একটু পরেই সেই আওয়াজ কোথায় যেনো মিলিয়ে যায়।
হঠাৎ কোনো এক মাঝরাতে ছেঁড়া ডায়রিটা খুলি,
মনে হয় ডায়রির প্রত্যেকটা পৃষ্ঠায় তোমার হাতের ছোঁয়া লেগে আছে।
আমি মাঝে মাঝে ছুটে যাই লেকের ধারের বেঞ্চটায়,
ভাবি আমি গেলে হয়তো তুমিও বসবে আর গান শোনাবে আমায়।
আমি একাই বসে থাকি, সকাল থেকে সন্ধ্যে।
যদিও সেখানে দুজনের বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ফাঁকাই থাকে।
আমি সর্বদা তোমার অবস্তুগত বিদ্যমানতাকে অনুভব করি
যদি তুমি সত্যিই থেকে থাকো, তাহলে কেনো সাড়া দাও না?
দ্যা স্ক্রাম্বল্ড থটস!
২৪-০৪-২০২১
বাহিরে অনেকক্ষণ থেকে স্নো ফল হচ্ছে। আজকে দিনটাই শুনশান নীরবতার মধ্য দিয়ে গেলো। মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ নেই। চারপাশ শুভ্র বরফের চাদরে ঢেকে গেছে। তুলোর মতো বরফ আকাশে উড়ছে। হুহু করে বয়ে যাচ্ছে সাউদার্ন কোল্ড ব্রিজ! অন্যরকম একটা রোমাঞ্চ কাজ করছে মনের মধ্যে। ঘরের চিমনির নিচে সামান্য উইলো কাঠ জমা করে বসে আছি। লাইটারটা খুজে পাচ্ছিনা। বিকেলেই অ্যাশটনের একটা সিগার জ্বালিয়েছিলাম। এতকিছু ভাবতে ভাবতে প্রায় ভুলেই গেছি। উত্তাপ! আমার অনেক উত্তাপ দরকার। ড্রইংরুমের ডানের দেয়ালের ভেন্ট দিয়ে সজোরে আসা দমকা হাওয়া শীতলতার জানান দিলো। মখমলের ব্লাঙ্কেটে শীত যাচ্ছেনা! আরও উষ্ণ আশ্রয় দরকার। অবশেষে লাইটারটা খুঁজে পেলাম। টেবিলের উপরে ছিল অ্যাস্ট্রেটার পাশে।
তরতর করে জ্বলে উঠলো কাঠগুলো। মেঝেতে বিছানো ম্যাটটার উপর কখন যে গা এলিয়ে দিয়েছি। চোখ বুজে আসছিলো। ৫-১০ মিনিট পর হয়তো বুজেও গিয়েছিলো। বুঝে উঠতে পারিনি। শুধু মনে হলো সামনের ফ্লেমটা যেন নেগেটিভ ফিল্মের মতো জীবনের ফ্ল্যাশব্যাক দেখাতে শুরু করে দিলো। আমিও একাগ্রচিত্তে তাকিয়ে সেদিকে। আগুনের ফুলকি যেন প্রত্যেকটা মানুষের অপার্থিব অবয়ব সৃষ্টি করেছে। কানে ভেসে আসলো সেই চিরচেনা তীক্ষ্ণ আওয়াজ, "Wake up! You're getting late for work!"
সাথে সাথে শরীরে একটা ছোট্ট শকওয়েভ বয়ে গেলো। গা ম্যাজম্যাজ করছে। এখন আর পাওয়ার ন্যাপে কাজ হয়না। ঘুম অনেকটা আয়ত্তের বাহিরে চলে গেছে। অভ্যেস বলেও তো একটা কথা আছে!
Life was not so bad before! আগে এমন একটা সময় ছিল যখন আশেপাশের জিনিসগুলোর মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে কোনো কাজে মন বসতো না। একদম একটা ফোবিয়া ছিল বলা যায়। The fear of seeing imperfections. কিন্তু এখন এই অসঙ্গতি যেন জীবনের সবচেয়ে বড় অংশ হয়ে গেছে। বাস্তব জীবনে বলতে গেলে একাকীত্ব আর অসঙ্গতি সমানুপাতিক।
মাঝরাতটা অনেক উপভোগ্য। নিশাচর প্রাণীর মতো হতে পারলে মানুষ বোধয় বেঁচেই যেত। এখনও স্নো ফল থামেনি। বাসার ওপেন ব্যালকনি থেকে সামান্য দূরে ল্যাম্পপোস্ট এখনও জ্বলছে। শত শত তুষারকণা ভেদ করে আলো ঠিকরে পরছে মেঝের মার্বেল পাথরে।
মধ্যরাতে ডাকলে দিও সাড়া
চাঁদের আলোয় বাঁধ ভেঙেছে পাড়া!
তুমিও একা ঘুমিয়ে আছো দূরে,
গান লিখেছো অভিমানের সুরে...
গানটা বেজে উঠলো। অনেকদিন থেকে বাংলা গানের ফ্যান্টাসিতে বুদ হয়ে থাকা হয়না। তাই সাফল করে বাংলা একটা প্লেলিস্ট বাজিয়ে যাচ্ছি অনেকক্ষণ থেকে। ভলিউম কমে গেলে সুরগুলো যেন আরও করুণ হয়। রাতের আঁধারে ক্যান্ডেল জ্বালিয়ে স্বপ্নবিলাসী হতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু ঘরের ফ্লোরেসেন্ট আলোর কৃত্রিমতা সেই স্বপ্ন বরবাদ করে দিলো। ওদের তো দোষ নেই। ওরা তো প্রাণহীন। যেখানে নিঃশ্বাসীদের বিশ্বাস নেই সেখানে বস্তুর প্রতি নির্ভরতাই শ্রেয়।
There was a time when I used to have a trait of having endless humour. But eventually things got changed as well as the person. মাথার ভেতর সেন্স অফ হিউমারটা কাজ করেনা আর। অযাচিত সব সিরিয়াসনেস কুড়ে কুড়ে খেয়ে ফেলেছে। অ্যালেক্স মাইকেলিডসের 'দ্যা সাইলেন্ট পেশেন্ট' বইটা পড়া শুরু করলাম। গত বছর উইন্টারে কিনেছি!
হিউম্যান সাইকোলজি বড়ই অদ্ভুত। প্রত্যেকটা পরতে পরতে রহস্য। ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং শুরু করলে গুনে শেষ করা যাবেনা। আসলেই নিজেকেই নিজের কতটা জানার বাকি। তবে জানার যেহেতু শেষ নেই তাই আজীবনই যদি জ্ঞানের আলো খুঁজি তবে জীবনকে উপভোগ করবার অবকাশ মিলবেনা। তেমনি নিজেকে জানার আগ্রহটা হারিয়ে ফেলেছি। নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিনা। পুরনো সত্তা নিয়ে বেশ আছি। তবে মাঝে মাঝে নিজের কথা ভেবে নিজেই অবাক হই। বাহ্যিক মুক্তি মিললেও যেন অন্তরাত্মা এখনও অবরুদ্ধ। কিন্তু কিছু করার নেই। মেনে নিয়ে চলার নামই জীবন।
I wish I could go back to the old me and say I love you more than anything. But I can't and I won't 😄
গহীন যান্ত্রিকতাময় কলেবরে লালিত অবস্তুগত সেই পবিত্র সত্তা উদ্দেশ্য।
প্রতি ক্ষণে অন্তঃকরণে যার ক্রমাগত বিচরণই নির্দেশিত করে মানবসাকুল্যে পরস্পরের মিথষ্ক্রিয়া,
সকল অভিপ্রায়ের ইতি ও আদি যার সর্বাঙ্গের সজ্জা,
সুশান্ত শরীর যার বৃহৎ প্রতাপে অধীরতা লাভ করে,
অভিলাষী কোনো এক চিত্তপট সূচনায় যার ভূমিকা শাশ্বত,
সেই প্রকৃষ্টরূপে অবগত জীবসত্তা উদ্দেশ্য।
যার অন্তরালে অপ্রকাশিত ভাবাধার সুনিপুণভাবে আচ্ছাদিত
অসার দেহকে যা প্রদান করে নিশীথ নিবিড় উন্মাদনা।
কালের বিবর্তনে উন্নত, উৎকৃষ্ট, সেই মানবসত্তা উদ্দেশ্য।
#ক্যাপ্টেন_পার্সিয়াস
তোমার ডাগর কালো চোখ সবসময় উকি দিচ্ছে উত্তর পানে।
কী আছে সেথায়?
তুমি বলবেনা? তাতে কি!
আমি যে তোমার মুখের দিকে তাকিয়েই বলে দিতে পারি - মনের কথা।
ভুলে গিয়েছো? নাহ মোটেও ঠিক করোনি!
কারণে অকারণে আবার মনে পরবে, আড়ালে - আবডালে খুঁজবে তো আমাকেই!
তোমার মনের একমাত্র ডাক্তার তো আমিই। আমাকে ছাড়া পারবে তো মনের যত রোগ আছে সেগুলো সারাতে?
কি? পারবে তো? উত্তর দিচ্ছনা যে!
তারপর এক নিশীথ একাকিত্ব আমাকে গ্রাস করলো। না পারলাম সেখানে থেকে বের হতে, না পারলাম মানিয়ে নিতে। জীবনে এই তুমি নামক সর্বনামটার খুব অভাব বোধ হচ্ছে! প্রত্যুত্তরে আমিও মনের কথা বলতে ভুলে গেছি।
#ক্যাপ্টেন_পার্সিয়াস
আমি এই পৃথিবীর বিশাল নাট্যমঞ্চের একজন মূক অভিনেতা।
জীবন নামক এই নাটকের কোনো চরিত্রকে আমি ভালোবাসিনি।
আমি ভালোবেসেছি এই নাটকের প্রত্যেকটা দৃশ্যকে।
ছায়াপথের কেন্দ্রে কৃষ্ণগহ্বর থেকে শুরু করে বিন্দুসম কীট আমাকে শিখিয়েছে উদারতা।
খরস্রোতা নদীর বারিধারা আমাকে বলছে তুমি দুর্নিবার হতে শেখো।
ভূতলে বয়ে যাওয়া টর্নেডো আমাকে তছনছ করতে পারেনি,
বরং তার শক্তিকে আহরণ করে আমিও হয়েছি দুর্গম।
নিশীথ রাতের গহীন কুহেলিকা আমায় পথভ্রষ্ট করতে - পারেনি,
আমি ঠিকই পথ খুঁজে নিয়েছি, পৌঁছেছি গন্তব্যে।
সোনালী সকালের স্নিগ্ধতা আমাকে কোমল করেছে।
সন্ধ্যাবেলায় ঝিঝির ডাকে যে বিপ্লব সৃষ্টি হয়,
তার অর্থ আমি বুঝেছি।
আমি সভ্যতার আদ্যোপান্ত দেখেছি,
হয়তো সচক্ষে নয়, কিন্তু সাহিত্যের ভাষায়।
স্বর্গীয় প্রকৃতির মতো আমিও হয়েছি বিলীন,
মরুভূমির ধাবমান ঘোড়ার মতো সকল অমানিশা বিদীর্ণ - করে,
আমি পূর্ব আকাশের প্রোজ্জ্বল সূর্য দেখেছি।
আমি সংশয়ে ভুগেছি, নিজেকে সংকীর্ণ করেছি, কিন্তু,
আকাশ নিজে থেকে তার বিশালতা আমাকে দিয়েছে।
অবশেষে, সংক্ষিপ্ত এই নাটকে আমার চরিত্রের অবসান ঘটেছে।
আমার কোনো সংলাপ ছিলোনা তবুও আমি প্রভাবিত করেছি নাটকের প্রত্যেকটি দৃশ্যকে।
আর এই প্রভাবের প্রাবল্যের সাক্ষী হিসেবে কবিতাখানি রেখে গেলাম,
নবীন মূকাভিনেতা! তোমার জন্যে।
তুমি কি আমার মধ্যরাতের কাব্য হবে?
তুমি কি পারবে একটু কোমল হয়ে আমার নিঃসঙ্গতার সঙ্গী হতে?
তোমাকে আমি নিঃসঙ্গতা কাটাতে বলবো না, শুধু একটু ভাগীদার হয়েই দেখো না। আমার মাঝে মাঝে নিঃসঙ্গতা ভালোই লাগে ♥️
আমি জোর গলায় বলতে পারবোনা আমি সাহিত্যকে সামগ্রিকভাবে অনুভব করি। কিন্তু যতটুকুই করি তা থেকে একটা উপলব্ধি আসে যে সাহিত্য সৃষ্টির পূর্বশর্ত হলো শান্ত এবং এককেন্দ্রিক একটা মন। মানবমনের সাথে উপমা বা প্রতীকী তথা বাস্তবিক পৃথিবীর যথাযথ সমন্বয় ব্যতীত সাহিত্য সৃষ্টি সম্ভব বলে আমার মনে হয় না। সাহিত্য সাধনার জন্যে আরেকটি বিষয় অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে, সেটি হলো কল্পনাশক্তি। যে ব্যাক্তির কল্পনাশক্তি যত উন্নত তার সাহিত্যের রসাস্বাদন ক্ষমতাও তত বেশি। নিঃসন্দেহে বলা যায় সাহিত্যের উৎস হলো অবচেতন মানবমনের কাল্পনিক খেঁয়াল।
আরেকটি বিষয় যা পূর্বেই উল্লেখ করেছি, সেটি হলো এককেন্দ্রিক একটা মনের বিদ্যমানতা। সাহিত্য সৃষ্টি লগ্নে সাহিত্যের সাগরে মনের সমগ্ররূপে অবগাহন ব্যতীত অবশেষে যে কর্মফল শূন্য হবে তা একেবারেই অজানা নয়। এজন্য আমার কাছে সাহিত্য সাধনার সর্বোৎকৃষ্ট সময় বলে মধ্যরাত বিবেচিত। কারণ দিবারাত্রি মিলে ২৪ ঘণ্টার দিনের এই সময়টাই থাকে একেবারে নীরব, কোলাহলমুক্ত। আশে পাশের উদ্দীপকগুলোও উদ্দীপনা দেওয়া থামিয়ে দেয় ঠিক এই সময়ই। তখনই শান্ত এই মনের কুটিরে সাহিত্য নামের সেই বহুপ্রত্যাশিত অতিথি কড়া নারে। আর কবি লেখে তার কবিতার ভাষায়, ঔপন্যাসিক লেখে তার উপন্যাসের ভাষায়।
পরিশিষ্ট: সাহিত্যের মতো বিস্তৃত একটা বিষয় নিয়ে আমার এই ক্ষুদ্র ধারণা প্রকাশ করলাম। কারও সাথে মতের অমিল থাকলে অথবা আরও প্রকৃষ্ট ধারণা থাকলে অবশ্যই জানাবেন। ধন্যবাদ। 🙂
আমি সেই হাসিটার কথা বলছি,
যার সাবলীলতা আমাকে মুগ্ধ করে।
আমি সেই হাসিটার কথা বলছি,
যার এক ফোঁটা দর্শন আমার সকল কষ্ট ঘুচায়।
আমি সেই হাসিটার কথা বলছি,
যে হাসি অনন্য, যার নেই কোনো তুলনা।
আমি সেই হাসিটার কথা বলছি,
যা হার মানায় পার্থিব সকল মোহকে।
আমি সেই হাসিটার কথা বলছি,
যে হাসি আমাকে বাঁচতে শেখায়,
আমি সেই হাসিটার কথা বলছি,
যা আমাকে দিয়েছে নিরব সমর্থন।
আমি সেই হাসিটার কথা বলছি,
যার অন্তরালে আমি খুঁজে পাই স্বর্গীয় প্রশান্তি।
আমি তারই হাসিটার কথা বলছি,
যে আমাকে কখনও হারতে দেয়নি।
আমি তারই হাসিটার কথা বলছি,
যে আমাকে ধারণ করেছে ১০ মাস ১০ দিন।
আমি তারই হাসিটার কথা বলছি,
যে আমাকে অসীম ভালোবাসার টানে আটকে রেখেছে নিজের কাছে।
আমি তারই হাসিটার কথা বলছি,
যে আমাকে কখনও অবহেলা করবে না।
আমি তারই হাসিটার কথা বলছি,
যার শুধুমাত্র এই হাসিটার ঋন কোনোদিন শোধ হবেনা।
আমি আজীবন এই হাসিটার কথা বলতে চাই,
কারণ এই হাসি অমূল্য,
আমার জীবনের অনুপ্রেরণা।
#উৎসর্গ: পৃথিবীর সকল মাকে। যাদের নিরলস ভালোবাসা সন্তানের রক্ষাকবচ। ♥️
02/10/2020
মস্তিষ্ক যখন চঞ্চল,
অস্থাবর যখন মনের প্রতিটি কোণ,
আমি জানি কবিতা তুমি আসবেনা।
তবে কেনো উকি দিলে মনের আয়নার এক কোণে?
আমি যে তোমায় দেখেছিলাম, তুমি হয়তো দ্যাখোনি।
স্থির তো আমি হয়েছিলামই,
রুখে দিয়েছিলাম সব ইন্দ্রিয়ানুভূতি।
ভেবেছিলাম এবার বুঝি আসবে!
কিন্তু গভীর সেই রহস্যের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে,
ছলনার যাত্রায় যবনিকা টেনে, কেনো তুমি আসোনি?
াতে_কবিতা_আসবেনা
আমি ব্যর্থ,
আমি ব্যর্থতার কলুষিত হাতে হয়েছি ছিন্নভিন্ন।
আমি ব্যর্থ,
কারণ আমি কখনও দেখিনি নতুন উদ্যম,
শুধু দেখেছি রাস্তার ধারে থমকে যাওয়া কোনো পথিক।
আমি ব্যর্থ,
কারণ, কেউ আমাকে দেয়নি সুখের আশা,
শুধু ভেঙেছে ভরসা আর দিয়েছে দুঃখের ভাষা।
আমি ব্যর্থ,
কারণ, আমি শুধু ছুটেছি লালসার তরে, খুঁজেছি অমরত্ব
কিন্তু কখনও কোনো অবেলায় খুঁজিনি মনুষ্যত্ব।
আমি ব্যর্থ,
কারণ, শহর আমাকে করেছে বদ্ধ-উন্মাদ,
ভুলে গিয়েছি অতীত যত, আপন শেকড়ের স্বাদ।
আমি ব্যর্থ,
কারণ, আমি বিকিয়েছি নিজেকে সস্তা দরে,
আপন দেহে বহির্সত্তা বাঁচিয়েছি বছর ধরে।
আমি ব্যর্থ,
কারণ, আমি দেয়ালে পিঠ ঠেকলে করিনি দুবার চেষ্টা,
বুঝেছি এবার হারতে হবে, দেখিনি কখনও শেষটা।
আমি হেরেছি
আমি বেঁচে নেই, আমি মরেছি।
আমি আমার দোষের সবকিছু দিয়ে,
নিজেকে ব্যর্থ করেছি।
Click here to claim your Sponsored Listing.