18/05/2026
দ্বীনি শিক্ষা না দেওয়ার পরিণতি৷
দ্বীনি শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া একটি পূর্ণাঙ্গ, আদর্শ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করা সম্ভব নয়। ইসলামের শিক্ষা হলো—জ্ঞান, চরিত্র ও কর্মের সুন্দর সমন্বয়। এই সমন্বয়ই মানুষকে আল্লাহভীরু, নৈতিক, দায়িত্বশীল ও কল্যাণকামী নাগরিকে পরিণত করে।
কিন্তু যখন দ্বীনি শিক্ষা উপেক্ষা করা হয়, তখন তার ভয়াবহ প্রভাব ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
১. চরিত্রহীন শিক্ষিত প্রজন্ম সৃষ্টিঃ
দ্বীনি শিক্ষা ছাড়া শিক্ষা মানুষকে অনেক সময় আত্মকেন্দ্রিক ও নৈতিকতাহীন করে তোলে। তখন জ্ঞান ব্যবহার হয় কল্যাণে নয়, বরং অন্যায়, দুর্নীতি ও জুলুমে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿إِنَّهُمْ كَانُوا لَا يَرْجُونَ حِسَابًا﴾
“নিশ্চয়ই তারা হিসাবের আশা করত না।”
(সূরা আন-নাবা: ২৭)
২️.পরিবার ও সমাজে অশান্তি সৃষ্টিঃ
দ্বীনি শিক্ষা না থাকলে সন্তান পিতা-মাতার প্রতি অবাধ্য হয়, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয় এবং সমাজে অপরাধ বৃদ্ধি পায়।
রাসূল (সা:) বলেন,
﴿إِذَا لَمْ تَسْتَحْيِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ﴾
“যখন লজ্জা থাকে না, তখন মানুষ যা ইচ্ছা তাই করে।”(সহিহ বুখারি)
৩️. দুনিয়ামুখী ও আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতাঃ
আখিরাতের চিন্তা না থাকলে মানুষের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় শুধু টাকা, ক্ষমতা ও ভোগ-বিলাস।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِّنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ﴾
“তারা দুনিয়ার জীবনের বাহ্যিক বিষয়ই জানে, আর আখিরাত সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ উদাসীন।” (সূরা আর-রূম: ৭)
৪️. আল্লাহর বরকত ও শান্তি থেকে বঞ্চিত হওয়াঃ
যে সমাজ আল্লাহকে ভুলে যায়, সেখানে বাহ্যিক সম্পদ থাকলেও অন্তরের শান্তি থাকে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا﴾
“যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জীবন হবে সংকীর্ণ ও কষ্টময়।” (সূরা ত্বা-হা: ১২৪)
৫️. অভিভাবকদের জন্য ভয়াবহ জবাবদিহিঃ
সন্তানের দ্বীনি শিক্ষা নিশ্চিত করা অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا﴾
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।”(সূরা আত-তাহরীম: ৬)
দ্বীনি শিক্ষা ছাড়া আধুনিক শিক্ষা মানুষকে দক্ষ করতে পারে, কিন্তু নৈতিকতা ও মানবিকতা ছাড়া সেই দক্ষতা অনেক সময় ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার আধুনিক শিক্ষা ছাড়া দ্বীনি শিক্ষা মানুষকে বাস্তব জীবন ও সমাজের প্রয়োজন থেকে দূরে রাখতে পারে। অতএব, অভিভাবক, শিক্ষক ও রাষ্ট্র—সবার দায়িত্ব হলো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে চরিত্র গঠনের পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শেখানো হবে। তবেই গড়ে উঠবে একটি আল্লাহভীরু প্রজন্ম, শান্তিপূর্ণ সমাজ এবং কল্যাণময় রাষ্ট্র, ইনশাআল্লাহ।