13/02/2021
পরীক্ষায় ভালো ফল করাটা শুধু জন্মগত প্রতিভা নয়, অথবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই নিয়ে পড়ে থাকা নয়। নিয়মিত ভালো ফলাফল করে, এমন শিক্ষার্থীদের আসলে কিছু অভ্যাস থাকে যা তাদের ভালো ফল করতে সাহায্য করে। ভালো ছাত্র বলতে আমরা তাদেরকেই বুঝি যারা সবসময় বই নিয়ে পড়ে থাকে, অন্য কোনোদিকে মনোযোগ দেয় না। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ পড়াশোনা, খেলাধুলা, শিল্পচর্চা সবদিকেই সময় দিতে পারে। তারা আসলে এসব অভ্যাসের চর্চা করে বলেই ভালো ফল করতে পারে সব দিকেই। জেনে নিন এমনই কিছু অভ্যাসের কথা-
১) পড়াশোনাকে প্রাধান্য দিন
পড়াশোনার সময়ে শুধুই পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া উচিত। বই খোলার পর ফোনে কথা বলা, টিভি দেখা, এমনকি টুকিটাকি খাওয়ার দিকেও মনোযোগ না দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। পড়ার নির্দিষ্ট সময়ে শুধুই পড়াকে প্রাধান্য দিন।
২) যে কোনো জায়গায় পড়াশোনা করুন
একেক জন একেক সময়ে পড়াশোনা করতে পছন্দ করে। কেউ গভীর রাতে নিরিবিলির মাঝে পড়তে পছন্দ করে। কেউ ভোরবেলা যখন সবাই ঘুমাচ্ছে তখন পড়তে পছন্দ করে। কেউ আবার ক্লাস থেকে ফিরে লেকচার মনে থাকতে থাকতেই পড়ে ফেলে। কিন্তু এর পাশাপাশিও সময় বের করা যায়। বাথরুমের আয়নার পাশে একটি কাগজে ভোকাবুলারি লিস্ট আটকে রাখুন এবং প্রতিদিন একটি করে শব্দ শিখুন। ক্লাসে যাওয়া আসার পথে কিছু একটা পড়ুন। অর্থাৎ কোনো সময়ই যেন নষ্ট না হয় সেদিক নজর দিন।
৩) গুছিয়ে রাখুন পড়ার জিনিস
ক্লাস নোট, কালার পেন্সিল এসব খুঁজতে সময় নষ্ট হলে পড়ার ইচ্ছে অনেকটাই কমে যায়। সবসময় পড়ার জিনিস গুছিয়ে রাখুন যাতে যা খুঁজতে সময় ব্যয় না হয়। ক্লাস থেকে এসে প্রতি বিষয়ের নোট আলাদা রঙের ফোল্ডারে গুছিয়ে রাখুন। অন্তত পড়ার টেবিলের ড্রয়ারে বা ব্যাকপ্যাকটা গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করুন। এতে পড়াশোনা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
৪) দ্রুত পড়ার অভ্যাস করুন
শুধু বই সামনে নিয়ে বসে থাকলে পড়া হয় না। দ্রুত পড়ার অভ্যাস গড়ে তুললে আপনি কম সময়ে অনেক বেশি পড়তে পারবেন। প্রথম একটি বইয়ের সুচিপত্র পড়ে নিন, এতে আপনি বুঝতে পারবেন বইটি কী বিষয়ের ওপরে লেখা। এরপর আপনি এতে থাকা ছবি এবং ছক দেখতে পারেন। এরপর বইটি দ্রুত পড়ে নিতে পারেন। এ পদ্ধতিতে আপনার মাথায় তথ্যগুলো ভালোভাবে বসে যাবে। শুধু দ্রুত নয়, পড়ার সময়ে ‘সক্রিয়’ থাকুন অর্থাৎ পড়ার সময়ে বইয়ের লেখাটি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করুন নিজের মাথার ভেতরে।
৫) সময় ভাগ ভাগ করে নিন
বিভিন্ন বাড়ির কাজ বা অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করার জন্য ভাগ ভাগ করে কাজ করতে হয়। ডমেনিকা রোমান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এটা অনেকটা মাংসের স্টেক খাওয়ার মতো। এক টুকরো করে কেটে চিবিয়ে খেতে হয়। পুরোটা এক কামড়ে খাওয়া যায় না।’ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেবার শেষ তারিখটা জেনে নিয়ে এর আগেই শিডিউল করে ফেলুন কবে কতটুকু লিখবেন। একদিন বিষয়টি নিয়ে রিসার্চ করুন, আরেকদিন ২০ শতাংশ লিখে ফেলুন, আবার একদিন সহপাঠিকে দিয়ে রিভিউ করিয়ে নিন। অবশ্য সবসময় এত গুছিয়ে কাজ করা যায় না, কখনো ডেডলাইনের আগের রাত্রেই কাজ শেষ করতে হয়। তারপরেও একটি শিডিউল করা থাকলে কাজটা ভালো হয়।