01/05/2026
অপরাধীর পরিচয় নাকি অপরাধের বিচার?
কাশিমপুরের হোল্ডেন লাইফ স্কুলের শিক্ষকের নির্মম বেত্রাঘাতে ক্ষতবিক্ষত শিক্ষার্থী রাজুর শরীর! নিচের ছবিটিই প্রমাণ করে রাজুর ওপর কতটা পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই অমানুষিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দায়ী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
আমাদের প্রশ্ন সুশীল সমাজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার এক শ্রেণীর অধিকার কর্মীদের কাছে আজ রাজুর ওপর এই নির্যাতন কোনো মাদরাসার হুজুর বা ধর্মীয় শিক্ষক করলে তো আপনারা নীরব থাকতেন না! তখন প্রতিবাদের ঝড় উঠতো, রাস্তাঘাটে মিছিল হতো, আর পুরো জাতির কাছে হুজুরদের নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হতো। কিন্তু আজ যখন একজন সাধারণ স্কুল শিক্ষক এই অপরাধ করলেন, তখন আপনাদের খারাপ মন্তব্য বা প্রতিবাদ কোথায়? প্রশাসনই বা কেন এখন নীরব ভূমিকা পালন করছে? তাদের চোখে কি রাজুর এই ক্ষত দৃশ্যমান নয়?
এই দ্বিমুখী নীতি আর বৈষম্যমূলক মানসিকতা যতদিন পর্যন্ত আমাদের মধ্য থেকে দূর না হবে, ততদিন এই বাংলার জমিনে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বা ইসলাম কায়েম করা সম্ভব নয়। আসুন, আমরা অপরাধীকে তার পোশাক বা পরিচয় দিয়ে না বিচার করে, তার অপরাধ দিয়ে বিচার করি। আসুন দল-মত নির্বিশেষে রাজুর ওপর করা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। আপনাদের মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। ইনশাআল্লাহ, সত্যের জয় হবেই।
তীব্র নিন্দা জানাই, সুষ্ঠু বিচার চাই। পোস্টটি বেশি বেশি শেয়ার করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন।
#প্রশাসন_জাগো #প্রতিবাদ
11/04/2026
আল্লাহ! আপনি বড় কাটারা মাদ্রাসাকে কুদরতিভাবে হেফাজত করুন।
আল্লাহকে ভয় করে এমন মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত করুন।
26/03/2026
খিদমতে দ্বীন ও মহব্বতের এক অনন্য দস্তরখান
আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঈদের দিন সকালে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বড় কাটারা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এক বিশেষ মেহমানদারির আয়োজন করেছিল নবীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান 'naazar'।
ঈদের জামাত শেষে মাদ্রাসায় অবস্থানরত প্রিয় ছাত্র ও উস্তাদদের সাথে দস্তরখানে শরিক হন প্রতিষ্ঠানের পরিচালকবৃন্দ। রহমতগঞ্জের আমাদের প্রিয় ইমরান ভাই, যিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক, তিনি আজ সকালে সেখানে উপস্থিত থেকে সবার সাথে ঈদের আনন্দ ও দুপুরের আপ্যায়নে অংশ নেন।
বিশেষ দোয়া ও বরকত:
মুফতি আমিনী (রহ.)-এর বিশেষ সোহবত ও দোয়াধন্য, আমাদের সকলের শ্রদ্ধাভাজন উস্তাদে মুহতারাম মুফতি মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম সাহেবের বিশেষ দোয়া ও তত্ত্বাবধানে এই মহতি উদ্যোগটি পরিচালিত হয়েছে।
naazar-এর চারজন অংশীদার (পার্টনার) ব্যবসায়ী ভাইদের পক্ষ থেকে এবং প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর উন্নতির জন্য সকলের নিকট দোয়া চাওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা যেন এই খিদমতকে কবুল করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা ও পথচলায় খাস রহমত দান করেন।
এভাবেই দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও উলামায়ে কেরামের সাহচর্যে 'naazar' এগিয়ে যাক বহুদূর— ইনশাআল্লাহ।
18/03/2026
স্মৃতির আঙিনায় এক পশলা প্রশান্তি: বড় কাটারা মাদ্রাসার ইফতার মাহফিল
দীর্ঘ এক বছরের প্রতীক্ষা শেষে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বড় কাটারা মাদ্রাসায় ফিরে এলো সেই চিরচেনা বরকতময় ইফতার মাহফিল। আজ ২৮শে রমাদান, ১৪৪৭ হিজরী (১৮ই মার্চ, ২০২৬); জামিয়ার হিতাকাঙ্ক্ষী, দাতা এবং এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত ছিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ। ইফতারের পূর্বমুহূর্তে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া এক অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
প্রাণের স্পন্দন ও অশ্রুসিক্ত আনন্দ
এবারের মাহফিলের বিশেষ প্রাপ্তি ছিল মুফতী মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম সাহেবের উপস্থিতি। শায়খুল ইসলাম মুফতী আমিনী (রহ.)-এর অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং 'ফিদায়ে বড় কাটারা' হিসেবে পরিচিত এই প্রিয় ব্যক্তিত্বকে দীর্ঘ বিরতির পর কাছে পেয়ে উপস্থিত সবার মাঝে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায়। অনেক প্রবীণ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু; যেন এক হারানো রত্নকে পুনরায় ফিরে পাওয়ার তৃপ্তি।
মেহমানদারি ও বিশেষ অনুদান
আজকের ইফতার মাহফিলের যাবতীয় আপ্যায়নের সৌজন্যে ছিলেন মৌলভীবাজারের এক অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রবীণ দাতা পরিবারের সদস্য। শুধু আজকের ইফতারই নয়, তিনি মাদ্রাসা খোলার পর সকল ছাত্র ও শিক্ষকদের জন্য বিশেষ উন্নত মানের মেহমানদারির লক্ষ্যে একটি বিশেষ বরাদ্দও ঘোষণা করে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লাহ তাআলা আমাদের এই প্রাণপ্রিয় জামিয়াকে কবুল করুন। বিশেষভাবে এই প্রতিষ্ঠানের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ও পরীক্ষিত মুখলেস ব্যক্তিত্ব মুফতী মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম সাহেবকে দীর্ঘকাল দ্বীনের খেদমত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
18/03/2026
বাংলার আধ্যাত্মিক আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র: মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)
১. জন্ম ও বংশ পরিচয়
জন্ম: ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১৮৯৫)।
স্থান: ফরিদপুর জেলার টুঙ্গিপাড়া থানার ওড়াকান্দি গ্রামে (বর্তমানে গোপালগঞ্জ)।
পিতা: আলহাজ্ব মুন্সি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তাঁর পূর্বপুরুষগণ ছিলেন উচ্চবংশীয় এবং ধর্মপ্রাণ।
২. শিক্ষা জীবন: মেধার অনন্য স্বাক্ষর
তিনি তৎকালীন সময়ের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলো থেকে শিক্ষা অর্জন করেন:
প্রাথমিক: স্থানীয় ওড়াকান্দি হাইস্কুল।
কলকাতা: কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কৃতিত্বের সাথে শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
দেওবন্দ: উচ্চতর শিক্ষার জন্য ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ যান। সেখানে তিনি শায়খুল ইসলাম মাওলানা মাদানি (রহ.) এবং আল্লামা ইব্রাহিম বলিয়াভি (রহ.)-এর মতো মহান মনীষীদের সান্নিধ্য লাভ করেন।
৩. আধ্যাত্মিক সাধনা (তাজকিয়া)
তিনি ছিলেন হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর খলিফা বা আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি। থানভী (রহ.) তাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং তাঁর মধ্যে আধ্যাত্মিক গভীরতা দেখে তাকে 'সদর সাহেব' বলে সম্বোধন করতেন।
৪. বড় কাটারা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও সংস্কার আন্দোলন
মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী কেবল কিতাব পড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি ছিলেন একাধারে সমাজ সংস্কারক ও দূরদর্শী নেতা:
বড় কাটারা মাদ্রাসা (১৯৩৬): ঢাকার রাজকীয় চকবাজারের বড় কাটারা দুর্গে তিনি এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল বাংলার উলামাদের ঐক্যবদ্ধ করার কেন্দ্রবিন্দু।
প্রচার ও প্রকাশনা: সাধারণ মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে তিনি 'খাদেমুল ইসলাম' জামাত গঠন করেন।
আশরাফিয়া মাদ্রাসা: যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া (যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসা) প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিল।
৫. উল্লেখযোগ্য রচনাবলী
জটিল ধর্মীয় বিষয়গুলোকে সহজ বাংলায় সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তাঁর অনূদিত ও রচিত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম:
বেহেশতী জেওর (অনুবাদ): মহিলাদের জন্য মাসআলা-মাসায়েলের পূর্ণাঙ্গ কিতাব।
হায়াতুল মুসলিমীন: মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনের পাথেয়।
তফসিরে হক্কানী: পবিত্র কুরআনের সহজবোধ্য ব্যাখ্যা।
৬. চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্ব
শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)-এর ব্যক্তিত্বের কিছু বিশেষ দিক ছিল যা তাকে অনন্য করে তুলেছিল:
রাজনৈতিক দূরদর্শিতা: তিনি দেশভাগের সময় মুসলিম লীগের সমর্থন করেন এই আশায় যে, পৃথক ভূখণ্ডে ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠা হবে। তবে পরবর্তীতে রাজনীতির চেয়ে শিক্ষা ও সংস্কারকেই বেশি গুরুত্ব দেন।
নির্ভীক সত্যবাদিতা: অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন ইসলাম বিরোধী নীতির সরাসরি সমালোচনা করতেন।
৭. মৃত্যু
এই মহান মনীষী ১৯৬৯ সালের ২১ জানুয়ারি পরলোকগমন করেন। ঢাকার বড় কাটারা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেই তাকে সমাহিত করা হয়।
সারসংক্ষেপ: মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) কেবল একজন আলেম ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলার কওমি ধারার শিক্ষার প্রধান সমন্বয়ক। তাঁর মাধ্যমেই থানভী (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক ধারা বাংলাদেশে পূর্ণতা পায়।
15/03/2026
ঢাকার আধ্যাত্মিক আলোকবর্তিকা: মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব পিরজি রহ.
১. বংশ পরিচয় ও জন্ম
মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব পিরজি রহ. ঢাকার একজন ক্ষণজন্মা আলেম ও আধ্যাত্মিক সাধক ছিলেন। তাঁর নামের সাথে যুক্ত "পিরজি" শব্দটি মূলত তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের পরিচায়ক। তিনি ঢাকার স্থানীয় একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
২. শিক্ষা জীবন
তাঁর প্রাথমিক ও উচ্চতর শিক্ষার প্রধান অংশ ছিল তৎকালীন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা পদ্ধতি কেন্দ্রিক।
তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং অল্প বয়সেই পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে তিনি ভারতের দেওবন্দ ও সাহারানপুরের প্রখ্যাত আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং ইলমে দ্বীনের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।
৩. বড় কাটারা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা (১৯৩১ খ্রি.)
হযরত পিরজি হুজুর রহ.-এর জীবনের সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো মাদ্রাসায়ে আশরাফুল উলুম বড় কাটারা প্রতিষ্ঠা করা।
সময়কাল: ১৯৩১ সালে (১৩৫২ হিজরী) তিনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রেক্ষাপট: মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজার শাসনামলে নির্মিত 'বড় কাটারা' প্রাসাদটি তখন প্রায় পরিত্যক্ত ও জীর্ণ অবস্থায় ছিল। তিনি তার অপর দুই সহকর্মী, আমিরে শরীয়ত হযরত হাফেজ্জী হুজুর ও আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী সদর সাহেব সহ
এই ঐতিহাসিক স্থানে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
নামকরণ: হাকিমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় 'আশরাফুল উলুম'।
৪. আধ্যাত্মিকতা ও খিলাফত
তিনি কেবল একজন শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না, বরং একজন উঁচু স্তরের আধ্যাত্মিক রাহবার ছিলেন।
তিনি হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর অন্যতম বিশিষ্ট মুরিদ ও শাইখুল ইসলাম আল্লামা যফর আহমাদ উসমানী রহঃ এর খলিফা ছিলেন।
পুরান ঢাকাসহ সারা দেশে তাঁর হাজার হাজার মুরিদ ও ভক্ত ছিল যারা তাঁর কাছ থেকে আত্মশুদ্ধির শিক্ষা গ্রহণ করত।
৫. অবদান ও বৈশিষ্ট্য
কওমি মাদ্রাসার বিস্তার: বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসারে বড় কাটারা মাদ্রাসার ভূমিকা অগ্রগণ্য, যার মূল কারিগর ছিলেন তিনি।
সমাজ সংস্কার: তিনি শিরক, বিদআত এবং সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন।
ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ: মুঘল স্থাপত্য 'বড় কাটারা' আজ টিকে থাকার পেছনে তাঁর মাদ্রাসার অবস্থান বড় একটি কারণ।
৬. মৃত্যু
এই মহান সাধক ও আলেম ১৯৭৬ ইং সালে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।