27/02/2026
হাফেজ সাহেবদের কুরআন ভুলে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত বেদনার, তবে এটি একটি বাস্তব সমস্যা। কর্মব্যস্ততা, নিয়মিত তিলাওয়াতের অভাব এবং শোনানোর কোনো নির্দিষ্ট রুটিন না থাকার কারণেই মূলত এমনটি হয়।
তবে আশার কথা হলো, যিনি একবার কুরআন বুকে ধারণ করেছেন, তিনি একটু নিয়মতান্ত্রিক মেহনত করলেই তা আবার খুব দ্রুত ফিরিয়ে আনতে পারেন। ইয়াদ ফিরিয়ে আনা এবং তা মজবুত রাখার জন্য নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা বা পড়ানো সবচেয়ে বেশি কার্যকর:
১. দুর্বলতা চিহ্নিত করে ভাগ করা
পুরো ৩০ পারা একবারে ঠিক করার চিন্তা করলে চাপ মনে হবে। প্রথমে যাচাই করতে হবে কোন পারার অবস্থা কেমন। পারাগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করতে হবে:
* ভালো ইয়াদ আছে: যেগুলো অনায়াসে পড়া যায়।
* মধ্যম: একটু আটকে যায় বা মাঝে মাঝে লোকমা দিতে হয়।
* পুরোপুরি ভুলে যাওয়া: যেগুলো পড়তে গেলে মনে হয় জীবনেও মুখস্থ করা হয়নি।
২. ভুলে যাওয়া অংশকে 'নতুন সবক' মনে করা
যেসব পারা পুরোপুরি ভুলে গেছেন, সেগুলো রিডিং পড়ে ঠিক করা যাবে না। ওই পারাগুলোকে সম্পূর্ণ 'নতুন সবক' (নতুন মুখস্থ) হিসেবে ধরতে হবে। প্রতিদিন আধা পৃষ্ঠা বা এক পৃষ্ঠা করে নতুনভাবে মুখস্থ করতে হবে এবং পেছনের পড়া (সাতসবক,আমখতা) মেলাতে হবে।
৩. নির্দিষ্ট 'সাথী' (শোনানোর সাথী) নির্ধারণ
ইয়াদ না থাকার সবচেয়ে বড় কারণ হলো কাউকে না শোনানো। নিজের ভুল নিজে ধরা যায় না। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে আধা পারা বা এক পারা কাউকে শোনানোর রুটিন করতে হবে। যিনি শুনবেন (সাথী), তাঁকে অবশ্যই ভুল ধরার মতো যোগ্য হতে হবে।
৪. একই ছাপার মুসহাফ (কুরআন) ব্যবহার করা
অনেকে একেক সময় একেক ছাপার কুরআন শোনেন বা পড়েন। এটি ইয়াদ নষ্ট হওয়ার একটি বড় কারণ। হাফেজি কুরআনের (যেমন— ১৫ লাইনের ছাপা) একটি নির্দিষ্ট কপিই সব সময় ব্যবহার করতে হবে। এতে আয়াতের অবস্থান চোখের সামনে ছবির মতো ভেসে ওঠে।
৫. নামাজে তিলাওয়াত করা (সবচেয়ে বড় পরীক্ষা)
ইয়াদ পাকা করার চূড়ান্ত মাধ্যম হলো নামাজ। প্রতিদিন মুখস্থ করা বা রিভিশন দেওয়া অংশটুকু সুন্নত ও নফল নামাজে (বিশেষ করে তাহাজ্জুদে) তিলাওয়াত করতে হবে। নামাজে না আটকালে বুঝতে হবে ইয়াদ মজবুত হয়েছে।
৬. পিছনের পড়া রিভিশন চালু রাখা ।
যাঁরা কর্মজীবনে ব্যস্ত, তাঁদের জন্য একা একা এই রুটিন ধরে রাখা কঠিন। প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এমন হাফেজ শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ 'মুরাজাআহ ব্যাচ' বা 'হিফজ রিভিশন ব্যাচ' চালু করা যেতে পারে। প্রতিদিন ফজর বা এশার পর তারা আধা ঘণ্টা সময় দিয়ে একজন শিক্ষক আরেকজন শিক্ষককে পড়া শোনাবে। এতে একটি জবাবদিহিতা ও ধারাবাহিকতা তৈরি হয়। ( এই নিয়ম সবসময় চালু থাকলে শিক্ষকদের ইয়াদ মজবুত থাকবে)
৭. চোখের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
গুনাহের কারণে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। বিশেষভাবে মোবাইল বা ইন্টারনেটে চোখের গুনাহ থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রতিদিন ইস্তেগফার বা তওবা করতে হবে।
যাঁরা ভুলে গেছেন, তাঁদের হতাশ না হয়ে অল্প অল্প করে শুরু করা উচিত।