21/05/2026
বিপদের সময় যে দোয়া পড়তে হয়
উচ্চারণ : আল্লাহু আল্লাহু রব্বী, লা উশরিকু বিহি শাইআ।
অর্থ : আল্লাহ! আল্লাহ! আমার রব্ব! তাঁর সঙ্গে আমি কাউকে শরিক করি না।
উপকার : আসমা বিনতে উমাইস (রা.) বলেন, একদা রাসুল (সা.) আমাকে বলেন, আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দেব না, যা তুমি বিপদের সময় পাঠ করবে? তারপর তিনি এই দোয়া শিক্ষা দেন।
(আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২৫)
19/05/2026
**কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত এই পাঁচ শর্তের সম্মিলিত রূপের নাম পূর্ণাঙ্গ মুসলমান।**
**যাকাত দেয়ার সামর্থ্য আছে, কিন্তু যাকাত দিচ্ছেন না; তা হলে আপনি খাঁটি মুসলমানের সিরিয়াল থেকে ছিটকে পড়লেন।**
**আশা করি বুদ্ধিমান হলে এমনটি করবেন না। সময়মতো যাকাত দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে অগ্রসর হোন।**
**কেন ফরজ হলো যাকাত?**
**আল্লাহতায়ালা জীবনের প্রতিটি স্তরে ভারসাম্যতা পছন্দ করেন। তার কাছে বাড়াবাড়ি আর ছাড়াছাড়ি একদম অপছন্দ। জগৎসংসারে যদি আপনি গভীরভাবে খেয়াল করেন তা হলে সব কিছুতেই ভারসাম্যতা আপনার নজর কাড়বে।**
সমস্যা সেখানেই দেখবেন যেখানে ভারসাম্যতা রক্ষা হয় না।
এ সমাজের সবাই যদি কোটিপতি হয়ে যায় তা হলে সমাজের ভারসাম্য রক্ষা হবে না। আবার সবাই দরিদ্র হয়ে গেলে প্রত্যেকেই না খেয়ে বেঘোরে প্রাণ হারাবে। কেননা সবাই তো এখন ফকির। না খেয়ে মরা ছাড়া উপায় আছে?
সুতরাং সমাজ বাঁচাতে, দেশ বাঁচাতে এবং পৃথিবী বাঁচাতে সবখানেই ভারসাম্যতা দরকার।
আজ কোথাও ভারসাম্যতা নেই,
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যে, আমরা ঠিকমতো আল্লাহর হুকুম যাকাত আদায় না করে দেশে অভাবী মানুষের সংখ্যা বাড়িয়ে ফেলছি।
18/05/2026
আলহামদুলিল্লাহ,
🇧🇩সোমবার (১৮ মে) পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে)
🇧🇩পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে।
17/05/2026
জিলহজের প্রথম ১০ দিন,
যে আমলগুলো আপনার পুরো জীবন বদলে দিতে পারে
বছরের এমন কিছু দিন আছে, যেখানে সামান্য একটি নেক আমলও আল্লাহর কাছে এত প্রিয় হয়ে যায়, যে মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। আর সেই দিনগুলোর মধ্যেই সবচেয়ে মূল্যবান—জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন।
অনেকেই শুধু রমজানের জন্য অপেক্ষা করে, কিন্তু এই ১০ দিনের মর্যাদা সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানে।
একবার ভাবুন তো—যে দিনগুলো সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন এই দিনগুলোর নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় আর কোনো দিনের আমল নেই।
সাহাবীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও না? তখন নবীজি ﷺ বললেন, জিহাদও না…
তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত, যে নিজের জীবন ও সম্পদ নিয়ে বের হয়েছে এবং আর ফিরে আসেনি।
(সুবহানআল্লাহ…)
ভাবুন,এই ১০ দিনের মর্যাদা কতটা বড় হলে,
আল্লাহর রাসূল ﷺ এভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন!
অনেক মানুষ এই দিনগুলো আসে আর চলে যায়, কিন্তু তারা বুঝতেই পারে না হয়তো এটাই ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সুযোগ।
জিলহজের ১০ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল
১ বেশি বেশি তাকবীর, তাহলিল ও তাসবীহ পড়া
এই দিনগুলোতে আপনার জিহ্বা যেন সবসময় আল্লাহর জিকিরে ভিজে থাকে। বেশি বেশি পড়ুন
আল্লাহু আকবার
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
আলহামদুলিল্লাহ
সুবহানাল্লাহ
কারণ যে অন্তর আল্লাহর জিকিরে জীবিত থাকে, সে অন্তর ধীরে ধীরে দুনিয়ার অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।
২ নফল রোজা রাখা
বিশেষ করে আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
হাদিসে এসেছে এই রোজা আগের এক বছর এবং পরের এক বছরের ছোট গুনাহের কাফফারা হয়।
একদিনের একটি রোজা…আর বিনিময়ে দুই বছরের গুনাহ মাফের সুসংবাদ! এটা আল্লাহর কত বড় রহমত!
৩ নিয়মিত নামাজ ও তাহাজ্জুদ
এই ১০ দিন শুধু সাধারণ সময় না। এগুলো হলো আল্লাহর কাছে ফিরে আসার দিন। ফরজ নামাজের পাশাপাশি—
তাহাজ্জুদ
নফল নামাজ
দীর্ঘ সিজদা
মন খুলে দোয়া করার চেষ্টা করুন।
কারণ কখন কোন সিজদা আপনার তাকদীর বদলে দেবে,
তা আপনি জানেন না।
৫ কুরআন তিলাওয়াত
প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় কুরআনের সাথে কাটান।
শুধু পড়ার জন্য না অনুভব করার জন্য পড়ুন।
হয়তো একটি আয়াতই আপনার অন্তর কাঁপিয়ে দিতে পারে। হয়তো একটি সূরাই আপনাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনতে পারে।
৫ তওবা ও ইস্তিগফার
হয়তো পুরো বছর আমরা ভুল করেছি…গুনাহ করেছি…
আল্লাহকে ভুলে থেকেছি…কিন্তু এই ১০ দিন হতে পারে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ।
বেশি বেশি পড়ুন—আস্তাগফিরুল্লাহ
কারণ আল্লাহ সেই বান্দাকে ভালোবাসেন,
যে ভুল করার পর আবার তাঁর কাছেই ফিরে আসে।
৬ দান-সদকা করা
গরিব মানুষকে সাহায্য করুন। ক্ষুধার্ত কাউকে খাবার দিন।
কারো মুখে হাসি ফোটান। মনে রাখবেন— ছোট একটি দানও আল্লাহর কাছে পাহাড়সম মূল্যবান হয়ে যেতে পারে,
যদি সেটা আন্তরিকতার সাথে করা হয়।
৭ কুরবানির নিয়ত ও প্রস্তুতি
যাদের সামর্থ্য আছে—কুরবানির প্রস্তুতি নিন।
কারণ কুরবানি শুধু পশু জ/বাই না।
এটা হলো—নিজের অহংকার, নফস, লোভ, আর আল্লাহর অবাধ্যতাকে কুরবানি করার শিক্ষা।
যেমন ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ত্যাগ করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন।
একটি গভীর উপলব্ধি
হয়তো এই ১০ দিনই—আপনার জীবনের সেই সময়,
যেখানে আল্লাহ আপনার গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন।
হয়তো এই ১০ দিনেই—আপনার ভাগ্য বদলে যেতে পারে।
হয়তো এই ১০ দিনের কোনো একটি দোয়া, কিয়ামতের দিন আপনার মুক্তির কারণ হয়ে যাবে। তাই এই দিনগুলোকে সাধারণভাবে নিবেন না।
কারণ সব দিন এক রকম না, কিছু দিন থাকে—যেগুলো আল্লাহর বিশেষ রহমতের দরজা হয়ে আসে।
শেষ কথা, জীবনে কত সময় আমরা নষ্ট করেছি, কত রাত গুনাহে কেটেছে…কতবার আল্লাহকে ভুলে থেকেছি…কিন্তু এখনও সময় আছে। এই ১০ দিনকে আঁকড়ে ধরুন।
হয়তো এটাই আপনার রবের দিকে ফিরে আসার সবচেয়ে সুন্দর সুযোগ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জিলহজের প্রথম ১০ দিনের মর্যাদা বুঝার এবং আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
17/05/2026
জ্বলন্ত কুলিং টাওয়ার
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
ও লালন শাহ সেতু, পদ্মা নদী, ঈশ্বরদী, পাবনা ll